Category: ধর্ম

  • রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    এবিএনএ: শেষের পথে পবিত্র রমজান মাস। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের দশক—যে সময়টি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে শুরু হবে ঈদুল ফিতর, আর বিদায় নেবে বরকত, রহমত ও কোরআন নাজিলের এই মহিমান্বিত মাস।

    ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই রমজানই হয়তো অনেকের জীবনের শেষ রমজান হতে পারে। তাই শেষ সময়টুকুকে অর্থবহ করে তুলতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা বাড়ানো জরুরি।

    তওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি
    মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। রমজানেও নানা ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তাই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পারো” (সুরা নূর: ৩১)।

    আরেক স্থানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্মে অবিচল থাকে, আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমাশীল (সুরা ত্বহা: ৮২)।
    গুনাহের পর দ্রুত তওবা করে নিজেকে পবিত্র করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

    রমজানের ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
    রমজান ইবাদতের বিশেষ মাস হলেও নানা ব্যস্ততায় অনেকেই পূর্ণভাবে আমল করতে পারেন না। তাই এ মাসে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বাকি সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত।

    সারা বছরের জন্য নেক আমলের তাওফিক চাওয়া
    রমজান কেবল একটি মাস নয়, বরং সারা বছরের জন্য ইবাদতের প্রশিক্ষণ। রজব ও শাবান মাস থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতির পর রমজানে ইবাদতের অভ্যাস তৈরি হয়। এই অভ্যাস যেন সারা বছর বজায় থাকে, সে জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা জরুরি।

    সদকাতুল ফিতর আদায়ের গুরুত্ব
    রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায়। এটি রোজার ত্রুটি দূর করে এবং দরিদ্রদের সহায়তা করে। যারা এখনো আদায় করেননি, তারা ঈদের নামাজের আগে এটি পরিশোধ করে নিতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, রমজানের শেষ সময়টুকু আত্মশুদ্ধি, তওবা, দোয়া ও দানের মাধ্যমে কাটাতে পারলে তা একজন মুমিনের জন্য পরকালীন সফলতার পথ খুলে দিতে পারে।

  • ঈদের পরই প্রকাশ পাচ্ছে দাওরায়ে হাদিসের ফল—জানুন কবে ও কীভাবে দেখবেন

    ঈদের পরই প্রকাশ পাচ্ছে দাওরায়ে হাদিসের ফল—জানুন কবে ও কীভাবে দেখবেন

    এবিএনএ: ঈদের আনন্দের পরপরই কওমী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে বহুল প্রতীক্ষিত খবর। ১৪৪৭ হিজরির দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করেছে কওমী মাদরাসার সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড।

    বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৪ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার (৪ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি) দুপুর ২টার পর ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করে একটি আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় বোর্ডের চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবেন। সভায় পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির সদস্য ও নিরীক্ষকরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

    ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সহজেই নিজেদের ব্যক্তিগত ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলোর সম্মিলিত ফলাফলও অনলাইনে পাওয়া যাবে।

    এদিকে, মাদরাসা প্রশাসন HEMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজ নিজ আইডিতে লগইন করে ফলাফল ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি বোর্ড প্রশাসনও তাদের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অধিভুক্ত সব মাদরাসার ফলাফল পর্যবেক্ষণ ও প্রিন্ট করতে পারবেন।

    ফলাফল প্রকাশকে ঘিরে ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা ও প্রত্যাশা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে তারা জানতে পারবে তাদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার ফলাফল।

  • জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়তে বলেছিলেন নবীজি—জানুন সালাতুত তাসবিহের বিস্ময়কর ফজিলত

    জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়তে বলেছিলেন নবীজি—জানুন সালাতুত তাসবিহের বিস্ময়কর ফজিলত

    এবিএনএ: ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ, যা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে ফরজ নামাজের পাশাপাশি কিছু নফল নামাজ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করা যায়। এসব নফল ইবাদতের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নামাজ হলো সালাতুত তাসবিহ।

