Tag: রাশিয়া

  • ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    এবিএনএ: ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির জনগণ চলমান সংকট অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া এমন সব উদ্যোগ নেবে যাতে ইরান ও গোটা অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মস্কো ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে।

    এছাড়া বিরোধ কমানোর অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাবও পুনরায় উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

    বৈঠকে পুতিন জানান, তিনি সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া ও ইরান ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান।

    বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি মস্কোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ইরানের পাশে পুতিন—বন্ধুত্বের বার্তায় নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে পাঠানো ওই বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও মস্কো তেহরানের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাশে থাকবে। এই বার্তা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

    তবে কূটনৈতিক আশ্বাসের বাইরে বাস্তবে রাশিয়া কতটা সহায়তা দিচ্ছে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কিছু ইরানি বিশ্লেষকের মতে, দেশটি দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সংকটের মুখে থাকলেও মস্কোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা মিলছে না।

    এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের কারণে। সেখানে দাবি করা হয়, রাশিয়া নাকি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব দিয়েছিল—যদি ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে, তবে মস্কোও ইরানকে তথ্য সরবরাহ বন্ধ করবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ক্রেমলিন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা লাভবান হলেও পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    একই সঙ্গে রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। মস্কোর আশঙ্কা, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে।

  • গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ উড়িয়ে দিল রাশিয়া—চীনের নাম জড়ানোয় উত্তপ্ত কূটনীতি

    গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ উড়িয়ে দিল রাশিয়া—চীনের নাম জড়ানোয় উত্তপ্ত কূটনীতি

    এবিএনএ: গোপনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগকে স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়া কিংবা চীন—কেউই গোপন কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র-এর পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে মস্কো।

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এ ধরনের কোনো গোপন পরীক্ষা হয়নি। তিনি আরও জানান, এই অভিযোগ আগেই চীন প্রত্যাখ্যান করেছে।

    এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন দাবি করে, ২০২০ সালে চীন গোপনে একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন ও আরও বিস্তৃত চুক্তির প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেই চুক্তিতে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনকেও যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

    নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংকে আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি নিউ স্টার্ট চুক্তি-এর বিকল্প কাঠামো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে চালু থাকা এই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ চলতি মাসের শুরুতে শেষ হওয়ায় বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

    এদিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চীনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ২০২০ সালে চীন এমন এক ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, যা ভূকম্পন যন্ত্রে সহজে ধরা পড়ে না। তবে বেইজিং এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক চাপ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

  • চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের ভয়াবহ ক্ষতি: নিহত সেনা ৫৫ হাজার ছাড়াল বলে জানালেন জেলেনস্কি

    চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের ভয়াবহ ক্ষতি: নিহত সেনা ৫৫ হাজার ছাড়াল বলে জানালেন জেলেনস্কি

    এবিএনএ: রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

    বুধবার ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স–২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে পেশাদার সেনা ও বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য—উভয়ই রয়েছেন। তবে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিয়েভ ও মস্কো উভয় পক্ষই একে অপরের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করলেও নিজেদের ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সাধারণত গোপন রাখে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

    এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই সংঘাত অবসানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি আবুধাবিতে রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন।

    তবে শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড। ক্রেমলিন দাবি করছে, দোনবাস অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে। এই শর্তে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।

    জেলেনস্কি আরও জানান, নিহত সেনার সংখ্যার পাশাপাশি নিখোঁজের তালিকাও উদ্বেগজনক। ছয় মাস আগে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল, যাদের মধ্যে কতজন সেনা বা বেসামরিক—সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

  • এপস্টেইন কি সত্যিই রুশ গুপ্তচর? নতুন অভিযোগে ক্রেমলিনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    এপস্টেইন কি সত্যিই রুশ গুপ্তচর? নতুন অভিযোগে ক্রেমলিনের তীব্র প্রতিক্রিয়া

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে রাশিয়ার গুপ্তচর হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ধরনের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর ক্রেমলিন। তাদের ভাষায়, এই অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

    সম্প্রতি মার্কিন আদালতে এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক নথি প্রকাশের পর তার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব নথিতে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এপস্টেইনের সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পোল্যান্ড।

    এপস্টেইন রাশিয়ার এজেন্ট ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এ ধরনের তত্ত্ব এতটাই অবাস্তব যে তা নিয়ে মন্তব্য করাও সময়ের অপচয়। তিনি বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দেন।

    নথিগুলোতে দেখা যায়, এপস্টেইন একাধিকবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে তাদের মধ্যে কখনো বৈঠক হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পেসকভ আগেই জানিয়েছিলেন, ২০১৯ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণকারী এই বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারীর কাছ থেকে ক্রেমলিন কখনোই কোনো ধরনের অনুরোধ পায়নি।

    সর্বশেষ প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে পুতিনের নাম বারবার উঠে এলেও এর বেশিরভাগই গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংরক্ষণের তথ্য। পাশাপাশি, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার উদ্দেশ্যে রাশিয়া থেকে তরুণী সংগ্রহে তার তৎপরতার কথাও নথিতে উঠে এসেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

  • পুতিনকে আটক করা হবে? সরাসরি প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার ঝড়

    পুতিনকে আটক করা হবে? সরাসরি প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনার ঝড়

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার ঘটনার পর এবার আলোচনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই ধরনের কোনো পদক্ষেপ পুতিনের ক্ষেত্রেও নেওয়া হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে আটক করার মতো কোনো পরিস্থিতি তিনি দেখছেন না। তার ভাষায়, “এটার প্রয়োজন হবে বলে আমার মনে হয় না।”

    এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্বৈরশাসকদের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে তারা জানে পরবর্তী লক্ষ্য কী হতে পারে। মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া সেই মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পকে এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।

