Category: লাইফ স্টাইল

  • বৃষ্টির দিনে জমবে আড্ডা: গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি বানানোর সহজ রেসিপি

    বৃষ্টির দিনে জমবে আড্ডা: গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি বানানোর সহজ রেসিপি

    এবিএনএ: মেঘলা আকাশ কিংবা ঝুম বৃষ্টি—এমন আবহাওয়ায় বাঙালির পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে থাকে খিচুড়ি। আর সেই খিচুড়ির সঙ্গে যদি গরুর মাংস যোগ হয়, তাহলে স্বাদ হয়ে ওঠে আরও সমৃদ্ধ ও লোভনীয়। ঘরে বসেই খুব সহজে তৈরি করা যায় সুস্বাদু ভুনা খিচুড়ি। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঝটপট রান্নার একটি সহজ পদ্ধতি।


    প্রয়োজনীয় উপকরণ

    • গরুর মাংস – ১ কেজি
    • পোলাও চাল – ১ কেজি
    • মুগ ডাল বা মসুর ডাল – ১ কাপ
    • পেঁয়াজ কুচি – আধা কাপ
    • আদা বাটা – ১.৫ চা চামচ
    • রসুন বাটা – ১.৫ চা চামচ
    • কাঁচা মরিচ – ৪-৫টি
    • দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা – পরিমাণমতো
    • হলুদ গুঁড়া – ১.৫ চা চামচ
    • মরিচ গুঁড়া – ১.৫ চা চামচ
    • লবণ – স্বাদ অনুযায়ী
    • সরিষার তেল – প্রয়োজনমতো

    প্রস্তুত প্রণালী

    প্রথমে একটি পাত্রে সরিষার তেল গরম করে তাতে দারুচিনি, এলাচ ও তেজপাতা দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি রঙ না আসা পর্যন্ত ভাজুন।

    এরপর মাংস, আদা-রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মাংস থেকে তেল ছেড়ে এলে ঢেকে দিন এবং নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।

    অন্যদিকে চাল ও ডাল ধুয়ে হালকা ভেজে নিন। তারপর কষানো মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এবার প্রয়োজনমতো গরম পানি দিন—চালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং ডালের সমপরিমাণ।

    মাঝারি আঁচে ১৫–২০ মিনিট রান্না করুন। পানি শুকিয়ে গেলে এবং চাল-ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে ওপরে কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে দিন। এরপর ঢেকে আরও ১০–১৫ মিনিট দমে রাখুন।


    পরিবেশন

    রান্না হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি। চাইলে সঙ্গে রাখতে পারেন সালাদ, আচার বা ডিম ভাজি—স্বাদ বাড়বে কয়েকগুণ।

  • ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    এবিএনএ :অনেকেই দিন শুরু করেন এক গ্লাস টাটকা ফলের রস দিয়ে। এটি অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু অজানা ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডায়াবেটিস রোগীরাই নন—যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদের ক্ষেত্রেও ফলের রস রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

    কেন ফলের রস রক্তে শর্করা বাড়ায়?

    ফলের রসে প্রাকৃতিকভাবে ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ থাকে, যা খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। কিন্তু যখন ফল থেকে রস তৈরি করা হয়, তখন এর অধিকাংশ ফাইবার বা আঁশ বাদ পড়ে যায়। এই ফাইবার সাধারণত শরীরে শর্করার শোষণ ধীর করে। ফলে আঁশ ছাড়া রস পান করলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে—যাকে বলা হয় ‘গ্লুকোজ স্পাইক’।

    যদিও সুস্থ শরীর ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে এই শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বারবার এমন স্পাইক দীর্ঘমেয়াদে ভালো প্রভাব ফেলে না।

    গবেষণা কী বলছে?

    আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটসে শিশুদের উপর চালানো একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রস পান করে (প্রতিদিন ৮ আউন্স বা তার বেশি), তাদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই প্রবণতা বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

    প্যাকেটজাত ফলের রস কি নিরাপদ?

    বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ফলের রস অনেক সময় আরও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম উপাদান যোগ করা হয়। এমনকি ঘরে তৈরি তাজা রসও যদি বেশি পরিমাণে পান করা হয়, তাহলে ক্যালোরি বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

    তাহলে কী করবেন?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ এতে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অক্ষত থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। যদি রস পান করতেই হয়, তবে তা অল্প পরিমাণে পান করা উচিত এবং খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।

    সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললেই সুস্থ থাকা সম্ভব—ছোট একটি অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • ২৬ এপ্রিল: ইতিহাসের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

    ২৬ এপ্রিল: ইতিহাসের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

    এবিএনএ: পৃথিবীর প্রতিটি দিনই ইতিহাসের অংশ। সময়ের ধারাবাহিকতায় কিছু ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পায় এবং মানুষের মনে স্থায়ী হয়ে থাকে। আজ ২৬ এপ্রিল। ইতিহাসের এই দিনে বিশ্বজুড়ে সংঘটিত নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, বিশিষ্টজনের জন্ম ও মৃত্যু এবং বিশেষ দিবসের তথ্য তুলে ধরা হলো এক নজরে।

    উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি

    ১৫২৬ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর সিংহাসনে আরোহণ করেন।
    ১৫৫৫ সালে জার্মানির অগসবার্গ শহরে কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
    ১৭০১ সালে ব্রিটিশ প্রতিনিধি জন মরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
    ১৭৭০ সালে ক্যাপ্টেন জেমস কুক নিউ সাউথ ওয়েলসে পৌঁছান।
    ১৭৮৯ সালে ফ্লেচার ক্রিশ্চিয়ানের নেতৃত্বে ব্রিটিশ জাহাজ বাউন্টিতে নাবিক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
    ১৯১৫ সালে লন্ডনের গোপন চুক্তিতে ইতালিকে বিভিন্ন অঞ্চল দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও রাশিয়া।
    ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লীগ অব নেশনস।
    ১৯২০ সালে আজারবাইজান সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং একই বছরে পোল্যান্ড-রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয়।
    ১৯৫২ সালে জাপান সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়।
    ১৯৬৫ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
    ১৯৬৯ সালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট চার্লস দ্য গল পদত্যাগ করেন।
    ১৯৭২ সালে লাইবেরিয়া বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
    ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
    ১৯৯৫ সালে হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ বই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
    ২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম মহাকাশ পর্যটক হিসেবে পরিচিতি পান ডেনিস টিটো।
    ২০০৪ সালে সার্স ভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণায় অগ্রগতি আসে।

    এই দিনে যাদের জন্ম

    ১৭১২ সালে ফরাসি দার্শনিক জঁ-জাক রুসোর জন্ম।
    ১৭৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৮৮৯ সালে অস্ট্রীয় দার্শনিক লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনের জন্ম।
    ১৮৯৫ সালে ঢাকার শেষ নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৯২৪ সালে জনপ্রিয় লেখক নারায়ণ সান্যাল জন্ম নেন।
    ১৯৩৭ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসাইনের জন্ম।
    ১৯৪৭ সালে লেখক ও ভাষাবিজ্ঞানী হুমায়ুন আজাদের জন্ম।
    ১৯৬৩ সালে মার্শাল আর্ট তারকা জেট লির জন্ম।
    ১৯৭০ সালে মেলানিয়া ট্রাম্প জন্মগ্রহণ করেন।
    ১৯৭৪ সালে স্প্যানিশ অভিনেত্রী পেনেলোপে ক্রুজের জন্ম।

