Category: ফিচার

  • অবহেলা আর প্রকৃতির আঘাতে বিলীন হওয়ার পথে সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্র

    অবহেলা আর প্রকৃতির আঘাতে বিলীন হওয়ার পথে সুন্দরবনের কটকা পর্যটন কেন্দ্র

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): সাগরে ভাঙছে সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কটকা। সাগরে বিলীন হয়ে গেছে বনরক্ষীদের ব্যারাক, চলাচলের রাস্তা, পুকুর, রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও গাছপালা। অপরদিকে, জৌলুস হারাচ্ছে কটকার আরেকটি পর্যটন স্পট জামতলা সী-বীচ।

    সরেজমিনে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ক্রমান্বয়ে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে কটকার বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত দুই বছরে কটকা অভয়ারণ্য পর্যটন কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা, রাস্তা ও গাছপালা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাগরের ভাঙনের কবলে রয়েছে কটকা বনাঞ্চল। প্রতিনিয়ত বনভূমি ও গাছপালা সাগরে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কারণে গত দুই বছরে কটকার বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস ভবন, চলাচলের রাস্তা, একটি পুকুর এবং বিপুল পরিমাণ গাছপালা সাগরে তলিয়ে গেছে। কয়েকবার স্টাফ ব্যারাক স্থানান্তর করতে হয়েছে। বর্তমানে সাগর খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে বিদ্যমান ব্যারাক, অফিস ও রেস্ট হাউস সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক ফেলা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

    অপরদিকে, সুন্দরবনে ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট কটকার জামতলা সী-বীচ তার জৌলুস হারাতে বসেছে। সী-বীচে এখন তেমন বালু নেই; বীচটি অনেকটাই কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক কারণে বীচের বালু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের ভেতরে সরে গেছে। জামতলা সী-বীচে ঘুরতে আসা পঞ্চগড় জেলার পর্যটক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জামতলা সী-বীচের রূপ ও জৌলুস অনেকটাই হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এখানে সী-বীচের আগের সৌন্দর্য নেই। কর্দমাক্ত বীচে হাঁটাচলা করা কষ্টকর বলে জানান তিনি।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনের কবলে পড়েছে কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন বনাঞ্চল। কটকায় বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও পুকুর সাগরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

  • টানা তিনদিনের ছুটিতে মুখরিত পূর্ব সুন্দরবন, কটকায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

    টানা তিনদিনের ছুটিতে মুখরিত পূর্ব সুন্দরবন, কটকায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

    মোঃ শাহাদাত হোসাইন, এবিএনএ,শরণখোলা (বাগেরহাট): বড়দিনসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে সুন্দরবনের কটকা এখন দেশী বিদেশী পর্যটকদের পদচারনায় মুখর। শুক্রবার এ মৌসুমের সর্বোচ্চ সংখ্যক দুই সহস্রাধিক পর্যটক কটকা ভ্রমণে গেছেন। গত এক সপ্তাহে চার সহস্রাধিক পর্যটক কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে গেছেন বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের অন্যতম পর্যটন স্পট কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মতিউর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, সুন্দরবনে পর্যটকের ঢেউ লেগেছে। প্রতিদিন লঞ্চ ও জাহাজে করে শত শত পর্যটক সুন্দরবনে আসছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) একদিনে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩৮টি জাহাজে করে দুই সহস্রাধিক পর্যটক কটকা পর্যটন কেন্দ্রে এসেছেন। পর্যটকেরা কটকায় মায়াবী চিত্রল হরিণের ছোটাছুটি এবং নদী ও খালের চরে কুমিরের রোদ পোহানোর দৃশ্য দেখে পুলকিত হচ্ছেন। তা ছাড়া পর্যটকরা কটকার জামতলা সীবীচে ঘোরাঘুরি এবং কেউ কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন বলে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।

    সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন ও ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবীর বলেন, বড়দিনসহ টানা তিন দিনের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকের ঢল নেমেছে। শুক্রবার বিপুল সংখ্যক দেশী বিদেশী পর্যটক করমজলে বেড়াতে এসেছেন।

    ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবন (টোয়াস) এর সেক্রেটারী নাজমুল আযম ডেভিট বলেন, সুন্দরবনে বর্তমানে পর্যটকের প্রবাহ বাড়লেও গত বছরের তুলনায় এ বছর কম সংখ্যক পর্যটক সুন্দরবনে যাচ্ছেন।

    সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে পর্যটকের যাতায়াত বেড়েছে। সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য বিভাগীয় দপ্তর থেকে ২৫ ডিসেম্বর ১৮টি ট্যুর পারমিশন ইস্যু করা হয়েছে। ১৮টি পারমিশনে ৬১১ জন দেশী ও ১৩ জন বিদেশী পর্যটক সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব জমা দিয়েছেন। সুন্দরবনে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের গাইড সাপোর্টসহ সার্বিক নিরাপত্তায় বনরক্ষীরা নিরলস কাজ করেন বলে ডিএফও জানিয়েছেন।

  • মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হবে: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক বিশিষ্টজনরা

    মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হবে: ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক বিশিষ্টজনরা

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক সময়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অর্থ স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিকেই অস্বীকার করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিতর্ক নয়—মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ ও সত্য ইতিহাস চর্চাই জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে পারে।

    তাঁদের মতে, স্বাধীনতা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি জাতির ইতিহাসে নেই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি সর্বস্তরের জনযুদ্ধ, যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং যার সশস্ত্র সূচনা ঘটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে। এই যুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের যথাযথ সম্মান জানানো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।

    বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০-এর গণ অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনও ইতিহাসে নিজ নিজ গুরুত্ব নিয়ে স্থান পাবে। কোনো ব্যক্তি বা দলকে অস্বীকার করতে গিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকে বিকৃত করার সুযোগ নেই।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রতিচ্ছবি। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানে রাষ্ট্রের ভিত্তিকে নড়িয়ে দেওয়া। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনাই করা যায় না। এটি বাদ দিলে জাতির পরিচয়ও মুছে যাবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন বেপারী বলেন, ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের পর যে প্রশ্নগুলো উঠছে, তা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন না হওয়ার ফল। মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়া। কিন্তু দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা সেই স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা। উভয় আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানবিক মর্যাদা, সাম্য, ন্যায়বিচার এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। একাত্তরের বিজয় ছিল পরাধীনতার বিরুদ্ধে, আর চব্বিশের বিজয় কর্তৃত্ববাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে—এই লড়াই এখনও চলমান।

    বিশিষ্টজনদের মতে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সূচনাবিন্দু হতে হবে মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাস বিকৃতি নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নই জাতিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে।

  • ইতিহাসের আয়নায় ২৮ নভেম্বর: আলবেনিয়ার স্বাধীনতা, জন্ম-মৃত্যু ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি

    ইতিহাসের আয়নায় ২৮ নভেম্বর: আলবেনিয়ার স্বাধীনতা, জন্ম-মৃত্যু ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাপঞ্জি

    এবিএনএ: মানবসভ্যতার পথচলায় প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নানা অর্জন, সংগ্রাম, আবিষ্কার ও পরিবর্তনের গল্প। সময়ের ধারায় সেই দৈনন্দিন ঘটনাগুলোই ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে। আজ ২৮ নভেম্বর, বিশ্ব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। বিশেষ করে তুরস্কের শাসন থেকে আলবেনিয়ার স্বাধীনতা লাভের দিন হিসেবে এটি স্মরণীয় হয়ে আছে। এছাড়াও রয়েছে নানা উল্লেখযোগ্য বিশ্বঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যুর দিন।


    উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা

    • ১৪৪৩ – সেকেন্দার বেগ মধ্য আলবেনিয়ার খ্রুজ এলাকায় প্রথমবারের মতো আলবেনিয়ার পতাকা উড়ান, যা স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পায়।

    • ১৫২০ – বিশিষ্ট নাবিক ফার্ডিনান্ড ম্যাগেলান ইউরোপ থেকে প্রথম সফলভাবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে প্রবেশ করেন প্রশান্ত মহাসাগরে।

    • ১৬৬০ – ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্বের প্রাচীনতম বৈজ্ঞানিক সংগঠন ‘রয়েল সোসাইটি’।

    • ১৮২১ – স্পেনের শাসন থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে পানামা।

