Blog

  • লস অ্যাঞ্জেলেসে হানিফ সংকেতকে ঘিরে উচ্ছ্বাস: স্বাধীনতা পদক ২০২৬ উদ্‌যাপন

    লস অ্যাঞ্জেলেসে হানিফ সংকেতকে ঘিরে উচ্ছ্বাস: স্বাধীনতা পদক ২০২৬ উদ্‌যাপন

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন করা হয়েছে টেলিভিশনের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র নির্মাতা হানিফ সংকেতের ‘স্বাধীনতা পদক ২০২৬’ অর্জন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।

    শনিবার স্থানীয় সাইন্টোলজি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে শত শত প্রবাসী বাঙালি অংশ নিয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    আন্তর্জাতিক অতিথির প্রশংসা

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান সাংবাদিক ড. উইলিয়াম ডি ফিংকেল। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

    হানিফ সংকেতের কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বিনোদনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে হানিফ সংকেত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার জনপ্রিয়তা তিনি মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সম্মাননা ও বিশেষ আয়োজন

    অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে হানিফ সংকেতকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তার অনুপস্থিতিতে সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন অনুষ্ঠানের আয়োজকদের প্রতিনিধি।

    এ দিনের মূল আকর্ষণ ছিল ‘নানা-নাতি’ ধারার অনুকরণে নির্মিত বিশেষ মঞ্চনাটক ‘হলিউডে নানা নাতি’। প্রবাস জীবনের নানা বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত এই নাটক দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। অভিনয়শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

    সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর সন্ধ্যা

    অনুষ্ঠানের শুরুতে হানিফ সংকেতের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এরপর সংগীত পরিবেশন করেন প্রবাসী শিল্পীরা। দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হন।

    পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও সমন্বয়ে কাজ করেন প্রবাসী বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক সংগঠকরা। উপস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও ছিল নজরকাড়া।

    প্রবাসীদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

    আয়োজকরা জানান, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়াকে প্রবাসে উদ্‌যাপন করা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। গতানুগতিক আয়োজনের বাইরে সৃজনশীল এই অনুষ্ঠান দর্শকদের কাছেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    প্রবাসে থেকেও দেশের সংস্কৃতি ও গর্বের মুহূর্তকে উদ্‌যাপনের মাধ্যমে এমন আয়োজন বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য ও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

  • জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    এবিএনএ: মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন এবং তাদের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন আসমানি কিতাব। এসব কিতাবের মধ্যে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব হলো পবিত্র আল-কোরআন, যা মানুষের জীবন পরিচালনার পরিপূর্ণ নির্দেশনা দেয়।

    পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর সুরা হলো সুরা কাহাফ। এটি ১৫তম পারায় অবস্থিত এবং এতে মোট ১১০টি আয়াত রয়েছে। ‘কাহাফ’ শব্দের অর্থ গুহা। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয় এবং এতে ঈমান, ধৈর্য, পরীক্ষা ও আল্লাহর ওপর ভরসার বিভিন্ন শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

    সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত

    হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সুরা কাহাফ পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও প্রশান্তি নাজিল হয়। এক সাহাবি সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার সময় তার নিকট এক ধরনের শান্ত পরিবেশ নেমে আসে। বিষয়টি তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল হয়েছিল।

    এ থেকে বোঝা যায়, নিয়মিত এ সুরা তেলাওয়াত করলে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও বরকত লাভ হয়।

    জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়ার ফজিলত

    হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে পাঠকারীর জন্য বিশেষ নূর সৃষ্টি হয়। এই নূর এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তাকে আলোকিত রাখে।

    আরও বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য আসমান পর্যন্ত আলো জ্বলে ওঠে এবং কিয়ামতের দিন সে আলো তার জন্য বিশেষ সম্মান বয়ে আনবে। একই সঙ্গে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদও দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম ১০ আয়াতের বিশেষ গুরুত্ব

