Category: ধর্ম

  • রমজান আসার আগে নবীজির যে ৫ প্রস্তুতি বদলে দিতে পারে আপনার পুরো ইবাদত

    রমজান আসার আগে নবীজির যে ৫ প্রস্তুতি বদলে দিতে পারে আপনার পুরো ইবাদত

    এবিএনএ: রমজান শুধু একটি মাস নয়—এটি ইবাদতের বসন্তকাল। আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ এনে দেয় এই পবিত্র মাস। আর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন প্রস্তুতি ছাড়া সফল হয় না, তেমনি রমজানের ইবাদতও পরিকল্পিত প্রস্তুতি দাবি করে। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে যেমন রমজানের আগাম প্রস্তুতি নিতেন, তেমনি উম্মতকেও প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দিতেন।

    নবীজির (স.) জীবনাদর্শ থেকে জানা যায়, রমজানের জন্য তিনি কয়েকটি বিশেষ প্রস্তুতিমূলক আমল গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতেন—

    ১. রমজান প্রাপ্তির জন্য দোয়া করা
    রাসুলুল্লাহ (স.) আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক চাইতেন। তিনি রজব মাস শুরু হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন শাবান ও রজব বরকতময় হয় এবং রমজান লাভ করা যায়। পূর্ববর্তী আলেমরাও দীর্ঘ সময় ধরে রমজান পাওয়ার জন্য দোয়া করতেন।

    ২. রমজানের আগমন গণনায় রাখা
    শাবান মাসের দিন-তারিখ সম্পর্কে বিশেষ সচেতন থাকা নবীজির (স.) একটি সুন্নত। তিনি এই মাসের হিসাব অন্য মাসগুলোর তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন, যেন রমজান সঠিকভাবে শুরু করা যায়।

    ৩. শাবানে বেশি রোজা রাখা
    রমজানের আগে আত্মসংযমের অনুশীলন হিসেবে রাসুলুল্লাহ (স.) শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, এই মাসে মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়—আর তিনি চাইতেন রোজা অবস্থায় তাঁর আমল পেশ হোক।

    ৪. মানুষকে রমজানের ফজিলত স্মরণ করানো
    রাসুল (স.) সাহাবিদের রমজানের মর্যাদা ও বরকতের কথা জানাতেন। তিনি বলতেন, এ মাসে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম—যা মুমিনদের ইবাদতে উৎসাহিত করত।

    ৫. রমজানের বিধান জানা ও আগমনে আনন্দ প্রকাশ
    রমজানের ফরজ, সুন্নত ও বিধান জানা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। নবীজির (স.) নির্দেশনা অনুযায়ী আলেমরা এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেন। একই সঙ্গে রমজানের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করাকে কোরআনেও উৎসাহিত করা হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ (স.) নিজেও রমজানের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করে সাহাবিদের জানাতেন—রমজান তাদের দুয়ারে উপস্থিত। নবীজির (স.) এই সুন্নতগুলো অনুসরণ করলে রমজান হয়ে উঠবে আরও অর্থবহ ও সফল।

  • ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    এবিএনএ: বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ব্যতিক্রমী ধর্মীয় বছর। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে মুসলিমরা দুইবার হজ পালন করবেন এবং উদযাপন করবেন তিনটি ঈদ। এমন ঘটনা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই বছরে দুটি ঈদুল আজহা এবং একটি ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের খ্যাতিমান জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, এই ব্যতিক্রমী মিল ঘটছে হিজরি চন্দ্রবর্ষ ও সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সময়গত পার্থক্যের কারণে।

    হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজে প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে, যা হজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির দিন।

    এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রায় পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবারও ১০ জিলহজে পৌঁছাবে। ফলে ১৪৬১ হিজরির ঈদুল আজহা ওই দিন পালিত হবে এবং একই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো হজ অনুষ্ঠিত হবে।

    এই দুই ঈদুল আজহার আগে দুটি পৃথক আরাফার দিনও পালিত হবে, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। আরাফার দিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে বিশেষ ইবাদতে অংশ নেন।

