Category: বাংলাদেশ

  • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর দুই সদস্য আটক, উদ্ধার ৪ জেলে

    এবিএনএ: সুন্দরবনে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ডাকাতদের জিম্মিদশা থেকে চার জেলেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

    রবিবার (১৭ মে) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিজিএস তৌফিকের নির্বাহী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট আশিকুল ইসলাম ইমন।

    কোস্ট গার্ড জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সুন্দরবন এলাকায় সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ দফার অভিযানে এই সাফল্য আসে।

    গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, করিম শরীফ বাহিনীর সদস্যরা খুলনার দাকোপ উপজেলার সুন্দরবনের ঢাংমারী খাল এলাকায় অবস্থান করছে। পরে রবিবার ভোর চারটার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।

    অভিযানের সময় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

    আটক দুই ডাকাত হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মো. রবিউল শেখ (৩০) এবং মোরেলগঞ্জ উপজেলার রাজন শরীফ (২০)। কোস্ট গার্ডের দাবি, রাজন শরীফ দীর্ঘদিন ধরে করিম শরীফ বাহিনীর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।

    অভিযান চলাকালে ডাকাতদের কবল থেকে চার জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।

    এদিকে জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    কোস্ট গার্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    মোংলায় পরীক্ষা চলাকালে সরকারি টাকায় শিক্ষকদের ‘ফুটবল ভ্রমণ’! ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ৫০ শিক্ষকের জেলা সফরে ক্ষোভ

    এবিএনএ: মোংলা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলমান থাকলেও উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে অনুপস্থিত থেকে সরকারি অর্থ ব্যয়ে ফুটবল খেলা দেখতে জেলা সদরে ভ্রমণে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়ন থেকে মোট ১৪টি দল এবারের জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বালক বিভাগে মোংলা দ্বিগরাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিকা বিভাগে উত্তর বাশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

    নিয়ম অনুযায়ী সীমিতসংখ্যক শিক্ষক দলের সঙ্গে থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, খেলা উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই অন্তত ১১ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা জেলা সদরে অবস্থান করেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা খেলায় দায়িত্ব পালনের চেয়ে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরিতেই বেশি সময় কাটান।

    গত ১০ মে প্রথম রাউন্ডেই মোংলার দুটি দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও শিক্ষকদের সফর থেমে থাকেনি। অভিযোগ অনুযায়ী, দল বাদ পড়ার দুই দিন পরও ফাইনাল খেলা দেখার অজুহাতে বুধবার সকালে প্রায় ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আবারও জেলা সদরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, এই সফরের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, যা মূলত শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ছিল। অথচ চলমান পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডকে তারা দায়িত্বহীনতা ও অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন।

    একাধিক অভিভাবক জানান, বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়েছে। এখন পরীক্ষা চললেও অনেক শিক্ষক স্কুলে অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছে না। এতে করে শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আর শিক্ষকেরা সরকারি টাকায় আনন্দ ভ্রমণে ব্যস্ত। শিক্ষা ব্যবস্থার এমন দুরবস্থা আগে দেখা যায়নি।”

    এদিকে, এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কীভাবে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষা প্রশাসনের একাংশের নীরব সমর্থন থাকায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মের মধ্যে চলেছে।

    ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পিন্টু রঞ্জন দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেননি।

    তবে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ললোন কুমার মন্ডল জানান, জেলা পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা দেখার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। যদিও চলমান পরীক্ষা ও পাঠদান ব্যাহত করে একসঙ্গে এত শিক্ষক জেলা সদরে অবস্থান করাকে তিনি গুরুতর বিষয় বলে মন্তব্য করেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারমিন আক্তার সুমী বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি করে কোনো ধরনের ভ্রমণ বা বিলাসিতা মেনে নেওয়া হবে না। সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের সংঘর্ষ, উদ্ধার ৪ অপহৃত জেলে

    সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের সংঘর্ষ, উদ্ধার ৪ অপহৃত জেলে

    এবিএনএ: বাগেরহাটের সুন্দরবনে বনদস্যুদের সঙ্গে বনরক্ষীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দস্যুদের কবল থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি দস্যুদের ফেলে যাওয়া একটি বন্দুক ও এক রাউন্ড গুলিও জব্দ করেছে বন বিভাগ।

    বুধবার (১৩ মে) সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কোকিলমনি এলাকার সিঙারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের দাবি, অভিযানের মুখে দস্যুরা পালিয়ে যায় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে রেখে যায়।

    উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন— শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের আবদুল বারেক খান, একই এলাকার মো. হাসান, খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার নাছিম এবং দাকোপ উপজেলার ইরাক শেখ।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথভাবে সিঙারটেক এলাকায় নিয়মিত টহলে ছিল। এ সময় বনদস্যুদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযান চালানো হয়। বনকর্মীদের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দস্যুরা প্রথমে গুলি ছোড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে বনরক্ষীরাও পাল্টা গুলি চালায়।

    তিনি আরও জানান, বনরক্ষীরা দস্যুদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চার জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তাদের হাত-পা বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

    বর্তমানে উদ্ধার হওয়া জেলেরা শেলারচর টহল ফাঁড়ির হেফাজতে রয়েছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    বন বিভাগের প্রাথমিক ধারণা, এ ঘটনায় জড়িত দস্যুরা কুখ্যাত শরীফ বাহিনীর সদস্য। সুন্দরবনে দস্যু দমনে বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক

    মাসুদ রানা,মোংলা: অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড এ সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধানকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

    মঙ্গলবার ১২ মে  সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। এছাড়া কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (সদর দপ্তর মোংলায় ) ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় ব্রিফিং প্রদান করেন  লেঃ ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ,(এক্স), বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস তৌহিদ।

    মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে চতুর্থ বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” -এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

    সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়। প গোপন তথ্যের ভিত্তিতে,  ১২ মে  মঙ্গলবার মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ২ টি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ আটক করা হয়।

    আটককৃত ডাকাত মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীর (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

  • ভারত থেকে আবারও এলো ৫ হাজার টন ডিজেল—জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত

    ভারত থেকে আবারও এলো ৫ হাজার টন ডিজেল—জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ভারত থেকে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ধাপে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছেছে।

    জানা গেছে, ভারতের শিলিগুড়ির নুমালীগড় রিফাইনারি টার্মিনাল থেকে এই ডিজেল সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গভীর রাতে, প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে তেল পরিবহন সম্পন্ন হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে পাইপলাইনে ডিজেল পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

    পার্বতীপুর ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব চৌধুরী জানান, কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে চার ধাপে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।

    তিনি আরও জানান, এর আগের মাসেও একই পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছিল, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারাবাহিক সরবরাহ দেশের জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করছে এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে।

  • ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    এবিএনএ : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক পর পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১৯৬৭ সাল থেকে জোটটির সদস্য থাকা দেশটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

    সৌদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়েছে। যদিও বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার দিকে কেন্দ্রীভূত।

    উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তোষ

    দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের নির্ধারিত তেল উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল আমিরাত। দেশটির অভিযোগ, এই সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছিল না, যা সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ওপেকে থাকার যৌক্তিকতা আর দেখছিল না আবুধাবি।

    আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি আরবকে এতদিন জোটটির নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, আর উৎপাদন সীমা নিয়ে আমিরাত এটিকে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখত।

    নেতৃত্বের দূরত্বও স্পষ্ট

    সাম্প্রতিক এক উপসাগরীয় সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে ওপেক ছাড়ার ঘোষণা—এই দুটি ঘটনাকে কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়ছে।

    ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সময়ে আমিরাত আরও কিছু আন্তর্জাতিক জোট বা সংগঠন থেকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    পুরনো দ্বন্দ্ব আরও জোরালো

    ইতোমধ্যে সুদান ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। তার সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমিরাতের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    কচুয়ায় বিষখালী ভাঙনে ঝুঁকিতে বাধাল বাজার ব্রিজ, বন্ধ হতে পারে বাগেরহাট–পিরোজপুর মহাসড়ক

    এবিএনএ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় বিষখালী নদীর তীব্র ভাঙনে বাধাল বাজার সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ (কালভার্ট) এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। এতে বাগেরহাট-পিরোজপুর মহাসড়কে যান চলাচল যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি ঘিরে যাত্রী, চালক এবং এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি নদী খননের ফলে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে কালভার্টের পাশের মাটি সরে যেতে থাকে। এতে করে কাঠামোটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ব্রিজটির উইং ওয়ালের একটি অংশ ভেঙে গেছে এবং সড়কের উপর ফাটল দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার পূর্বাভাস দিচ্ছে।

    এই মহাসড়কটি বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার মধ্যে অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, মাছ এবং ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনের জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ব্রিজটি ধসে পড়লে দুই জেলার মধ্যে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