    পুরো সুরা মুখস্থ করা সবার পক্ষে সহজ না হলেও অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে—
    যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

    এ কারণে আলেমরা জুমার দিন বা নিয়মিত সময় নিয়ে এই আয়াতগুলো মুখস্থ ও তেলাওয়াত করার পরামর্শ দেন।

    মুসলমানদের জন্য করণীয়

    • জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
    • অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করা
    • শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া শেখা
    • নিয়মিত তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা

    সুরা কাহাফ শুধু একটি তেলাওয়াত নয়; এতে রয়েছে ঈমান শক্ত করার শিক্ষা, দুনিয়ার ফিতনা থেকে বাঁচার নির্দেশনা এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নিয়মিত পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভের আশা করা যায়।

  • হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    এবিএনএ: তীব্র তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়েও বৃষ্টির দেখা না মেলায় গরমের তীব্রতা বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষই নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গেলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। জলসমৃদ্ধ খাবার ও ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

    জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি

    গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বেশি করে পানিযুক্ত ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন—

    • তরমুজে প্রচুর পানি ও ভিটামিন থাকায় শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর
    • শসা উচ্চ জলীয় উপাদান ও ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
    • কমলা ও লেবু শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং ভিটামিন সি সরবরাহ করে
    • বিভিন্ন শাকসবজি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক
    • স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে

    প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের উৎস

    • ডাবের পানি শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে
    • দই বা ঘোল অন্ত্র ঠান্ডা রাখে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে
    • লেবু, লবণ ও চিনি মিশ্রিত শরবত ঘামের মাধ্যমে হারানো লবণ-পানি পূরণ করে
    • পুদিনা পাতা শরীরে শীতলতা এনে সতেজ অনুভূতি দেয়

    যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

    গরমে কিছু খাবার হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন—

    • ডুবো তেলে ভাজা খাবার
    • অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
    • বেশি তৈলাক্ত খাবার
    • ভারী ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার

    এসব খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হিট স্ট্রেস তৈরি করতে পারে।

    হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে বাড়তি পরামর্শ

    • একবারে বেশি পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন
    • খাদ্যতালিকায় কাঁচা ও হালকা খাবার রাখুন
    • ঘোল বা লাচ্ছিতে জিরা ব্যবহার করলে হজমে সহায়ক ও শরীর ঠান্ডা থাকে
    • রোদে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন
    • অতিরিক্ত গরমে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন

    তীব্র গরমে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শরীরের যত্ন নিলে গরমের মৌসুমেও সুস্থ থাকা সম্ভব।

  • রোগ শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এগিয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

    রোগ শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এগিয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

    এবিএনএ: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে কাজ করছেন বাংলাদেশের তিন তরুণ গবেষক। আলোর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার অভিনব পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন তারা।

    এই গবেষণায় যুক্ত আছেন বাংলাদেশের এস. এম. রাকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ রুবায়েত ইসলাম এবং মোহাম্মদ সবুজ মিয়া। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লামার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সঙ্গেও তারা কাজ করছেন।

    গবেষণার মূল ভিত্তি হলো অত্যাধুনিক অপটিক্যাল বায়োসেন্সর, যা আলোর সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের কোষ বা রক্তে ঘটে যাওয়া ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল রোগগুলো অনেক আগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।

    ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবারের ব্যবহার

    গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিশেষ ধরনের অপটিক্যাল ফাইবার, যা ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবার নামে পরিচিত। এই ফাইবারের ভেতরে ক্ষুদ্র বায়ু ছিদ্রের জটিল গঠন থাকে, যা আলো ও জৈব উপাদানের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে খুব সূক্ষ্ম পরিবর্তনও শনাক্ত করা সহজ হয়।

    এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে গবেষকরা Surface Plasmon Resonance (SPR) পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে ফাইবারের ওপর পাতলা সোনালি স্তর প্রয়োগ করা হয়, যা রক্ত বা অন্যান্য নমুনার সংস্পর্শে এসে আলোর আচরণে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটায়—যা বিশ্লেষণ করে রোগের সম্ভাবনা নির্ণয় করা যায়।