    এই দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই বছর মুসলমানরা রমজান, রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ—সব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের সাক্ষী হবেন।

    🔹 এক বছরে দুইবার রমজানও আসছে

    চন্দ্রবর্ষের এই অগ্রগতির প্রভাব শুধু হজ বা ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে মুসলমানরা দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করবেন—একবার জানুয়ারিতে এবং আবার ডিসেম্বর মাসে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের, আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক হওয়ায় এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী ধর্মীয় সমাপতন ঘটে।

    ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক—উভয় দিক থেকেই এই ঘটনাগুলো মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে করছেন গবেষকরা।

  • ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    এবিএনএ: ভূমিকম্পকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর মতে, যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচার, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। ভূমিকম্প তারই অন্যতম একটি নিদর্শন।

    তিনি বলেন, কোরআনে অতীতের বহু জাতির ধ্বংসের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা নবীদের অস্বীকার করেছে, দ্বীনের বিরোধিতা করেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। সালেহ (আ.)-এর উম্মত যখন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন উটনিকে হত্যা করেছিল, তখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। একইভাবে লুত (আ.)-এর উম্মত সমকামিতার মতো নোংরা পাপাচারে লিপ্ত থাকায় আল্লাহ তাদের জনপদ উল্টে দেন এবং পাথর বর্ষণ করেন।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে পাপাচারের কারণে অতীতের জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের আচরণ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। সমকামিতার মতো জঘন্য অপরাধ শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধানের বিরোধী নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতেও শাস্তিযোগ্য। অথচ আজ সেটিকে “অধিকার” বলে বৈধ করার দাবি উঠছে।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দেন, সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে গণহারে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি ডেকে আনে এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

    ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুটি প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি—আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রস্তুতি। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে তওবা করা, পাপ থেকে বিরত থাকা, ইমান মজবুত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা।

    অন্যদিকে, অতি জনঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তাহলে এক লাখেরও বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। অথচ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এখনো খুবই সীমিত।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র যদি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, শোভাযাত্রা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীর পেছনে ব্যয় করা অর্থের সামান্য অংশও ভূমিকম্প প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করত, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”

    শেষে তিনি সবাইকে সতর্ক হয়ে ইমানি জীবনযাপন, তওবা ও সামাজিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “কোনো পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি আমাদের রক্ষা করতে পারবে না, যদি আল্লাহর রহমত না থাকে। ভূমিকম্প আমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।”

  • আগামী ২৫ বছর গরমকাল নয়, ঠান্ডা আবহাওয়ায় পালিত হবে হজ — সৌদি আরবের নতুন পঞ্জিকা প্রকাশ

    আগামী ২৫ বছর গরমকাল নয়, ঠান্ডা আবহাওয়ায় পালিত হবে হজ — সৌদি আরবের নতুন পঞ্জিকা প্রকাশ

    এবিএনএ:

    আগামী ২৫ বছর গরমে নয়, তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ায় পবিত্র হজ পালিত হবে—এমনটাই জানাল সৌদি আরবের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিটিওরলজি। চন্দ্র পঞ্জিকা অনুসারে তৈরি করা নতুন সময়সূচিতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সাল থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত হজ পড়বে মূলত বসন্ত, শীত ও শরৎকালীন সময়ে।

    সৌদি আবহাওয়া দফতরের মুখপাত্র হুসেইন আল কাহতানি বলেন, “এই বছরই শেষবারের মতো গ্রীষ্মকালে হজ হচ্ছে। এরপর থেকে আগামী আট বছর হজ পড়বে বসন্তকালে, পরবর্তী আট বছর শীতে এবং তারপর আট বছর শরতে। ২০৫০ সালে আবার গরমকালে ফিরবে হজের সময়।”

    চন্দ্রবর্ষ এবং গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির ১১ দিনের ব্যবধানের কারণে হজের সময় প্রতিবছর কিছুটা এগিয়ে আসে। এই হিসেবেই পরবর্তী ২৫ বছরের হজ পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    আগামী ২৫ বছরের হজ সময়সূচি:

    • ২০২৬–২০৩৩: বসন্তকাল (মার্চ-মে)

    • ২০৩৪–২০৪১: শীতকাল (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি)

    • ২০৪২–২০৪৯: শরৎকাল (সেপ্টেম্বর-নভেম্বর)

    • ২০৫০: গ্রীষ্মকাল (জুন-আগস্ট)

    এই পরিবর্তনের ফলে হজ পালনকারীরা গরমের ভয়াবহ তাপদাহ থেকে রক্ষা পাবেন। বিশেষ করে প্রবীণ ও অসুস্থ হাজিদের জন্য শীতল আবহাওয়ায় হজ পালনের সুযোগ অনেক স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তাছাড়া ঠান্ডা মৌসুমে হজ পালনের ফলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক সুবিধাও আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সৌদি সরকার জানিয়েছে, এই পঞ্জিকা হাজিদের পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়তা করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হজ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।


    সর্বশেষ হজ আপডেট, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিষয় এবং সময়সূচির খবর পেতে চোখ রাখুন আমাদের পোর্টালে।

  • ৭ জুন বাংলাদেশে ঈদুল আজহা, দেশের আকাশে দেখা গেছে জিলহজের চাঁদ

    ৭ জুন বাংলাদেশে ঈদুল আজহা, দেশের আকাশে দেখা গেছে জিলহজের চাঁদ

    এবিএনএ, ঢাকা:

    বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এরই মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে, আগামী ৭ জুন শনিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে।

    আজ বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসেন।

    সভায় জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া তথ্য এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৬ সনের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

    ফলে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ মে) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হবে এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে ১০ জিলহজ, অর্থাৎ ৭ জুন শনিবার।

    উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা মুসলিম বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব, যা ত্যাগের আদর্শে উদ্ভাসিত। এই দিনে মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন।

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানায়।


  • সৌদিতে ৬ জুন ঈদুল আজহার সম্ভাবনা, ৫ জুন আরাফার দিন

    সৌদিতে ৬ জুন ঈদুল আজহার সম্ভাবনা, ৫ জুন আরাফার দিন

    এবিএনএ:  জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী, এ বছর সৌদি আরবে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে আগামী ৬ জুন। আর তার আগের দিন ৫ জুন অনুষ্ঠিত হতে পারে আরাফার দিন।

    মধ্যপ্রাচ্যের জ্যোতির্বিদদের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে সৌদি ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া। তবে এই তারিখ আনুষ্ঠানিক নয়।

    ঈদের চূড়ান্ত দিন নির্ধারণে ইসলামিক দেশগুলোর চাঁদ দেখা কমিটি জিলকদ মাসের ২৯তম দিনে বৈঠকে বসবে। ওই দিন সন্ধ্যায় পূর্বাকাশে জিলহজ মাসের চাঁদের খোঁজ করা হবে।

    সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটিও একই দিন চাঁদ অনুসন্ধান করবে। চাঁদ দেখা গেলে পরদিন জিলহজ মাস শুরু হবে। এই মাসের দশম দিনে মুসলিমরা পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদুল আজহা পালন করেন।

    উল্লেখ্য, ঈদুল আজহা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। হজ পালনকারীদের জন্য আরাফার দিন এবং কোরবানির ঈদের গুরুত্ব অপরিসীম।

    সূত্র: আল আরাবিয়া

  • পবিত্র মক্কায় প্রবেশের আদবসমূহ

    পবিত্র মক্কায় প্রবেশের আদবসমূহ

    এবিএনএ: আসন্ন হজ উপলক্ষে লাখো মুসল্লির মক্কায় আগমন নিঃসন্দেহে এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে। পবিত্র এই নগরীতে প্রবেশের আদব বা শিষ্টাচার পালনের মাধ্যমে এই সফর আরও পবিত্র ও অর্থবহ হয়ে ওঠে। আপনি যেভাবে পয়েন্ট আকারে আলেমদের পরামর্শ ও হজবিষয়ক শিষ্টাচার তুলে ধরেছেন, তা অত্যন্ত উপকারী। নিচে সংক্ষেপে মক্কায় প্রবেশের আদবসমূহ-এর সারাংশ ও তাৎপর্য তুলে ধরা হলো:


    🕋 মক্কায় প্রবেশের শিষ্টাচার (আদবসমূহ)

    ১. হুদাইবিয়ায় (শুমাইসি) নামাজ আদায়:

    • মক্কার সীমান্তে প্রবেশের আগে, বিশেষ করে হুদাইবিয়ায় পৌঁছে (বর্তমানে শুমাইসি) দুটি রাকাত নফল নামাজ পড়া মুস্তাহাব।

    ২. তাওবা, ইস্তেগফার ও তালবিয়া পাঠ:

    • এই পবিত্র সফরের সময় বেশি করে তাওবা (পশ্চাৎপসরণ), ইস্তেগফার (ক্ষমা প্রার্থনা), দরুদ ও তালবিয়া পাঠ করা উচিত।

    ৩. জান্নাতুল মুআল্লার দিক থেকে প্রবেশ:

    • মসজিদুল হারামের উত্তর দিক তথা জান্নাতুল মুআল্লার দিক দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য।

    ৪. গোসল করে প্রস্তুত হওয়া:

    • মক্কায় প্রবেশের আগে গোসল করা মুস্তাহাব। যেহেতু গাড়ি চলাচলের কারণে অনেক সময় রাস্তায় গোসল সম্ভব হয় না, তাই রওনার আগেই গোসল করে নেওয়া উত্তম।

    ৫. বাবুস সালাম (২৪ নম্বর গেট) দিয়ে প্রবেশ:

    • কাবা শরিফ দর্শনের সময় ২৪ নম্বর গেট “বাবুস সালাম” দিয়ে প্রবেশ করা মুস্তাহাব, কারণ এটি কাবা শরিফের দিকে মুখোমুখি হয়।

    ৬. তালবিয়া পাঠ ও বিনয়:

    • কাবার দিকে প্রবেশের সময় তালবিয়া পাঠ করতে করতে বিনয়ের সঙ্গে, দুনিয়াবি গর্ব ভুলে আত্মসমর্পণের চেতনায় প্রবেশ করা উচিত।

    ৭. মসজিদে প্রবেশের সুন্নত অনুসরণ:

    • ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা।

    • বিসমিল্লাহ’ বলা, দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং দোয়া করা:

      আল্লাহুম্মাফতাহ্‌লি আবওয়াবা রাহমাতিক।
      অর্থ: “হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাগুলো খুলে দিন।”


    📌 উপসংহার:

    পবিত্র মক্কায় প্রবেশ শুধু একটি ভ্রমণ নয়; এটি আল্লাহর ঘরে আগমন। তাই তা হওয়া উচিত পরিপূর্ণ ইখলাস, বিনয়, পরিশুদ্ধ অন্তর ও আদবের সঙ্গে। এই আদবগুলো স্মরণ রাখা এবং অনুসরণ করাই একজন মুত্তাকীর পরিচয়।

  • মহিমান্বিত কদরের রাতে ইবাদত ও প্রার্থনা

    মহিমান্বিত কদরের রাতে ইবাদত ও প্রার্থনা

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান মাস ও তার শেষ দশকের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কদরের রাত। হাদিসের ভাষ্য অনুসারে রমজানের শেষ দশকের যে কোনো বেজোড় রাতই কদরের রাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদিও বহু সংখ্যক আলেম ২৭ রমজানের রাতকে কদরের রাত বলে অভিমত দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের ভাষায় কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। মহান আল্লাহ কদরের রাতকে ‘বরকতময়’ বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটা অবতীর্ণ করেছি এক মোবারক রাতে। আমি সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত : ৩-৪)