    এই দিনে যাদের মৃত্যু

    ১৭৪০ সালে ভারতীয় সেনাপতি প্রথম বাজিরাও মৃত্যুবরণ করেন।
    ১৮১৩ সালে রুশ সেনাপতি মিখাইল কুতুজভ মারা যান।
    ১৯২০ সালে ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজনের মৃত্যু হয়।
    ১৯৪৫ সালে ইতালির শাসক বেনিতো মুসোলিনি নিহত হন।
    ১৯৫৭ সালে শোতোকান কারাতে প্রতিষ্ঠাতা গিচিন ফুনাকোশি মারা যান।
    ১৯৭৮ সালে আফগান নেতা মোহাম্মদ দাউদ খানের মৃত্যু হয়।
    ১৯৮৯ সালে মার্কিন অভিনেত্রী লুসিল বল মৃত্যুবরণ করেন।
    ২০১৭ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা জোনাথন ডেমি মারা যান।

    দিবস

    ২৬ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মেধা সম্পদ দিবস। সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এ দিনটি পালন করা হয়।

  • প্রেম নাকি টাকার টান? সঙ্গীর আসল উদ্দেশ্য বোঝার ৫ লক্ষণ

    প্রেম নাকি টাকার টান? সঙ্গীর আসল উদ্দেশ্য বোঝার ৫ লক্ষণ

    এবিএনএ: সম্পর্ক হওয়ার কথা নিরাপদ ও স্বস্তির। যেখানে দুজন মানুষ সমানভাবে আবেগ, সময় ও যত্ন বিনিয়োগ করে। কিন্তু অনেক সময় সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকে স্বার্থের হিসাব। আবেগের কারণে শুরুতে বিষয়টি বোঝা কঠিন হলেও কিছু আচরণ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—সঙ্গীটি হয়তো আপনাকে নয়, বরং আপনার আর্থিক সক্ষমতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সবাই যে আর্থিক সাহায্য চাইলে আপনাকে ব্যবহার করছে, এমন নয়। তবে সুস্থ সহযোগিতা ও সুযোগ নেওয়ার মধ্যে পার্থক্য থাকে। সেই পার্থক্য বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলো খেয়াল করুন।

    ১. আপনার আয় ও সম্পদ নিয়ে অস্বাভাবিক আগ্রহ

    সম্পর্কের শুরুতে কাজ বা জীবনযাপন নিয়ে জানতে চাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ যদি বারবার আপনার আয়, সঞ্চয়, বাড়ি, গাড়ি বা খরচ করার ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করতে থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
    আলাপের কেন্দ্রবিন্দু যদি আপনার ব্যক্তিত্ব নয়, বরং আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা হয়ে যায়—তাহলে সেটি স্বাভাবিক নয়। সত্যিকারের আগ্রহী মানুষ আপনার স্বপ্ন, পছন্দ-অপছন্দ ও মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে চাইবে।

    ২. ধীরে ধীরে সব খরচ আপনার ওপর চলে আসে

    স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে খরচ সবসময় সমান ভাগে না হলেও একটি ভারসাম্য থাকে। কিন্তু আপনি যদি দেখেন বেশিরভাগ সময় আপনাকেই বিল দিতে হচ্ছে—ডিনার, ভ্রমণ, উপহার—তাহলে বিষয়টি লক্ষণীয়।
    প্রথমে “পরেরবার দেবো” ধরনের কথা থাকলেও সেই পরেরবার আর আসে না। আর আপনি প্রশ্ন তুললে উল্টো অপরাধবোধ তৈরি করা হয়—এটাও একটি বড় সতর্ক সংকেত।

    ৩. খরচ করলে ভালোবাসা বাড়ে, না করলে দূরত্ব

    অনেক সময় দেখা যায়, আপনি কিছু কিনে দিলে বা খরচ করলে সঙ্গীর আচরণ হঠাৎ খুব আন্তরিক হয়ে ওঠে। কিন্তু যখন কোনো খরচ নেই, তখন সে দূরত্ব তৈরি করে বা আগ্রহ কম দেখায়।
    এমন হলে বুঝতে হবে, আবেগের সঙ্গে আর্থিক সুবিধার যোগসূত্র তৈরি হয়েছে—যা সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।

