Category: আমেরিকা

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় ইঙ্গিত: ‘শিগগিরই সরে আসবে যুক্তরাষ্ট্র’—ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের ঘোষণা

    এবিএনএ:  ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পৃক্ততা কমিয়ে আনবে এবং শেষ পর্যন্ত সরে আসবে।

    সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানে পরিচালিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, কেউ চাইলে বলতে পারেন—এই লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়ে গেছে।

    তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামরিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি করতে আরও কিছুদিন অভিযান চালানো হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র চায় ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

    এর আগে ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশটি এখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা যুক্তরাষ্ট্রের মূল কৌশল।

    যুদ্ধের প্রভাব হিসেবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে তিনি এটিকে সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত তাদের মিশন শেষ করে ফিরবে।

    ভ্যান্স আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে দীর্ঘদিন অবস্থান করার কোনও পরিকল্পনা নেই। বরং যত দ্রুত সম্ভব অভিযান গুছিয়ে নিয়ে দেশটি সরে আসবে। এতে করে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    বিশ্লেষকদের মতে, ভ্যান্সের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যেমন সামরিক অর্জন নিশ্চিত করতে চাইছে, অন্যদিকে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি চাপ এড়াতেও দ্রুত কৌশল বদল করছে।

  • ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে United StatesIran সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে এবং বিরোধ নিরসনে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সংঘাত এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর আগে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানকে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরানও। তারা সতর্ক করে দেয়, মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে।

    আল্টিমেটামের সময়সীমা প্রায় শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘ভালো অগ্রগতির’ দিকে এগোচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতির দাবি করা হলেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তেহরান বারবার বলে আসছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাময়িক স্থগিতাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

  • ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    ইরান যুদ্ধে চাপে ট্রাম্প—বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, জ্বালানি সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের তিন সপ্তাহ পার হতে না হতেই জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। শুরুতে সীমিত সামরিক অভিযান হিসেবে ঘোষণা দিলেও বাস্তবে যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না। বিশেষ করে NATO সদস্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি অংশ নিতে অনীহা দেখানোয় ওয়াশিংটন অস্বস্তিতে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে সামরিক অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন—ইরান পারস্য উপসাগরে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা প্রস্থান কৌশল না থাকায় এখন চাপে পড়েছে হোয়াইট হাউস। সাবেক কূটনীতিক Aaron David Miller মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প নিজেই এমন একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন, যেখান থেকে বের হওয়া এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করছে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস এবং শীর্ষ নেতাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয়েছে, যা তাদের মতে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য। কিন্তু মিত্রদের অনীহা এবং আন্তর্জাতিক চাপ এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। যদিও স্থলযুদ্ধের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প চাইলে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন—তবে এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের ভেতরে জনমত তার বিপক্ষে যেতে পারে।

    অন্যদিকে, হঠাৎ করে ‘বিজয় ঘোষণা’ দিয়ে সরে আসার কৌশলও বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে এতে উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং ইরান আরও শক্ত অবস্থান নিতে পারে।

    যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এ যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত—সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংঘাতে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া সঠিকভাবে অনুমান করতে না পারা। বর্তমানে ইরান আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আক্রমণাত্মক কৌশল অব্যাহত রেখেছে।

    সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক নয়—রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কূটনৈতিক—সব দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

  • ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর আরও বড় সামরিক আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দশ দিন পর মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হতে পারে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা Dan Caine বলেন, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নির্দেশে চলমান অভিযানে অংশ নিয়ে যেসব মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

    তিনি জানান, বর্তমান অভিযানে তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনী। প্রথমত, সম্ভাব্য হামলার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে যেন ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আঘাত হানতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

    জেনারেল কেইন আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যে মাত্রায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছিল ইরান, এখন তা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ইরানের মাইন স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই যাবে এবং ইরানের তথাকথিত ‘পারমাণবিক চাপ’ মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।

    এর আগে প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি Strait of Hormuz-এ তেল পরিবহন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানবে।

    বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হেগসেথ বলেন, সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সতর্ক। কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

    ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত—এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন—এমন খবরের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধটি কতদিন চলবে বা কখন শেষ হবে—সে সিদ্ধান্ত মূলত প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।

  • ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের সময়কাল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

    রোববার টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—ইরানকে ঘিরে এই সামরিক অভিযান আর কতদিন চলতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি অনেকটাই পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর সঙ্গে তার নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে শেষ সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়েই তা জানানো হবে। সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

    এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আশা করছেন চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরদিনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেন, সংঘাত ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    ব্যর্থ কূটনীতি, শুরু সামরিক অভিযান

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময় ইসরায়েলও নিজস্ব সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম Operation Roaring Lion

    পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত প্রায় দশ দিন ধরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।

  • ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে আগের মন্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন অবস্থান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; যতদিন প্রয়োজন, ততদিন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শেষ হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

    যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত

    তবে সেই বক্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকে ভিন্ন বার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ জানান, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই যুদ্ধ প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
    তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করা নয়।

    তার ভাষায়, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও সীমিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রে হামলার আশঙ্কা

    ইরানে সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এমন ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

    ইতিমধ্যে নিহত মার্কিন সেনা

    ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের বাস্তবতা হলো প্রাণহানি ঘটে এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সংঘাতে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা: সৌদি, ওমান ও সাইপ্রাস থেকে দূতাবাস কর্মী সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে তিন দেশ থেকে দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সৌদি আরব, ওমান ও সাইপ্রাসে কর্মরত মার্কিন দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে পাঠানো নোটিশে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

    রিয়াদে হামলার পর সতর্কবার্তা

    রিয়াদ-এ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আক্রমণ ঘটতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ওমান ও সাইপ্রাসেও নিরাপত্তা উদ্বেগ

    ওমানসাইপ্রাস-এ পাঠানো বার্তায় সংক্ষেপে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে দূতাবাসের নন-ইমার্জেন্সি কর্মীদের দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

    সোমবার সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। একই দিনে ওমানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুকম বন্দরেও একাধিক ড্রোন আক্রমণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও পড়ছে। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে ওয়াশিংটন।

  • ট্রাম্প আবারো শুল্ক বাড়ালেন: বিশ্বের দেশগুলোর আমদানি পণ্যে এবার ১৫% কর কার্যক্রম শুরু

    ট্রাম্প আবারো শুল্ক বাড়ালেন: বিশ্বের দেশগুলোর আমদানি পণ্যে এবার ১৫% কর কার্যক্রম শুরু

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বজনীন আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের সকল দেশের পণ্য আমদানি করার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বেড়ে গিয়েছে।

    শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১০% পারস্পরিক শুল্কটি বাতিল করে দেয়। সেই রায়ের কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প আবার নতুন করে ১০% শুল্ক কার্যকর করার ঘোষণা দেন। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পর তিনি ঘোষণা করেন, এই শুল্ক আরও বাড়িয়ে বর্তমানে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে লেখেন, “আজ থেকে বিশ্বের সব দেশের ওপর আমদানি শুল্ক ১০% থেকে ১৫% করা হলো। বহু বছর ধরে বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাণিজ্যিকভাবে অসম মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ দিয়ে এসেছে এবং এর বিচার হয়নি। এখন থেকে কঠোরভাবে আইন অনুযায়ী এই শুল্ক কার্যকর হবে।”

    যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই ১৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসন এটি স্থায়ীকরণ এবং যথাযথ আইনগত বৈধতা দিতে কাজ করবে।

    গত বছর ট্রাম্প জরুরি অর্থনৈতিক শক্তি আইনের (IEEPA) আওতায় বিশ্বের সব দেশের পণ্য আমদানি করার ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সেই সময় ওই সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে।

    মুলত সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক আরোপের আগে ট্রাম্পের উচিত ছিল কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া—এটিও রায় দিতে গিয়ে আদালত উল্লেখ করে। এই রায়ে ট্রাম্পের ক্ষমতার ব্যাপক ব্যবহারকে সীমিত করা হয় এবং এখন নতুনভাবে ১৫% শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে।

  • ট্রাম্পের নতুন শুল্কে মোড় ঘুরল বৈশ্বিক বাণিজ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

    ট্রাম্পের নতুন শুল্কে মোড় ঘুরল বৈশ্বিক বাণিজ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন পথে?