    ‘তাসবিহ’ অর্থ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা বা জিকির করা। আর যে নামাজে নির্দিষ্ট তাসবিহ বারবার পাঠ করা হয়, সেটিই সালাতুত তাসবিহ নামে পরিচিত। এই নামাজে মোট ৩০০ বার একটি বিশেষ তাসবিহ পড়তে হয়, যা একে অন্যসব নফল নামাজ থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

    ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতের জন্য এ নামাজকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তাঁর চাচা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে এ নামাজ শিক্ষা দিয়ে বলেন—সম্ভব হলে প্রতিদিন, না পারলে সপ্তাহে, তাও না হলে মাসে বা বছরে অন্তত একবার, আর তাও না হলে জীবনে অন্তত একবার হলেও এই নামাজ আদায় করতে।

    নফল নামাজ বাধ্যতামূলক না হলেও এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। নফল ইবাদত মানুষের গুনাহ মোচন করে, মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। এছাড়া ফরজ ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা পূরণেও নফল নামাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সালাতুত তাসবিহ নামাজের পদ্ধতি:
    এই নামাজ ৪ রাকাত। সাধারণ নিয়তের মাধ্যমে নামাজ শুরু করতে হয়। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর অন্য একটি সুরা পড়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট তাসবিহ ৭৫ বার করে পড়তে হয়। এভাবে চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবিহ সম্পন্ন হয়।

    তাসবিহটি হলো:
    “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি, ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।”

    নামাজের বিভিন্ন অবস্থানে (কিয়াম, রুকু, সিজদা ও বসার সময়) নির্দিষ্ট সংখ্যায় এই তাসবিহ পাঠ করতে হয়। কোনো অংশে ভুলে গেলে পরবর্তী রুকনে তা পূরণ করা যায়।

    ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, আন্তরিকতার সঙ্গে এই নামাজ আদায় করলে আল্লাহ অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করেন। বিশেষ করে জুমার রাতে এই নামাজের পর দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে।

    মুসলমানদের জন্য এটি একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল, যা জীবনে অন্তত একবার হলেও আদায় করার প্রতি জোর দিয়েছেন নবীজি।

  • শবে কদর পাওয়ার আশায় ইতিকাফে কীভাবে ইবাদত করবেন? জানুন গুরুত্বপূর্ণ আমলের নির্দেশনা

    শবে কদর পাওয়ার আশায় ইতিকাফে কীভাবে ইবাদত করবেন? জানুন গুরুত্বপূর্ণ আমলের নির্দেশনা

    এবিএনএ: রমজান মাসের শেষ দশকে ইতিকাফ পালন ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি কেবল মসজিদে অবস্থান করা নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং শবে কদরের ফজিলত অর্জনের একটি বিশেষ সুযোগ।

    ইতিকাফে থাকা অবস্থায় একজন মুসলমান তার সময়কে যত বেশি ইবাদতে ব্যয় করতে পারেন, ততই তিনি আধ্যাত্মিকভাবে উপকৃত হন। বিশেষ করে শবে কদরের সন্ধানে এই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান।

    সময়কে গুরুত্ব দিন

    ইতিকাফে বসে অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তারাবির নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টিকে ইবাদতের জন্য কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। আলস্য বা ক্লান্তিকে দূরে রেখে আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।

    কোরআন তিলাওয়াত ও অর্থ অনুধাবন

    ইতিকাফের সময় বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা উত্তম। শুধু পড়া নয়, কোরআনের অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করলে তা হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং মন খুলে দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রয়োজনীয় বিরতি ও পানি পান

    দীর্ঘ সময় ইবাদত করতে গিয়ে অনেক সময় শরীরে ক্লান্তি আসে। তাই মাঝে মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।

    নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ

    ইতিকাফের সময় বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে রাতের শেষভাগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। কারণ এই সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিশেষ সুযোগ রয়েছে এবং দোয়া কবুলের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।

