Blog

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    এবিএনএ: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    নেত্রকোণা

    নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একই উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকানোর সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    এছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে বজ্রপাতেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জ

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বিকেলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামে জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। একই সময়ে জেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের এক কৃষক নিহত হন।

    অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    হবিগঞ্জ

    হবিগঞ্জে পৃথক দুই স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের গড়দার হাওরে ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আব্দুস সালাম (৩৫) বজ্রপাতে নিহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পরিবারের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    নোয়াখালী

    নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, তিনি শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চার জেলায় প্রাণহানির এ ঘটনাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে খোলা মাঠে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস

    এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্যদের জন্য চালু থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে একটি বিল পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী সংশোধনী বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।

    সরকারের মতে, জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ এই সুবিধা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করছিল। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিল কার্যকর হলে সংসদ সদস্যদের এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানিতে অন্যদের মতোই শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

    দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা

    সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, যমুনা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সেতুতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য তিনটি রুট নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করতে বিভিন্ন করিডোর বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ২০৪০ সালের মধ্যে মহাসড়ক সম্প্রসারণ

    দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক আধুনিক করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে সংসদে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেনে এবং শতাধিক কিলোমিটার সড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হবে। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রশস্ত সড়ক তৈরি হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি বাড়বে এবং পণ্য পরিবহন সহজ হবে।

    রেল খাতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ

    সংসদে রেল খাতেও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে নতুন কোচ যুক্ত করা হচ্ছে এবং পুরোনো রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছে। বিভিন্ন জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, নতুন ব্রডগেজ কোচ আমদানি, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে রেল ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।

    অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার ওপর জোর

    সংসদে বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। সরকার জানিয়েছে, এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষা ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও সংসদে আলোচনা হয়েছে। সরকারের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও ব্যয়সংকোচন—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

  • ৮ ম্যাচ খেলেও একাদশে নেই ধোনি

    ৮ ম্যাচ খেলেও একাদশে নেই ধোনি

    এবিএনএ:চলমান আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস একের পর এক ম্যাচ খেললেও দলে দেখা যাচ্ছে না মহেন্দ্র সিং ধোনিকে। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, টুর্নামেন্টের প্রথম দুই সপ্তাহ তিনি খেলবেন না। কিন্তু এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার না ফেরায় সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন বাড়ছিল। অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন দলের প্রধান কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং।

    মাংসপেশির চোটেই বিলম্ব

    ফ্লেমিং জানান, ধোনির পায়ের মাংসপেশিতে আবারও টান পড়েছে। এই কারণেই তাকে ঝুঁকি নিয়ে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একটি অনুশীলনমূলক ঘাম ঝরানো ম্যাচে অংশ নেওয়ার সময় নতুন করে চোট বাড়ে বলে জানান তিনি। ফলে তার প্রত্যাবর্তন আরও পিছিয়ে গেছে।

    কোচ বলেন, ধোনি খেলতে আগ্রহী থাকলেও একই জায়গায় পুনরায় আঘাত পেলে পুরো মৌসুমই শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই দল তাড়াহুড়া না করে তার ফিটনেস পুরোপুরি নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। এ কারণে প্রত্যাশার তুলনায় পুনর্বাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে।

    নেটে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন

    চোট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে নিয়মিত অনুশীলন করছেন ধোনি। নেটে তাকে ব্যাটিং করতে দেখা গেলেও মূলত থ্রোডাউন ও হালকা অনুশীলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন। ফিজিওর তত্ত্বাবধানে দৌড়ানো, স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাটিং এবং ব্যাটিং কোচের সঙ্গে অনুশীলন—সবকিছুই চলছে পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।

    ফ্লেমিং বলেন, ধোনি ফিট হতে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং চিকিৎসক দলের নির্দেশনা মেনে চলছেন। তিনি উন্নতির দিকে আছেন, তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে মাঠে নামানো হবে না।

    চেন্নাইয়ের অবস্থান

    এদিকে আট ম্যাচে পাঁচটিতে হেরে পয়েন্ট টেবিলে মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। পরবর্তী ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে কিছুটা সময় পাচ্ছে দল। সেই ম্যাচে ধোনি ফিরবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত হলেও দল তার ফিটনেস পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

  • এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এবিএনএ: কিশোর ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাট সহকারীর সঙ্গে কী বিষয়ে কথা বলছে—এখন তা জানার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে নতুন নজরদারি সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। তবে এই পদক্ষেপ ঘিরে গোপনীয়তা ও ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ‘ইনসাইটস’ ট্যাবে দেখা যাবে আলোচনার ধরন

    মেটা জানিয়েছে, তাদের টিন অ্যাকাউন্ট তদারকি ব্যবস্থায় ‘ইনসাইটস’ নামে একটি নতুন বিভাগ যুক্ত করা হচ্ছে। এখানে অভিভাবকেরা সরাসরি বার্তা না দেখে কিশোরদের এআই চ্যাটের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাবেন। আলোচনাগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দেখানো হবে।

    উদাহরণ হিসেবে পড়াশোনা, বিনোদন, লেখালেখি, স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা—এ ধরনের বড় ক্যাটাগরি প্রদর্শিত হবে। অভিভাবকেরা চাইলে নির্দিষ্ট বিভাগে ক্লিক করে কিছু অতিরিক্ত তথ্য দেখতে পারবেন। তবে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কথোপকথনের টেক্সট দেখানো হবে না।

    সীমিত তথ্য, সাত দিনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ

    মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো সর্বশেষ সাত দিনের কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এতে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিভাগের অধীনে শারীরিক ফিটনেস, অসুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সারসংক্ষেপ থাকতে পারে। এর মাধ্যমে সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাবেন অভিভাবকেরা।

    শিশু নিরাপত্তা বিতর্কের মাঝেই নতুন উদ্যোগ

    শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকায় এই ফিচার চালু করছে মেটা। সম্প্রতি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত দুটি মামলায় আইনি চাপে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ ছিল, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো আসক্তিমূলকভাবে ডিজাইন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আদালতে প্রকাশিত কিছু নথিতে আরও উঠে আসে, এআইচালিত ভার্চ্যুয়াল ক্যারেক্টার কখনো অনুপযুক্ত বা যৌনধর্মী কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন ঝুঁকি সম্পর্কে মেটার নেতৃত্ব অবগত ছিল। এরপর থেকেই কিশোরদের জন্য এসব ফিচারে ধাপে ধাপে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

    আগের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার

    গত বছরের আগস্টে কিশোরদের জন্য এআই ক্যারেক্টার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। পরে অক্টোবরে অভিভাবকদের জন্য নতুন কিছু টুল যোগ করা হয়—যেমন ব্যক্তিগত এআই চ্যাট বন্ধ করা বা নির্দিষ্ট ক্যারেক্টার ব্লক করা। চলতি বছরের শুরুতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং বর্তমানে কিশোরদের জন্য কিছু এআই ক্যারেক্টার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সমালোচনাও রয়েছে

    তবে এই নতুন ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছেন না শিশু অধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বাড়ানোর মূল কাজ যথেষ্টভাবে হচ্ছে না। ফলে ফিচারটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

    মেটা জানিয়েছে, কিশোরদের নিরাপদ এআই ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে এবং অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনাও তৈরি করছে।

  • গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    এবিএনএ, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও কাঙ্খিত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখনজনক। ঐ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায়কে বাতিলের মাধ্যমে সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যােগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। তাই তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা আকাঙ্খাকে জলাঞ্জলী দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এর পরিনতি ভালো হবেনা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ।

    তিনি বলেন, সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছেন। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল যুবদল যেভাবে চট্রগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে এতে মনে হয় ছাত্রদল বিএনপি সরকারকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে। তিনি বলেন, চট্রগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করতো তবে ডাকসু নেতাদের থানার ভেতরে হামলা করা, কুমিল্লা পলিটেকনিক, ঈশ্বরদী কলেজে হামলা করার সাহস ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেখাতে পারতো না। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা রেখে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে।

    ১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুয়ানুল ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তাফা কামাল, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সহ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

    এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সহ সভাপতি শাহ আলম, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, বিডিপি মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শেখ জোবায়ের মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ফারুকে আজম, মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল টি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম জিইসির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    এবিএনএ: ওমরাহ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতা, বার্ধক্য কিংবা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ নিজে ওমরাহ আদায় করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ ওমরাহ করতে পারবেন কি না—এ নিয়ে ইসলামি শরিয়তে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

    ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা বৈধ। এ বিষয়ে একটি হাদিসে উল্লেখ আছে—এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, তার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং হজ বা ওমরাহ করার সক্ষমতা নেই। উত্তরে নবীজি তাকে পিতার পক্ষ থেকে হজ ও ওমরাহ আদায়ের নির্দেশ দেন। এই হাদিস থেকে আলেমরা জীবিত ও মৃত উভয়ের পক্ষ থেকেই বদলি ওমরাহ করার অনুমতি গ্রহণ করেছেন।

    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, কেউ যদি কোনো নেক আমল সম্পাদন করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন, তাহলে তা বৈধ এবং উপকারে আসে। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। এ থেকে বোঝা যায়, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হলেও অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও পৌঁছানো সম্ভব।

    জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ সম্ভব

    ইসলামি ফতোয়া অনুযায়ী, শুধু মৃত নয়—জীবিত কিন্তু অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যিনি ওমরাহ করবেন, তাকে ইহরাম বাঁধার সময় স্পষ্টভাবে যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করছেন তার জন্য নিয়ত করতে হবে। পাশাপাশি তালবিয়াও তার পক্ষ থেকেই আদায় করতে হবে।

    কিছু আলেমের মতে, বদলি হজের মতো ওমরাহ বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা কম পাওয়া গেলেও, নিজের করা ওমরাহর সওয়াব অন্য কাউকে পৌঁছে দেওয়া বৈধ। ফলে ব্যক্তি নিজের ওমরাহ আদায় করে মৃত বা জীবিত যেকোনো মুসলমানের জন্য সওয়াব দান করতে পারেন।

    কোন বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

    বদলি ওমরাহ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

    • যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করা হবে তার জন্য স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে
    • শরিয়াহসম্মত নিয়মে পুরো ওমরাহ সম্পন্ন করতে হবে
    • সওয়াব দানের উদ্দেশ্য থাকতে হবে
    • মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা অব্যাহত রাখা উত্তম

    সব মিলিয়ে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বদলি ওমরাহ করা বৈধ এবং এটি মৃত ও জীবিত উভয়ের পক্ষেই করা যায়। তবে আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, সদকা ও নেক আমল দান—এসবের গুরুত্ব বেশি। তাই বদলি ওমরাহর পাশাপাশি দোয়া করাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

  • ২৬ এপ্রিল: ইতিহাসের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

    ২৬ এপ্রিল: ইতিহাসের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

    এবিএনএ: পৃথিবীর প্রতিটি দিনই ইতিহাসের অংশ। সময়ের ধারাবাহিকতায় কিছু ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং মানুষের মনে স্থায়ী হয়ে থাকে। আজ ২৬ এপ্রিল। ইতিহাসের এই দিনে বিশ্বজুড়ে সংঘটিত নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যু এবং বিশেষ দিবসের তথ্য তুলে ধরা হলো এক নজরে।

    উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

    ১৫২৬ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
    ১৫৫৫ সালে জার্মানির অগসবার্গ শহরে কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
    ১৭০১ সালে ব্রিটিশ প্রতিনিধি জন মরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
    ১৭৭০ সালে ক্যাপ্টেন জেমস কুক নিউ সাউথ ওয়েলসে পৌঁছান।
    ১৭৮৯ সালে ফ্লেচার ক্রিশ্চিয়ানের নেতৃত্বে ব্রিটিশ জাহাজ বাউন্টিতে নাবিক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
    ১৯১৫ সালে লন্ডনের গোপন চুক্তিতে ইতালিকে বিভিন্ন অঞ্চল দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়া।
    ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লীগ অব নেশনস।
    ১৯২০ সালে আজারবাইজান সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং একই বছরে পোল্যান্ড-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়।
    ১৯৫২ সালে জাপান সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়।
    ১৯৬৫ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
    ১৯৬৯ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট চার্লস দ্য গল পদত্যাগ করেন।
    ১৯৭২ সালে লাইবেরিয়া বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
    ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
    ১৯৯৫ সালে হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
    ২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম মহাকাশ পর্যটক হিসেবে পরিচিতি পান ডেনিস টিটো।
    ২০০৪ সালে সার্স ভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণায় অগ্রগতি আসে।