    • ১৮৬০ – কলকাতায় প্রথম স্বয়ংক্রিয় মুদ্রণযন্ত্রে ছাপা হয় ‘লন্ডন টাইমস’।

    • ১৯১২ – দীর্ঘ সংগ্রামের পর তুরস্কের শাসন থেকে আলবেনিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এই দিনটি আজও দেশটির স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়।

    • ১৯৬০ – মৌরিতানিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

    • ২০২৩ – ভারতের উত্তরাখণ্ডে সিলকিয়ারা সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪১ শ্রমিককে ১৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার করা হয়।


    জন্মদিন: যাঁরা আজ পৃথিবীতে এসেছিলেন

    • ১৮২০ – ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস, মার্কসবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, দার্শনিক ও রাজনৈতিক তাত্ত্বিক।

    • ১৯৩১ – গোলাম রহমান, বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

    • ১৯৪৩ – রফিকুন নবী, বাংলাদেশের প্রখ্যাত চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট।

    • ১৯৬২ – জন স্টুয়ার্ট, মার্কিন কৌতুকাভিনেতা ও টিভি উপস্থাপক।

    • ১৯৮৭ – কারেন গিলান, স্কটিশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী।


    মৃত্যুবরণ করেছেন এই দিনে

    • ১৯৫৪ – এনরিকো ফের্মি, ইতালীয় পদার্থবিদ ও নোবেল বিজয়ী।

    • ১৯৬২ – কৃষ্ণচন্দ্র দে, বাঙালি সংগীতশিল্পী ও সুরকার।

    • ১৯৯৯ – জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবী।

    • ২০০৬ – মোহাম্মদ হানিফ, বাংলাদেশের প্রথম ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র।

    • ২০১০ – লেসলি নিলসেন, কানাডীয়-মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক।


    দিনটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ২৮ নভেম্বর ইতিহাসের পাতা জুড়ে রয়েছে স্বাধীনতার জয়গাথা, বিজ্ঞান-সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা ও মানবিক সাফল্যের নানা মাইলফলক। আলবেনিয়ার স্বাধীনতা শুধু একটি দেশের মুক্তির গল্প নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার সংগ্রামের এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়।

  • স্রোতের বিপরীতে আইশা খান: উপস্থাপনা থেকে সিনেমায় নতুন রূপে এক শিল্পী

    স্রোতের বিপরীতে আইশা খান: উপস্থাপনা থেকে সিনেমায় নতুন রূপে এক শিল্পী

    এবিএনএ:  অল্প সময়েই অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল আইশা খান। তবে তিনি কেবল জনপ্রিয় ধারার নাটক বা ওয়েব সিরিজেই সীমাবদ্ধ নন; বরং ভিন্ন ধারার গল্প ও নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন নিজের কর্মজীবনে। এবার তিনি হাজির হয়েছেন এক নতুন ভূমিকায়—দেশের অন্যতম বৃহৎ লোকসংগীত প্রতিযোগিতা ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০২৫’-এর প্রধান সঞ্চালক হিসেবে।

    দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অডিশন রাউন্ডে উপস্থাপনার পর এবার পুরো আসরের মূল সঞ্চালনার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। লোকসংগীতকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা এই জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো নতুন শিল্পীদের সামনে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ দিচ্ছে। আইশা বলেন, “এত বড় একটি আয়োজনের অংশ হতে পারা আমার জন্য গর্বের। প্রতিযোগীদের সংগীতজ্ঞান ও উপস্থাপনা দেখে আমি মুগ্ধ। যদিও আমি গানের মানুষ নই, কিন্তু এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক কিছু শিখছি।”

    তিনি জানান, প্রতিযোগীদের গান, সুর, তাল ও মঞ্চ উপস্থাপনা দেখে বাছাই করা হয়েছে সেরা শিল্পীদের। গত ৭ আগস্ট রাজধানীর এক পাঁচতারকা হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৌসুমের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার শুরু হয়েছে এবং দর্শকদের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক।

    উপস্থাপনার পাশাপাশি আইশা এখন ব্যস্ত সিনেমার কাজ নিয়ে। সম্প্রতি তিনি শেষ করেছেন নিজের তৃতীয় সিনেমা ‘শেকড়’-এর শুটিং। প্রসূন রহমান পরিচালিত এ ছবিতে তাঁর সহ-অভিনেতা এফ এস নাঈম। সিনেমাটি প্রথম প্রদর্শিত হবে কানাডার টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া (ইফসা)-তে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের কাজ দেখতে পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত আইশা।

