Category: আমেরিকা

  • ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান: এক আইনেই বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র

    ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন অভিযান: এক আইনেই বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র

    এবিএনএ: ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন আইনকে কেন্দ্র করে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। গত জুলাইয়ে পাস হওয়া ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে অভিবাসন নীতিকে নতুন করে সাজিয়ে আরও কঠোর কাঠামোতে নিয়ে যান তিনি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আইনি অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ এবং আর্থিক সংকট।

    আইনের নতুন সংশোধনীতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেরিত অর্থের ওপর ‘রেমিট্যান্স কর’ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে আশ্রয়ের সব আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে ১৯টি দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড পর্যালোচনা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠিন করা হয়েছে। দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান, ইরান, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন, লিবিয়া, ভেনেজুয়েলা, কিউবা, মিয়ানমারসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ।

    কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ‘বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ নির্বাসন অভিযান’ পরিচালনার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়াই অনথিভুক্ত অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও নির্বাসন কার্য সম্পাদন করা হচ্ছে।

    আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) কার্যক্রম এখন কেবল অভিবাসন আইনেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা সীমান্ত সুরক্ষা, কাস্টমস এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৬৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে আইসিই গ্রেপ্তার বা নজরদারিতে রেখেছে। এমনকি বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে ট্রানজ্যাকশনাল রেকর্ডস অ্যাক্সেস ক্লিয়ারিং হাউস।

    ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক কৌশলের সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার এবং অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার হরণের শামিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শতাব্দি প্রাচীন এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট ব্যবহার করে ট্রাম্প অভিবাসন নীতিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দুই লাখ ইউক্রেনীয় অভিবাসী এখন আইনি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। তাদের কাজের অনুমতি নবায়নে দেরি হওয়ায় অনেকেই চাকরি ও বসবাসের অধিকার হারিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তি কর্মী থেকে শুরু করে শিক্ষক, ডিজাইনার, শিক্ষার্থীরাও এখন অনিশ্চয়তায়।

    মার্কিন-মেক্সিকো সীমান্তে এখন জরুরি অবস্থা কার্যকর। সান দিয়াগোসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় আগে যে দৃশ্যগুলো দেখা যেত, ট্রাম্পের কঠোর নীতির পর তা এখন প্রায় অদৃশ্য। সীমান্ত পার হওয়ার ঝুঁকি কমলেও মানবিক সংকট বেড়েছে বহুগুণ।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের একটি বড় পরীক্ষা।

  • অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা ট্রাম্পের: তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

    অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা ট্রাম্পের: তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও অভিবাসন নীতিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হতে পারে। শুধু তাই নয়, যারা এখনো মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেনি, তাদের জন্য ফেডারেল সুবিধা ও সরকারি ভর্তুকি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনাতেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তবে কীভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে বা কোন প্রক্রিয়ায় তা বাস্তবায়িত হবে— সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি। ট্রাম্পের পূর্বে করা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আদালত এবং কংগ্রেসে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।

    এর আগে হোয়াইট হাউসের নিকটবর্তী এলাকায় ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পরই অভিবাসন স্থগিতের বিষয়ে নতুন বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনবিসি জানায়, তাঁর পোস্টে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো কোনগুলো তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণ ধারণায় ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে দরিদ্র, অস্থিতিশীল ও কম মানব উন্নয়ন সূচকসম্পন্ন দেশগুলোকে বোঝানো হয়।

    ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, মানব উন্নয়ন সূচকে সবচেয়ে নিচের অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, সোমালিয়া, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, চাদ ও নাইজার। এ তালিকায় উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩০তম, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

    হোয়াইট হাউসের ঘটনার পর আটক হয়েছেন একজন আফগান নাগরিক। এ ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও নীতিমালা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে বিশেষ সুবিধায় দেশে প্রবেশ করা আফগান নাগরিকদের অভিবাসন আবেদনও ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, “যারা আমাদের দেশের জন্য কল্যাণকর নয়, তাদের দেশ ছাড়তে হবে।”

    গ্রিন কার্ড পুনর্বিবেচনায় ১৯ দেশ
    বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের দেওয়া গ্রিন কার্ডগুলো পুনরায় কঠোরভাবে পর্যালোচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার প্রধান জোসেফ এডলো জানিয়েছেন, উদ্বেগজনক দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড যাচাই করতে প্রেসিডেন্ট বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন।

    অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, গত জুনে হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় যে দেশগুলোর নাম উল্লেখ ছিল, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, কিউবা, হাইতি, ইরান, সোমালিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ।

  • হোয়াইট হাউসের পাশেই গুলিবর্ষণ, আফগান নাগরিক আটক—স্থগিত সব অভিবাসন প্রক্রিয়া!