    এলাকাবাসী দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

    এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, নদী খননের কারণে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    বজ্রপাতের তাণ্ডব: চার জেলায় ৯ প্রাণহানি, হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বেশি মৃত্যু

    এবিএনএ: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন এবং নোয়াখালীতে একজন রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

    নেত্রকোণা

    নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় পৃথক তিনটি স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

    জানা গেছে, জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিব (৫৫) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    একই উপজেলার সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকানোর সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান কৃষক মোনায়েম খাঁ পালান। স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    এছাড়া বিকেলে কৃষ্ণপুর এলাকার ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডল নামের আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে বজ্রপাতেই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

    সুনামগঞ্জ

    সুনামগঞ্জে হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। বিকেলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

    সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামে জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান। একই সময়ে জেলার অন্য একটি হাওরে বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের এক কৃষক নিহত হন।

    অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে আরও তিনজন আহত হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    হবিগঞ্জ

    হবিগঞ্জে পৃথক দুই স্থানে বজ্রপাতে এক কৃষকসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের গড়দার হাওরে ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

    অন্যদিকে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে খলা থেকে ধান আনতে গিয়ে আব্দুস সালাম (৩৫) বজ্রপাতে নিহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত পরিবারের জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    নোয়াখালী

    নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয়রা জানান, তিনি শুকাতে দেওয়া বাদাম ঘরে তুলতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চার জেলায় প্রাণহানির এ ঘটনাগুলোতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় ধান কাটার মৌসুমে খোলা মাঠে কাজ করার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    গণভোট উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর ষড়যন্ত্র রুখবে জনগণ: নজরুল ইসলাম

    এবিএনএ, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও কাঙ্খিত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখনজনক। ঐ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের গণভোটের রায়কে বাতিলের মাধ্যমে সরকার ফের ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

    শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যােগে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের ষড়যন্ত্র প্রমাণ করে বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাধ্যমে ক্ষমতায় গেছে। তাই তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা আকাঙ্খাকে জলাঞ্জলী দিয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করছে। এর পরিনতি ভালো হবেনা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র রুখে দেবে জনগণ।

    তিনি বলেন, সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছেন। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা।

    তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল যুবদল যেভাবে চট্রগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে এতে মনে হয় ছাত্রদল বিএনপি সরকারকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে। তিনি বলেন, চট্রগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করতো তবে ডাকসু নেতাদের থানার ভেতরে হামলা করা, কুমিল্লা পলিটেকনিক, ঈশ্বরদী কলেজে হামলা করার সাহস ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেখাতে পারতো না। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর সরকার নিরব দর্শকের ভূমিকা রেখে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে।

    ১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুয়ানুল ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তাফা কামাল, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সহ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহ সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

    এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান, মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সহ সভাপতি শাহ আলম, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, বিডিপি মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শেখ জোবায়ের মাহমুদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল, হামেদ হাসান ইলাহী, আমির হোছাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ফারুকে আজম, মোহাম্মদ ইসমাইল, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।

    সমাবেশ শেষে গণমিছিল টি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম জিইসির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

  • উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সতর্কতা, সিলেট–সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সতর্কতা, সিলেট–সুনামগঞ্জে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

    এবিএনএ: দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী কয়েকদিন ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে, যার প্রভাবে কিছু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, উত্তরাঞ্চল ও সংলগ্ন অঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা অন্তত ৯৬ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে। এর ফলে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিবৃষ্টির কারণে এসব অঞ্চলের শহর ও নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, প্রাক-মৌসুমী শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ঝুমুল’ বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই বৃষ্টিবলয় ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৭ মে পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। এ সময় দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে, যদিও মাঝেমধ্যে স্বল্প বিরতি থাকতে পারে।

    উজানের মেঘালয়, আসাম ও চেরাপুঞ্জি এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব এলাকায় ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর প্রভাবে পাহাড়ি ঢল নেমে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, এই সময় দমকা হাওয়া বা ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। কিছু স্থানে এর চেয়েও বেশি বা কম গতিবেগ দেখা যেতে পারে।

    টানা বৃষ্টিপাতের কারণে হাওর অঞ্চলে চলমান ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা সময়মতো ধান কাটতে না পারলে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    এদিকে বৃষ্টিপাত বাড়ার ফলে আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। ২৮ বা ২৯ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির গুজবও নাকচ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, অতিবৃষ্টির কারণে বরং তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনাই বেশি।