Blog

  • হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    এবিএনএ: দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দামে নতুন সমন্বয় করা হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে এই সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর পণ্য হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    তিনি বলেন, রমজান মাস থেকেই ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট খরচ যাচাই করে তাদের দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পায়। তবে প্রস্তাবিত পূর্ণ বৃদ্ধি না করে আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কম থাকে।

    সরকার আশা করছে, নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এবং রিফাইনারদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান দামেও তাদের ব্যয় পুরোপুরি সমন্বয় হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন খরচ, খালাস ব্যয় ও রিফাইনিং খরচ যুক্ত করেই তারা মূল্য নির্ধারণ করেন বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং নির্ধারণের সূত্র উন্মুক্ত।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দেশীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন দামের বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং খুচরা পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

  • মৌলিক সুবিধা দেশের সব অঞ্চলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

    মৌলিক সুবিধা দেশের সব অঞ্চলে গড়ে তোলার পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা ধাপে ধাপে দেশের সব অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে রাজধানীমুখী হচ্ছে, এই প্রবণতা কমাতে বিকেন্দ্রীকরণই হবে সরকারের মূল লক্ষ্য।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম দিনে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দন আহমদ।

    কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরীতে রূপ দিতে জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক কার্যক্রম ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান। তিনি বলেন, ঢাকার নাগরিক সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন এবং মানুষের ঢাকামুখী প্রবণতা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

    জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান, উন্নত চিকিৎসা ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাকেন্দ্রিকভাবে গড়ে উঠেছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ কাজ, পড়াশোনা ও চিকিৎসার প্রয়োজনেই রাজধানীতে চলে আসে। এই বাস্তবতা পরিবর্তনে সময়সাপেক্ষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সরকারপ্রধান আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পায়ন বাড়াতে বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে। পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার কাজও ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, এসব সুযোগ-সুবিধা যদি আঞ্চলিকভাবে গড়ে ওঠে, তাহলে মানুষের ঢাকায় আসার প্রয়োজন কমে যাবে। এর ফলে রাজধানীর ওপর চাপ কমবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নও ভারসাম্যপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • অস্ত্র ও ড্রোনসহ রাজধানীতে গোপন তৎপরতা: নিষিদ্ধ সংগঠনের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

    অস্ত্র ও ড্রোনসহ রাজধানীতে গোপন তৎপরতা: নিষিদ্ধ সংগঠনের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

    এবিএনএ: রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও কেরাণীগঞ্জ এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ড্রোনসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে নাশকতার প্রস্তুতিতে ব্যবহারের সন্দেহে বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. ইমরান চৌধুরী (২৯), মো. মোস্তাকিম চৌধুরী (২৫), রিপন হোসেন শেখ (২৮) এবং আবু বক্কর (২৫)। মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পৃথক সময়ে পরিচালিত অভিযানে ডিবি রমনা বিভাগের একটি দল তাদের আটক করে।

    ডিবি সূত্র জানায়, প্রথমে ভোর ৩টা ৫ মিনিটে কামরাঙ্গীরচর থানার তারা মসজিদ সংলগ্ন কয়লাঘাট এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ইমরান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সকাল ৫টা ৪০ মিনিটে কেরাণীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকা থেকে মোস্তাকিম চৌধুরীকে আটক করা হয়। একই দিন দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কামরাঙ্গীরচরের রসুলপুর শিকসন ব্রিজের আশপাশে অভিযান চালিয়ে রিপন হোসেন শেখ ও আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শ্যুটারগান, ১৪ রাউন্ড গুলি, তিনটি খালি কার্তুজ, কয়েকটি স্মার্টফোন, একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি ড্রোন ও ড্রোন পরিচালনার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া উগ্রবাদী মতাদর্শ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বই ও লিফলেটও জব্দ করা হয়েছে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আকসা’র সঙ্গে যুক্ত। তারা রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাশকতা ও গোপন হামলার পরিকল্পনা করছিল। এ উদ্দেশ্যে তারা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সংগঠিত হচ্ছিল বলে মনে করছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের নেটওয়ার্কের অন্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

  • সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ইস্যুতে তুমুল ঝড়! এক বক্তব্যেই অচল অধিবেশন

    সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ইস্যুতে তুমুল ঝড়! এক বক্তব্যেই অচল অধিবেশন

    এবিএনএ: মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সৃষ্টি হয় তীব্র উত্তেজনা। দিনের বড় অংশজুড়ে চলে হট্টগোল, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং তর্ক-বিতর্ক, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।

    কীভাবে শুরু হলো বিতর্ক?

    মঙ্গলবার বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর নিয়মিত কার্যসূচি শেষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য আসতেই বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

    স্পিকারের হস্তক্ষেপেও থামেনি উত্তেজনা

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার সদস্যদের সতর্ক করেন এবং সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান। তবে এরপরও সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থামেনি।

    বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাপ বাড়ে

    বক্তব্যে ফজলুর রহমান দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান এবং সংসদে হট্টগোল আরও বেড়ে যায়।

    এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলনার তুলনারও সমালোচনা করেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা বক্তব্য

    বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে এই মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই।

    অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা অবস্থান নেন। বিভিন্ন দল ও জোটের সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্পিকারের কঠোর বার্তা

    ক্রমাগত বিশৃঙ্খলার মধ্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জাতি সরাসরি অধিবেশন দেখছে—এ ধরনের আচরণ সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তিনি সংসদের কার্যপ্রণালি মেনে চলার ওপর জোর দেন এবং অসংসদীয় বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার কথাও জানান।