    ৪. প্রতিশ্রুতি তখনই, যখন সুবিধা আছে

    কিছু মানুষ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চায় তখনই, যখন তাতে তাদের আর্থিক লাভের সম্ভাবনা থাকে।
    যেমন—একসঙ্গে ব্যবসা করার পরিকল্পনা, বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো—যেখানে আপনার অর্থ বা সহায়তার ওপর নির্ভরতা থাকে। প্রকৃত সঙ্গী আপনার সঙ্গে গড়ে উঠতে চায়, আপনার ওপর নির্ভর করতে নয়।

    ৫. আপনি খরচ কমালেই আচরণ বদলে যায়

    সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হলো—আপনি আর্থিক সীমা নির্ধারণ করতেই তার আচরণ বদলে যাওয়া।
    হঠাৎ যোগাযোগ কমে যাওয়া, অকারণে ঝগড়া, মানসিক দূরত্ব বা সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়া—এসবই ইঙ্গিত দেয় যে সম্পর্কের ভিত্তি আবেগ নয়, বরং অর্থ ছিল।

    সুস্থ সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত

    একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্কে থাকে পারস্পরিক সম্মান, মানসিক সংযোগ এবং সমান প্রচেষ্টা। সেখানে কেউ কাউকে আর্থিকভাবে চাপ দেয় না। ভালোবাসা খরচের ওপর নির্ভর করে না, বরং বিশ্বাস ও বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে।

    যদি আপনার সম্পর্কের মধ্যে একতরফা খরচ, অপরাধবোধ সৃষ্টি, আর্থিক চাপ বা সুবিধাভিত্তিক আচরণ দেখা যায়—তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

  • হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    এবিএনএ: তীব্র তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়েও বৃষ্টির দেখা না মেলায় গরমের তীব্রতা বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষই নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গেলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। জলসমৃদ্ধ খাবার ও ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

    জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি

    গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বেশি করে পানিযুক্ত ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন—

    • তরমুজে প্রচুর পানি ও ভিটামিন থাকায় শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর
    • শসা উচ্চ জলীয় উপাদান ও ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
    • কমলা ও লেবু শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং ভিটামিন সি সরবরাহ করে
    • বিভিন্ন শাকসবজি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক
    • স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে

    প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের উৎস

    • ডাবের পানি শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে
    • দই বা ঘোল অন্ত্র ঠান্ডা রাখে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে
    • লেবু, লবণ ও চিনি মিশ্রিত শরবত ঘামের মাধ্যমে হারানো লবণ-পানি পূরণ করে
    • পুদিনা পাতা শরীরে শীতলতা এনে সতেজ অনুভূতি দেয়

    যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

    গরমে কিছু খাবার হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন—

    • ডুবো তেলে ভাজা খাবার
    • অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
    • বেশি তৈলাক্ত খাবার
    • ভারী ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার

    এসব খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হিট স্ট্রেস তৈরি করতে পারে।

    হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে বাড়তি পরামর্শ

    • একবারে বেশি পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন
    • খাদ্যতালিকায় কাঁচা ও হালকা খাবার রাখুন
    • ঘোল বা লাচ্ছিতে জিরা ব্যবহার করলে হজমে সহায়ক ও শরীর ঠান্ডা থাকে
    • রোদে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন
    • অতিরিক্ত গরমে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন

    তীব্র গরমে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শরীরের যত্ন নিলে গরমের মৌসুমেও সুস্থ থাকা সম্ভব।

  • শিশুর হঠাৎ জ্বর? আতঙ্ক নয়—ঘরে বসেই কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন জানুন জরুরি নির্দেশনা

    শিশুর হঠাৎ জ্বর? আতঙ্ক নয়—ঘরে বসেই কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন জানুন জরুরি নির্দেশনা

