Category: তথ্য প্রযুক্তি

  • এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এআই চ্যাটে কিশোরদের আলোচনা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবক

    এবিএনএ: কিশোর ব্যবহারকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাট সহকারীর সঙ্গে কী বিষয়ে কথা বলছে—এখন তা জানার সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে নতুন নজরদারি সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। তবে এই পদক্ষেপ ঘিরে গোপনীয়তা ও ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    ‘ইনসাইটস’ ট্যাবে দেখা যাবে আলোচনার ধরন

    মেটা জানিয়েছে, তাদের টিন অ্যাকাউন্ট তদারকি ব্যবস্থায় ‘ইনসাইটস’ নামে একটি নতুন বিভাগ যুক্ত করা হচ্ছে। এখানে অভিভাবকেরা সরাসরি বার্তা না দেখে কিশোরদের এআই চ্যাটের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে ধারণা পাবেন। আলোচনাগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দেখানো হবে।

    উদাহরণ হিসেবে পড়াশোনা, বিনোদন, লেখালেখি, স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা—এ ধরনের বড় ক্যাটাগরি প্রদর্শিত হবে। অভিভাবকেরা চাইলে নির্দিষ্ট বিভাগে ক্লিক করে কিছু অতিরিক্ত তথ্য দেখতে পারবেন। তবে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কথোপকথনের টেক্সট দেখানো হবে না।

    সীমিত তথ্য, সাত দিনের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ

    মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলো সর্বশেষ সাত দিনের কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। এতে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিভাগের অধীনে শারীরিক ফিটনেস, অসুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনার সারসংক্ষেপ থাকতে পারে। এর মাধ্যমে সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাবেন অভিভাবকেরা।

    শিশু নিরাপত্তা বিতর্কের মাঝেই নতুন উদ্যোগ

    শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকায় এই ফিচার চালু করছে মেটা। সম্প্রতি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত দুটি মামলায় আইনি চাপে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগ ছিল, তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো আসক্তিমূলকভাবে ডিজাইন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    আদালতে প্রকাশিত কিছু নথিতে আরও উঠে আসে, এআইচালিত ভার্চ্যুয়াল ক্যারেক্টার কখনো অনুপযুক্ত বা যৌনধর্মী কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তে পারে—এমন ঝুঁকি সম্পর্কে মেটার নেতৃত্ব অবগত ছিল। এরপর থেকেই কিশোরদের জন্য এসব ফিচারে ধাপে ধাপে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।

    আগের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার

    গত বছরের আগস্টে কিশোরদের জন্য এআই ক্যারেক্টার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। পরে অক্টোবরে অভিভাবকদের জন্য নতুন কিছু টুল যোগ করা হয়—যেমন ব্যক্তিগত এআই চ্যাট বন্ধ করা বা নির্দিষ্ট ক্যারেক্টার ব্লক করা। চলতি বছরের শুরুতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং বর্তমানে কিশোরদের জন্য কিছু এআই ক্যারেক্টার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    সমালোচনাও রয়েছে

    তবে এই নতুন ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছেন না শিশু অধিকার কর্মীরা। তাদের মতে, অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বাড়ানোর মূল কাজ যথেষ্টভাবে হচ্ছে না। ফলে ফিচারটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

    মেটা জানিয়েছে, কিশোরদের নিরাপদ এআই ব্যবহার নিশ্চিত করতে তারা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছে এবং অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনাও তৈরি করছে।

  • রোগ শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এগিয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

    রোগ শনাক্তে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে এগিয়ে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা

    এবিএনএ: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে কাজ করছেন বাংলাদেশের তিন তরুণ গবেষক। আলোর উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যান্সার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার অভিনব পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন তারা।

    এই গবেষণায় যুক্ত আছেন বাংলাদেশের এস. এম. রাকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ রুবায়েত ইসলাম এবং মোহাম্মদ সবুজ মিয়া। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লামার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সঙ্গেও তারা কাজ করছেন।

    গবেষণার মূল ভিত্তি হলো অত্যাধুনিক অপটিক্যাল বায়োসেন্সর, যা আলোর সূক্ষ্ম পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে মানবদেহের কোষ বা রক্তে ঘটে যাওয়া ক্ষুদ্র পরিবর্তন শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জটিল রোগগুলো অনেক আগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে।

    ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবারের ব্যবহার

    গবেষণায় ব্যবহৃত হচ্ছে বিশেষ ধরনের অপটিক্যাল ফাইবার, যা ফোটোনিক ক্রিস্টাল ফাইবার নামে পরিচিত। এই ফাইবারের ভেতরে ক্ষুদ্র বায়ু ছিদ্রের জটিল গঠন থাকে, যা আলো ও জৈব উপাদানের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ফলে খুব সূক্ষ্ম পরিবর্তনও শনাক্ত করা সহজ হয়।

    এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে গবেষকরা Surface Plasmon Resonance (SPR) পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এতে ফাইবারের ওপর পাতলা সোনালি স্তর প্রয়োগ করা হয়, যা রক্ত বা অন্যান্য নমুনার সংস্পর্শে এসে আলোর আচরণে সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটায়—যা বিশ্লেষণ করে রোগের সম্ভাবনা নির্ণয় করা যায়।

    রক্ত পরীক্ষায় মিলবে আগাম সতর্কতা

    এই সেন্সরের মাধ্যমে রক্তের গ্লুকোজ, হিমোগ্লোবিন, অ্যালবুমিন ও ইউরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব। এসব উপাদানের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, লিভারের সমস্যা ও অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ আগেই ধরা পড়তে পারে।

    ক্যান্সার শনাক্তে নতুন দিগন্ত

    গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার কোষে সাধারণ কোষের তুলনায় আলোর প্রতিফলন বৈশিষ্ট্যে সামান্য পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন শনাক্ত করা গেলে ক্যান্সারকে খুব প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করা সম্ভব হতে পারে—যা চিকিৎসায় বড় অগ্রগতি আনবে।

    গবেষকদের প্রত্যাশা

    গবেষক এস. এম. রাকিবুল ইসলাম জানান, এই প্রযুক্তি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে যেখানে অত্যন্ত ক্ষুদ্র জৈব পরিবর্তনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যাবে। তাদের লক্ষ্য হলো সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি তৈরি করা।

    মোহাম্মদ রুবায়েত ইসলাম বলেন, ফাইবারের নকশা উন্নত করার মাধ্যমে সেন্সরের সংবেদনশীলতা আরও বাড়ানো সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বায়োমেডিক্যাল প্রযুক্তিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

    অন্যদিকে মোহাম্মদ সবুজ মিয়া জানান, এই প্রযুক্তি সফল হলে ছোট আকারের বহনযোগ্য ডিভাইস তৈরি করা যাবে, যা হাসপাতালের বাইরে থেকেও দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্ভব করবে।

    ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দ্রুত, সহজ ও কম খরচে রোগ শনাক্ত করা গেলে লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

    বাংলাদেশি এই তরুণ গবেষকদের উদ্যোগ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা কুড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন অধ্যায় সূচনার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

  • ফেসবুকে পোস্ট করেই আয় হাজার ডলার! মেটার নতুন প্রোগ্রামে বদলে যেতে পারে ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যৎ

    ফেসবুকে পোস্ট করেই আয় হাজার ডলার! মেটার নতুন প্রোগ্রামে বদলে যেতে পারে ক্রিয়েটরদের ভবিষ্যৎ

    এবিএনএ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয়ের সুযোগ আরও বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে Meta Platforms। প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে, তাদের ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ প্রোগ্রামের আওতায় এখন ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট ও রিলস শেয়ার করেই মাসে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

    সম্প্রতি প্রকাশিত এক অফিসিয়াল ঘোষণায় জানা গেছে, মূলত অন্যান্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের সফল কন্টেন্ট নির্মাতাদের ফেসবুকে সক্রিয় করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কারা এই সুযোগ পাবেন?

    এই সুবিধা সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

    • যাদের Instagram, TikTok অথবা YouTube-এ অন্তত ১ লাখ ফলোয়ার রয়েছে, তারা মাসে প্রায় ১ হাজার ডলার আয় করতে পারবেন।
    • আর যাদের ফলোয়ার সংখ্যা ১০ লাখ বা তার বেশি, তারা মাসিক ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ পাবেন।

    কীভাবে কাজ করবে এই প্রোগ্রাম?

