Category: ধর্ম

  • বাংলাদেশে ২৮ মে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা

    বাংলাদেশে ২৮ মে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৮ মে সারাদেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

    রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। পর্যালোচনায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে, বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

    বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন জানান, মঙ্গলবার ১৯ মে থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৮ মে, অর্থাৎ ১০ জিলহজ, দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।

    প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে কোরবানির পশুর হাট, কেনাকাটা এবং ঈদযাত্রা ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বিভিন্ন স্থানে।

    ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই দিনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি আত্মত্যাগ ও মানবতার শিক্ষাও বহন করে পবিত্র এই উৎসব।

  • কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    এবিএনএ:ত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক অনন্য শিক্ষা বহন করে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কোরবানি—যা কেবল পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতীক।

    ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিই কোরবানির মূল প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। এই ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    পবিত্র কোরআন-এ আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—নিজ রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত নয়, বরং মানুষের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

    হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদের জামাতে না আসে—এমন কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে।


    কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। এটি সেই সব প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক।

    এই নির্ধারিত সম্পদের পরিমাণকে বলা হয় “নিসাব”।


    নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত?

    কোরবানির সময় (১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) যদি কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিচের পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক—

    • স্বর্ণ: সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি)
    • রুপা: সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি)
    • অথবা সমপরিমাণ অর্থ বা সম্পদ (রুপার মূল্যের ভিত্তিতে)

    যদি কারও কাছে স্বর্ণ বা রুপা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে উভয়টি মিলিয়ে কিংবা নগদ অর্থ, অতিরিক্ত সম্পদ যোগ করে যদি তা রুপার নিসাবের সমান হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।


    কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

    নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সম্পদ বিবেচনায় আসবে—

    • স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
    • নগদ অর্থ
    • প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
    • অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা সম্পদ

    তবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।


    যাকাত ও কোরবানির সম্পর্ক

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—যাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর সম্পদ থাকা শর্ত, কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই দায়িত্ব বর্তায়।


    উপসংহার

    কোরবানি শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকলে এই ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

  • মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    এবিএনএ: ওমরাহ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতা, বার্ধক্য কিংবা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ নিজে ওমরাহ আদায় করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ ওমরাহ করতে পারবেন কি না—এ নিয়ে ইসলামি শরিয়তে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

    ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা বৈধ। এ বিষয়ে একটি হাদিসে উল্লেখ আছে—এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, তার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং হজ বা ওমরাহ করার সক্ষমতা নেই। উত্তরে নবীজি তাকে পিতার পক্ষ থেকে হজ ও ওমরাহ আদায়ের নির্দেশ দেন। এই হাদিস থেকে আলেমরা জীবিত ও মৃত উভয়ের পক্ষ থেকেই বদলি ওমরাহ করার অনুমতি গ্রহণ করেছেন।

    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, কেউ যদি কোনো নেক আমল সম্পাদন করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন, তাহলে তা বৈধ এবং উপকারে আসে। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। এ থেকে বোঝা যায়, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হলেও অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও পৌঁছানো সম্ভব।

    জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ সম্ভব

    ইসলামি ফতোয়া অনুযায়ী, শুধু মৃত নয়—জীবিত কিন্তু অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যিনি ওমরাহ করবেন, তাকে ইহরাম বাঁধার সময় স্পষ্টভাবে যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করছেন তার জন্য নিয়ত করতে হবে। পাশাপাশি তালবিয়াও তার পক্ষ থেকেই আদায় করতে হবে।

    কিছু আলেমের মতে, বদলি হজের মতো ওমরাহ বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা কম পাওয়া গেলেও, নিজের করা ওমরাহর সওয়াব অন্য কাউকে পৌঁছে দেওয়া বৈধ। ফলে ব্যক্তি নিজের ওমরাহ আদায় করে মৃত বা জীবিত যেকোনো মুসলমানের জন্য সওয়াব দান করতে পারেন।

    কোন বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

    বদলি ওমরাহ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

    • যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করা হবে তার জন্য স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে
    • শরিয়াহসম্মত নিয়মে পুরো ওমরাহ সম্পন্ন করতে হবে
    • সওয়াব দানের উদ্দেশ্য থাকতে হবে
    • মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা অব্যাহত রাখা উত্তম

    সব মিলিয়ে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বদলি ওমরাহ করা বৈধ এবং এটি মৃত ও জীবিত উভয়ের পক্ষেই করা যায়। তবে আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, সদকা ও নেক আমল দান—এসবের গুরুত্ব বেশি। তাই বদলি ওমরাহর পাশাপাশি দোয়া করাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

  • জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    এবিএনএ: মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন এবং তাদের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন আসমানি কিতাব। এসব কিতাবের মধ্যে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব হলো পবিত্র আল-কোরআন, যা মানুষের জীবন পরিচালনার পরিপূর্ণ নির্দেশনা দেয়।

    পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর সুরা হলো সুরা কাহাফ। এটি ১৫তম পারায় অবস্থিত এবং এতে মোট ১১০টি আয়াত রয়েছে। ‘কাহাফ’ শব্দের অর্থ গুহা। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয় এবং এতে ঈমান, ধৈর্য, পরীক্ষা ও আল্লাহর ওপর ভরসার বিভিন্ন শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

    সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত

    হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সুরা কাহাফ পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও প্রশান্তি নাজিল হয়। এক সাহাবি সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার সময় তার নিকট এক ধরনের শান্ত পরিবেশ নেমে আসে। বিষয়টি তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল হয়েছিল।

    এ থেকে বোঝা যায়, নিয়মিত এ সুরা তেলাওয়াত করলে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও বরকত লাভ হয়।

    জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়ার ফজিলত

    হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে পাঠকারীর জন্য বিশেষ নূর সৃষ্টি হয়। এই নূর এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তাকে আলোকিত রাখে।

    আরও বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য আসমান পর্যন্ত আলো জ্বলে ওঠে এবং কিয়ামতের দিন সে আলো তার জন্য বিশেষ সম্মান বয়ে আনবে। একই সঙ্গে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদও দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম ১০ আয়াতের বিশেষ গুরুত্ব

    পুরো সুরা মুখস্থ করা সবার পক্ষে সহজ না হলেও অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে—
    যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

    এ কারণে আলেমরা জুমার দিন বা নিয়মিত সময় নিয়ে এই আয়াতগুলো মুখস্থ ও তেলাওয়াত করার পরামর্শ দেন।

    মুসলমানদের জন্য করণীয়

    • জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
    • অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করা
    • শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া শেখা
    • নিয়মিত তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা

    সুরা কাহাফ শুধু একটি তেলাওয়াত নয়; এতে রয়েছে ঈমান শক্ত করার শিক্ষা, দুনিয়ার ফিতনা থেকে বাঁচার নির্দেশনা এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নিয়মিত পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভের আশা করা যায়।

  • অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই ভালো-মন্দের সংমিশ্রণ রয়েছে। ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর নির্ভুলতা কেবল ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য। তাই ইসলামে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করা কিংবা তা প্রকাশ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বরং যে ব্যক্তি অন্যের ত্রুটি আড়াল করে রাখে, মহান আল্লাহও তার ত্রুটি আড়াল করে দেন—এমন সুসংবাদ এসেছে কোরআন ও হাদিসে।

    পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক সন্দেহ থেকে দূরে থাকো; কারণ কিছু সন্দেহ পাপ। একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করবে। আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও পরম দয়ালু।

    এই আয়াতে তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে—অযথা সন্দেহ, গোপন অনুসন্ধান এবং গিবত। অর্থাৎ অন্যের ত্রুটি খুঁজে বের করা ও তা প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর নৈতিক অপরাধ।

    হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। (মুসলিম: ২৫১০)

    অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেন, তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়িও না। কেউ যদি অন্যের দোষ অনুসন্ধান করে প্রকাশ করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। এমনকি তাকে নিজের ঘরেই লাঞ্ছিত করেন। (আবু দাউদ: ৪৮৮০)

    এছাড়া হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের সবাই ক্ষমা পাবে, তবে যারা নিজের পাপ প্রকাশ করে তারা নয়। কোনো ব্যক্তি রাতে পাপ করে, আল্লাহ তা গোপন রাখেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে। এভাবে সে আল্লাহর দেওয়া আড়াল নিজেই সরিয়ে দেয়। (বুখারি: ৬০৬৯)

    ইসলামের শিক্ষা হলো—অন্যের ভুল দেখলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নরমভাবে উপদেশ দেওয়া, কিন্তু তা প্রচার করা নয়। মানুষের সম্মান রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই গিবত, অপবাদ ও দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখাই ইসলামের নির্দেশ।

  • হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    হজের প্রস্তুতি জোরদার: লাখো হাজির জন্য মিনায় গড়ে উঠছে বিশাল তাঁবুর শহর

