Category: লাইফ স্টাইল

  • প্রতিদিন কলা খাওয়া কি সত্যিই নিরাপদ? জানুন কতটি কলা শরীরের জন্য উপকারী

    প্রতিদিন কলা খাওয়া কি সত্যিই নিরাপদ? জানুন কতটি কলা শরীরের জন্য উপকারী

    এবিএনএ: কলা এমন একটি ফল, যা সারা বছরই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। যখন অন্যান্য ফলের দাম বেড়ে যায়, তখনও কলা থাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় কলার জায়গা আলাদা।

    কলার পুষ্টিমান কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    কলা প্রাকৃতিক শক্তির একটি চমৎকার উৎস। এতে রয়েছে জটিল কার্বোহাইড্রেট, যা দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায়। একটি মাঝারি আকারের কলা শরীরকে তাৎক্ষণিক এনার্জি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।

    এই ফলে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যতালিকাগত ফাইবার, পটাসিয়াম ও ভিটামিন বি৬ থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি কলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দেয়। কম চর্বি ও কম সোডিয়াম থাকার কারণে এটি হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

    প্রতিদিন কতটি কলা খাওয়া উচিত?

    কলা স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত খাওয়া সবসময় ভালো নয়। সাধারণভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুইটি কলা খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী বলে মনে করা হয়। যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন বা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, তারা শক্তির ঘাটতি পূরণে দিনে দুটি কলা খেতে পারেন।

    তবে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কলায় প্রাকৃতিক চিনি ও পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় এসব রোগীদের জন্য অতিরিক্ত কলা রক্তে শর্করার মাত্রা বা কিডনির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করাই উত্তম।

    প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    কলায় থাকা ফাইবার ও পেকটিন অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমায়। নিয়মিত কলা খেলে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় থাকে, যা কর্মব্যস্ত জীবনে বিশেষভাবে উপকারী।

    এ ছাড়া কলার পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি৬ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী, কারণ এটি সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো ‘ভালো লাগার’ হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে।

    সব মিলিয়ে, পরিমিত পরিমাণে কলা খেলে এটি হতে পারে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি স্বাস্থ্যকর অংশ।

  • পিরিয়ডে তীব্র ব্যথায় ওষুধ নয়, ঘরোয়া এই উষ্ণ পানীয়েই মিলতে পারে স্বস্তি

    পিরিয়ডে তীব্র ব্যথায় ওষুধ নয়, ঘরোয়া এই উষ্ণ পানীয়েই মিলতে পারে স্বস্তি

    এবিএনএ: মাসিকের সময় অনেক নারীর জন্যই অসহনীয় হয়ে ওঠে পেটব্যথা, ক্র্যাম্প ও অস্বস্তি। দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ নারী ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করলেও অনেকেই এখন প্রাকৃতিক ও খাদ্যভিত্তিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন।

    এমনই এক সহজ কিন্তু কার্যকর পানীয় হলো বার্লি ও আদার উষ্ণ মিশ্রণ। এই পানীয় শরীরের ভেতর থেকে কাজ করে মাসিকজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং পিরিয়ডের আগে ও চলাকালীন শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

    উপকরণ

    • ১ টেবিল চামচ বার্লি

    • ১ ইঞ্চি আদা

    • ২ কাপ পানি

    যেভাবে প্রস্তুত করবেন

    প্রথমে বার্লি অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো বার্লির সঙ্গে আদা কুচি ও পানি একসঙ্গে দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে গরম অবস্থায় পান করুন। ধীরে ফুটানোর ফলে উপাদানগুলোর পুষ্টিগুণ পানিতে ভালোভাবে মিশে যায়, যা শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে।

    কখন ও কতটুকু খাবেন

    এই পানীয় তাৎক্ষণিক ব্যথানাশক নয়, বরং আগাম প্রস্তুতির জন্য কার্যকর। প্রতিদিন ১ কাপ করে পান করুন। মাসিক শুরুর অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন আগে থেকে শুরু করাই সবচেয়ে ভালো। সকাল কিংবা সন্ধ্যা—যেকোনো সময় এটি খাওয়া যেতে পারে।

    কেন এই পানীয় কার্যকর

    বার্লি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বের করতে সহায়তা করে, যা হরমোনের ভারসাম্যের জন্য জরুরি। অন্যদিকে আদা প্রদাহ কমায়, পেট ফাঁপা দূর করে এবং পিরিয়ডের আগে যে ভারী ও ক্লান্ত অনুভূতি হয় তা হালকা করে। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মাসিকজনিত ব্যথা ও অস্বস্তি ধীরে ধীরে কমাতে সাহায্য করে।

