Category: এবিএনএ স্পেশাল

  • বাংলাদেশে জ্বালানি চাপ, জনস্বাস্থ্য সতর্কতা, আইনসভা সক্রিয়তা ও রাজনীতির নতুন সমীকরণ

    বাংলাদেশে জ্বালানি চাপ, জনস্বাস্থ্য সতর্কতা, আইনসভা সক্রিয়তা ও রাজনীতির নতুন সমীকরণ

    ১০ এপ্রিল ২০২৬-এর বাংলাদেশের সংবাদপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে ছয়টি বড় থিম: জ্বালানি সাশ্রয়ী জরুরি ব্যবস্থাকৃষিতে ডিজেল-সংকট ও আঞ্চলিক জ্বালানি কূটনীতিহাম প্রাদুর্ভাব ও জরুরি টিকাদানসংসদে দ্রুতগতির আইন প্রণয়নমুজিবনগর সরকার গঠনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, এবং রেফারেন্ডাম বাস্তবায়ন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি। এগুলো একসাথে দেখলে স্পষ্ট হয়—বাংলাদেশ এখন একই সময়ে অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, প্রতিষ্ঠানগত রূপান্তর এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠনের মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। Dhaka Tribune Reuters Reuters Dhaka Tribune


    ১. জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সংক্ষিপ্ত অফিস সময় ও আগাম বাজার বন্ধ

    সরকার ৯টা–৪টা অফিস সময়, ব্যাংকিং সময় কমানো, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ, আলোকসজ্জা সীমিতকরণ, সরকারি খরচে কাটছাঁট, নতুন সরকারি যানবাহন ক্রয়ে বিরতি এবং জ্বালানি খাতের ব্যয় ৩০% কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পেছনে যুক্তি হলো—মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি চাপে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা। Dhaka Tribune Dhaka Tribune

    জ্বালানি সাশ্রয়ী জরুরি ব্যবস্থা

    ইতিবাচক দিক

    রাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এটি নীতিগত তৎপরতার ইঙ্গিত।
    সরকার বিকল্প জ্বালানি উৎস, বৈদ্যুতিক বাস, এবং ব্যয়সংযমের মতো পদক্ষেপও সামনে এনেছে—যা মাঝারি মেয়াদে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে পারে। Dhaka Tribune

    নেতিবাচক দিক

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিস সময় কমানো বা বাজার তাড়াতাড়ি বন্ধ করা জ্বালানি ব্যবহারের সবচেয়ে বড় খাতগুলো—বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও পরিবহন—সরাসরি খুব বেশি কমায় না। এতে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা, বিশেষ করে সন্ধ্যাকালীন বিক্রি-নির্ভর খুচরা ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। Dhaka Tribune

    আন্তর্জাতিক তাৎপর্য

    এটি দেখাচ্ছে, বৈশ্বিক সংঘাত এখন বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দৈনন্দিন সময়সূচিকেও বদলে দিতে পারে।


    ২. ডিজেল সংকটে কৃষি চাপে, একই সঙ্গে ভারতমুখী জ্বালানি কূটনীতি

    রয়টার্সের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ধান রোপণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বহু কৃষক ডিজেল পেতে দীর্ঘ লাইন দিচ্ছেন, অনেক স্টেশনে “No Fuel” সাইন ঝুলছে, আর সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। এতে সেচ ব্যাহত হচ্ছে, জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, চারা হলদে হয়ে পড়ছে এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ তার পরিশোধিত জ্বালানির বড় অংশ আমদানি করে, যার বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্য। Reuters

    একই সময়ে বাংলাদেশ ভারত থেকে বেশি জ্বালানি ও সার চেয়েছে, এবং নয়াদিল্লি তা “readily and favourably” বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জ্বালানি সহযোগিতা নতুন কৌশলগত গুরুত্ব পেয়েছে। Reuters Dhaka Tribune