    এবিএনএ: চলতি বছরের হজকে সামনে রেখে মিনায় অস্থায়ী তাঁবুর শহর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো হাজির আবাসন নিশ্চিত করতে বিশাল এই অস্থায়ী নগরী গড়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

    পুরো মিনা এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু স্থাপন, চলাচলের পথ উন্নয়ন এবং উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি হাজিদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

    হাজিদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ক্যাম্প, জরুরি সহায়তা কেন্দ্র এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে অসুস্থ বা বয়স্ক হাজিরা দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের হজে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদার করতে আধুনিক ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজিদের অবস্থান পর্যবেক্ষণে ডিজিটাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

    বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হাজিদের কথা মাথায় রেখে পরিবহন ব্যবস্থা ও বিশ্রামস্থল নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এতে তাদের চলাচল সহজ হবে এবং ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    এছাড়া প্রতিটি তাঁবু ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মান যাচাই করা হচ্ছে কঠোরভাবে। হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে, যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

  • হিজরতের শেষ প্রান্তে নবীজি (সা.)-এর আবেগঘন সিজদাহ—কারিন সরিহর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    হিজরতের শেষ প্রান্তে নবীজি (সা.)-এর আবেগঘন সিজদাহ—কারিন সরিহর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    এবিএনএ: মক্কার নির্যাতন, তপ্ত মরুভূমির কষ্ট এবং শত্রুদের তাড়া এড়িয়ে দীর্ঘ হিজরত শেষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন মদিনার সীমানার খুব কাছে পৌঁছান, তখন তাঁর সামনে ভেসে ওঠে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের সবুজ খেজুর বাগান। সেই ঐতিহাসিক স্থানটির নাম ‘কারিন সরিহ’, যা মদিনার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ছিল।

    এই স্থানে পৌঁছে নবীজি (সা.) নিশ্চিত হন যে তিনি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে গেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁর উটনী থেকে নেমে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। ইসলামের ইতিহাসে এটি ‘সিজদাতুত শুকর’ হিসেবে সুপরিচিত—যেখানে বান্দা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা জানায়।

    এই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা হযরত আবু বকর (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবীরাও আল্লাহর প্রশংসায় মগ্ন হন। দীর্ঘ দুঃখ-কষ্ট ও বিপদের পর এই মুহূর্ত ছিল এক অনন্য স্বস্তি ও বিজয়ের প্রতীক।

    ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সীরাত গ্রন্থ অনুযায়ী, কারিন সরিহর নিকটবর্তী ‘উসবাহ’ এলাকায় অনেক সাহাবী আগেই সমবেত হয়েছিলেন। তাঁরা প্রিয় নবীকে স্বাগত জানানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এই স্থানগুলো আজও ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

    বর্তমানে নগরায়নের কারণে সেই প্রাচীন টিলা বা ভূখণ্ডের রূপ পরিবর্তিত হলেও, মদিনার উপকণ্ঠে অবস্থিত এই অঞ্চল এখনো ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর অসংখ্য মুসল্লি ও দর্শনার্থী এখানে এসে সেই পবিত্র স্মৃতিকে অনুভব করার চেষ্টা করেন।

    কারিন সরিহর এই ঘটনাটি শুধু ইতিহাস নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—যে কোনো বিপদ থেকে মুক্তি বা সাফল্য অর্জনের পর সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। ধৈর্য, ত্যাগ এবং বিশ্বাসের পরিণতিই প্রকৃত সফলতা।

  • কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কী হবে? জানুন সঠিক শরয়ি বিধান ও করণীয়

    কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কী হবে? জানুন সঠিক শরয়ি বিধান ও করণীয়

    এবিএনএ: ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ ইবাদত। তবে মানবজীবনের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় শরিয়তে রয়েছে কিছু ছাড় এবং বিকল্প বিধানও।

    কাদের জন্য রোজা স্থগিতের সুযোগ রয়েছে

    যারা অসুস্থ, সফরে রয়েছেন, অথবা গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী—যদি নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তারা রমজানে রোজা না রেখে পরবর্তীতে তা কাজা করে নিতে পারেন।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের রোজা অন্য সময়ে পূরণ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যারা একেবারেই অক্ষম, তারা ফিদিয়া আদায় করতে পারেন।

    কাজা রোজা দ্রুত আদায়ের গুরুত্ব

    যেসব রোজা কোনো কারণে রাখা সম্ভব হয়নি, সেগুলো বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব আদায় করা উত্তম। কারণ, মানুষের জীবন অনিশ্চিত—অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কাজা রোজা ফেলে রাখা ঠিক নয়।

    কাজা রোজা ভেঙে গেলে কী করবেন?