    হোয়াইট হাউসের পাশেই গুলিবর্ষণ, আফগান নাগরিক আটক—স্থগিত সব অভিবাসন প্রক্রিয়া!

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কয়েক ব্লক দূরে ঘটে গেলো গুলির ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরে ফ্যারাগাট ওয়েস্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে এক সশস্ত্র ব্যক্তি গুলি চালালে ন্যাশনাল গার্ডের দু’জন সদস্য আহত হন। দ্রুতই ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীকে আটক করে। হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে আফগান নাগরিক হিসেবে।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছেন, আটক হামলাকারী রাহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকে আগত সব অভিবাসীর বসবাসের আবেদন পুনর্মূল্যায়ন করারও নির্দেশ দেন তিনি।

    ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে সব আফগান নাগরিকের অভিবাসন প্রক্রিয়া। যদিও হামলাকারীর অভিবাসন স্ট্যাটাস এখনো পরিষ্কার নয়, তবু তার নাম নিশ্চিত করা হয়েছে—রাহমানুল্লাহ লাখানওয়াল।

    ঘটনা ঘটার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফ্লোরিডায় অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের অতিরিক্ত ৫০০ সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। আগে থেকেই ২ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন ছিল, যা নিয়ে বিতর্ক চলছিল।

    নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলি করার পর হামলাকারী নিজেও আহত হন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ফ্যারাগাট ওয়েস্ট মেট্রো স্টেশন থেকে হোয়াইট হাউসের দূরত্ব মাত্র কয়েক ব্লক, যা ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    শহরের মেয়র একে ‘টার্গেটেড শুটিং’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এটি কোনো এলোমেলো হামলা নয়—বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী, বাড়ানো হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।

    ঘটনার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • ট্রাম্পের হুমকি ‘অনিবার্য’ হলেও পিছিয়ে যাব না: নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি

    ট্রাম্পের হুমকি ‘অনিবার্য’ হলেও পিছিয়ে যাব না: নিউ ইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি

    এবিএনএ: নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নগরী থেকে সাশ্রয়ী মূল্যের শহরে রূপান্তর করাই তার প্রধান লক্ষ্য। বুধবার এবিসি নিউজকে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার বিজয় জনগণের কাছ থেকে পাওয়া এক “স্পষ্ট ম্যান্ডেট”—যা নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বহন করছে।

    মামদানি জানান, “উচ্চাকাঙ্ক্ষী সাশ্রয়ী নীতি” বাস্তবায়নে তিনি কর বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প দেখছেন না। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, সাধারণ নাগরিকদের নয়, নিউ ইয়র্কের শীর্ষ এক শতাংশ ধনী শ্রেণির ওপর বাড়তি কর আরোপের পরিকল্পনা তার।

    প্রতি বছর এক মিলিয়ন ডলারের বেশি আয়ের ব্যক্তিদের জন্য দুই শতাংশ অতিরিক্ত কর এবং কর্পোরেট কর ১১.৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন তিনি। এতে বছরে প্রায় নয় বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হবে বলে ধারণা তার।

    ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের শহর ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, “শিশু যত্ন ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই কর্মীদের শহর ছাড়তে বাধ্য করছে। কর বৃদ্ধি নয়, বরং মানবিক জীবনযাত্রাই প্রতিভা ধরে রাখার উপায়।”

    নির্বাচনের আগে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, মামদানি জিতলে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মামদানি বলেন, “যদি প্রেসিডেন্ট শহরের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেন, আমি তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের হুমকি ‘অনিবার্য’, কিন্তু ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”

    নিউ ইয়র্কের নাগরিকরা আশা করছেন, মামদানির নেতৃত্বে শহরটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করবে—যেখানে সমতা, সুযোগ এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রা অগ্রাধিকার পাবে।

  • ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, ট্রাম্প সেই গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “আমরা দেশের মাদক সন্ত্রাস বন্ধ করতে মার্কিন শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।”

    গত সপ্তাহে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক নিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    তবে ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, “না, আমরা কোনো সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না,”— এমন উত্তরই দেন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, যখন তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে যাত্রা করছিলেন।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য এটি বড় হুমকি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “মিয়ামি হেরাল্ডে প্রকাশিত তথাকথিত সূত্রভিত্তিক সংবাদ সম্পূর্ণ ভুয়া।”

    এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়া দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত।”

  • ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ:  ৩৩ বছর পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরছে ওয়াশিংটন।

    বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প এই নির্দেশ জারি করেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অন্য দেশগুলো যখন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও সমান ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, “রাশিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে এবং চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাবে।” তবে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দেননি। এতে স্পষ্ট নয় যে, তিনি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষার কথা বলেছেন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লাইট টেস্টের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৪৫ সালে। সেই থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশটি মোট ১,০৩২টি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। একই বছর তারা সর্বশেষ পরীক্ষা চালায় এবং পরে সিটিবিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কখনও তা অনুমোদন করেনি।

    বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, চীনের পারমাণবিক ভান্ডার গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে চীনের হাতে প্রায় ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০টির কাছাকাছি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

    বিশ্বে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্দোতে প্রথম ২০ কিলোটন শক্তির বোমা পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। একই বছরের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতি ঘটে।

    এবার ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই পথেই হাঁটছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    নোবেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউজের

    এবিএনএ: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজ। এবছর নোবেল কমিটি ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে শান্তিতে নোবেল প্রদান করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রকাশ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি উদ্যোগে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে আসছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে তার প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশাসন বেশ প্রচারণাও চালিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটির মন গলাতে পারেননি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র স্টিভেন চুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ পোস্টে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ থামাতে এবং বিশ্বে শান্তি আনতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার মানবিকতা ও ইচ্ছাশক্তি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। কিন্তু নোবেল কমিটি রাজনীতিকে শান্তির চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে।”

    নরওয়ের নোবেল কমিটি জানিয়েছে, স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকার জন্য মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছে, মাচাদো বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতীক।

    অন্যদিকে, ট্রাম্প সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। তারা মনে করেন, ট্রাম্পের মতো নেতাই আসল শান্তির দূত। সম্প্রতি গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ভূমিকা রাখার দাবি করে ট্রাম্প নিজেকে শান্তির নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

    যদিও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়ে ট্রাম্প সরাসরি কিছু বলেননি, তবে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গাজা চুক্তি উদযাপনের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।

    অতীতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তার নেতৃত্বেই বিশ্বের আটটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছে। তার ভাষায়, “নোবেল পুরস্কার আমার প্রাপ্য, কিন্তু তারা সেটি আমাকে দেবে না। তারা সবসময় এমন কাউকে পুরস্কৃত করে, যে আসলে কিছুই করেনি।”

    নোবেলের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারি। ট্রাম্প জানুয়ারি মাসেই দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসেন।

  • কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    কংগ্রেসে ব্যয় বিল আটকে, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি দপ্তরে শাটডাউন শুরু

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। কংগ্রেসে ব্যয় বিল পাস না হওয়ায় মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দেশটিতে সরকারি শাটডাউন শুরু হয়েছে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী অবৈতনিক ছুটিতে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

    মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা স্পষ্ট নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৭ বছর আগে দেশটি সবচেয়ে দীর্ঘ শাটডাউনের মুখোমুখি হয়েছিল, যা টানা ৩৫ দিন স্থায়ী হয়েছিল।

    যুক্তরাষ্ট্রে অর্থবছর শুরু হয় প্রতি বছরের ১ অক্টোবর থেকে। এর আগে কংগ্রেসে বাজেট অনুমোদন না হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা কিংবা জীবনরক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ছাড়া অধিকাংশ কার্যক্রম স্থগিত থাকে।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, শাটডাউন চলাকালীন বিপুল সংখ্যক কর্মী বেতন পাবেন না। এমনকি ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    রাজনৈতিক দ্বন্দ্বই এ অচলাবস্থার মূল কারণ। ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দাবি করলেও রিপাবলিকানরা তা প্রত্যাখ্যান করে। সিনেটে ভোটাভুটিতে রিপাবলিকানদের প্রয়োজন ছিল ৬০ ভোট, কিন্তু তারা পেয়েছে মাত্র ৫৫। ফলে ব্যয় বিল পাস হয়নি এবং শাটডাউন কার্যকর হয়েছে।

    বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট সমর্থকেরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হতে পারেন। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন, বিল পাস না হলে ডেমোক্র্যাট সমর্থক কর্মীদের ছাঁটাই করা হবে।

  • মিশিগানে গির্জায় ভয়াবহ হামলা: বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪, আহত বহু