    রক্ত পরীক্ষায় মিলবে আগাম সতর্কতা

    এই সেন্সরের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ, হিমোগ্লোবিন, অ্যালবুমিন ও ইউরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব। এসব উপাদানের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, লিভারের সমস্যা ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ আগেই ধরা পড়তে পারে।

    ক্যান্সার শনাক্তে নতুন দিগন্ত

    গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার কোষে সাধারণ কোষের তুলনায় আলোর প্রতিফলন বৈশিষ্ট্যে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে ক্যান্সারকে খুব প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে—যা চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি আনবে।

    গবেষকদের প্রত্যাশা

    গবেষক এস. এম. রাকিবুল ইসলাম জানান, এই প্রযুক্তি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যেখানে অত্যন্ত ক্ষুদ্র জৈব পরিবর্তনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে। তাদের লক্ষ্য হলো সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি তৈরি করা।

    মোহাম্মদ রুবায়েত ইসলাম বলেন, ফাইবারের নকশা উন্নত করার মাধ্যমে সেন্সরের সংবেদনশীলতা আরও বাড়ানো সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে মোহাম্মদ সবুজ মিয়া জানান, এই প্রযুক্তি সফল হলে ছোট আকারের বহনযোগ্য ডিভাইস তৈরি করা যাবে, যা হাসপাতালের বাইরে থেকেও দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্ভব করবে।

    ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দ্রুত, সহজ ও কম খরচে রোগ শনাক্ত করা গেলে লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশি এই তরুণ গবেষকদের উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন অধ্যায় সূচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

  • শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    শাহবাগে ছাত্রদল-শিবির উত্তেজনা, থানায় ঢুকে হামলার অভিযোগ

    এবিএনএ: রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় ডাকসুর আরেক নেতা এ বি জুবায়েরও থানার ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে কথিত গুপ্ত রাজনীতি এবং জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে সন্ধ্যার দিকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় এলাকাজুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়।

    একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা শাহবাগ থানার ভেতরে আশ্রয় নেন।

    অভিযোগ রয়েছে, এ সময় থানার ভেতরে ঢুকে মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এবং মাস্টারদা সূর্যসেন হলের কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান আলভিও অবস্থান করছিলেন।

    ঘটনার পর থানার বাইরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

  • সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    সৌদিতে আটকে থাকা ৩৩ উমরাহ যাত্রী ফিরলেন, শেষ অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: সৌদি আরবে আটকে পড়া ৩৩ জন বাংলাদেশি উমরাহ যাত্রী অবশেষে দেশে ফিরেছেন। ধর্মমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের ফেরার ব্যবস্থা করা হয়। তারা একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

    ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মার্চের ২৪ তারিখে ওই যাত্রীরা উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি তাদের ৫ এপ্রিল দেশে ফেরানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন টিকিট দেয়নি। এতে তাদের দেশে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

    পরবর্তীতে ১৮ এপ্রিল তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে যাত্রীরা আরও বিপাকে পড়েন। এ অবস্থায় জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিসের কাউন্সিলর বিষয়টি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।

    বিষয়টি জানার পর ধর্মমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে নির্দেশ দেন। কনসাল জেনারেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।

    এই প্রতিনিধি দলে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর, হজ অফিসের কর্মকর্তাসহ কনস্যুলার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যাতে যাত্রীরা কোনো জটিলতায় না পড়েন, সে বিষয়ে সৌদি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়।

    শেষ পর্যন্ত ২৩ এপ্রিল আটকে পড়া উমরাহ যাত্রীদের সর্বশেষ দলটি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

    উল্লেখ্য, গত মাসেও একই ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া কিছু উমরাহ যাত্রী একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিলেন। তখনও সরকারি হস্তক্ষেপে তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

  • সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    সংরক্ষিত আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী বৈধ, ভোট ১২ মে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির জমা দেওয়া ৩৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এ ঘোষণা দেন।