    এবিএনএ: শিশুর শরীর গরম হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; বরং এটি শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুকে আরাম দেওয়া এবং সঠিকভাবে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ করণীয় অনুসরণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর জ্বর দ্রুত কমে আসে।

    জ্বরের সাধারণ লক্ষণ

    শিশুর জ্বর হলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

    • খিটখিটে মেজাজ বা অস্বাভাবিক কান্না
    • অস্বস্তি ও দুর্বলতা
    • শরীর স্পর্শ করলে বেশি গরম লাগা
    • মুখ লাল হয়ে যাওয়া
    • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

    শিশুর জ্বর হলে কী করবেন

    শিশুর বয়স যদি ৩ মাসের কম হয় এবং তাপমাত্রা ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হলে কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

    জ্বর থাকা অবস্থায় শিশুকে স্কুল বা ডে-কেয়ারে না পাঠিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে রাখা ভালো। অন্তত ২৪ ঘণ্টা তাপমাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাইরে না নেওয়াই নিরাপদ।

    জ্বর কমাতে যা করবেন

    • শিশুকে পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার দিন, যাতে পানিশূন্যতা না হয়
    • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে
    • শিশু বা কিশোরদের কখনও অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়
    • ঠান্ডা পানি বা রাবিং অ্যালকোহল দিয়ে শরীর মুছবেন না
    • হালকা পোশাক পরান এবং পাতলা চাদর ব্যবহার করুন
    • খেতে না চাইলে জোর করবেন না, তবে হালকা খাবার দিতে পারেন
    • বমি বা ডায়রিয়া থাকলে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন দেওয়া যেতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শে)
    • শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন

    কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

    নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন—

    • ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর ৩৮°C বা তার বেশি হলে
    • শিশুকে অস্বাভাবিক অসুস্থ দেখালে
    • শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে
    • দীর্ঘ সময় ডায়রিয়া বা বারবার বমি হলে
    • পানিশূন্যতার লক্ষণ (কম প্রস্রাব, কান্নায় চোখে পানি না আসা, দুর্বলতা)
    • টানা পাঁচ দিন জ্বর থাকলে
    • শিশুর দীর্ঘস্থায়ী রোগ (যেমন: সিকেল সেল ডিজিজ বা ক্যান্সার) থাকলে

    জ্বর কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?

    শিশুদের মাঝে মাঝে জ্বর হওয়া স্বাভাবিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বর চলাকালীন শিশুকে স্বস্তিতে রাখা, পর্যাপ্ত তরল দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

  • গরমে হঠাৎ রসালো ফলের প্রতি টান বাড়ে কেন? জানুন শরীরের ভেতরের বৈজ্ঞানিক কারণ

    গরমে হঠাৎ রসালো ফলের প্রতি টান বাড়ে কেন? জানুন শরীরের ভেতরের বৈজ্ঞানিক কারণ

    এবিএনএ: গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অনেকেরই ভারী খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, বরং ঠান্ডা ও রসালো ফল খেতে বেশি ইচ্ছা করে। এই পরিবর্তন আসলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে শরীর পানির ঘাটতি পূরণে বেশি গুরুত্ব দেয়, ফলে জলীয় উপাদানসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

    শরীর আগে পূরণ করতে চায় পানির ঘাটতি

    গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা এড়াতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই এমন খাবার চায়, যেগুলোতে পানির পরিমাণ বেশি। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা বা আনারসের মতো ফলে পানি ও হালকা শক্তি— দুটিই পাওয়া যায়। এ কারণে শুকনো বা ভারী খাবারের তুলনায় এগুলো বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।

    তৃষ্ণা ও ক্ষুধার সংকেত একে অপরকে প্রভাবিত করে

    শরীরের তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক সময় শরীর পানির চাহিদা বোঝাতে হালকা খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। জলীয় ফল এক্ষেত্রে আদর্শ সমাধান— কারণ এগুলো একদিকে তৃষ্ণা মেটায়, অন্যদিকে হালকা ক্ষুধাও কমায়।