    ইতিবাচক দিক

    আঞ্চলিক কূটনীতিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে—এটি বাস্তববাদী পদক্ষেপ।
    ভারত থেকে পাইপলাইনভিত্তিক বা বাড়তি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে তা দ্রুত চাপ কমাতে পারে। Reuters

    নেতিবাচক দিক

    কৃষির মৌসুমি সেচে ব্যাঘাত সরাসরি খাদ্যনিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
    এটি বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামোর ভঙ্গুরতাকেও সামনে এনেছে। Reuters Dhaka Tribune

    আন্তর্জাতিক তাৎপর্য

    বাংলাদেশের জ্বালানি-সংকট এখন কেবল ঘরোয়া নয়—এটি দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সরবরাহ-রাজনীতি, সীমান্তবাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত।


    ৩. হাম প্রাদুর্ভাব: জনস্বাস্থ্যে লাল সতর্কতা, তবে টিকাদান অভিযানে দ্রুত সাড়া

    বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় এক মিলিয়নেরও বেশি শিশুকে লক্ষ্য করে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রয়টার্স জানাচ্ছে, ১৭টি নিশ্চিত মৃত্যু, ১১৩টি সন্দেহজনক মৃত্যু, ৭,৫০০-এর বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য সামনে এসেছে। ১৮টি উচ্চঝুঁকির জেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। UNICEF, WHO ও Gavi এই অভিযানে যুক্ত রয়েছে। Reuters

    ইতিবাচক দিক

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
    ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় মৃত্যুহার কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। Reuters

    নেতিবাচক দিক

    এত বড় প্রাদুর্ভাব রুটিন টিকাদানে ফাঁক, স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ এবং জেলা পর্যায়ের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরছে।
    হাসপাতালগুলো ইতোমধ্যে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হতে পারে। Reuters

    আন্তর্জাতিক তাৎপর্য

    এটি বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংযোগের একটি উদাহরণ—এক দেশের টিকাদান-ফাঁক দ্রুত আঞ্চলিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।


    ৪. সংসদে দ্রুত আইন পাস: প্রতিষ্ঠানগত স্বাভাবিকতা, নাকি পর্যাপ্ত বিতর্কহীন আইনপ্রণয়ন?

    সংসদ ১০টি বিল পাস করেছে, যেগুলোর লক্ষ্য ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আনুষ্ঠানিক আইনে রূপ দেওয়া। একই সঙ্গে Dhaka Central University Bill 2026 পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে একটি একীভূত একাডেমিক কাঠামোর অধীনে আনা হবে। Dhaka Tribune Dhaka Tribune

    ইতিবাচক দিক

    অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়া মানে নির্বাহী সিদ্ধান্তকে সংসদীয় বৈধতার আওতায় আনা—এটি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিকায়নের লক্ষণ।
    সাত কলেজের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট ও একাডেমিক অনিশ্চয়তা দূর করতে নতুন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় কাঠামোগত পদক্ষেপ হতে পারে। Dhaka Tribune

    নেতিবাচক দিক

    প্রতিবেদন বলছে, এসব বিল প্রায় বিনা সংশোধনী ও উল্লেখযোগ্য আলোচনাবিহীনভাবে পাস হয়েছে। আন্তর্জাতিক পাঠকের দৃষ্টিতে এটি সংসদীয় স্ক্রুটিনি বা গভীর নীতিগত বিতর্কের ঘাটতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। Dhaka Tribune

    আন্তর্জাতিক তাৎপর্য

    বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এখন কতটা কার্যকর বিতর্ক, সংশোধন ও জবাবদিহির মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছে—সেটি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।


    ৫. মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস: রাষ্ট্রচিন্তা, ইতিহাস ও বর্তমানের সেতুবন্ধ

    ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ভিত্তিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত অস্থায়ী সরকার মুক্তিযুদ্ধকে একটি সংগঠিত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসে; ১৭ এপ্রিল শপথ হয় বৈদ্যনাথতলায়। এই সরকার সামরিক প্রতিরোধ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন সংগঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে। Dhaka Tribune