    তাছাড়া, তিনি বর্তমানে সোহেল আরমান পরিচালিত ‘সংবাদ’ সিনেমার কাজ করছেন, যার প্রায় ৪০ শতাংশ শুটিং শেষ হয়েছে। একসময় টেলিভিশন নাটকে নিয়মিত মুখ হলেও এখন ছোটপর্দায় তাঁর উপস্থিতি কিছুটা কম। কারণ জানতে চাইলে আইশা বলেন, “একই ধরনের গল্পে কাজ করতে ভালো লাগে না। আমি চাই প্রতিটি চরিত্রে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে।”

    লোকসংগীতের এই বৃহৎ আয়োজন, দুটি নতুন সিনেমা এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে আইশা খানের ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে নতুন গতি ও সম্ভাবনার এক ভিন্ন অধ্যায়। তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, স্রোতের বিপরীতে চলেই আজ তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

  • স্কারলেট নতুন পরিচয়ে

    স্কারলেট নতুন পরিচয়ে

    এবিএনএ: হলিউড ২০০৩ সালেই লালগালিচায় স্বাগত জানিয়েছিল অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসনকে। ‘লস্ট ইন ট্রান্সলেশন’ সিনেমার মাধ্যমে তখন মাত্র ১৮ বছরের এক তরুণী সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন বিশ্বজুড়ে। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া স্বর্ণকেশি সেই রহস্যময়ী স্কারলেট দ্রুতই পরিণত হন বড়পর্দার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক মুখে। ২২ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি শুধু দর্শক নন, সমালোচকদের মনও জয় করেছেন বারবার। হলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের নানা দেশের দর্শকের কাছেও তিনি এখন পরিচিত এক নাম। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিনির্ভর চলচ্চিত্রে নতুন প্রজন্মের অন্যতম প্রতিনিধিত্বশীল মুখ তিনি। একসময় যে মেয়েটিকে দেখা যেত কেবল বোকাসোকা হাসি আর লাজুক চাহনিতে, আজ তাঁর চোখেমুখে দেখা যায় দৃঢ়তা, সাহস আর সংগ্রামের দীপ্তি। বয়স এখন ৪০। বহুবার উঠে এসেছেন বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায়। পারিশ্রমিকের দৌড়ে তিনি অনেক আগেই টপকে গেছেন অন্যান্য নারী তারকাকে।

    ২০২৫ সালের ৭৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসব যেন তাঁর ক্যারিয়ারের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে স্কারলেট শুধু অভিনেত্রী নন, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও উপস্থিত হয়েছেন। তাঁর এই –বহুমাত্রিক উপস্থিতি এক প্রতীকী দৃষ্টান্ত–নারীশিল্পীর নিজের অবস্থান গড়ে তোলার সাহসী যাত্রা। এবারের আসরে ওয়েস অ্যান্ডারসনের তারকাবহুল সিনেমা দ্য ফিন্যান্সিয়াল স্কিম প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা পেয়েছে। স্কারলেট এখানে অভিনয় করেছেন বেনিসিও দেল তোরো ও টম হ্যাংকসের সঙ্গে। অন্যদিকে, পরিচালক হিসেবে তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা এলেনর দ্য গ্রেট স্থান পেয়েছে ‘আঁ সার্তে রিগা’ বিভাগে। এ সিনেমার গল্প লিখেছেন তিনি এবং প্রযোজনার দায়িত্বেও ছিলেন। সিনেমাটিতে উঠে এসেছে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক ও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্ন।

    নারী নির্মাতাদের যে অগ্রযাত্রা বিগত দশকে ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে, স্কারলেটের এই অভিষেক সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বহু বছর ধরে, নারীরা চলচ্চিত্র পরিচালনায় পূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই যখন একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী পরিচালনায় আসেন, তা হয়ে ওঠে অন্য নারীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। এক সাক্ষাৎকারে স্কারলেট বলেন, ‘আমার অনেকদিনের স্বপ্ন ছিল নিজস্ব গল্প বলার। অভিনয়ের বাইরেও, ক্যামেরার পেছনে দাঁড়িয়ে আমি এক নতুন স্বাধীনতা অনুভব করছি।’