    দান-সদকার গুরুত্ব

    ইতিকাফে থাকলে বাইরে গিয়ে দান করা সম্ভব হয় না। তাই আগে থেকেই দান-সদকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে অথবা পরিবারের সদস্য বা পরিচিত কারও মাধ্যমে দরিদ্রদের সাহায্য করা যেতে পারে।

    ধৈর্য ও উত্তম আচরণ

    ইতিকাফের সময় বিনয়ী ও নম্র আচরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগ বা বিরক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা ইবাদতের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

    শবে কদরের বিশেষ দোয়া

    হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন— যদি তিনি কদরের রাত পান, তাহলে কী দোয়া পড়বেন? উত্তরে নবীজি (সা.) একটি বিশেষ দোয়া শিক্ষা দেন।

    আরবি উচ্চারণ:
    আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।

    অর্থ:
    হে আল্লাহ! আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

    এই দোয়াটি শবে কদরের রাতে বেশি বেশি পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামী বিদ্বানরা।

  • জাকাত কি শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে আদায় করা যায়? ইসলাম কী বলে জানুন বিস্তারিত

    জাকাত কি শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে আদায় করা যায়? ইসলাম কী বলে জানুন বিস্তারিত

    এবিএনএ: ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত হলো জাকাত। এটি কেবল আর্থিক দান নয়; বরং মানুষের সম্পদকে পবিত্র করা এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। জাকাতের মাধ্যমে সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয়, মানুষের আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং সম্পদে বরকত আসে।

    পবিত্র কোরআনে নামাজের মতো জাকাতের ওপরও ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে কোরআনে প্রায় ৮২ বার জাকাতের নির্দেশ এসেছে। এর মধ্যে ‘জাকাত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ৩০ বার, ‘ইনফাক’ ৪৩ বার এবং ‘সদকা’ শব্দটি এসেছে ৯ বার।

    ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের একটি অংশ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরআনে নির্ধারিত আট শ্রেণির মানুষের মধ্যে দান করে তাদের মালিক বানিয়ে দেওয়াকে জাকাত বলা হয়।

    কোরআনের সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জাকাত মূলত ফকির, মিসকিন, জাকাত সংগ্রহকারীরা, যাদের হৃদয় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস মুক্তির কাজে, ঋণগ্রস্তদের সহায়তায়, আল্লাহর পথে এবং পথিকদের জন্য নির্ধারিত।

    তবে আমাদের সমাজে জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন চিত্র প্রায়ই দেখা যায়। অনেক জায়গায় জাকাতের নামে শাড়ি বা লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। অনেক দোকানেও বিশেষভাবে ‘জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি’ নামে কম মানের পোশাক বিক্রি হতে দেখা যায়।

    এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত প্রদান করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে জাকাত আদায় হয়ে যেতে পারে। তবে এতে জাকাতের মূল উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয় না।

    ইসলামের মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষকে এমনভাবে সহায়তা করা যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। ইসলামের স্বর্ণযুগে জাকাত এমনভাবে বণ্টন করা হতো যে একজন দরিদ্র ব্যক্তি একবার সহায়তা পেলে পরবর্তী সময়ে নিজেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেন।

    কিন্তু কেবল নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি লোক দেখানো বা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা হলে তা রিয়া হিসেবে গণ্য হয়, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    তাই ইসলামী শিক্ষার আলোকে জাকাত এমনভাবে প্রদান করা উচিত, যাতে দরিদ্র মানুষের প্রকৃত কল্যাণ হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে আসে।

  • শবে কদরের নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? জেনে নিন ইবাদতের সঠিক নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

    শবে কদরের নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? জেনে নিন ইবাদতের সঠিক নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ দোয়া