    মিশিগানে গির্জায় ভয়াবহ হামলা: বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৪, আহত বহু

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এক বন্দুকধারীর হামলায় কেঁপে উঠল একটি গির্জা। গাড়ি চালিয়ে গির্জার ভেতরে ঢুকে তিনি গুলি চালান ও আগুন ধরিয়ে দেন। এতে অন্তত ৪ জন নিহত এবং আরও ৮ জন আহত হয়েছেন।

    ডেট্রয়েট থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টস গির্জাটিতে রোববার সকালের প্রার্থনা চলছিল। কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন এ সময়। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী থমাস জ্যাকব স্যানফোর্ড গির্জার কার পার্ক এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

    স্থানীয় পুলিশ প্রধান উইলিয়াম রেনেই জানান, হামলাকারী প্রথমে গাড়ি নিয়ে গির্জায় ঢুকে পড়ে এবং অ্যাসল্ট রাইফেল দিয়ে একাধিক রাউন্ড গুলি চালায়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে গির্জার ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নিহতদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময় মাত্র আট মিনিট স্থায়ী হয়। রেনেই বলেন, “আমাদের বিশ্বাস, হামলাটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে।”

    ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে এফবিআই। ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, বোমা বিশেষজ্ঞসহ শতাধিক এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। সন্দেহভাজনের বাড়ি ও ফোন রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মিশিগান পুলিশের মুখপাত্র কিম ভেট্টে জানান, হামলার সঙ্গে বোমার হুমকিরও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গির্জার পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রার্থনার সময় এক বন্দুকধারী গুলি চালিয়েছে। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করি।”

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে “আমেরিকায় আবারও খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, তদন্ত এফবিআইয়ের নেতৃত্বে হবে।

    এদিকে, মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমের ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য সহিংসতা’ বলে নিন্দা জানান। দেশটির সাবেক সিনেটর ও বিশিষ্ট মরমন নেতা মিট রমনি বলেন, “আমার ভাই-বোনেরা এবং তাদের গির্জা সহিংসতার শিকার হয়েছে, এটি এক গভীর ট্রাজেডি।”

    মিশিগানের এই ভয়াবহ গির্জা হামলা আবারও তুলে ধরল যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ভয়াবহ বাস্তবতা।

  • ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রে নতুন শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের ঘোষণা, বিশ্ববাজারে শঙ্কা

    ওষুধ, ট্রাক ও আসবাবপত্রে নতুন শুল্ক আরোপে ট্রাম্পের ঘোষণা, বিশ্ববাজারে শঙ্কা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ওষুধ, ভারী ট্রাক এবং গৃহস্থালি আসবাবপত্রের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার দাবি, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদকদের সুরক্ষা দেবে এবং বিদেশি প্রতিযোগিতা রুখতে সহায়ক হবে।

    বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প তার সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। ঘোষণায় বলা হয়, কোনো কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা না গড়ে তুললে তাদের উৎপাদিত ওষুধ আমদানিতে শতভাগ শুল্ক বসানো হবে।

    এছাড়া ভারী ট্রাকে ২৫ শতাংশ, রান্নাঘর ও বাথরুমের ক্যাবিনেটে ৫০ শতাংশ এবং আগামী সপ্তাহ থেকে সোফা ও অন্যান্য গদিযুক্ত আসবাবপত্রে ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, বিদেশি পণ্য আমদানির কারণে স্থানীয় শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, পিটারবিল্ট ও ম্যাক ট্রাকসের মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলো এ নীতির মাধ্যমে উপকৃত হবে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো শুরু থেকেই নতুন শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, ভারী ট্রাকের যন্ত্রাংশের বড় অংশ আমদানি হয় মেক্সিকো, কানাডা, জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও জাপান থেকে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও শুল্ক আরোপ শিল্পখাতে খরচ বাড়াবে এবং উৎপাদন ব্যাহত করবে।

    এর আগে চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্স হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছিল যে দেশীয়ভাবে এসব যন্ত্রাংশ তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। তবুও প্রশাসন তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন শুল্ক নীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থে কার্যকর হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষত কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দীর্ঘদিনের অংশীদার দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্যিক পথ খুঁজে নিতে পারে।

    ট্রাম্প অবশ্য আশাবাদী যে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন শক্তিশালী করবে এবং শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পথ খুলে দেবে। তবে বাস্তবে এই নীতির ফলে আমেরিকার বাজারে কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখনো গুরুতর প্রশ্ন রয়ে গেছে।