চার বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের ভয়াবহ ক্ষতি: নিহত সেনা ৫৫ হাজার ছাড়াল বলে জানালেন জেলেনস্কি
যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণহানি ও নিখোঁজের পরিসংখ্যান প্রকাশ, শান্তি আলোচনায় ভূখণ্ড ইস্যুতে অচলাবস্থা


এবিএনএ: রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
বুধবার ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স–২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে পেশাদার সেনা ও বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য—উভয়ই রয়েছেন। তবে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিয়েভ ও মস্কো উভয় পক্ষই একে অপরের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করলেও নিজেদের ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সাধারণত গোপন রাখে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে আনুমানিক ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যদিও এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকেই সংঘাত অবসানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি আবুধাবিতে রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন।
তবে শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড। ক্রেমলিন দাবি করছে, দোনবাস অঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ ইউক্রেনকে ছেড়ে দিতে হবে। এই শর্তে এখনো কোনো সমাধান আসেনি।
জেলেনস্কি আরও জানান, নিহত সেনার সংখ্যার পাশাপাশি নিখোঁজের তালিকাও উদ্বেগজনক। ছয় মাস আগে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭০ হাজারের বেশি মানুষকে নিখোঁজ হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল, যাদের মধ্যে কতজন সেনা বা বেসামরিক—সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।