  • চুল পড়ছে? জেনে নিন কোন খাবারে ফিরবে ঘনত্ব ও প্রাকৃতিক জেল্লা

    চুল পড়ছে? জেনে নিন কোন খাবারে ফিরবে ঘনত্ব ও প্রাকৃতিক জেল্লা

    এবিএনএ: দূষণ, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে আজকাল চুল পড়া, খুশকি কিংবা রুক্ষ চুলের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। এসব সমস্যা দূর করতে অনেকেই ভরসা রাখেন দামি তেল ও শ্যাম্পুতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি চুলের প্রকৃত সুস্থতার জন্য ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানো অত্যন্ত জরুরি।

    চুলের শক্তি ও উজ্জ্বলতা অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের ওপর। নিয়মিত কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করলে চুল হয় মজবুত, ঘন ও প্রাণবন্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক চুলের যত্নে কোন খাবারগুলো সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

    প্রোটিন
    চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন তৈরি হয় প্রোটিন থেকে। খাদ্যে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল দুর্বল হয়ে যায় এবং সহজেই ভেঙে পড়ে। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস ও বাদাম প্রোটিনের ভালো উৎস। নিরামিষভোজীদের জন্য ডাল, সয়াবিন ও কুইনোয়া হতে পারে কার্যকর বিকল্প।

    ভিটামিন এ
    মাথার ত্বকে প্রাকৃতিক তেল উৎপাদনে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা চুলকে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। গাজর, মিষ্টি আলু ও পালং শাকে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টো চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    ভিটামিন ই
    চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং মানসিক চাপজনিত চুল পড়া কমাতে ভিটামিন ই কার্যকর। কাঠবাদাম, সূর্যমুখীর বীজ ও অ্যাভোকাডো নিয়মিত খেলে চুলের উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

    ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
    চুলকে প্রাকৃতিকভাবে নরম ও উজ্জ্বল রাখতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড অপরিহার্য। এটি স্ক্যাল্পকে হাইড্রেটেড রাখে ও চুলের গোড়া শক্ত করে। সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও তিসি, চিয়া সিড ও আখরোট থেকে এই উপাদান পাওয়া যায়।

    আয়রন
    শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে চুলের গোড়ায় অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, ফলে চুল দ্রুত ঝরে পড়ে। পালং শাক, মসুর ডাল ও কুমড়োর বীজে রয়েছে পর্যাপ্ত আয়রন। আয়রন শোষণ বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়াও জরুরি।

  • গ্রীষ্মের গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে খাদ্য তালিকায় রাখুন এই ৫ ‘কুল’ খাবার

    গ্রীষ্মের গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে খাদ্য তালিকায় রাখুন এই ৫ ‘কুল’ খাবার

    এবিএনএ: গ্রীষ্মকাল এলেই তীব্র গরম, আর্দ্রতা ও প্রচণ্ড রোদের কারণে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এই সময় অনেকেই পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা হজমের সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের মতে, গরমের দিনে শরীরকে ভেতর থেকে শীতল ও হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে জরুরি—যার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস।

    গ্রীষ্মে এমন খাবার বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যা শরীর ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি শক্তি ও পুষ্টিও জোগায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই মৌসুমে খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত এমন পাঁচটি উপকারী খাবার—

    ১. তরমুজ:
    গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। এটি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে দ্রুত সতেজতা এনে দেয়। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    ২. দই ও ঘোল:
    গরমে হজমের সমস্যা কমাতে দইয়ের জুড়ি নেই। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। দই কিংবা ঘোল শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

    ৩. ডাবের পানি:
    প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটে ভরপুর ডাবের পানি ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া লবণ ও খনিজ দ্রুত পূরণ করে। এটি তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ৪. টাটকা স্যালাড:
    গ্রীষ্মে ভারী খাবারের বদলে শসা, টমেটো ও লেটুস পাতার স্যালাড খাওয়া ভালো। এসব সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীর হালকা ও সতেজ থাকে।

    ৫. লেবুর শরবত:
    তীব্র গরমে এক গ্লাস ঠাণ্ডা লেবুর শরবত ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কাজ করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

  • আপনি না বুঝেই দাঁত নষ্ট করছেন? জেনে নিন নীরবে ক্ষতি করা ৫ অভ্যাস

    আপনি না বুঝেই দাঁত নষ্ট করছেন? জেনে নিন নীরবে ক্ষতি করা ৫ অভ্যাস

    এবিএনএ: ঝকঝকে হাসি সবারই কাম্য। কিন্তু অনেক সময় সেই হাসির আড়ালেই দাঁতে জমে ওঠে অদৃশ্য বিপদ। দাঁতে হালকা শিরশির, আগের মতো উজ্জ্বল না থাকা কিংবা ঠান্ডা-গরমে অস্বস্তিকে আমরা বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। তবে দন্ত চিকিৎসকদের মতে, এসবের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাস।

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দাঁতে এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো—এই ক্ষতির বড় অংশই ঘটে অজান্তে, প্রতিদিনের রুটিন থেকেই।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি অভ্যাস সম্পর্কে, যা ধীরে ধীরে দাঁতের সুরক্ষা স্তর নষ্ট করছে—

    ১. জোরে ব্রাশ করলেই ভালো—এই ভুল ধারণা
    অনেকেই মনে করেন, শক্ত হাতে ব্রাশ করলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। বাস্তবে অতিরিক্ত চাপ ও শক্ত ব্রাশ দাঁতের এনামেল ঘষে তুলে ফেলে। এতে দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংবেদনশীলতা বাড়ে।

    ২. অতিরিক্ত অ্যাসিড ও চিনিযুক্ত খাবার
    সফট ড্রিংক, ফলের রস, চা-কফি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর। এসব খাবার নিয়মিত খেলে দাঁত অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকে। খাবারের পর পানি দিয়ে কুলি করা বা স্ট্র ব্যবহার করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।

    ৩. শরীরে পানির অভাব
    লালা দাঁতের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে লালার কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে দাঁত সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়মিত পানি পান দাঁত সুরক্ষার সহজ উপায়।

    ৪. ঘরোয়া উপায়ে দাঁত সাদা করার চেষ্টা
    লেবু, বেকিং সোডা বা চারকোল দিয়ে দাঁত সাদা করার ট্রেন্ড সাময়িক ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এনামেল মারাত্মকভাবে ক্ষয় করে। এতে দাঁত আরও বেশি হলুদ ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

    ৫. ভুল টুথপেস্ট ব্যবহার
    সব টুথপেস্ট এনামেল সুরক্ষায় কার্যকর নয়। সাধারণ টুথপেস্ট দাঁত পরিষ্কার করলেও এনামেল শক্ত করে না। এনামেল প্রটেকশন বা ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করাই নিরাপদ।

    দন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনামেল ক্ষয় শুরু হয় নিঃশব্দে। একবার নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না। তাই এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি—নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন, হালকা হাতে দাঁত মাজুন, অ্যাসিডযুক্ত খাবারের পর কুলি করুন এবং সঠিক টুথপেস্ট বেছে নিন।

  • বয়স বাড়লে কি প্রোটিনও বাড়বে? কোন বয়সে শরীরের ঠিক কতটা প্রোটিন দরকার জানলে চমকে যাবেন

    বয়স বাড়লে কি প্রোটিনও বাড়বে? কোন বয়সে শরীরের ঠিক কতটা প্রোটিন দরকার জানলে চমকে যাবেন

    এবিএনএ: বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস নিয়ে মানুষের আগ্রহ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অনেকেই সুস্থ থাকার আশায় প্রতিদিন ডিমের সাদা অংশ, প্রোটিন শেক কিংবা নানা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—শরীরের জন্য কি প্রতিদিন এত বেশি প্রোটিন প্রয়োজন?

    পুষ্টিবিদদের মতে, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে প্রোটিনের চাহিদা ভিন্ন হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে উপকারের বদলে কিডনি ও লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

    🔹 প্রাপ্তবয়স্কদের প্রোটিন চাহিদা

    সাধারণভাবে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজন শরীরের প্রতি কেজি ওজন অনুযায়ী প্রায় ০.৮ গ্রাম। অর্থাৎ, ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের জন্য দিনে প্রায় ৫৫–৫৬ গ্রাম প্রোটিনই যথেষ্ট।

    🔹 শিশু ও কিশোরদের জন্য কতটা জরুরি

    শিশু ও কিশোর বয়সে শরীরের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।

    • ৪–৮ বছর বয়সে প্রতিদিন প্রায় ২০–২৫ গ্রাম

    • ৯–১৩ বছর বয়সে ৩০–৩৫ গ্রাম

    • ১৪–১৮ বছর বয়সে ছেলেদের ৫০–৫৫ গ্রাম এবং মেয়েদের ৪৫–৫০ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।
      এই সময়ে ডিম, দুধ, ডাল ও মাছ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।