    যাচাই শেষে বিএনপির দাখিল করা সব প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। এর ফলে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে দলটির পূর্ণ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছে।

    বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

    নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।

    এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

    এই ঘোষণার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে গেল দলটি।

  • পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, উপস্থিতি প্রায় ৯০%

    এবিএনএ: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এবারের প্রথম ধাপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

    এবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ভোট হয়েছে ১৫২টি আসনে। এই আসনগুলোতে তিন কোটির বেশি ভোটার রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত ৮০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

    নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে সেদিন ফলাফল ঘোষণা করা হবে না। পুরো নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে, তখনই জানা যাবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসছে।

    পশ্চিমবঙ্গে সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালে। সে সময় মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এককভাবে ২১৫টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে। অন্যদিকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন।

    সেই নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারও দলটি ক্ষমতা ধরে রাখতে মাঠে রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দলটির শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।

    প্রথম ধাপের ভোটে উচ্চ উপস্থিতি নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দ্বিতীয় ধাপের ভোট এবং চূড়ান্ত ফলাফলের দিকেই নজর সবার।

  • দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    দক্ষিণে তাপদাহে তীব্র লোডশেডিং, দিনে-রাতে ৮–১০ বার বিদ্যুৎহীনতা

    এবিএনএ: প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যেই খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বেড়েছে লোডশেডিং। গত তিন দিন ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে শিক্ষার্থী, পরীক্ষার্থী, অফিসকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

    স্থানীয়রা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। কখনো সকালে, আবার কখনো মধ্যরাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় ৭৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬১৯ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১৮২ মেগাওয়াট। একই দিন দুপুর ১টায় ৮০১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৪৩ মেগাওয়াট, তখন ঘাটতি ছিল ১৫৮ মেগাওয়াট।

    এর আগে বুধবার দুপুরে ৮১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০৭ মেগাওয়াট। সে সময় লোডশেডিং দাঁড়ায় প্রায় ২১০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ১৫৫ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ৪৮ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল।

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা এবং বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের ৫ জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এই এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ২৮ হাজারের বেশি। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ফিডারভিত্তিক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    খুলনা নগরীর একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. মাহাফুজ বলেন, অফিস চলাকালে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুৎ থাকলে এসিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়, কিন্তু চলে গেলে অফিসের ভেতর প্রচণ্ড গরম হয়ে ওঠে।

    এইচএসসি পরীক্ষার্থী শানু জানান, সামনে পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে গরম, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়তে বসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ডুমুরিয়ার আরশনগর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান খাতুন বলেন, দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো এক ঘণ্টা থাকে, আবার দীর্ঘ সময় থাকে না। এতে গরমে অসুস্থতা বাড়ছে এবং ফ্রিজের খাবারও নষ্ট হচ্ছে।

    আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন ছিল ৩৬ ডিগ্রি। চলমান তাপদাহের কারণে গরমের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে। শুক্রবারও তাপদাহ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে ২৫ বা ২৬ এপ্রিলের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওজোপাডিকোর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে লোডশেডিং বেড়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কম থাকায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা।

  • ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু, সেচে বিদ্যুৎ দিতে সরবরাহ কমবে কত?

    ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু, সেচে বিদ্যুৎ দিতে সরবরাহ কমবে কত?

    এবিএনএ: কৃষি মৌসুমে সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে এবং শহর-গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ কৃষি সেচে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে রাজধানীতে সীমিত আকারে লোডশেডিং চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে বিদ্যমান সংকট দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকলেও বাস্তবে তার পুরোটা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

    তিনি জানান, গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেয়, যা মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।

    তিনি জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ বরাদ্দ থাকলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে এবং দ্রুত অগ্রগতি দেখা যাবে।

    তিনি আরও জানান, একটি আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় সরবরাহে চাপ বেড়েছে। এগুলো চালু হলে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির চেষ্টা চলছে।