Category: আমেরিকা

  • নোবেল না পেলে শুধু শান্তি নয়, জাতীয় স্বার্থও দেখব—গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

    নোবেল না পেলে শুধু শান্তি নয়, জাতীয় স্বার্থও দেখব—গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

    এবিএনএ: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর শুধু শান্তির বিষয়েই ভাবতে বাধ্য নন—এমন মন্তব্য করে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোরকে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে এই অবস্থান জানানোর পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনরায় তুলে ধরেছেন।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের ওই চিঠির একটি কপি সংস্থাটির হাতে এসেছে এবং তা একাধিক মিত্র দেশেও শেয়ার করা হয়েছে।

    চিঠিতে ট্রাম্প লেখেন, নরওয়ে আটটি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রাখার পরও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে তিনি আর কেবল শান্তির প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না। যদিও শান্তি তাঁর অগ্রাধিকারেই থাকবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কী করা প্রয়োজন, সেটিও এখন গুরুত্ব পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    এর আগে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরোধিতা করে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য কমানো এবং ফোনালাপের মাধ্যমে আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই বার্তার জবাব হিসেবেই ট্রাম্প দ্রুত এই চিঠি পাঠান।

    গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প চিঠিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তির হাত থেকে গ্রিনল্যান্ড রক্ষার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। ফলে ওই ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি করার যৌক্তিকতা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

    চিঠির শেষাংশে ট্রাম্প ন্যাটোর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, জোটের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছে। এখন ন্যাটোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা। তাঁর দাবি, গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    তবে বাস্তবতা হলো, ১৮১৪ সালের একটি চুক্তিসহ একাধিক আন্তর্জাতিক আইনি নথির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত। যুক্তরাষ্ট্রও অতীতে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়টি স্বীকার করেছে।

    উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে আগ্রহ দেখিয়ে আসছেন। ২০২৫ সালে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধান তাঁকে এই পুরস্কারের যোগ্য বলে মন্তব্য করেছিলেন। যদিও সর্বশেষ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।

    নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নোবেল পুরস্কার প্রদান করে একটি স্বাধীন কমিটি—নরওয়ের সরকার নয়। এ বিষয়ে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলেও সোমবার পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

  • গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি, ‘বিশ্বশান্তি এখন চরম ঝুঁকিতে’ বলে সতর্কবার্তা

    গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি, ‘বিশ্বশান্তি এখন চরম ঝুঁকিতে’ বলে সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে কড়া অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশ আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের সম্মুখীন হতে পারে। যদি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সম্পূর্ণ বিক্রির বিষয়ে ইউরোপীয় মিত্ররা সম্মতি না দেয়, তাহলে আগামী জুন মাস থেকে সেই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

    এই হুমকির ব্যাখ্যায় ট্রাম্প বলেন, চীন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তার দাবি, কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ কার্যকর রাখতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক ট্রাম্পের এই অবস্থানকে নজিরবিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এ ধরনের হুমকি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে।

    এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একান্তভাবেই গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের জনগণের।

    গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানী নুকে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর জন্য’ এবং ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’—এমন স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির পর পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। রোববার এই বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিশ্বকে চাপে ফেলতে ট্রাম্প, বিরোধিতা করলেই শুল্কের হুমকিতে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশ যদি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে তার অবস্থানের সঙ্গে একমত না হয়, তাহলে বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, কোন দেশগুলো এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারে কিংবা কোন আইনি কাঠামোর মাধ্যমে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ডেনমার্ক ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদল গ্রিনল্যান্ড সফর করে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিনিধি দলে রিপাবলিকান সদস্যরাও ছিলেন, যারা জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে গ্রিনল্যান্ড দখলের আহ্বান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনের সঙ্গেও আলোচনা করেন।

    ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস জানান, সফরের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় জনগণের মতামত শোনা এবং তা ওয়াশিংটনে পৌঁছে দিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা।

    ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে ‘সহজ’ বা ‘কঠিন’—দুই পথেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, যা সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয় না।

    গ্রিনল্যান্ড প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সেখানে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র নজরদারি ও সামরিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

    ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। ইউরোপীয় মিত্ররাও ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে জানিয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ন্যাটোর সম্মিলিত দায়িত্ব।