    রসালো ফল শরীরকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়

    জলীয় উপাদান বেশি থাকায় রসালো ফল খেলে শরীরে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়। ঠান্ডা তরমুজ বা ফলের রস গরমে দ্রুত আরাম দেয়। খাবারের তাপমাত্রা ও গঠনও শরীরের আরামের সঙ্গে যুক্ত— তাই গরমে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে ঠান্ডা ফল বেশি তৃপ্তিদায়ক লাগে।

    গরমে স্বাভাবিকভাবেই কমে যায় ক্ষুধা

    উচ্চ তাপমাত্রায় শরীর হজমের সময় অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন কমাতে চায়। ভারী খাবার হজম করতে বেশি শক্তি লাগে, ফলে শরীর গরম হয়ে ওঠে। তাই গরমে ক্ষুধা কমে গিয়ে ফলের মতো হালকা খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে।

    দ্রুত শক্তির চাহিদাও একটি কারণ

    রসালো ফলে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। একই সঙ্গে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় শরীর সতেজ থাকে। ফলে গরমে ক্লান্তি দূর করতে ফল সহজ ও কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠে।

    সব মিলিয়ে, গরমে রসালো ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বরং এটি শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়া, যা পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং হালকা শক্তি পাওয়ার জন্যই তৈরি হয়।

  • চ্যাটেই প্রেমের ইঙ্গিত! ভার্চুয়ালি কেউ আপনাকে পছন্দ করছে—বোঝার ৫টি স্পষ্ট লক্ষণ

    চ্যাটেই প্রেমের ইঙ্গিত! ভার্চুয়ালি কেউ আপনাকে পছন্দ করছে—বোঝার ৫টি স্পষ্ট লক্ষণ

    এবিএনএ:  ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের শুরুটা অনেক সময় স্ক্রিনের আড়ালেই হয়। সামনাসামনি দেখা না হলেও, কথোপকথনের ধরন, মেসেজের ভঙ্গি আর ছোট ছোট অনলাইন আচরণ থেকেই বোঝা যায়—কেউ আপনাকে বিশেষভাবে পছন্দ করছে কিনা।

    অনলাইনে এই সূক্ষ্ম ইঙ্গিতগুলো ধরতে পারলে সম্পর্কের দিকটি আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু লক্ষণ, যা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ভালো লাগার বার্তা দেয়—

    দ্রুত উত্তর দেওয়ার অভ্যাস
    আপনি মেসেজ পাঠানোর পরপরই যদি উত্তর চলে আসে, তাহলে বুঝতে হবে আপনি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ততার মধ্যেও কেউ যদি আপনাকে সময় দেয়, তাহলে সেটি নিছক সৌজন্য নয়—তার মধ্যে আগ্রহ কাজ করছে।

    ইমোজি ও এক্সপ্রেশন ব্যবহারে আগ্রহ
    শুধু সাধারণ কথোপকথন নয়, বরং ইমোজি, বিস্ময়সূচক চিহ্ন কিংবা মজার টোনে চ্যাট করা—এসবই আগ্রহের ইঙ্গিত। অনেক সময় দেখা যায়, আপনি যেভাবে কথা বলেন, সেও ঠিক সেভাবেই প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে—যাকে বলা হয় ‘মিররিং’। এটি সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার একটি লক্ষণ।

    ডাবল টেক্সট করার সাহস
    আপনি উত্তর না দিলেও যদি সে আবার মেসেজ পাঠায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায়—সে কথোপকথন চালিয়ে যেতে আগ্রহী। আধুনিক অনলাইন যোগাযোগে এটি এক ধরনের ঝুঁকি হলেও, আগ্রহ থাকলেই মানুষ এমনটা করে।