    ইতিবাচক দিক

    জাতীয় পরিচয়, সাংবিধানিক বৈধতা এবং স্বাধীনতার আদর্শকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
    রাজনৈতিক রূপান্তরের সময়ে এমন ঐতিহাসিক দিনগুলো জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হতে পারে। Dhaka Tribune

    নেতিবাচক দিক

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার প্রায়ই প্রতীকী ঐক্যের বদলে দলীয় ব্যাখ্যার প্রতিযোগিতায় ব্যবহৃত হয়।
    ফলে ঐতিহাসিক স্মৃতি কখনও ঐকমত্যের পরিবর্তে বিভাজনও বাড়াতে পারে।

    আন্তর্জাতিক তাৎপর্য

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন-ইতিহাস বোঝা ছাড়া দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ভাষা ও ক্ষমতার বৈধতার প্রশ্ন পুরোপুরি বোঝা কঠিন।


    ৬. ১১-দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি: অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, নাকি নতুন অস্থিরতার পূর্বাভাস?

    ১১-দলীয় একটি জোট জানিয়েছে, সংসদে রেফারেন্ডামের রায় বাস্তবায়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তাদের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে লিফলেট বিতরণ, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে বিক্ষোভ, জেলা পর্যায়ে সমাবেশ এবং ঢাকায় সেমিনার। Dhaka Tribune

    ইতিবাচক দিক

    এটি দেখায় যে রাজনৈতিক বিরোধিতা এখনও জনপরিসরে সক্রিয়, এবং নীতি-প্রশ্নে সংগঠিত চাপ প্রয়োগের পথ খোলা আছে।
    গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বহুপক্ষীয় চাপ অনেক সময় নীতি বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করে।

    নেতিবাচক দিক

    রাস্তামুখী আন্দোলন দ্রুত আইনশৃঙ্খলা, বিনিয়োগ-আস্থা, প্রশাসনিক মনোযোগ ও সংস্কার-এজেন্ডাকে বিঘ্নিত করতে পারে।
    বাংলাদেশ যদি একই সঙ্গে জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও কৃষি-চাপে থাকে, তবে রাজনৈতিক উত্তাপ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে। Dhaka Tribune

    আন্তর্জাতিক তাৎপর্য

    বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ—বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কি প্রাতিষ্ঠানিক পথে থাকবে, নাকি আবার সড়ক-রাজনীতিতে তীব্র হবে?


    সার্বিক মূল্যায়ন: ইতিবাচক বনাম নেতিবাচক চিত্র

    ইতিবাচক সামগ্রিক ট্রেন্ড

    বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র কয়েকটি ফ্রন্টে একই সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে—জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক কূটনীতি, জনস্বাস্থ্য, আইন প্রণয়ন ও শিক্ষাগত পুনর্গঠন। এই বহুমাত্রিক সক্রিয়তা দেখায় যে সরকার শুধু সংকট ম্যানেজ করছে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে কাঠামোগত সমাধানও খুঁজছে। Dhaka Tribune Reuters Dhaka Tribune

    নেতিবাচক সামগ্রিক ট্রেন্ড

    কিন্তু একই সঙ্গে বড় দুর্বলতাও স্পষ্ট—আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামো, খাদ্য সরবরাহে কৃষি-ঝুঁকি, রুটিন টিকাদানে ফাঁক, দ্রুত আইন পাসে বিতর্কহীনতা, এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের সম্ভাবনা। অর্থাৎ বাংলাদেশ এখন “policy responsiveness” দেখালেও “structural vulnerability” থেকে পুরোপুরি বেরোতে পারেনি। Dhaka Tribune Reuters

  • সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    সুন্দরবনে শুরু হলো মধু আহরণ মৌসুম: লক্ষ্যমাত্রা ১৮০০ কুইন্টাল, মৌয়ালদের আশা-আতঙ্ক একসাথে

    এবিএনএ,বাগেরহাট : দেশের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে শুরু হলো বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম। আজ (১ এপ্রিল) ভোর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম, যা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত।