    এই অবস্থায় ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে, সুইডেনসহ একাধিক দেশ গ্রিনল্যান্ডে সীমিত আকারে সামরিক ‘রেকি মিশন’ শুরু করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ শিগগিরই আকাশ, স্থল ও নৌবাহিনীর সরঞ্জাম পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    গ্রিনল্যান্ডের সংসদ সদস্য আজা কেমনিৎস বলেন, আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানো এখন সবচেয়ে জরুরি। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে ও বিপক্ষে আলাদা বিল উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। ডেনমার্কের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যকে তারা হালকাভাবে নিচ্ছেন না—কারণ তিনি যা বলেন, সেটাকেই বাস্তব পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন।

  • চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    চুক্তি না করলে কঠিন পরিণতি: কিউবাকে সময় থাকতে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: কিউবাকে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেরি হলে কিউবাকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিউবা ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর বিনিময়ে কিউবা ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে নিরাপত্তা সহায়তা দিয়ে এসেছে, যা এখন আর চলবে না।

    ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, কিউবার দিকে আর কোনো তেল কিংবা অর্থ প্রবাহিত হবে না—সবকিছু শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। তিনি কিউবান নেতৃত্বকে ‘খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কী ধরনের চুক্তি বা কী পরিণতি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

    এদিকে কিউবা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সাম্প্রতিক মার্কিন অভিযানের সময় তাদের ৩২ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল তাদের ‘সাহসী যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে সম্মান জানানোর ঘোষণা দেন।

    ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানে ওই কিউবানদের অধিকাংশই নিহত হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলার আর আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এখন দেশটির পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

    ট্রাম্পের সর্বশেষ এই হুমকির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিউবান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বক্তব্য ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

  • পুতিনকে আটক করা হবে? সরাসরি প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার ঝড়

    পুতিনকে আটক করা হবে? সরাসরি প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার ঝড়

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার ঘটনার পর এবার আলোচনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই ধরনের কোনো পদক্ষেপ পুতিনের ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে আটক করার মতো কোনো পরিস্থিতি তিনি দেখছেন না। তার ভাষায়, “এটার প্রয়োজন হবে বলে আমার মনে হয় না।”

    এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে তারা জানে পরবর্তী লক্ষ্য কী হতে পারে। মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া সেই মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

    শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুকি তাকে প্রশ্ন করেন—পুতিনকে ধরতে কখনো কোনো অভিযানের নির্দেশ দেবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বরাবরই কার্যকর ছিল এবং তিনি আশা করছেন ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।

    ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত বন্ধে তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ না হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ।

    এদিকে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, এটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাসিলি নেবেনজিয়া এই ঘটনাকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যবস্থাকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • বিশ্ব অস্থিরতার অজুহাতে সামরিক বাজেটে ইতিহাস গড়তে চান ট্রাম্প, প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি

    বিশ্ব অস্থিরতার অজুহাতে সামরিক বাজেটে ইতিহাস গড়তে চান ট্রাম্প, প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫০ শতাংশের বেশি

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড় ধরনের বৃদ্ধি চান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৭ অর্থবছরের জন্য তিনি প্রতিরক্ষা বাজেট এক দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা কংগ্রেস অনুমোদিত ২০২৬ সালের বাজেটের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি।

    বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে যুক্তরাষ্ট্র বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত ‘ড্রিম মিলিটারি’ গড়ে তুলতে পারবে। এতে দেশটি শুধু নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না, বরং প্রতিপক্ষদের কাছেও শক্ত বার্তা পৌঁছাবে।

    আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদার ও শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ এবং নতুন উৎপাদন স্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থ প্রদানে কঠোর নজরদারির কথাও জানান তিনি।

    এই ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান ও রেথিয়নের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    তবে অর্থনীতিবিদরা আগেই সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ও আয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা ক্রমেই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে। এসব আশঙ্কা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, শুল্ক ও অন্যান্য রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

  • মধ্যবর্তী নির্বাচনে হার মানলেই বিপদ? অভিশংসনের আশঙ্কায় রিপাবলিকানদের কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    মধ্যবর্তী নির্বাচনে হার মানলেই বিপদ? অভিশংসনের আশঙ্কায় রিপাবলিকানদের কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন রাজনীতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্বেগের সুর শোনা গেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কণ্ঠে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জয়ী না হলে ডেমোক্র্যাটরা তাকে অভিশংসনের পথে হাঁটতে পারে।

    মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের রিপাবলিকান সদস্যদের এক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতেই হবে। তার ভাষায়, পরাজয় মানেই ডেমোক্র্যাটদের হাতে তাকে চাপে ফেলার সুযোগ তৈরি হওয়া।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নির্বাচনে ফলাফল প্রতিকূল হলে ট্রাম্পের নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা তৈরি হতে পারে। এমনকি কংগ্রেসে একাধিক তদন্তের মুখেও পড়তে পারেন তিনি। সে কারণেই নির্বাচনের আগে দলের ভেতরে ঐক্য জোরদারে জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প।

    প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকানদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি ও সিনেটে ৩৩টি আসন ধরে রাখা দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যদিও তিনি নিজে দলের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। ট্রাম্পের দাবি, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে ঐতিহাসিক, যেখানে রিপাবলিকানরা নতুন রেকর্ড গড়বে।

    তবে সম্মেলনের দীর্ঘ বক্তব্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বা মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তেমন গুরুত্ব পায়নি। বরং ট্রাম্প এসব সমস্যার দায় ডেমোক্র্যাটদের ওপর চাপান। বক্তব্যে তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত মন্তব্যও করেন, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই সমালোচনা শুরু হয়েছে।

    এর আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন দুই দফা অভিশংসনের মুখোমুখি হওয়া ট্রাম্প এবারও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নিজের নির্বাহী ক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। তবে দলের ভেতরেই এ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে, যা আসন্ন ভোটাভুটিতে স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

  • ট্রাম্পের প্রকাশিত তালিকায় চমক: যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পরিবার নির্ভর করছে সরকারি সহায়তায়

    ট্রাম্পের প্রকাশিত তালিকায় চমক: যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশি পরিবার নির্ভর করছে সরকারি সহায়তায়

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর অর্ধেকের বেশি সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশিত এক তালিকায়। এতে দেখা যায়, দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের ৫৪ শতাংশেরও বেশি বিভিন্ন ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করছে।

    স্থানীয় সময় রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের অভিবাসী পরিবার নিয়ে এ তালিকা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশের নাম থাকলেও ভারতের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেন ভারতের তথ্য রাখা হয়নি, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

    যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য সহায়তা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসাভাড়া সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দিয়ে থাকে।

    প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, সহায়তা গ্রহণের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ভুটানের অভিবাসী পরিবার—যাদের ৮১ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি সহায়তা পায়। এরপর রয়েছে ইয়েমেন (৭৫ দশমিক ২ শতাংশ) এবং সোমালিয়া (৭১ দশমিক ৯ শতাংশ)।

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি পরিবারগুলোই সবচেয়ে বেশি সহায়তা গ্রহণ করছে। এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে আফগানিস্তানের অভিবাসী পরিবারের ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ, পাকিস্তানের ৪০ দশমিক ২ শতাংশ এবং নেপালের ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার সরকারি সহায়তা পাচ্ছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    ১২০ বছরে ৩৬ দেশে সরকার উচ্ছেদ: যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জ নীতির ভয়াবহ ইতিহাস

    এবিএনএ: এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে বিদেশি সরকার পরিবর্তনের কৌশল, যা ‘রেজিম চেঞ্জ’ নামে পরিচিত। গবেষণায় উঠে এসেছে, এই নীতির ফল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়েছে বিপর্যয়কর।

    জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ডাউন্স তাঁর গবেষণাভিত্তিক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ১৮১৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ১২০ বার বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সরকার পতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িত ছিল।

    সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এই তালিকায় দেশটির ৩৬তম সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে একের পর এক দেশে হস্তক্ষেপ করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই দেশগুলো দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও সহিংসতায় ডুবে গেছে।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফরেন ইমপোজড রেজিম চেঞ্জ’। গবেষণা অনুযায়ী, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্তত ২০টি দেশে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার সরকার পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫৪ সালে গুয়াতেমালায় ধারাবাহিকভাবে তিনটি সরকার উৎখাতের ঘটনাও এর বড় উদাহরণ।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির সবচেয়ে আলোচিত ব্যর্থতা ইরাক ও আফগানিস্তান। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে দেশটি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ায় সুন্নি ও শিয়া গোষ্ঠীর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যার ফল হিসেবে উত্থান ঘটে আইএসের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর।

    অন্যদিকে, দুই দশকের যুদ্ধ ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পর শেষ পর্যন্ত তালেবানের হাতেই আফগানিস্তানের ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র।

    ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ফলে লাখো মানুষ শরণার্থী হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন করে বিদেশি হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    অধ্যাপক ডাউন্সের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেজিম চেঞ্জ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান দুটি কারণ হলো—সরকার পতনের পর সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেঙে পড়া এবং বিদেশি শক্তির সমর্থিত নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা না থাকা।

    ইতিহাস বলছে, বিভক্ত সমাজ ও দুর্বল গণতান্ত্রিক কাঠামো থাকা দেশগুলোতে রেজিম চেঞ্জ কখনোই স্থিতিশীলতা বয়ে আনে না। ইরাক, লিবিয়া কিংবা ভেনেজুয়েলার অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতারই প্রমাণ।

  • দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরেই কড়া সিদ্ধান্ত, প্রথমবার ভেটো প্রয়োগ করলেন ট্রাম্প

    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরেই কড়া সিদ্ধান্ত, প্রথমবার ভেটো প্রয়োগ করলেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহে তিনি কংগ্রেসে পাস হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিলে স্বাক্ষর না করে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

    হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, সোমবার দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া দুটি বিলেই ভেটো দেন প্রেসিডেন্ট। এসব বিল কার্যকর করতে চাইলে এখন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পুনরায় অনুমোদন দিতে হবে।

    ভেটো হওয়া বিলগুলোর একটি ছিল ‘ফিনিশ দ্য আরকানসাস ভ্যালি কন্ডুইট অ্যাক্ট’। এই বিলের লক্ষ্য ছিল কলোরাডোর ইস্টার্ন প্লেইন্স অঞ্চলে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত একটি পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

    কংগ্রেসে পাঠানো ব্যাখ্যামূলক চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় অত্যন্ত বেশি এবং এটি বাস্তবায়ন করলে করদাতাদের ওপর অযৌক্তিক চাপ পড়বে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসন ‘অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হতে দেবে না।’

    উল্লেখ্য, এই পাইপলাইন প্রকল্পের ধারণা প্রথম উঠে আসে ১৯৬০-এর দশকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির শাসনামলে। সাম্প্রতিক সময়ে বিলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সর্বসম্মত সমর্থন পেয়েছিল। এমনকি কলোরাডোর দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটরের পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রতিনিধি লরেন বোবার্ট ও জেফ হার্ডও এতে সমর্থন জানান।

    ভেটোর পর প্রতিক্রিয়ায় বোবার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “এ লড়াই এখানেই শেষ নয়।”

    এদিকে, একই দিনে ট্রাম্প ভেটো দেন ‘মিকোসুকি রিজার্ভড এরিয়া অ্যামেন্ডমেন্টস অ্যাক্ট’ নামের আরেকটি বিলে। এই বিলের মাধ্যমে ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস ন্যাশনাল পার্কের ওসিওলা ক্যাম্প এলাকায় মিকোসুকি আদিবাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল।

    এর আগে চলতি বছর ওই আদিবাসী গোষ্ঠীটি এভারগ্লেডসে অবস্থিত একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মামলা করে। ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামে পরিচিত ওই কেন্দ্রটি নিয়ে আদালতের নির্দেশে বড় অংশ ভেঙে ফেলায় কার্যত সেটি বন্ধ হয়ে যায়।

    ট্রাম্প দাবি করেন, ওসিওলা ক্যাম্প এলাকায় বসবাসের জন্য মিকোসুকি গোষ্ঠীর কোনো বৈধ অনুমতি নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার সরকার করদাতাদের অর্থ কোনো বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রকল্পে ব্যয় করতে দেবে না, বিশেষত যেসব গোষ্ঠী তার অভিবাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    মার্কিন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা খুব ঘন ঘন ব্যবহৃত হয় না। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তার পূর্বসূরি জো বাইডেন চার বছরের মেয়াদে ১৩টি বিলে ভেটো প্রয়োগ করেন।