    অন্যান্য ইস্যুতেও উত্তেজনা

    একই দিনে সংসদে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ, গণভোটের বৈধতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের অধিকার, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং জাল নোট প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়ন।

    রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট

    দিনভর আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সমসাময়িক ইস্যুগুলোতে এই বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, একটি বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া উত্তেজনা পুরো দিনের সংসদ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    এবিএনএ : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক পর পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১৯৬৭ সাল থেকে জোটটির সদস্য থাকা দেশটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

    সৌদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়েছে। যদিও বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার দিকে কেন্দ্রীভূত।

    উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তোষ

    দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের নির্ধারিত তেল উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল আমিরাত। দেশটির অভিযোগ, এই সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছিল না, যা সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ওপেকে থাকার যৌক্তিকতা আর দেখছিল না আবুধাবি।

    আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি আরবকে এতদিন জোটটির নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, আর উৎপাদন সীমা নিয়ে আমিরাত এটিকে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখত।

    নেতৃত্বের দূরত্বও স্পষ্ট

    সাম্প্রতিক এক উপসাগরীয় সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে ওপেক ছাড়ার ঘোষণা—এই দুটি ঘটনাকে কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়ছে।

    ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সময়ে আমিরাত আরও কিছু আন্তর্জাতিক জোট বা সংগঠন থেকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    পুরনো দ্বন্দ্ব আরও জোরালো

    ইতোমধ্যে সুদান ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। তার সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমিরাতের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    এবিএনএ :অনেকেই দিন শুরু করেন এক গ্লাস টাটকা ফলের রস দিয়ে। এটি অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু অজানা ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডায়াবেটিস রোগীরাই নন—যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদের ক্ষেত্রেও ফলের রস রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

    কেন ফলের রস রক্তে শর্করা বাড়ায়?

    ফলের রসে প্রাকৃতিকভাবে ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ থাকে, যা খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। কিন্তু যখন ফল থেকে রস তৈরি করা হয়, তখন এর অধিকাংশ ফাইবার বা আঁশ বাদ পড়ে যায়। এই ফাইবার সাধারণত শরীরে শর্করার শোষণ ধীর করে। ফলে আঁশ ছাড়া রস পান করলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে—যাকে বলা হয় ‘গ্লুকোজ স্পাইক’।

    যদিও সুস্থ শরীর ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে এই শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বারবার এমন স্পাইক দীর্ঘমেয়াদে ভালো প্রভাব ফেলে না।

    গবেষণা কী বলছে?

    আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটসে শিশুদের উপর চালানো একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রস পান করে (প্রতিদিন ৮ আউন্স বা তার বেশি), তাদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই প্রবণতা বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

    প্যাকেটজাত ফলের রস কি নিরাপদ?

    বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ফলের রস অনেক সময় আরও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম উপাদান যোগ করা হয়। এমনকি ঘরে তৈরি তাজা রসও যদি বেশি পরিমাণে পান করা হয়, তাহলে ক্যালোরি বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

    তাহলে কী করবেন?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ এতে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অক্ষত থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। যদি রস পান করতেই হয়, তবে তা অল্প পরিমাণে পান করা উচিত এবং খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।

    সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললেই সুস্থ থাকা সম্ভব—ছোট একটি অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    এবিএনএ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বাধাল বাজার সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ (কালভার্ট) এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এতে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কে যান চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি ঘিরে যাত্রী, চালক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নদী খননের ফলে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে কালভার্টের পাশের মাটি সরে যেতে থাকে। এতে করে কাঠামোটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজটির উইং ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে গেছে এবং সড়কের উপর ফাটল দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

    এই মহাসড়কটি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, মাছ এবং ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ব্রিজটি ধসে পড়লে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

    এলাকাবাসী দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

    এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, নদী খননের কারণে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    পাঁচ দিন পর উৎপাদনে ফিরল আদানির ইউনিট, আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু

    এবিএনএ: কারিগরি ত্রুটি মেরামত শেষে আদানি পাওয়ারের বন্ধ ইউনিট ফের চালু হয়েছে। দুই ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রি

    কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে থাকা আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট মেরামত শেষে আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির দুই ইউনিট থেকেই এখন পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।

    পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪৭ মিনিটের দিকে বন্ধ থাকা ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে দুই ইউনিট থেকেই একযোগে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিটে হঠাৎ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। নিরাপত্তার কারণে তখন ইউনিটটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আংশিক কমে যায় এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহও কিছুটা প্রভাবিত হয়।

    ত্রুটি শনাক্তের পর দ্রুত মেরামত কাজ শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, সমস্যা সমাধান করে ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ায় এখন আবার স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরেছে প্ল্যান্টটি।

    দুই ইউনিট একসঙ্গে চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় এই সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ডে বাড়ছে উৎপাদন।

  • রাতে ঢাকায় হঠাৎ ঝড়ের শঙ্কা, ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

    রাতে ঢাকায় হঠাৎ ঝড়ের শঙ্কা, ৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সতর্কতা

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় রাতে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও।

    সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িকভাবে মেঘাচ্ছন্ন হতে পারে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে।

    পূর্বাভাসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে সাধারণত ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দমকা হাওয়া বয়ে গিয়ে এর গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ।

    আজ রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

    এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে। আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    এবিএনএ: ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির জনগণ চলমান সংকট অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া এমন সব উদ্যোগ নেবে যাতে ইরান ও গোটা অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মস্কো ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে।

    এছাড়া বিরোধ কমানোর অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাবও পুনরায় উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

    বৈঠকে পুতিন জানান, তিনি সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া ও ইরান ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান।

    বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি মস্কোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।