    এবিএনএ: শবে কদর ইসলামের দৃষ্টিতে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। ‘শব’ শব্দটি ফারসি, যার অর্থ রাত; আর ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা, সম্মান বা মহিমা। আরবি ভাষায় এই রাতকে বলা হয় লাইলাতুল কদর—অর্থাৎ মর্যাদাপূর্ণ রাত। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী এই রাতে মানুষের ভাগ্য নির্ধারণসহ গুরুত্বপূর্ণ ফয়সালা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়।

    রমজান মাসে এই রাতের গুরুত্ব এত বেশি যে কোরআনে এটিকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। তবে কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি, রমজানের কোন রাতটি শবে কদর। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান করতে বলেছেন।

    এই পবিত্র রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিভিন্ন ইবাদতে মগ্ন থাকেন। নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আযকার, দোয়া, ইস্তিগফার এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা—এসব ইবাদতের মাধ্যমে রাতটি কাটানো হয়।

    শবে কদরের নামাজের নিয়ত

    নফল নামাজের নিয়ত আরবিতে বলা বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনেকেই আরবিতে নিয়ত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একটি প্রচলিত নিয়ত হলো—

    নিয়ত:
    নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তাআ’লা রাকআ’তাই সালাতি লাইলাতিল কদর নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শরীফাতি আল্লাহু আকবার।

    অর্থ:
    আমি কাবামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।

    শবে কদরের নামাজ পড়ার নিয়ম

    লাইলাতুল কদরের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট নামাজের পদ্ধতি হাদিসে বর্ণিত নেই। সাধারণভাবে দুই রাকাত করে নফল নামাজ যত বেশি সম্ভব আদায় করা উত্তম। মুসল্লিরা দুই রাকাত করে ধারাবাহিকভাবে একাধিক নফল নামাজ পড়তে পারেন।

    এই রাতে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা, তওবা করা, ইস্তিগফার পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু সূরা পড়ার প্রচলন থাকলেও এর নির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। তবে চাইলে সূরা কদর ও সূরা ইখলাস বেশি বেশি তেলাওয়াত করা যেতে পারে।

    শবে কদরের বিশেষ দোয়া

    হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রমজানের শেষ দশকের যেকোনো বেজোড় রাতেই শবে কদর হতে পারে। তাই প্রতিটি বেজোড় রাতে বেশি বেশি ইবাদত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—যদি তিনি লাইলাতুল কদর পান, তাহলে কোন দোয়া করবেন? উত্তরে নবী করিম (সা.) একটি দোয়া শিখিয়ে দেন।

    দোয়া:
    اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

    অর্থ:
    হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল ও মহানুভব। আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি: ৩৫১৩)

  • আজান না হলে কি ইফতার থামিয়ে রাখতে হবে? রোজাদারদের বহুল জিজ্ঞাসার স্পষ্ট উত্তর

    আজান না হলে কি ইফতার থামিয়ে রাখতে হবে? রোজাদারদের বহুল জিজ্ঞাসার স্পষ্ট উত্তর

    এবিএনএ: রমজান মাসে ইফতার রোজাদারদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোজা ভাঙার অনুমতি রয়েছে। তবে অনেক এলাকায় আজান দিতে দেরি হলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়—তখন কি আজান শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে?

    ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইফতার শুরুর মূল নির্ধারক হলো সূর্যাস্ত। হাদিসে এসেছে—দিনের আলো শেষ হয়ে সূর্য ডুবে গেলে রোজাদার ইফতার করবে। অর্থাৎ, আজান নিজেই ইফতারের শর্ত নয়; আজান হলো সময় জানানোর মাধ্যম। বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ আজানের ওপর নির্ভর করে সময় বোঝেন বলে আজান শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করাকে উত্তম আমল ধরা হয়।

    আজান দেরি হলে করণীয় কী?
    অনেক সময় মসজিদের সময়সূচি বা কারিগরি সমস্যায় আজান কয়েক মিনিট দেরিতে হতে পারে। এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে আলেমরা কয়েকটি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন—