    আল্লাহ ‘কদর’ নামে একটি পূর্ণ সুরা অবতীর্ণ করেছেন। যাতে তিনি এই রাতের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রাতে। আর মহিমান্বিত রাত সম্পর্কে তুমি কি জানো? মহিমান্বিত রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশরা ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সেই রাত ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সুরা কদর, আয়াত : ১-৫)

    আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, কদরের এক রাতের ইবাদত কম-বেশি প্রায় ৮৩ বছর ইবাদত করার সমান। তাই মহিমান্বিত এই রাতের অনুসন্ধান করা আবশ্যক। সুরা দুখানের আয়াত থেকে ইঙ্গিত মেলে কদরের রাতে আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে পুরো বছরের ভাগ্যলিপি হস্তান্তর করেন। সুতরাং অনাগত দিনগুলো যেন সুন্দর হয় কদরের রাতে সেটাও করা প্রয়োজন। একাধিক হাদিসে মহানবী (সা.) কদরের রাতে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও দোয়া করতে উৎসাহিত করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশায় কদরের রাতে জাগ্রত থাকবে (ইবাদত করবে) তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৭৬৮)

    আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এই যে মাস (রমজান) তোমরা লাভ করেছ তাতে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে ব্যক্তি তার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো সে যাবতীয় কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো। আর হতভাগ্য ব্যক্তিই কেবল তার কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৩৪)

    কদরের রাত কেমন হবে তার একটি ইঙ্গিতও হাদিসে রয়েছে। তা হলো মেঘ ও বৃষ্টি থাকা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) রমজান মাসের মাঝের দশকে ইতিকাফ করেন। ২০ তারিখ অতীত হওয়ার সন্ধ্যায় এবং ২১ তারিখের শুরুতে তিনি ও তাঁর সঙ্গে যাঁরা ইতিকাফ করেছিলেন সবাই নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেলেন। সে রাতে তিনি ভাষণ দেন। তাতে বহু নির্দেশ দান করেন। অতঃপর বলেন যে, আমি এই দশকে ইতিকাফ করেছিলাম। এরপর আমি সিদ্ধান্ত করেছি যে, শেষ দশকে ইতিকাফ করব। যে আমার সঙ্গে ইতিকাফ করেছিল সে যেন তার ইতিকাফস্থলে থেকে যায়। আমাকে সে রাত দেখান হয়েছিল, পরে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তোমরা শেষ দশকে ঐ রাতের তালাশ করো এবং প্রত্যেক বেজোড় রাতে তা তালাশ করো। আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, সে রাতে আমি কাদা-পানিতে সিজদা করছি। সে রাতে আকাশে প্রচুর মেঘের সঞ্চার হয় এবং বৃষ্টি হয়। মসজিদে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নামাজের স্থানেও বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। এটা ছিল ২১ তারিখের রাত। যখন তিনি ফজরের নামাজ শেষে ফিরে বসেন তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই যে, তাঁর মুখমণ্ডল কাদা-পানি মাখা। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৮)

    কদরের রাতের বিশেষ ইবাদত হলো নামাজ আদায় করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। আম্মাজান আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি জানতে পারি লায়লাতুল কদর কোনটি তাহলে আমি সে রাতে কি বলব? তিনি বলেন, তুমি বলো, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন কারিমুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি। অর্থ : হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল দয়ালু, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)

    বুজুর্গ আলেমরা বলেন, মহিমান্বিত এই রাতে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া সে ব্যক্তিই লাভ করবে, পরিচ্ছন্ন দেহ ও মন নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হবে। আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি বলেন, ‘‘উত্তম হলো যে রাতে ‘কদর’ অনুসন্ধান করা হবে তাতে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, গোসল-সুগন্ধি-উত্তম কাপড়েরর মাধ্যমে সৌন্দর্য বর্ধন করা। আর বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য যথষ্টে নয়, যদি না মানুষের ভেতরটা সুন্দর হয়। মানুষের ভেতর সুন্দর হয় তাওবা ও আল্লাহমুখী হওয়ার মাধ্যমে।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা ১৮৯)