    দু’বার অস্কারে মনোনীত হয়েছেন এই ‘হলিউড সুন্দরী’। তাঁর অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছে বারবার। তবুও এত বছর সিনেমা জগতে কাটিয়ে একটি আক্ষেপ রয়ে গেছে তাঁর–যে ধরনের অভিনয় করতে চেয়েছিলেন, সেভাবে সুযোগ পাননি। কারণ, শুরু থেকে হলিউড তাঁকে দেখেছে যৌনতার প্রতিমূর্তি হিসেবে। তাঁর কাছে মূলত এমন চরিত্রে প্রস্তাব এসেছে, যেখানে রূপই মূল নিয়ামক। তিনি বলেন, ‘হলিউড দীর্ঘদিন ধরে নারীর শরীরকেই মুখ্য করে দেখেছে। আমি শুনেছি, মেরিলিন মনরোর মতো অনেক অভিনেত্রীকে এ দৃষ্টিভঙ্গির শিকার হতে হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা শুনে আমি সবসময় একটু সতর্ক থেকেছি।’ তবুও কাজ নিয়ে তাঁর ভালোলাগা, ভালোবাসা এবং নিজের গল্প বলার এই নতুন যাত্রা–সবকিছু মিলিয়ে স্কারলেট জোহানসনের এই পর্ব যেন এক নারীর শিল্পী হয়ে ওঠার অনন্য দলিল।

  • আমেরিকা না চিন?

    আমেরিকা না চিন?

    শেখ শওকত আলী শিমুল

    রেমিট্যান্সে এক নম্বর

    রপ্তানিতেও এক

    ইনভেস্টমেন্টেও এক নম্বর

    করে দেখুন চেক!

    রোহিঙ্গাদের উন্নয়নেও

    বেশ অবদান তার,

    আমেরিকার বিদ্বেষী ভাব

    মদদ পিছে কার?

    বিনা মূল্যে কোভিড টিকার

    কে মিটাবে দায়?

    মেধাবীদের শিক্ষা সুযোগ

    বলুন কোথায় পায়?

    আই,এম,এফ ও বিশ্ব ব্যাংকে

    জোগায় কার ঋণ?

    উন্নয়নের সহযোগী –

    হবে কী আর চিন?

    চিনের প্যাঁচে ভুখা-নাঙ্গায়

    আজকে পাকিস্তান,

    ভেবে চিন্তে বলুন কথা

    ভালোই যদি চান!

    দেশের ভালো সবার আগে

    ভালোবাসুন দেশ,

    নইলে যাবেন আস্তাকুঁড়ে

    সন্দেহ নাই লেশ!

    একশ বছর পরেও এমন

    মিলবে কোথায় দেশ?

    বিকল্প নেই আমেরিকার

    এটাই কথা শেষ।

  • মহামারীকে হারিয়ে সুস্থ দেশে নতুন আঙ্গিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত

    মহামারীকে হারিয়ে সুস্থ দেশে নতুন আঙ্গিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত

    এবিএনএ: পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। টানা দুইবছর মহামারীর করাল স্রোতে ঈদের আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে উঠেছিল। সারা বিশ্বেই ছিল প্রায় একই হাহাকার। এবার সেই মহামারীর রেশ কাটিয়ে অনেকটাই আনন্দ উল্লাসে সারাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ  আপনজনের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন‍্য সকলেই চিরচেনা ব‍্যস্ত ঢাকা ছেড়ে গিয়েছে নিজ জেলায়। ব‍্যস্ত ঢাকা ঈদের সময় অনেকটা একা হয়ে যায়। সবাই ঢাকাকে যেন তার প্রয়োজনেই শুধু ব‍্যবহার করে। ফাকাঁ ঢাকাতে যারা থেকে যায় তারা অনেক বেশি আনন্দে থাকে। ব‍্যস্ত ঢাকার অচেনা রূপটা ঢাকাবাসীদের কাছে অনেক প্রিয়। তারা কোনো ভাবেই এই ফাঁকা ঢাকা দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না।
    আজকেও সকাল থেকেই সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ আরেকটু বাড়িয়ে তোলার জন‍্য বিভিন্ন জায়গার ঘুরতে গিয়েছে। আর গত দুইবারের না ঘুরতে পারার ক্ষোভ যেন এবার পুষিয়ে নিচ্ছে। এবার বাড়তি ভাড়ার উদ‍্যেক থাকলেও রাস্তায় যাতায়াতে ছিল সকলের স্বস্তি। তবে অতিরিক্ত দ্রব‍্য মূল‍্যের কারনে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ‍্যে ছিল হতাশা। পরিবারের সাথে সকলেই ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে চায় কিন্তু অতিরিক্ত মূল্য সেই আনন্দে অনেকটাই ব‍্যাঘাত সৃষ্টি করে। তবুও এবার করোনা প্রকোপ না থাকায় সকলের মাঝেই বিরাজ করেছে নতুন আনন্দ। কত আশায় ছিল প্রত‍্যেকেই সেই নতুন ভোরের নতুন আলোর। দেশে মসজিদ গুলোতে সকাল থেকেই অংশ নেয় লাখ মুসলিম। সকলেই সব বিভেদ ভুলে নতুন আনন্দে একাকার হয়েছে। গতকাল ও অনেকে ঢাকা ছেড়ে গিয়েছে। গতকাল সদরঘাট থেকে লঞ্চ গুলো ছেড়ে যায়।
    যাত্রীর অভাবে সারাদিন খালী থাকলের দিনশেষে লঞ্চ গুলো যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়। জন দুর্ভোগ অনেকটাই কম ছিল গতকালের যাতায়াতে। অনেকেই ফাঁকা ঢাকার  সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ সময়ে পরিবারের কাছে ছুটে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেনি।
    এছাড়াও ঢাকায় বাইরেও ঈদের আনন্দ কোনো কমতি ছিল। কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় পালিত হয়েছে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত। এটি শোলাকিয়ায় ১৯৫ তম জামাত। প্রথম ১৮২৮ সালে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় সোয়া লাখ মানুষ নিয়ে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। সেই থেকেই শোলাকিয়া নামের শুরু। দুইবছরের মহামারীর প্রকোপ কাটিয়ে এবার আবোরো শোলাকিয়া প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে মুসলিম উম্মার ঈদের জামাতে। নিরাপত্তার যথাযথ প্রয়োগ ছিল। কতৃপক্ষ জানায়, এবার ফোন ও জামায়াতে নিয়ে যাওয়া যায়নি। চিরচেনা বন্দুকের গুলির শব্দে নামাজ শুরু রীতি অনুসরণ করেই জামাত শুরু হয়। বিজিবি, আনসার, পুলিশ উপস্থিত ছিল। নিরাপত্তার কোনো কমতি ছিলনা। সুষ্ঠভাবে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। সাত একর আয়তনের মাঠে ২৬৫ টি কাতার হয়েছে। এছাড়াও ঢাকা বাইরে প্রতি জেলায় ঈদের জামাত সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সকলেই কাছেই এবারের ঈদ বহুল প্রতীক্ষিত। দুইবছরের ভয়াল মহামারী কাটিয়ে সকলেই এই নতুন ভোরের অপেক্ষায় ছিল। পবিত্র রমজানের পর এই পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সৃষ্টিকর্তার কাছে মুসলিম উম্মার সর্বপ্রথম প্রার্থনা এটাই ছিল সেই ভয়াল মহামারীর দিনগুলো যেন আর ফিরে না আসে। সকলেই সুস্থ সুন্দর ভাবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি প্রার্থনা করেছেন।
  • রমজানে ক্ষুধা ও অবসাদ নিয়ন্ত্রণের ৭ উপায়

    রমজানে ক্ষুধা ও অবসাদ নিয়ন্ত্রণের ৭ উপায়

    এবিএনএ: রমজানে আমরা সাধারণত দুটি কারণে শারীরিকভাবে কষ্ট পেয়ে থাকি। প্রথমটি হচ্ছে ক্ষুধা, আর দ্বিতীয়টি অবসাদ। তবে এই দুটি যেন আমাদের রমজানের বরকত হাসিল করা ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি আমাদের দায়িত্বসমূহ পালন করা থেকে বাধা না দেয়- সত্যিকারের মুসলমান হিসেবে আমাদের এ বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