    1. বিশ্বস্ত সময়সূচি দেখে ইফতার করা যাবে:
      নামাজের অনুমোদিত সময়সূচি বা নির্ভরযোগ্য ক্যালেন্ডারে যদি সূর্যাস্তের সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আজান না হলেও ইফতার করা জায়েজ। সূর্যাস্ত নিশ্চিত হওয়াই এখানে মূল বিষয়।

    2. অযথা সন্দেহ এড়িয়ে চলুন:
      ইসলামে অহেতুক সন্দেহে পড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সূর্যাস্ত নিশ্চিত হলে ইফতার করতে পারেন। তবে সময় নিয়ে যদি সংশয় থাকে, তাহলে আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করাই নিরাপদ ও উত্তম পথ।

    সংক্ষেপে, ইফতারের অনুমতি সূর্যাস্তের সঙ্গে যুক্ত—আজান সময় জানানোর মাধ্যম মাত্র। নিশ্চিত হলে দেরি না করে ইফতার করা সুন্নতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  • ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    এবিএনএ: ভূমিকম্প মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি জাগায়। আধুনিক বিজ্ঞানে একে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভূত্বকের ফল্ট বরাবর চাপ জমে হঠাৎ সরে গেলে কম্পন-তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের জন্য ভূমি কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলকে হাইপোসেন্টার বলা হয়, আর এর ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের অংশকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম ভূমিকম্পকে কেবল একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেই থামে না; বরং একে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করে। কুরআনে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতার কারণে শাস্তি হিসেবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ আছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে, এসব নিদর্শনের উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমালোচনায় ফিরিয়ে আনা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা।

    ইসলামের ব্যাখ্যায় ভূমিকম্প আল্লাহর শক্তির প্রকাশ—তিনি চাইলে ওপর থেকেও, নিচ থেকেও আজাব পাঠাতে সক্ষম। কেয়ামতের দিন পৃথিবীর ভয়াবহ কম্পনের কথাও কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, যা মানুষকে শেষ বিচারের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিপর্যয়কে মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে উল্লেখ করে আত্মশুদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    হাদিসে এসেছে, সমাজে অন্যায়, অবক্ষয় ও নৈতিক অবনতি বাড়লে ফিতনা, যুদ্ধ ও ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয় বৃদ্ধি পায়। আবার মুমিনদের জন্য এসব বিপদ পরীক্ষাস্বরূপ—ধৈর্য ধরলে পাপ মোচন হয় এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান লাভের আশা করা যায়। কিছু হাদিসে ভূমিকম্পে নিহতদের শহীদি মর্যাদার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    করণীয় কী?
    বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে আত্মসমালোচনা করা জরুরি। তাওবা-ইস্তেগফার বৃদ্ধি, দান–সদকা বাড়ানো, মানুষের হক আদায়, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা এবং গোনাহ থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিয়েছেন আলেমরা। পাশাপাশি বাস্তব জীবনে দুর্যোগ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা মেনে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • রমজানের রোজা কীভাবে ফরজ হলো? আদম (আ.) থেকে আজ পর্যন্ত রোজার ইতিহাস জানুন এক নজরে

    রমজানের রোজা কীভাবে ফরজ হলো? আদম (আ.) থেকে আজ পর্যন্ত রোজার ইতিহাস জানুন এক নজরে

    এবিএনএ: রমজানের রোজা প্রত্যেক সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। ‘রোজা’ শব্দটি ফারসি থেকে আগত; আরবি পরিভাষায় একে ‘সাওম’ বা ‘সিয়াম’ বলা হয়—অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার, পানীয় ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা। ইসলামের বিধান হিসেবে রোজা ফরজ হয় হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে।