    নিয়মিত শুভেচ্ছা বার্তা
    প্রতিদিন সকালে ‘গুড মর্নিং’ বা রাতে ‘গুড নাইট’ বলা মানে আপনি তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে দিনের শুরু ও শেষ যদি আপনার কথা দিয়ে হয়, তাহলে বিষয়টি নিছক বন্ধুত্বের সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় উপস্থিতি
    আপনার পোস্ট বা স্টোরি নিয়মিত দেখা, প্রতিক্রিয়া জানানো বা আপনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু শেয়ার করা—এসবই ইঙ্গিত দেয় যে, সে আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এমনকি ছোট কোনো বিষয় দেখেও যদি আপনাকে মনে করে, তাহলে বুঝবেন আপনি তার চিন্তার জগতে জায়গা করে নিয়েছেন।

    সব মিলিয়ে, ভার্চুয়াল জগতে ভালো লাগার প্রকাশটা হয় ভিন্নভাবে। সরাসরি না বললেও, আচরণ আর যোগাযোগের ধরনেই লুকিয়ে থাকে সম্পর্কের গভীরতা। তাই এসব ছোট ছোট ইঙ্গিত বুঝতে পারলেই আপনি সহজেই বুঝে নিতে পারবেন—আপনি কি কারো কাছে সত্যিই বিশেষ কেউ।

  • জ্বালানি সংকটে বাইকারদের স্বস্তি—মোটরসাইকেলে তেল সাশ্রয়ের ১০ কার্যকর উপায়

    জ্বালানি সংকটে বাইকারদের স্বস্তি—মোটরসাইকেলে তেল সাশ্রয়ের ১০ কার্যকর উপায়

    এবিএনএ: দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য খরচ কমানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে মোটরসাইকেলে জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব এবং একইসঙ্গে বাইকের পারফরম্যান্সও ভালো রাখা যায়।

    ১. নির্দিষ্ট গতিতে চলা
    বাইক চালানোর সময় খুব বেশি গতি বাড়ানো বা কমানো থেকে বিরত থাকুন। সাধারণত ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে চালালে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়। হঠাৎ ব্রেক বা দ্রুত গতি বাড়ানো জ্বালানি খরচ বাড়ায়।

    ২. সঠিক গিয়ার নির্বাচন
    গাড়ির গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গিয়ার ব্যবহার করা জরুরি। ভুল গিয়ার ব্যবহারে ইঞ্জিনে চাপ পড়ে এবং জ্বালানি বেশি খরচ হয়।

    ৩. অপ্রয়োজনে ইঞ্জিন চালু না রাখা
    ট্রাফিক সিগন্যাল বা যানজটে বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা ভালো। এতে অযথা তেল খরচ কমে।

    ৪. টায়ারের সঠিক চাপ বজায় রাখা
    টায়ারে নির্ধারিত পরিমাণে বাতাস না থাকলে বাইকের ইঞ্জিনে চাপ বাড়ে। তাই নিয়মিত টায়ারের চাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

    ৫. চেইন ও ক্লাচ ঠিক রাখা
    চেইন ঢিলা বা বেশি টাইট থাকলে শক্তি অপচয় হয়। পাশাপাশি ক্লাচ ঠিকমতো কাজ না করলে ইঞ্জিনের শক্তি সঠিকভাবে চাকার কাছে পৌঁছায় না।

    ৬. কম ব্রেক, বেশি নিয়ন্ত্রণ
    রাস্তায় চলার সময় দূরদৃষ্টি রেখে গতি নিয়ন্ত্রণ করুন। ঘন ঘন ব্রেক না চেপে ধীরে গতি কমানোর অভ্যাস করুন।

    ৭. ভালো মানের জ্বালানি ব্যবহার
    বিশ্বস্ত পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নেওয়া উচিত। ভোর বা রাতের সময় জ্বালানি নিলে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া যায়।

    ৮. নিয়মিত সার্ভিসিং
    বাইকের এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা জরুরি। নিয়মিত সার্ভিসিং করলে ইঞ্জিন ভালো থাকে এবং তেল কম খরচ হয়।