    বুখারির বর্ণনায় এসেছে, সাহাবি জাবির (রা.) বলেন, ‘খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননকালে একটি বড় ও শক্ত পাথর সামনে পড়ে। যা ভাঙ্গা অসম্ভব হয়। রাসুলকে (সা.) বিষয়টি জানানো হলে তিনি এসে তাতে কোদাল দিয়ে আঘাত করলেন, যাতে তা ভেঙে চূর্ণ হয়ে বালুর স্তূপের ন্যায় হয়ে গেল, যা হাতে ধরা যায় না। অথচ ওই সময় ক্ষুধার্ত রাসুল (সা.)-এর পেটে পাথর বাঁধা ছিল। আমরাও তিনদিন যাবৎ অভুক্ত ছিলাম।’  আরেক বর্ণনায় এসেছে, সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, মুহাম্মাদ (সা.) ও তার পরিবার তার ইনতিকাল পর্যন্ত একনাগাড়ে তিনদিন পরিতৃপ্তির সঙ্গে আহার করতে পারেননি।

    উপরোক্ত হাদিস থেকে বোঝা যায়, তীব্র ক্ষুধার যন্ত্রণায় ভুগলেও নবীজি (সা.) তার নিজ দায়িত্ব থেকে সরে আসেননি; বরং ধৈর্যসহকারে ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করে নিজের দায়বদ্ধতা পূরণ করেছেন। তাই আমাদেরও রমজানে দিনেরবেলা সাময়িক ক্ষুধার যন্ত্রণা বরণ করে নিতে হবে এবং বেশি বেশি সৎ কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে এ মাসের বরকত হাসিল করার চেষ্টা করতে হবে। তবে রমজানে ক্ষুধা ও অবসাদ নিয়ন্ত্রণ করার কিছু ব্যবহারিক নিয়ম রয়েছে। এখানে এরকম সাতটি নিয়ম উল্লেখ করা হলো –

    ১. পর্যাপ্ত ঘুম

    খুব বেশি ঘুম এবং খুব কম ঘুম দুটোই শরীরে অবসাদ আনয়ন করে। রমজানকে কেন্দ্র করে কার্যকরী ঘুমের রুটিন তৈরি করে নিতে হবে। গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষ কত সময় ঘুমায়- এর চেয়ে কত ভালোভাবে ঘুমায়, তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তারাবি নামাজের পর অযথা সময় নষ্ট না করে খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে হবে; যাতে করে সেহরির সময় সতেজভাবে জাগ্রত হওয়া যায়। জোহরের পর সামান্য সময় ঘুমিয়ে নেয়াও এক্ষেত্রে ভালো কাজ দেয়।

    ২. শরীরচর্চা

    ক্ষুধার অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীরে সতেজভাব নিয়ে আসার ক্ষেত্রে শরীরচর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরচর্চার মাধ্যমে আমরা ঘনঘন গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ করি। ফলে শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ এনার্জি উৎপন্ন হয়। অনেকে মনে করেন, কষ্টসাধ্য ব্যায়ামকেই কেবল শরীরচর্চা বলা হয়। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। সামান্য হাঁটাহাঁটি করাও শরীরচর্চার অন্তর্ভুক্ত। সেহরি শেষ করার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে দিনের বাকিটা সময় শরীরে সক্রিয়তা ও বল পাওয়া যায়।

    ৩. ক্ষুধা ও অবসাদগ্রস্ততা থেকে মনোযোগ সরিয়ে রাখা

    মানুষের মন একটি বিস্ময়কর যন্ত্র। এটি চাইলে সবকিছু উপেক্ষা করে মানুষকে সারাদিন একটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত রাখতে পারে। একই পরিবেশে কেউ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে, আবার কেউ কোলাহল ও আওয়াজের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। এ সবই মনের কারসাজি। ক্ষুধা ও অবসাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। চাইলেই আমরা ক্ষুধা ও অবসাদগ্রস্ততা থেকে মনোযোগ সরিয়ে রেখে এ দুটির অনুভূতি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারি।

    ৪. রমজানের সময়সূচি অনুযায়ী দৈনন্দিন কার্যক্রমের রুটিন সাজিয়ে নেয়া এবং ব্যস্ত থাকা 