    এই প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত ক্রিয়েটররা টানা তিন মাস নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাবেন। তবে এর জন্য নিয়মিত মানসম্মত রিলস বা ভিডিও পোস্ট করতে হবে।
    এছাড়া ফেসবুক তাদের কন্টেন্টের রিচ বাড়াতে বিশেষ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, যাতে দ্রুত বড় অডিয়েন্স তৈরি করা যায়।

    আয়ের আরও নতুন পথ

    মেটা তাদের মনেটাইজেশন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে। এখন শুধু ভিডিও নয়—রিলস, ছবি, স্টোরি এমনকি টেক্সট পোস্ট থেকেও আয় করা সম্ভব।
    প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মোট আয়ের বড় অংশই এসেছে রিলস থেকে, তবে ছবি ও লেখার মাধ্যমেও ভালো আয় হচ্ছে।

    কীভাবে যুক্ত হবেন?

    এই প্রোগ্রামটি বর্তমানে আমন্ত্রণভিত্তিক। তবে আগ্রহীরা ফেসবুকের ‘প্রফেশনাল ড্যাশবোর্ড’ থেকে মনেটাইজেশন অপশনে গিয়ে আবেদন জানাতে পারেন। যোগ্য হলে মেটা নিজেই নোটিফিকেশন বা ইমেইলের মাধ্যমে জানাবে।

    প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ইউটিউব ও টিকটকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে এবং দক্ষ ক্রিয়েটরদের আকর্ষণ করতেই মেটার এই পদক্ষেপ। বাংলাদেশের অনেক তরুণ কন্টেন্ট নির্মাতার জন্য এটি বৈদেশিক আয় বাড়ানোর একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।

  • শিশুদের ক্ষতির দায়ে আদালতে বিপাকে গুগল-মেটা: ক্ষতিপূরণে নজিরবিহীন রায়

    শিশুদের ক্ষতির দায়ে আদালতে বিপাকে গুগল-মেটা: ক্ষতিপূরণে নজিরবিহীন রায়

    এবিএনএ: শিশু ও কিশোরদের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এক আদালতের রায়ে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল ও মেটাকে দায়ী করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ক্যালিফোর্নিয়ায় দেওয়া এই রায়ে মোট ৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে মেটাকে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং গুগলকে ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ডিজাইন নিয়েই মূল অভিযোগ

    আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই দুই প্রতিষ্ঠানের প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে যুক্ত রাখতে উৎসাহিত করে এবং তা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

    মামলাটি করেছিলেন এক তরুণী, যিনি অল্প বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়েন। আদালতে তিনি জানান, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ও ছবি শেয়ারিং অ্যাপের কিছু নির্দিষ্ট ফিচার—বিশেষ করে ‘ইনফিনিট স্ক্রল’—তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখত।

    জুরির পর্যবেক্ষণ

    জুরি বোর্ড মনে করেছে, এই ধরনের ডিজাইন ব্যবহারকারীদের আচরণ প্রভাবিত করে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অবহেলার দায় এড়াতে পারে না।

    নতুন আইনি দৃষ্টান্ত

    এই মামলার বিশেষ দিক হলো—এখানে ব্যবহারকারীর কনটেন্ট নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের গঠন ও ডিজাইনকেই দায়ী করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে সাধারণত কনটেন্টের জন্য কোম্পানিগুলো দায়মুক্তি পায়। কিন্তু এই রায় সেই ধারণায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই ধরনের অভিযোগে আরও বহু মামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া

    রায়ের সঙ্গে একমত নয় গুগল ও মেটা। তারা ইতোমধ্যে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

    অন্যদিকে, একই মামলায় জড়িত আরও দুটি প্ল্যাটফর্ম—স্ন্যাপ ও টিকটক—শুরুতেই সমঝোতায় পৌঁছায়, ফলে তারা বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে থাকে।

    বড় প্রভাবের ইঙ্গিত

    গত এক দশকে শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক এখন আদালত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ করতে বাধ্য করা হতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষায় নতুন আইন ও নীতিমালাও আসতে পারে।

    উপসংহার

    সব মিলিয়ে, এই রায় ডিজিটাল বিশ্বের জবাবদিহিতার প্রশ্নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আইনি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।

  • ভোগান্তির অবসান: ৪ দিন পর খুলে গেল এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের তালা

    ভোগান্তির অবসান: ৪ দিন পর খুলে গেল এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেনের তালা

    এবিএনএ: জাতীয় নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে সাময়িকভাবে সীমিত করা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের লেনদেন অবশেষে স্বাভাবিক হয়েছে। চার দিনের বিধিনিষেধ শেষে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে সব ধরনের লেনদেনে আগের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা প্রত্যাহারের পর মধ্যরাত থেকেই গ্রাহকেরা পূর্বের সীমা অনুযায়ী লেনদেন করতে পারছেন। এতে বিকাশ, নগদরকেট-এর মতো এমএফএস প্ল্যাটফর্মে টাকা পাঠানো ও গ্রহণের প্রক্রিয়া আগের ছন্দে ফিরেছে। বিধিনিষেধ চলাকালে প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাচ্ছিল না এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেনের সীমা থাকায় অনেক গ্রাহক প্রয়োজনীয় লেনদেনে পড়েছিলেন সমস্যায়।

    গত রোববার রাতে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এসব ডিজিটাল সেবায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে এমএফএস ও আইবিএফটি ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত। ফলে নির্ধারিত ৯৬ ঘণ্টা সময়জুড়ে পিটুপি লেনদেনের অঙ্ক ও সংখ্যা সীমিত রাখা হয় এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

    তবে এই সময়ে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো সেবাগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই চালু রাখা হয়েছিল। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকেরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্তের আগে গ্রাহকদের আগাম জানালে ভোগান্তি কমবে।

  • ঘরে বসেই ভোটের ফল জানুন মুহূর্তে: ইসির নতুন অ্যাপে মিলছে লাইভ আপডেট

    ঘরে বসেই ভোটের ফল জানুন মুহূর্তে: ইসির নতুন অ্যাপে মিলছে লাইভ আপডেট

    এবিএনএ: বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফল দ্রুত ও নির্ভুলভাবে পৌঁছে দিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চালু করেছে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার ও সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল এবং নির্বাচনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য রিয়েল-টাইমে দেখতে পারবেন।

    যেভাবে ব্যবহার করবেন অ্যাপটি

    ১) অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল
    অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল প্লে স্টোর এবং আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ স্টোরে গিয়ে Smart Election Management BD লিখে সার্চ করুন। ডাউনলোড শেষে অ্যাপটি ইনস্টল করে খুলুন।

    ২) লগইন দরকার কি না
    সাধারণভাবে ফলাফল দেখতে লগইনের প্রয়োজন নেই। তবে ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য, ভোটার স্ট্যাটাস বা ইভিএম–সংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে লগইন করতে হতে পারে।

    ৩) ফলাফল দেখার ধাপ

    • নির্বাচন ও এলাকা নির্বাচন: হোম স্ক্রিন থেকে ‘ইলেকশন রেজাল্টস/ভোটিং রেজাল্টস’ অপশনে গিয়ে জাতীয় সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা বা ইউনিয়ন নির্বাচন বেছে নিন। এরপর জেলা ও উপজেলা/ওয়ার্ড নির্বাচন করুন।

    • কেন্দ্রভিত্তিক লাইভ আপডেট: প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ হলে ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে আপডেট হয়। প্রার্থী বা দলভিত্তিক ভোটসংখ্যা ও শতাংশ দেখা যায়।

    • গ্রাফ ও চার্টে উপস্থাপনা: ফলাফল গ্রাফ/চার্টে দেখানো হয়, ফলে এগিয়ে থাকা প্রার্থী বা দলের অবস্থান এক নজরেই বোঝা যায়। লাইভ আপডেটে ধাপে ধাপে অগ্রগতিও দেখা যায়।

    ইসির এই উদ্যোগের ফলে ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা বাড়বে, বিভ্রান্তি কমবে এবং ভোটাররা দ্রুত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাবেন—সবকিছুই নিজের স্মার্টফোনে।

  • কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মেটা ও ইউটিউব, শুরু হলো নজিরবিহীন বিচার

    কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যে ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মেটা ও ইউটিউব, শুরু হলো নজিরবিহীন বিচার

    এবিএনএ: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে শুরু হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচার। লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযুক্ত হয়েছে প্রযুক্তি জগৎ의 দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মেটা ও ইউটিউব।

    মামলাটি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক তরুণী, যিনি আদালতের নথিতে ‘কেজিএম’ নামে পরিচিত। তার সঙ্গে বাদী হিসেবে রয়েছেন তার মা ক্যারেন গ্লেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে কিশোরদের মধ্যে আসক্তি তৈরির কৌশল ব্যবহার করে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    বাদীপক্ষের দাবি, প্ল্যাটফর্মগুলোর অ্যালগরিদম এমনভাবে তৈরি যে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আটকে থাকে। একের পর এক নোটিফিকেশন, শেষ না হওয়া ফিড এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া ভিডিও কিশোরদের বাস্তব জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ফলে হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়ে।

    এই মামলায় শুরুতে টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটও অভিযুক্ত ছিল। তবে বিচার শুরুর আগেই তারা আলাদা সমঝোতায় পৌঁছায়। ফলে বর্তমানে আদালতে কেবল মেটা ও ইউটিউবকেই মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমস্যা শুধু ক্ষতিকর কনটেন্টে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো প্ল্যাটফর্মের নকশাই এমনভাবে তৈরি, যাতে ব্যবহারকারীরা বারবার ফিরে আসে। এই কাঠামো কিশোরদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

    মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে সাইবার বুলিং, শরীর নিয়ে নেতিবাচক তুলনা এবং অচেনা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

    যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ ধরনের অভিযোগে প্রায় দেড় হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কেজিএমের মামলাটিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এর রায় ভবিষ্যতের অনেক মামলার দিকনির্দেশনা দিতে পারে। বিচার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    অভিযোগ অস্বীকার করে মেটা জানিয়েছে, তারা কিশোরদের জন্য আলাদা নিরাপত্তামূলক অ্যাকাউন্ট, উন্নত গোপনীয়তা সেটিংস এবং অভিভাবক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে ইউটিউব বলছে, সংবেদনশীল কনটেন্টে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে এবং কম বয়সী ব্যবহারকারী শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তবে সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। কারণ মূল নকশাই ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখার ওপর নির্ভরশীল—আর এখানেই কিশোরদের মানসিক ঝুঁকির সূচনা।

    এই মামলার রায় প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ক্ষতিপূরণ, নীতিমালা ও প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বিকাশে অভিযোগ জানানো এখন আরও সহজ: অ্যাপেই দেখা যাবে অভিযোগের অগ্রগতি

    বিকাশে অভিযোগ জানানো এখন আরও সহজ: অ্যাপেই দেখা যাবে অভিযোগের অগ্রগতি

    এবিএনএ: বিকাশ গ্রাহকদের জন্য সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ জানানো ও তার অগ্রগতি জানার প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি। এখন থেকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করেই গ্রাহকরা বিভিন্ন সেবা নিয়ে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন এবং সেই অভিযোগের সর্বশেষ অবস্থা নিজেই পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

    এই সুবিধা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘সেলফ কমপ্লেইন্ট (e-CMS)’ নামের নতুন একটি ফিচার। এর মাধ্যমে বিকাশ টু ব্যাংক, সেভিংস, মোবাইল রিচার্জ কিংবা বিল পরিশোধসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার অভিযোগ কয়েকটি ধাপেই জানানো সম্ভব হবে।

    অভিযোগ দাখিলের পর গ্রাহককে আর আলাদা করে কল বা যোগাযোগের প্রয়োজন হবে না। অ্যাপের মধ্যেই অভিযোগের অগ্রগতি, আপডেট ও বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি হয়েছে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়।

    অভিযোগ জানাতে গ্রাহককে বিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিন থেকে ‘গ্রাহক সেবা’ অপশনে গিয়ে ‘কমপ্লেইন্ট’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট সেবার ধরন বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলেই অভিযোগ জমা সম্পন্ন হবে। আগে করা অভিযোগগুলোর অগ্রগতি জানতে ‘পূর্ববর্তী অভিযোগ দেখুন’ অপশনে ট্যাপ করলেই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

    এই সেবা ব্যবহারের জন্য গ্রাহকের নিজস্ব বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক এবং কেবল নিজের লেনদেনসংক্রান্ত সমস্যাই এখানে জানানো যাবে। গ্রাহকের সময় সাশ্রয় এবং দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

    এদিকে নতুন এই সুবিধার পাশাপাশি আগের মতোই লাইভ চ্যাট, ১৬২৪৭ নম্বরে কল এবং বিকাশ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ বহাল থাকবে।

  • ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    ‘গোল্ডেন ফোন’ শুধু ঘোষণা নাকি বাস্তব পণ্য? ট্রাম্প মোবাইল নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া সোনালি রঙের স্মার্টফোন ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একাধিকবার ঘোষিত সময়সীমা শেষ হলেও ফোনটির কোনো বাস্তব অস্তিত্ব এখনো সামনে আসেনি। ফলে প্রযুক্তি মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এই ফোন আদৌ বাজারে আসবে কি না।