    যেহেতু কদরের রাত কবে হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষিত হয়নি, তাই মুমিনের উচিত রমজানের শেষ দশকের প্রত্যেক বেজোর রাতে কদর অনুসন্ধান করা। ঠিক যেমনটি মহানবী (সা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৭)

    হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কদরের রাতের যাবতীয় কল্যাণ দান করুন। আমিন। লেখক : মুহাদ্দিস, সাঈদিয়া উম্মেহানী মহিলা মাদরাসা, ভাটারা, ঢাকা।

  • কবে হতে পারে ঈদুল আজহা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

    কবে হতে পারে ঈদুল আজহা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

    এবিএনএ: মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। কবে ঈদ হতে পারে তা নিয়ে মানুষের আগ্রহের কমতি থাকে না। এর মধ্যে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার ১৭ জুন ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

    জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ তারিখ জানায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। তবে এর আগে চাঁদের স্থানাঙ্ক জানালো বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    সরকারি সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে দেশে আগামী ১৭ জুন ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

    আবহাওয়াবিদ নাইমা বাতেন স্বাক্ষরিত জিলহজ মাসের চাঁদের স্থানাঙ্ক বিবরণীতে বলা হয়েছে, আগামী ৬ জুন (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ মান সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে অমাবস্যা শেষ হয়ে ১৪৪৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ওই দিন ৬টা ৪৪.১ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ০.০০৪২ দিন এবং সান্ধ্যকালীন গোধূলি শেষ হওয়ার ২২ মিনিট আগে চন্দ্রাস্ত হবে।

    পরের দিন শুক্রবার (৭ জুন) ৬টা ৪৪.৫ মিনিট সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ১.০০৪৫ দিন এবং সান্ধ্যকালীন গোধূলি শেষ হওয়ার ৪১.৯ মিনিট পর চন্দ্রাস্ত হবে। ওই দিন বিকেল ৪টা ১৫.৬ মিনিটে প্রতিপদ শেষ হয়ে দ্বিতীয়া শুরু হবে।

    পরের দিনে শনিবার (৮ জুন) ৬টা ৪৪.৮ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ২.০০৪৮ দিন এবং সান্ধ্যকালীন গোধূলি শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা ৩৮.১ মিনিট পর চন্দ্রাস্ত হবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উদযাপনের তারিখ নির্ধারণে আগামী শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। সেখানে চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, চান্দ্র মাস শুরু হাওয়ার ক্ষেত্রে খালি চোখে চাঁদ দেখার শর্ত রয়েছে।

    শুক্রবার চাঁদ দেখা গেলে শনিবার (৮ জুন) জিলহজ মাস শুরু হবে। এক্ষেত্রে আগামী ১৭ জুন (১০ জিলকদ, সোমবার) দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এক্ষেত্রে জিলকদ মাস ২৯ দিনেই শেষ হবে। শুক্রবার চাঁদ দেখা না গেলে শনিবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। তখন জিলহজ মাস শুরু হবে রোববার (৯ জুন)। সেক্ষেত্রে ১৮ জুন (মঙ্গলবার) দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

  • এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫, সর্বোচ্চ ২৯৭০ টাকা

    এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫, সর্বোচ্চ ২৯৭০ টাকা

    এবিএনএ: হিজরি ১৪৪৫ সনের সাদাকাতুল ফিতরের (ফিতরা) হার নির্ধারণ করেছে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটি। এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর (২০২৩) সর্বোচ্চ ফিতরা ২ হাজার ৬৪০ টাকা, তবে সর্বনিম্ন ফিতরা ১১৫ টাকাই ছিল।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এ হার নির্ধারণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য রোজার ঈদে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। নাবালক ছেলেমেয়ের পক্ষ থেকে বাবাকে এই ফিতরা দিতে হয়। আর তা দিতে হয় ঈদুল ফিতরের নামাজের আগেই। মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের যেকোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।

    আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে তিন কেজি ৩০০ গ্রাম মাধ্যমে ফিতরা আদায় করতে হয়। এসব পণ্যের বাজারমূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজার মূল্যের ভিত্তিতে ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।