    রমজানে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের আলোকে নিজের সারাদিনের কর্মসূচি সাজিয়ে নিতে হবে। অলস সময় পার না করে অর্থবহ কোনো কাজ করার মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখা যায়। ইবাদত করা ও পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানোর মাধ্যমে ক্ষুধা ও অবসাদের অনুভূতি থেকে নিজের মানসিকতা সরিয়ে রাখা যায়। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ঘরের কাজকর্মে অংশগ্রহণ করা। এতে করে একদিকে যেমন ব্যস্ত থাকা যাবে, অন্যদিকে বিপুল সওয়াবের অধিকারী হওয়া যাবে।

    ৫. অধিক পরিমাণে পানি পান করা 

    ইফতারের পর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। চা কিংবা কফির জায়গায় পানিকে নিয়ে আসতে হবে। কারণ পানির মাধ্যমে শরীরের শিরা-উপশিরা সিক্ত হয় এবং মন সতেজ থাকে।

    ৬. সচেতনভাবে পানাহার করা

    যে কোনো খাবার গ্রহণের পূর্বে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে, এই খাবার শরীরের জন্য কতখানি উপকারী। সাহরি ও ইফতারে এমন খাবার নির্বাচন করতে হবে, যা শরীরের এনার্জি লেভেল ধরে রাখতে সাহায্য করে। খাবারের প্রতিটি কণা চিবিয়ে খেতে হবে। ঘুমের ঠিক আগমুহূর্তে খাওয়া যাবে না। খাদ্যের মধ্যে চিনি যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

    ৭. কখনোই সেহরি মিস না করা

    সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা রাখার শক্তি অর্জিত হয়। সেহরি না খেয়ে রোজা রাখলে রোজাদার ব্যক্তি ক্লান্ত হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে নবিজি (সা.) বলেন, তোমরা সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে দিনে রোজা রাখার শক্তি অর্জন করো আর দিনে হালকা ঘুমের মাধ্যমে রাত জেগে ইবাদত করার শক্তি অর্জন করো।

  • ডিম হাফ বয়েল করবেন যেভাবে

    ডিম হাফ বয়েল করবেন যেভাবে

    এবিএনএ: স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ডিমের জুড়ি মেলা ভার। ডিম নানাভাবেই খাওয়া যায়। তবে পুষ্টিকর নাস্তা হিসেবে সেদ্ধ ডিম শরীরে শক্তি যোগায়। ডিম আধা সেদ্ধ (হাফ বয়েল) হোক বা পুরো সেদ্ধ (হার্ড বয়েল), যেকোনো অবস্থাতেই অত্যন্ত পুষ্টিকর। সেদ্ধ ডিমের ক্ষেত্রে অনেকেরই পছন্দ হাফ বয়েল ডিম। কিন্তু ডিম হাফ বয়েল করতে গিয়ে অনেকেই তা ঠিকভাবে করতে পারেন না। ফলে দেখা যায়, হাফ বয়েলের পরিবর্তে তা হয়ে যায় হার্ড বয়েল অর্থাৎ কুসুম শক্ত হয়ে যায়। হাফ বয়েল ডিমের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

    সুতরাং ডিম সঠিকভাবে হাফ বয়েল করার উপায় জেনে নিন।

    * পানির পাত্রটি চুলায় বসান। চুলার জ্বাল বাড়িয়ে পানি ফুটন্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। পাত্রটি ঢাকনা চাপা দিতে পারেন, তাহলে পানি তাড়াতাড়ি ফুটবে।

    * ঘড়ি ধরে ৭ মিনিট ফুটতে দিন। ঠিক ৭ মিনিট পর ডিমের পাত্রটি চুলা থেকে তুলে দ্রুত ফুটন্ত পানি ফেলে দিয়ে এতে কলের স্বাভাবিক ঠান্ডা পানি ঢেলে দিন। এক্ষেত্রে দেরি করবেন না। ঠান্ডা পানিতে ভর্তি ডিমের পাত্রটি ১ মিনিট রেখে দিন, এতে ডিম ঠান্ডা হয়ে যাবে।

    * ১ মিনিট পর পাত্র থেকে ডিম তুলে সাবধানে খোসা ছাড়ান। এবার ছুরি দিয়ে ডিমটা দুই টুকরো করে দেখুন, বাইরের সাদা অংশটা সেদ্ধ হলেও ভেতরের কুসুম রয়েছে অবিকৃত। অর্থাৎ পারফেক্ট হাফ বয়েল ডিম।