    ৯. অতিরিক্ত ওজন এড়িয়ে চলা
    বাইকে অপ্রয়োজনীয় ওজন বহন করলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত বোঝা নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

    ১০. ইঞ্জিন টিউনিং ঠিক রাখা
    কার্বুরেটর বা ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজন হলে মেকানিক দিয়ে সেটিং ঠিক করিয়ে নিন।

    বিশেষ পরামর্শ:
    স্বল্প দূরত্বে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করলে জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। এছাড়া যাত্রার আগে রুট পরিকল্পনা করলে যানজট এড়িয়ে কম খরচে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। সচেতন রাইডিংই পারে বর্তমান পরিস্থিতিতে খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।

  • টয়লেটের বাজে গন্ধে বিব্রত? মাত্র ৫ উপায়ে দ্রুত মিলবে স্থায়ী সমাধান

    টয়লেটের বাজে গন্ধে বিব্রত? মাত্র ৫ উপায়ে দ্রুত মিলবে স্থায়ী সমাধান

    এবিএনএ: বাথরুম পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায়, তা খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে—বিশেষ করে যখন বাসায় অতিথি আসে। এই সমস্যা সাধারণত হয় অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, জীবাণুর বিস্তার কিংবা পাইপে জমে থাকা ময়লার কারণে। তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে খুব দ্রুত এই দুর্গন্ধ দূর করা সম্ভব।

    নিচে দেওয়া হলো টয়লেটের বাজে গন্ধ দূর করার ৫টি কার্যকর উপায়—


    ১. রিমের নিচের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন

    টয়লেট পরিষ্কারের সময় অনেকেই রিমের নিচের অংশটি এড়িয়ে যান। অথচ এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমে থাকে। নিয়মিত শক্তিশালী ক্লিনার ব্যবহার করে এই অংশ পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যায়। কিছুক্ষণ ক্লিনার লাগিয়ে রেখে ব্রাশ দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।


    ২. বেকিং সোডা ও ভিনেগারের ব্যবহার

    এই দুটি উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে তা প্রাকৃতিক ক্লিনার হিসেবে দারুণ কাজ করে। প্রথমে টয়লেটে ভিনেগার ঢালুন, এরপর বেকিং সোডা দিন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে ফ্লাশ করলে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে। এটি সাশ্রয়ী এবং রাসায়নিকমুক্ত একটি পদ্ধতি।


    ৩. লুকানো পাইপ ও ট্যাংক পরিষ্কার রাখুন

    অনেক সময় গন্ধের উৎস থাকে পাইপের ভেতর বা এস-বেন্ডে জমে থাকা ময়লা। আবার টয়লেটের ট্যাংকেও জমে থাকতে পারে স্থির পানি ও আবর্জনা। তাই মাঝে মাঝে এসব জায়গা পরিষ্কার করা জরুরি। প্রয়োজনে ভিনেগার বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।


    ৪. বায়ুচলাচল নিশ্চিত করুন

    বাথরুমে যদি পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করে, তাহলে আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ আটকে থাকে। এজন্য এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা বা জানালা খোলা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বাথরুম শুকনো ও গন্ধমুক্ত থাকে।


    ৫. প্রাকৃতিক উপায়ে দুর্গন্ধ শোষণ করুন

    কৃত্রিম এয়ার ফ্রেশনারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করতে পারেন। একটি পাত্রে বেকিং সোডা, কফির গুঁড়া বা লেবুর টুকরা রেখে দিলে তা দুর্গন্ধ শোষণ করে এবং দীর্ঘ সময় সতেজতা বজায় রাখে। চাইলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েলও যোগ করতে পারেন।


    শেষ কথা

    নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে টয়লেটের দুর্গন্ধ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ছোট ছোট অভ্যাসই আপনার বাথরুমকে রাখবে সবসময় ফ্রেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত।