Category: আমেরিকা

  • ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো কার্যকর ছাড় নেই যা আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

    তিনি দাবি করেন, ইরান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত শর্তগুলো কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান যদি আলোচনায় নমনীয় না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। এমনকি ‘বোমা হামলার মাধ্যমে আলোচনা’ করার মতো কঠিন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো অবস্থান দেয়নি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ছাড় পেতে হলে ইরানকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

  • ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।

    কংগ্রেসে কী জানানো হয়েছে?

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বক্তব্য দেন পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জামের পেছনে খরচ হয়েছে।

    তবে এই ব্যয়ের বিস্তারিত কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির সংস্কার বা পুনর্গঠনের খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যয়ের খাত ও ক্ষয়ক্ষতি

    হার্স্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই সংঘাতে রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই তথ্য প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব জানতে চাওয়া হচ্ছিল।

    আগের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য

    উল্লেখ্য, গত মাসে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। বর্তমান হিসাব সেই তুলনায় অনেক বেশি, যা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ৭ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।

    এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অর্থনীতি ও জনমত

    যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

    এদিকে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ নিয়ে জনগণের সমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া বিপুল রক্তের চিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন—দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

    রাজধানীর মিরপুরে বৃষ্টির বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়ের সফলতা দেখার; কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ভিড় থাকলেও কেউ এই মর্মান্তিক খবর মেনে নিতে পারছেন না।

    জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বৃষ্টি ও লিমন। তদন্তে নেমে পুলিশ লিমনের রুমমেটকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১০ দিন পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকার কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও বৃষ্টির কোনো হদিস মেলেনি।

    বৃষ্টির স্বজনরা জানান, ক্রাইমসিনে পাওয়া আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাস্থলে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী স্তব্ধ। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। ১৬ এপ্রিল তাদের শেষবার দেখা যাওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তারা, যা শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

  • হোটেল লবিতে গুলির শব্দ, নৈশভোজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে

    হোটেল লবিতে গুলির শব্দ, নৈশভোজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে হঠাৎ গুলির শব্দে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হোটেলের লবিতে এক বন্দুকধারী গুলি ছোড়ার পর নিরাপত্তা সদস্যরা দ্রুত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

    স্থানীয় সময় শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। হোয়াইট হাউজের সাংবাদিকদের বার্ষিক নৈশভোজ চলাকালে ট্রাম্প খাবার টেবিলে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক সেই সময় বাঙ্কেট হলের কাছাকাছি বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রেসিডেন্টের চারপাশে নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান নেয় এবং তাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।

    ঘটনার সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা সদস্যরা সবাইকে শান্ত থাকতে নির্দেশ দেন এবং হলের ভেতরে অবস্থান নিতে বলেন। একই সঙ্গে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকেও মঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সূত্র জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি দুজনই নিরাপদ রয়েছেন।

    কিছু গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে গুলি করে নিস্তেজ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, একজন ব্যক্তি হোটেল লবিতে গুলি চালায়, এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

    হোয়াইট হাউজ সাংবাদিক প্রতিনিধি সংস্থার সভাপতি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু করা হবে। প্রতিবছর আয়োজিত এই নৈশভোজে সাংবাদিকদের পাশাপাশি মিডিয়া জগতের বিভিন্ন পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। আকস্মিক গুলির ঘটনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

    গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বাঙ্কেট হল ঘিরে ফেলেন। তারা অতিথিদের নিরাপদে রাখার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

  • শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর আসতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ সুগম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির আশা

    ইসলামাবাদভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটা সম্ভব”—যা কূটনৈতিক মহলে আশার সঞ্চার করেছে।

    যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

    এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরান যদি একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবুও আপাতত সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই সংযত অবস্থান বজায় রেখেছে, যা আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।

    তাদের মতে, উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য থাকলেও বাস্তবে কোনো পক্ষই নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়ায়নি। এতে করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং আলোচনার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

    নতুন সমাধানের পথে আশাবাদ

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় অংশ নেওয়া ছাড়া তেহরানের সামনে অন্য কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানকে প্রতিনিধি পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

    মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি সম্ভব। তবে সে জন্য দ্রুত আলোচনায় অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে যাদের সঙ্গে সমঝোতা সহজ নয়, তবুও আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প এটিকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বরং পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সময় খুবই সীমিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় এলে ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, পাকিস্তান কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান প্রত্যাশা করছে।

    তিনি আরও বলেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দ্রুত শেষ হতে চলেছে। ফলে ইরানের সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থানের ওপর।

  • ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি—না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি—না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে “আজই” একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তবে এই ফোনালাপের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘আজ’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে সেটিও পরিষ্কার নয়। তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    এদিকে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর বা আলোচনায় প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি তেহরান। পাকিস্তানের একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নতুন দফার সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। তাদের মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।

    এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই যোগাযোগ হয়।

    সামগ্রিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

  • চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি আগের চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ও গুলি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতির মুখে ফেলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেহরান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার।

    ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হতে পারে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রোববারও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

  • হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিলেও ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ আপাতত তুলে নেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পৃথক পোস্টে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

    তিনি আরও জানান, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। চুক্তির বাকি অংশ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেন, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

    লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। এই যুদ্ধবিরতি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।

  • লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    এবিএনএ: লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। আলোচনার পর দুই দেশ নির্দিষ্ট সময় থেকে ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ঘোষণায় লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি, যদিও ইসরায়েলের সঙ্গে মূল সংঘাত এই গোষ্ঠীকে ঘিরেই চলছে।

    ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, দুই নেতার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নির্ধারিত সময় থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ধারাবাহিকতায় স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্বকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা লেবানন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন।

    এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত থামাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি সফল হলে এটি তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।