    ইমাম ইমাম নববী বর্ণনা করেছেন, নবীজি হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রোজার ফরজ বিধান নাজিল হওয়ার পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত রমজানের রোজা আদায় করেন। কোরআনের আয়াতে পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও রোজা ফরজ থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারা-এর ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আগের জাতিগোষ্ঠীর মতোই মুমিনদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে—যাতে তাকওয়া অর্জিত হয়। আল্লামা আলুসি তাঁর তাফসিরে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আদম (আ.) থেকে ঈসা (আ.) পর্যন্ত নবীদের যুগে রোজার প্রচলনের কথা উল্লেখ করেন।

    নবীদের যুগে রোজার ধারাবাহিকতা

    • আদম (আ.)-এর যুগে প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজার প্রচলন ছিল।

    • নুহ (আ.)-এর সময় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছাড়া প্রায় সারা বছর রোজা রাখার বর্ণনা পাওয়া যায়।

    • মুসা (আ.)-এর উম্মতের মধ্যে আশুরার রোজা গুরুত্বপূর্ণ ছিল; পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরা নফল হিসেবে থাকে।

    • দাউদ (আ.) এক দিন পর পর রোজা রাখতেন—এ রোজাকে নবীজি সবচেয়ে প্রিয় আমলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    • ঈসা (আ.)-এর উম্মতের মধ্যেও রোজার চর্চা ছিল; তিনি নির্জনে দীর্ঘ সময় রোজা পালন করেছেন বলে বর্ণনা আছে।

    ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে রোজা
    ইসলাম আগমনের আগেও কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করত। মদিনায় আগমনের পর নবীজি আশুরার রোজা আদায়ের নির্দেশ দেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরা নফল হিসেবে অব্যাহত থাকে।

    রোজার নিয়ত ও মাসায়ালা (সংক্ষেপে)

    • নিয়ত করা ফরজ; অন্তরের সংকল্পই যথেষ্ট—আরবিতে উচ্চারণ জরুরি নয়। সাহরি খাওয়াও নিয়তের অন্তর্ভুক্ত হয়।

    • পুরো রমজানের জন্য একবারে নিয়ত যথেষ্ট নয়; প্রতিদিনের রোজার জন্য সেদিন নিয়ত করতে হবে।

    রমজানের রোজা আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে ফরজ হওয়া এই ইবাদত আজও কোটি কোটি মুসলমানের জীবনে শৃঙ্খলা ও তাকওয়ার অনুশীলন গড়ে তুলছে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে যথাযথভাবে রোজা পালনের তাওফিক দিন—আমিন।

  • বাংলাদেশের আকাশে রমজানের চাঁদ—কাল থেকে শুরু পবিত্র সিয়াম সাধনা, তারাবিতে মুখর মসজিদ

    বাংলাদেশের আকাশে রমজানের চাঁদ—কাল থেকে শুরু পবিত্র সিয়াম সাধনা, তারাবিতে মুখর মসজিদ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরির পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে দেশে রোজা শুরু হচ্ছে। আজ এশার নামাজের পর মসজিদগুলোতে তারাবির নামাজ আদায় করবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ভোররাতে সেহরি গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি।

    বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখার তথ্য যাচাই শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশজুড়ে মসজিদে মসজিদে ধর্মীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মুসল্লিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে তারাবিতে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    রমজান মাস মুসলমানদের কাছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা বহন করে। এ মাসে আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আল্লাহভীতির অনুশীলনের বিশেষ সুযোগ থাকে। পবিত্র কোরআনে রোজার বিধানকে ফরজ হিসেবে ঘোষণা করে মুমিনদের তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রমজানের প্রধান ইবাদত রোজা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য সম্পর্কসহ সব নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করা হয়। এ মাসে দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদতে মনোযোগ বাড়াতে ধর্মীয় নেতারা আহ্বান জানিয়েছেন।

    রমজানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ ও অতিরিক্ত ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের কোনো এক বেজোড় রাতে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর। হাদিসে বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী শেষ দশকের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতকে গুরুত্ব দিয়ে বেশি বেশি ইবাদত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।