    ২০২৫ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ট্রাম্প মোবাইল টি১ ফোনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন বলা হয়েছিল, আগস্ট কিংবা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এটি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাবে। কিন্তু সেই সময় পার হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে মুক্তির সম্ভাব্য সময় পরিবর্তন করে শুধু লেখা হয়—‘চলতি বছরের শেষ দিকে’।

    অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ফোনটি বাজারে আসবে। তবে ২০২৬ সাল শুরু হলেও এখনো নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি। এমনকি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা সময়টি কোন বছরের জন্য, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

    সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—ফোনটি বাজারে না এলেও আগাম বুকিং বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে প্রি-অর্ডার নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ পরিশোধের পরও ক্রেতারা এখনো ফোনটি পাননি, এমনকি নির্দিষ্ট কোনো মুক্তির তারিখও জানানো হয়নি।

    ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাম্প মোবাইলের কাস্টমার সার্ভিস বিভাগ জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার কারণে ফোনটির উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। তখনই ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফোনটি বাজারে আসার সম্ভাবনা কম।

    শুরুতে ট্রাম্প মোবাইল দাবি করেছিল, টি১ ফোনটি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হবে। তবে পরে সেই অবস্থান থেকেও সরে আসে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ চেইন নিয়ে জটিলতার কারণেই প্রকল্পটি পিছিয়ে পড়েছে।

    এদিকে ট্রাম্প মোবাইলের নেটওয়ার্ক সেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহারকারীদের একাংশ দুর্বল সংযোগ, সীমিত কাভারেজ ও প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শুরু থেকেই এই ফোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ ছিল। তার মতে, একটি স্মার্টফোন তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা অনেক বেশি জটিল।

    ২০২৬ সালেও নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা—ফোনটি শেষ পর্যন্ত বাজারে এলেও ঘোষণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল নাও থাকতে পারে।

    সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের নামের সঙ্গে যুক্ত এই ‘গোল্ডেন ফোন’ এখন পর্যন্ত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। ক্রেতাদের অপেক্ষা বাড়ছেই। শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তব পণ্য হবে, নাকি আরেকটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবেই থেকে যাবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

  • ভাষার দেয়াল ভাঙল হোয়াটসঅ্যাপ, চ্যাটের মধ্যেই মিলবে তাৎক্ষণিক অনুবাদ সুবিধা

    ভাষার দেয়াল ভাঙল হোয়াটসঅ্যাপ, চ্যাটের মধ্যেই মিলবে তাৎক্ষণিক অনুবাদ সুবিধা

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারীর জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত অনুবাদ সুবিধা। এখন থেকে ভিন্ন ভাষায় আসা বার্তার অর্থ জানতে আর আলাদা কোনো অনুবাদ অ্যাপের প্রয়োজন হবে না। চ্যাটের ভেতরেই তাৎক্ষণিকভাবে অনুবাদ দেখা যাবে, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে আরও সহজ করে তুলবে।

    এবিএনএ: হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস—দুই প্ল্যাটফর্মেই পর্যায়ক্রমে এই নতুন ফিচার চালু করা হচ্ছে। ব্যবহারকারীদের পরিচিত ইন্টারফেসেই অনুবাদ দেখানো হবে, ফলে নতুন করে কিছু শেখার ঝামেলা থাকবে না। ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা ভ্রমণের সময় এই সুবিধা বিশেষভাবে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারকারীর ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল থাকতে হবে। যেহেতু ধাপে ধাপে সুবিধাটি চালু হচ্ছে, তাই নিয়মিত অ্যাপ আপডেট পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

    কোনো বার্তা অনুবাদ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট চ্যাটে গিয়ে বার্তার ওপর কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। এরপর অ্যান্ড্রয়েডে তিন ডট মেনু বা আইওএসে কনটেক্সট মেনু থেকে ‘ট্রান্সলেট’ অপশন নির্বাচন করলেই মূল বার্তার নিচে অনুবাদিত লেখা দেখা যাবে।

    প্রাথমিকভাবে ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, জার্মান ও হিন্দিসহ কয়েকটি বহুল ব্যবহৃত ভাষা এই ফিচারের আওতায় এসেছে। ভবিষ্যতে ভাষার তালিকা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

    ভাষাগত বাধা কমিয়ে দৈনন্দিন যোগাযোগকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন অনুবাদ সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।