আমেরিকা

ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে ট্রাম্পের নির্দেশ—পেন্টাগনকে অবিলম্বে অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে বলা হয়েছে

এবিএনএ:  ৩৩ বছর পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরছে ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প এই নির্দেশ জারি করেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অন্য দেশগুলো যখন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও সমান ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “রাশিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে এবং চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাবে।” তবে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দেননি। এতে স্পষ্ট নয় যে, তিনি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষার কথা বলেছেন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লাইট টেস্টের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৪৫ সালে। সেই থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশটি মোট ১,০৩২টি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। একই বছর তারা সর্বশেষ পরীক্ষা চালায় এবং পরে সিটিবিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কখনও তা অনুমোদন করেনি।

বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, চীনের পারমাণবিক ভান্ডার গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে চীনের হাতে প্রায় ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০টির কাছাকাছি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্বে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্দোতে প্রথম ২০ কিলোটন শক্তির বোমা পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। একই বছরের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতি ঘটে।

এবার ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই পথেই হাঁটছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button