    কাজা রোজা আদায়ের সময় সেটি ভেঙে ফেলা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়, যদি না কোনো বৈধ কারণ থাকে। তাই রোজা রাখার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

    • বিনা কারণে ভেঙে ফেললে:
      যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কাজা রোজা ভেঙে ফেলে, তবে এটি গুনাহের কাজ। এজন্য আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে এবং পুনরায় সেই রোজাটি অন্য দিনে কাজা আদায় করতে হবে।
    • ওজর বা বৈধ কারণে ভাঙলে:
      অসুস্থতা বা অন্য কোনো বৈধ কারণ থাকলে রোজা ভাঙা যাবে। সেক্ষেত্রেও পরে একটি রোজা কাজা রাখতে হবে।

    কাফফারা কি দিতে হবে?

    কাজা রোজা ভেঙে ফেললে সাধারণত কাফফারা দিতে হয় না। কাফফারা শুধুমাত্র রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—বিশেষ করে পানাহার বা দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে।

    শেষ কথা

    রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তাই কাজা রোজাও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আদায় করা প্রয়োজন। সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এই ইবাদত পূর্ণতা পায়।

  • ঈদের পরই শুরু করুন শাওয়ালের ৬ রোজা—জানুন নিয়ম ও অগণিত ফজিলত

    ঈদের পরই শুরু করুন শাওয়ালের ৬ রোজা—জানুন নিয়ম ও অগণিত ফজিলত

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাস রমজানের সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জীবনে আসে আনন্দের উৎসব ঈদুল ফিতর। তবে ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এই রোজাগুলোকে মোস্তাহাব বলা হলেও এর সওয়াব অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

    বিশুদ্ধ হাদিসে শাওয়ালের রোজার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পূর্ণ করার পর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন পুরো বছরজুড়ে রোজা রাখার সমান সওয়াব লাভ করে (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)।

    এই রোজাগুলো ফরজ নয়; বরং এটি একটি নফল ইবাদত। তবে এর ফজিলত এতটাই বেশি যে আল্লাহর নৈকট্য লাভে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাদিসে শাওয়ালের ছয় রোজা নির্দিষ্ট কোনো সময় ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, ঈদের দিন ছাড়া মাসের যেকোনো ছয় দিনে—একটানা বা বিরতি দিয়ে—এই রোজাগুলো রাখা যাবে।

    বিশেষ করে যাদের রমজানের কিছু রোজা কাজা রয়েছে—অসুস্থতা বা নারীদের হায়েজ-নেফাসের কারণে—তাদের জন্য প্রথমে কাজা রোজা আদায় করা উত্তম। এরপর শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করলে পূর্ণ ফজিলত পাওয়া যাবে।

    ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কোনো বান্দা যখন একটি ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করে এবং তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়, তখন তাকে আরও নেক আমলের তাওফিক দেওয়া হয়। শাওয়ালের এই রোজাগুলো সেই কবুলিয়তের একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • ঈদের রাতে দোয়া কবুলের বিশেষ আমল: যে ইবাদতে বদলে যেতে পারে আপনার জীবন

    ঈদের রাতে দোয়া কবুলের বিশেষ আমল: যে ইবাদতে বদলে যেতে পারে আপনার জীবন

    এবিএনএ: ইসলামে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—এই দুই ঈদ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে শুধু ঈদের দিনই নয়, এর আগের রাতও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় হিসেবে বিবেচিত।

    ইসলামি স্কলারদের মতে, ঈদের রাতকে অবহেলায় না কাটিয়ে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করা সুন্নত। অনেকেই আনন্দ-উৎসবে ব্যস্ত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হন, যা কাম্য নয়। এ রাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা হয়।

    হাদিসে উল্লেখ আছে, কিছু নির্দিষ্ট রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকলে জান্নাত লাভের সুসংবাদ রয়েছে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—পাঁচটি রাত এমন রয়েছে, যেগুলোতে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকলে জান্নাত নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জিলহজের ৮ ও ৯ তারিখের রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ শাবানের রাত।

    এছাড়া ঈদের রাতে করা দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না—এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, শবে বরাত এবং দুই ঈদের রাতে করা দোয়া বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

    আরেকটি হাদিসে হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি ঈদের দুই রাতে সওয়াবের আশায় ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিয়ামতের দিন যখন বহু হৃদয় নিস্তেজ হয়ে যাবে, তখন তার হৃদয় জীবিত থাকবে।

    সুতরাং, ঈদের আনন্দের পাশাপাশি এ রাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে নামাজ, জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।