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘ইউনিভার্সাল বেসলাইন ট্যারিফ’কে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানবিরোধী ও আইনগতভাবে অবৈধ বলে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস–এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কযুদ্ধ বড় ধাক্কা খেলেও বাংলাদেশসহ বহু দেশের জন্য প্রশ্ন রয়ে গেছে—চুক্তির ভবিষ্যৎ তাহলে কী হবে?

    এই রায় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ও রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের জন্যও শুল্কনীতি বড় উদ্বেগের কারণ। আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ভিন্ন আইনি পথ ধরে আবার ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। প্রাথমিক হিসাবে বাংলাদেশের ওপর ধার্য শুল্ক ১৯ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নামছে—এটি আপাতদৃষ্টিতে স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন শুল্ক আরোপের ভিত্তি হিসেবে ট্রাম্প যে ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪-এর ধারা ১২২ ব্যবহার করছেন, তাতে ১৫০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমমান, কর্মপরিবেশ, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স ও বাণিজ্য আচরণ যাচাই করে শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি ছাড় দীর্ঘমেয়াদে উল্টো চাপ হয়ে ফিরতে পারে। এদিকে আদালতের রায়ে আগের পাল্টা শুল্ক-ভিত্তিক চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নে পড়লেও হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, শুল্ক কাঠামো বদলালেও বাণিজ্য চুক্তির অন্যান্য শর্ত বহাল থাকবে।

    ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশের পর বাংলাদেশের ওপর উচ্চহারে পাল্টা শুল্ক বসানো হয়েছিল। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ কাঠামোয় শুল্ক ১৯ শতাংশে নামানো হয়। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিনসহ কৃষিপণ্য এবং বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দেয় বাংলাদেশ—যা দেশীয় ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের একাংশ ‘অসম ও চাপিয়ে দেওয়া চুক্তি’ বলে সমালোচনা করেছিলেন। বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ শুল্কে বাংলাদেশি পোশাকের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্ডার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল—এতে রপ্তানিখাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলাদেশের জন্য আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও এখনই পুরোনো চুক্তি পুনরালোচনায় যাওয়ার সময় নয়। বরং আগামী ১৫০ দিনের মূল্যায়নপর্ব মাথায় রেখে শ্রমিকের কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, পরিবেশগত মান রক্ষা ও কমপ্লায়েন্সে বাস্তব উন্নতি দেখানোই হবে কৌশলগত প্রস্তুতি। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজন বাড়াতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি যে কোনো সময় বড় ধাক্কা দিতে পারে।

    সব মিলিয়ে, আদালতের রায়ে ট্রাম্পের আগের শুল্ক কাঠামো নড়বড়ে হলেও নতুন আইনি পথে শুল্ক বহাল থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। সামনে কূটনৈতিক দরকষাকষি, অভ্যন্তরীণ সংস্কার আর বাজার-বৈচিত্র্য—এই তিন দিকেই সমান মনোযোগ দিতে হবে বাংলাদেশকে।

  • গাজা পুনর্গঠনে বৈশ্বিক উদ্যোগ—ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক আজ

    গাজা পুনর্গঠনে বৈশ্বিক উদ্যোগ—ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক আজ

    এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সভাপতিত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ৪৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই বৈঠকে গাজার ভবিষ্যৎ কাঠামো, মানবিক সহায়তা প্রবাহ, পুনর্গঠন তহবিলের পরিমাণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ—এসব ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে হামাসের অস্ত্রসমর্পণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার প্রশ্নটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে।

    সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অবস্থিত United States Institute of Peace-এর নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে যুক্ত করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই প্রতিষ্ঠানেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক তহবিল গঠনের ঘোষণা আসতে পারে বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা Reuters-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবিত তহবিলের মধ্যে উপসাগরীয় আরব মিত্রদের অবদান উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে United Arab EmiratesKuwait প্রত্যেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    তবে বোর্ড অব পিসে ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও ফিলিস্তিনি পক্ষের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই নতুন প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, তবে একই সঙ্গে এটি United Nations-এর কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। কয়েকটি দেশ থেকে হাজার হাজার সেনা পাঠিয়ে শান্তি রক্ষা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বোর্ড অব পিসের এই প্রথম বৈঠক শুধু গাজার পুনর্গঠন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।