    শুক্রবার হোয়াইট হাউসে জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুকি তাকে প্রশ্ন করেন—পুতিনকে ধরতে কখনো কোনো অভিযানের নির্দেশ দেবেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বরাবরই কার্যকর ছিল এবং তিনি আশা করছেন ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।

    ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত বন্ধে তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ না হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ।

    এদিকে মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, এটি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের গুরুতর লঙ্ঘন। জাতিসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভাসিলি নেবেনজিয়া এই ঘটনাকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যবস্থাকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কঠিন সমঝোতার ইঙ্গিত, রাশিয়াকে অঞ্চল ছাড়তে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

    ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কঠিন সমঝোতার ইঙ্গিত, রাশিয়াকে অঞ্চল ছাড়তে চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির লক্ষ্যে রাশিয়ার কাছে কিছু অঞ্চল ছাড়তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জার্মান সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ওয়াশিংটন কিয়েভের ওপর অবস্থান নরম করার কৌশল নিচ্ছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনে সম্প্রতি দুর্নীতিসংক্রান্ত বিতর্ক সামনে আসার পর জেলেনস্কির অভ্যন্তরীণ অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে দেখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জার্মানিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। সেখানে যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির সর্বশেষ খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    এর আগে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ডোনেটস্ক অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহারে চাপ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে পূর্ব ইউক্রেনের কিয়েভ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা মস্কোর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, কোনো ভূখণ্ড ছাড়ের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনে গণভোট ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ২০ দফা পাল্টা প্রস্তাবও দিয়েছেন।

    এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠা খুব দূরে নয়। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ চেক প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনকে নতুন কোনো আর্থিক সহায়তায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক আকাশ হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, এক রাতেই চার শতাধিক ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে কয়েকটি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সাময়িকভাবে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এতে লাখো পরিবার বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে, যা আসন্ন শীতকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।

  • বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে—এমন এক নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ‘কোর-৫’ নামে একটি নতুন শক্তিকেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা করছেন—এমন জল্পনা ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

    মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি নথিতে এই ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রস্তাবিত এই জোট কার্যত ইউরোপপ্রধান জি৭ এবং আদর্শভিত্তিক প্রচলিত পশ্চিমা জোটগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কোর-৫ ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি থাকবে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। জি৭-এর আদলে নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ইস্যুতে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। প্রাথমিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

    যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বিকল্প বা গোপন নথির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে—এই ধারণা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপকে এই জোটের বাইরে রাখার ভাবনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, এতে রাশিয়ার প্রভাব ইউরোপে আরও জোরদার হতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কোর-৫ বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত চীন নীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।

    সব মিলিয়ে, কোর-৫ জোট আপাতত আলোচনার স্তরেই থাকলেও, এই ধারণা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে আন্তর্জাতিক মহলকে।

  • ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিন–দূত বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

    ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিন–দূত বৈঠকে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি, বাড়ছে কূটনৈতিক তৎপরতা

    এবিএনএ: ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নতুন গতি পাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। আলোচনার টেবিলে থাকবে যুদ্ধ থামাতে হোয়াইট হাউস প্রস্তুত করা শান্তি পরিকল্পনা।

    ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ নিশ্চিত করেছেন যে বৈঠকটি স্থানীয় সময় দুপুরের পর অনুষ্ঠিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আলোচনায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারও যোগ দিতে পারেন। ইউক্রেন সংশ্লিষ্ট শান্তি পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই দিনের এক সম্মেলনে ইউক্রেন ও মার্কিন কর্মকর্তারা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন পরিকল্পনাটিকে কার্যকর বলে মনে করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটও বলেছেন, “আমরা বেশ আশাবাদী।”

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের আস্থা ধরে রাখতে ব্যস্ত। ইউরোপীয় দেশগুলো শঙ্কা প্রকাশ করেছে—মার্কিন খসড়া পরিকল্পনা ইউক্রেন ও ইউরোপের মতামত উপেক্ষা করে হয়ে উঠতে পারে মস্কোর দাবির প্রতিফলন।

    ইউক্রেনের আলোচক রুস্তেম উমেরভ জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বৈঠকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে, যদিও বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে যেগুলোর ওপর আরও কাজ করা প্রয়োজন। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট মাখোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে অবস্থান করছেন, সেখানেই উমেরভের কাছ থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতির ব্রিফিং নেবেন তিনি।

    এদিকে আইএসডব্লিউ-এর সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পর ২০২৪ সালের নভেম্বরের পর গত মাসেই রুশ বাহিনী ইউক্রেন যুদ্ধে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় বৈঠকটিকে আন্তর্জাতিক মহল অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

  • রাতভর ভয়াবহ রুশ হামলায় থমকে ইউক্রেন, বিদ্যুৎহীন লাখো পরিবার

    রাতভর ভয়াবহ রুশ হামলায় থমকে ইউক্রেন, বিদ্যুৎহীন লাখো পরিবার

    এবিএনএ: ইউক্রেনে রাতভর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। হামলার মাত্রা এতটাই ব্যাপক ছিল যে, বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস হয়ে প্রায় ছয় লাখেরও বেশি পরিবার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও সেই সময়ই রাশিয়ার এই নতুন হামলা সংঘটিত হয়। হামলার পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, “যখন সবাই শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে, ঠিক তখনই রাশিয়া হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।”

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই হামলায় রাশিয়া অন্তত ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৬০০টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে টার্গেট করছে।

    ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া নিয়মিতভাবে ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্রিডলাইনসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে। সর্বশেষ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। ফলে শহরের বিদ্যুৎব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার বর্তমানে দিনে মাত্র আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে।

    এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘমেয়াদে ইউক্রেনের দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।