    🔹 কর্মক্ষম বয়সে প্রোটিনের ভূমিকা

    ২০ থেকে ৫০ বছর বয়সে শারীরিক পরিশ্রম ও কর্মব্যস্ততা বেশি থাকে। এ সময় পুরুষদের গড়ে ৫৫–৬০ গ্রাম এবং নারীদের ৪৫–৫০ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা ভারী কাজ করেন, তাদের প্রয়োজন সামান্য বাড়তে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত প্রোটিন প্রয়োজন হয়।

    🔹 বয়স্কদের জন্য বাড়তি সতর্কতা

    ৬০ বছরের পর ধীরে ধীরে পেশি ক্ষয় শুরু হয়। তাই এই বয়সে শরীরের প্রতি কেজিতে ১ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হতে পারে, যাতে দুর্বলতা ও হাড়ের সমস্যা কমে।

    🔹 প্রোটিনের ভালো উৎস

    ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, দই, পনির, ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বাদাম ও বিভিন্ন বীজ প্রাকৃতিক প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস। তবে মনে রাখতে হবে—বেশি প্রোটিন মানেই বেশি সুস্থতা নয়। বয়স ও শরীরের প্রয়োজন বুঝে সঠিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

  • শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমান? জানুন উপকারের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো

    শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমান? জানুন উপকারের পাশাপাশি লুকিয়ে থাকা ঝুঁকিগুলো

    এবিএনএ: শীতের মৌসুম এলেই রাতের বেলা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা বেড়ে যায়। অনেক সময় ভারী লেপ বা কম্বল ব্যবহার করেও পায়ের শীত কমে না। এ কারণে স্বস্তি পেতে অনেকেই ঘুমানোর সময় মোজা পরেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই অভ্যাসের ভালো-মন্দ দুই দিকই রয়েছে।

    মোজা পরে ঘুমানোর উপকারিতা

    ঘুম দ্রুত আসতে সহায়ক:
    চিকিৎসকদের মতে, পা উষ্ণ থাকলে শরীরের রক্তনালী প্রসারিত হয়, যা মস্তিষ্ককে বিশ্রামের সংকেত দেয়। ফলে অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের ঘুম দ্রুত আসতে পারে।

    পা ফাটা কমায়:
    শীতকালে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটার প্রবণতা বাড়ে। রাতে পায়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে সুতির মোজা পরলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং পা নরম থাকে।

    রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে:
    ঠান্ডায় অনেকের আঙুল অবশ হয়ে যায় বা রঙ পরিবর্তন হয়। মোজা পরলে পায়ে রক্ত চলাচল ঠিক থাকে, ফলে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি কমে।

    মোজা পরে ঘুমানোর সম্ভাব্য ঝুঁকি

    রক্ত চলাচলে বাধা:
    অতিরিক্ত টাইট মোজা পায়ে চাপ সৃষ্টি করে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে ঝিঁঝিঁ ধরা বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

    সংক্রমণের আশঙ্কা:
    সারাদিন ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে ঘুমালে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সিন্থেটিক মোজায় অতিরিক্ত ঘাম জমে দুর্গন্ধও হতে পারে।

    অতিরিক্ত গরম অনুভূতি:
    বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

    নিরাপদ থাকতে যা করবেন

    • ঢিলেঢালা সুতির বা নরম উলের মোজা ব্যবহার করুন

    • সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো মোজা পরুন

    • ঘুমানোর আগে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন

    • মোজা অস্বস্তিকর হলে কুসুম গরম পানিতে পা ধোয়া বা গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে মোজা ব্যবহার করলে শীতে ঘুম হতে পারে আরামদায়ক, তবে অসতর্কতা ডেকে আনতে পারে বিপদ।

  • মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক গভীর শূন্যতার দিন। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবিচল নেতৃত্বের প্রতীক—তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে দলীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই প্রয়াণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ, বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

    দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও দেশবাসীর দোয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হার মানেন তিনি।

    একসময় যিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ ও লাজুক গৃহবধূ, সময়ের প্রয়োজনে তিনিই হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা, এক-এগারোর রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন হয়ে ওঠে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস।

    ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুল রাজনীতিতে আসেন অনিচ্ছায়। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের সংকটময় মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি রাজপথে নামেন। ১৯৮৩ সালে বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক যাত্রা।

    স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে এনে দেয় ‘আপোষহীন নেত্রী’র স্বীকৃতি। দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলনের পর ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

    তার শাসনামলে শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ও অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। যমুনা সেতু, মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা, মোবাইল ফোন খাত উন্মুক্তকরণ—সবই তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল।

    পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি কারাবরণ, গৃহবন্দিত্ব ও চিকিৎসাবঞ্চনার মতো অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবু কখনো আপস করেননি, কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। তার এই অবিচলতা তাকে ইতিহাসে গণতন্ত্রের এক অমর প্রতীকে পরিণত করেছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের পর তিনি নিঃশর্ত মুক্তি পান। মুক্তির পর প্রতিহিংসার পরিবর্তে তিনি আহ্বান জানান শান্তি, সহনশীলতা ও ঐক্যের।

    আজ তিনি নেই, কিন্তু তার আদর্শ, সাহস ও ত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এবং থাকবেন—এক অটল ধ্রুবতারা।

  • নতুন রূপে ভয় ছড়াচ্ছে ফ্লু, বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে—জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

    নতুন রূপে ভয় ছড়াচ্ছে ফ্লু, বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়ছে—জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ফ্লু। ভাইরাসের নতুন রূপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের হার বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন পর এমন পরিবর্তিত ভাইরাস দেখা যাওয়ায় পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন তারা।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লু ভাইরাস সাধারণত ছোটখাটো পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই টিকে থাকে। তবে এবার মৌসুমি এইচ-থ্রি-এন-টু ফ্লুর একটি ধরনে একাধিক উল্লেখযোগ্য মিউটেশন দেখা গেছে, যা ভাইরাসটির সংক্রমণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে এটি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

    জাপান ও যুক্তরাজ্যে প্রথম এই ভেরিয়েন্টের প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব মহাদেশেই এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, গত কয়েক বছরে মানুষ এই ধরনের ভাইরাসের সংস্পর্শে কম আসায় স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথোজেন ইভোলিউশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডেরেক স্মিথ জানিয়েছেন, ভাইরাসটির বিস্তার বৈশ্বিক আকার নিতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আগেভাগেই ব্যক্তিগত ও সামাজিক সতর্কতা জোরদার করার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে ঘরে থাকা, ভিড় এড়িয়ে চলা এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এখন অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা ও সময়োপযোগী সতর্কতাই ফ্লুর এই নতুন হুমকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

  • দুপুর বা রাতের খাবারের পর হাঁটা কেন জরুরি? জানুন হজম, মেদ কমানো ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবিশ্বাস্য উপকার

    দুপুর বা রাতের খাবারের পর হাঁটা কেন জরুরি? জানুন হজম, মেদ কমানো ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবিশ্বাস্য উপকার

    এবিএনএ: নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম সহজ উপায়। অনেকে সকালে হাঁটার সময় পান না, আবার ব্যস্ততায় দিনেও হাঁটা হয়ে ওঠে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের যেকোনো সময়—বিশেষ করে দুপুর বা রাতের ভারী খাবারের পর ৩০ মিনিট হাঁটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

    ভারী খাবারের পর হাঁটার বিভিন্ন উপকারিতা

    ১. খাবার দ্রুত হজমে সাহায্য করে
    খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে বদহজম, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাগুলো কমে যায়।

    ২. শরীর হালকা অনুভূত হয়
    ভারী খাবারের পর হাঁটা শরীরকে চাঙা করে। পেট ভার লাগা বা হাঁসফাঁস ভাব দূর হয়। ঘর, উঠোন কিংবা বারান্দায় হাঁটলেও উপকার পাওয়া যায়।

    ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
    প্রতিদিন খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করলে বাড়তি ক্যালরি জমতে পারে না। বিশেষ করে পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর।

    ৪. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে
    ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের পর হাঁটা খুবই উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হঠাৎ সুগার বাড়ার ঝুঁকি কমায়।

    ৫. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
    খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে হৃদ্‌পিণ্ড আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধেও এটি সহায়ক।

    ৬. বদহজম দূর করে
    ভারী খাবার খাওয়ার পর হাঁটা পেটের অস্বস্তি ও হজমজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।


    হাঁটার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

    • খাবার শেষে সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা শুরু করা ঠিক নয়; এতে হজমের সমস্যাও হতে পারে।

    • অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে তারপর হাঁটা শুরু করা উচিত।

    • খুব দ্রুত গতিতে হাঁটলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে, তাই হাঁটা হবে মাঝারি গতিতে।

    খাবারের পর নিয়মিত হাঁটা শরীরকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে সহজ অভ্যাসগুলোর একটি। ব্যস্ততার মাঝেও দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট সময় বের করলেই পাওয়া যাবে বহুগুণ উপকার।