    এই দিনে যাদের জন্ম

    ১৭১২ সালে ফরাসি দার্শনিক জঁ-জাক রুসোর জন্ম।
    ১৭৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৮৮৯ সালে অস্ট্রীয় দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনের জন্ম।
    ১৮৯৫ সালে ঢাকার শেষ নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৯২৪ সালে জনপ্রিয় লেখক নারায়ণ সান্যাল জন্ম নেন।
    ১৯৩৭ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইনের জন্ম।
    ১৯৪৭ সালে লেখক ও ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদের জন্ম।
    ১৯৬৩ সালে মার্শাল আর্ট তারকা জেট লির জন্ম।
    ১৯৭০ সালে মেলানিয়া ট্রাম্প জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৯৭৪ সালে স্প্যানিশ অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজের জন্ম।

    এই দিনে যাদের মৃত্যু

    ১৭৪০ সালে ভারতীয় সেনাপতি প্রথম বাজিরাও মৃত্যুবরণ করেন।
    ১৮১৩ সালে রুশ সেনাপতি মিখাইল কুতুজভ মারা যান।
    ১৯২০ সালে ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজনের মৃত্যু হয়।
    ১৯৪৫ সালে ইতালির শাসক বেনিতো মুসোলিনি নিহত হন।
    ১৯৫৭ সালে শোতোকান কারাতে প্রতিষ্ঠাতা গিচিন ফুনাকোশি মারা যান।
    ১৯৭৮ সালে আফগান নেতা মোহাম্মদ দাউদ খানের মৃত্যু হয়।
    ১৯৮৯ সালে মার্কিন অভিনেত্রী লুসিল বল মৃত্যুবরণ করেন।
    ২০১৭ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা জোনাথন ডেমি মারা যান।

    দিবস

    ২৬ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস। সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিনটি পালন করা হয়।

  • যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    এবিএনএ: ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাত থামার আগেই পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পারে। শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর আওতায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র, বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প স্থাপনা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় পুনর্গঠন নিয়ে বাণিজ্যিক চাপ দেওয়া সময়োপযোগী নয়। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এখন নিরাপত্তা ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডলার সহায়তা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন এই অর্থনৈতিক সহায়তাকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডলার সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার শর্ত যুক্ত হতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া বিপুল রক্তের চিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন—দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

    রাজধানীর মিরপুরে বৃষ্টির বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়ের সফলতা দেখার; কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ভিড় থাকলেও কেউ এই মর্মান্তিক খবর মেনে নিতে পারছেন না।

    জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বৃষ্টি ও লিমন। তদন্তে নেমে পুলিশ লিমনের রুমমেটকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১০ দিন পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকার কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও বৃষ্টির কোনো হদিস মেলেনি।

    বৃষ্টির স্বজনরা জানান, ক্রাইমসিনে পাওয়া আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাস্থলে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী স্তব্ধ। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। ১৬ এপ্রিল তাদের শেষবার দেখা যাওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তারা, যা শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

  • হোটেল লবিতে গুলির শব্দ, নৈশভোজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে

    হোটেল লবিতে গুলির শব্দ, নৈশভোজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে হঠাৎ গুলির শব্দে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হোটেলের লবিতে এক বন্দুকধারী গুলি ছোড়ার পর নিরাপত্তা সদস্যরা দ্রুত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

    স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। হোয়াইট হাউজের সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালে ট্রাম্প খাবার টেবিলে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক সেই সময় বাঙ্কেট হলের কাছাকাছি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের চারপাশে নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান নেয় এবং তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

    ঘটনার সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা সদস্যরা সবাইকে শান্ত থাকতে নির্দেশ দেন এবং হলের ভেতরে অবস্থান নিতে বলেন। একই সঙ্গে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকেও মঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি দুজনই নিরাপদ রয়েছেন।

    কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গুলি করে নিস্তেজ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, একজন ব্যক্তি হোটেল লবিতে গুলি চালায়, এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    হোয়াইট হাউজ সাংবাদিক প্রতিনিধি সংস্থার সভাপতি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু করা হবে। প্রতিবছর আয়োজিত এই নৈশভোজে সাংবাদিকদের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের বিভিন্ন পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক গুলির ঘটনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

    গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বাঙ্কেট হল ঘিরে ফেলেন। তারা অতিথিদের নিরাপদে রাখার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।