    বন বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সুন্দরবন থেকে মোট ১ হাজার ৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৭০০ কুইন্টাল মধু এবং ৩০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে নির্ধারিত হয়েছে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা।

    এবার আগাম বৃষ্টির কারণে খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে খলিসা, গরান, পশুর ও হারগোজাসহ বিভিন্ন গাছে ব্যাপক ফুল ফুটেছে। ফলে ওইসব এলাকায় মৌমাছির উপস্থিতি বেড়েছে এবং মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। তবে পূর্বাঞ্চলের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে তুলনামূলক কম বৃষ্টি এবং কম গাছপালা থাকার কারণে সেখানে মৌসুমের শুরুতেই পর্যাপ্ত মধু পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ওই অঞ্চলের মৌয়ালরা কয়েকদিন পর থেকে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করবেন।

    মৌসুম শুরুর আগেই মৌয়ালরা নৌকা মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রেখেছেন। দলবদ্ধভাবে বনে প্রবেশ করে তারা প্রথমে খলিসা, গরান ও পশুর গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করবেন। পরে পর্যায়ক্রমে কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু আহরণ করা হবে।

    গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, পূর্ব সুন্দরবনের দুই রেঞ্জ থেকে প্রায় ৬৫০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল। মৌয়ালদের মতে, বন বিভাগের অনুমতি, রাজস্ব ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতিজনের প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। তবে মধু বিক্রি করে তারা উল্লেখযোগ্য লাভ করতে সক্ষম হন।

    শরণখোলার মৌয়ালরা জানান, গত মৌসুমে তাদের প্রতিটি সদস্য প্রায় দুই মণ করে মধু পেয়েছিলেন, যা বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। এবারও তারা আশাবাদী, তবে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অপহরণের ঝুঁকি থাকায় তারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

    বন বিভাগ জানিয়েছে, মধু আহরণের জন্য মৌয়ালদের ১৪ দিনের পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মৌমাছি তাড়াতে আগুন বা রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ, বনজ সম্পদের ক্ষতি না করা, নদীতে বিষ প্রয়োগ না করা এবং বন্যপ্রাণী শিকার থেকে বিরত থাকা। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

    বিভাগীয় বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার গাছে ফুলের আধিক্য থাকায় মধু উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং মৌয়ালদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    তবে জুন মাস থেকে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় মৌসুমের পুরো সময়জুড়ে মধু সংগ্রহ সম্ভব হয় না। বিশেষ করে সুন্দরী ও গেওয়া গাছের ফুল থেকে মধু সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় উৎপাদনে প্রভাব পড়ে।

    সব মিলিয়ে আশা ও শঙ্কার মধ্যেই শুরু হলো সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী মধু আহরণ মৌসুম। মৌয়ালদের চোখ এখন নিরাপদ ও সফল একটি মৌসুমের দিকে।

  • বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    বাগেরহাটে চরের জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: একে একে তিন খুন, আতঙ্কে দুই গ্রাম

    এবিএনএ, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মধুমতি নদীর চরের সরকারি খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ রূপ নিয়েছে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। বিশ্বাস ও শেখ—এই দুই প্রভাবশালী পক্ষের দ্বন্দ্বে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় পুরো এলাকা এখন আতঙ্কে আচ্ছন্ন।

    সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত সহিংসতায় শেখ পক্ষের যুবক রাজিব শেখ (২৫) নিহত হন। এ ঘটনায় অন্তত আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধপরায়ণ হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩০টি বসতবাড়ি ও দোকান পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

    শনিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত রাজিব শেখকে চিংগড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

    🔥 গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ও ধ্বংসস্তূপ

    ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গেছে, চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি সড়কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইট-পাথরের টুকরো। দুই গ্রামেই বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর এখন কেবল ছাইয়ের স্তূপ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

    নিহত রাজিবের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর জন্য বড় পরিসরে রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে শেখ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের হারানো সম্পদ ও ভিটেমাটির শোকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।

    এদিকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস পরিবারের অনেকেই ঘরবাড়ি ফাঁকা করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

    ⚔️ দীর্ঘদিনের বিরোধের পটভূমি

    স্থানীয়দের দাবি, ২০১৪ সাল থেকে মধুমতি নদীর চরের সরকারি জমি দখল ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। একপক্ষে রয়েছেন মচন্দপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাসের অনুসারীরা, অন্যপক্ষে চিংগড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলমের অনুসারীরা।

    এই বিরোধে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পূর্বের এক ঘটনায় আলম শেখ নিহত হন। এরপরও থামেনি সংঘাত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরেক দফা সংঘর্ষে নিজাম উদ্দিন নামে একজন নিহত হন।

    স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনও এই সংঘর্ষকে আরও উসকে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    👮 পুলিশের অবস্থান

    বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, রাজিব শেখ হত্যাকাণ্ডসহ অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

  • ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পবিত্র ঈদুল ফিতর দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলেও বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর জন্য এবারের ঈদ ছিল বিষণ্নতায় ঘেরা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতৃত্বের অবহেলায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু তৃণমূল কর্মী গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হামলা-মামলা ও কারাবাসের কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঈদের সময় অন্তত দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেন—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি বলে জানান তারা।

    মোংলা উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে জানা গেছে, অনেক কর্মী পরিবার-পরিজনের জন্য ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেননি। কোথাও সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা সবার মধ্যে পৌঁছেনি। অভিযোগ রয়েছে, চাল ও নগদ সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ছিল না এবং প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

    এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, ঈদের দিন তো দূরের কথা, এর আগেও অনেক স্থানীয় নেতা কর্মীদের খোঁজখবর নেননি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, তারা কোনো পদ বা সুবিধার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং দলের আদর্শে বিশ্বাস করেই রাজপথে সক্রিয় থাকেন। কিন্তু ঈদের মতো সময়ে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্ট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

    তাদের আরও অভিযোগ, নেতারা নিজেদের প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশার দিকে নজর দিচ্ছেন না।

    এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এমন অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেত্রী নাইনুর লিপি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দল অনুকূল অবস্থানে থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হচ্ছে না। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    মোংলা পৌর যুবদলের এক নেতা জানান, দুর্দিনে কর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও দলীয় পর্যায়ে সে ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাচ্ছেন।

    এদিকে, বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সহায়তা কারা পেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    তবে একই এলাকায় ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

    সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ মোংলার তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকল। এখন দেখার বিষয়, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেন কি না।

  • ঈদের ছুটিতে বাগেরহাট ভ্রমণ: ষাটগম্বুজ ছাড়িয়ে লুকানো দর্শনীয় স্থানগুলোর সন্ধান

    ঈদের ছুটিতে বাগেরহাট ভ্রমণ: ষাটগম্বুজ ছাড়িয়ে লুকানো দর্শনীয় স্থানগুলোর সন্ধান

    এবিএনএ,বাগেরহাট : ঈদের আনন্দ মানেই শুধু নতুন পোশাক আর সুস্বাদু খাবার নয়—এই উৎসবকে আরও রঙিন করে তুলতে পারে একটি ছোট্ট ভ্রমণ। শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গিয়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে বাগেরহাট হতে পারে একটি চমৎকার গন্তব্য। ইতিহাস, সংস্কৃতি আর প্রকৃতির অনন্য মিশেলে এই জেলা যেন জীবন্ত এক ঐতিহ্যের ভাণ্ডার।

    অনেকের কাছে বাগেরহাট মানেই শুধু ষাটগম্বুজ মসজিদ। কিন্তু বাস্তবে এই জেলার সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্য অনেক বিস্তৃত। এখানে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনা, ধর্মীয় নিদর্শন এবং প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান, যা একসঙ্গে উপভোগ করা যায় না একদিনেই।

    বিশ্ব ঐতিহ্যের ছোঁয়া

    বাগেরহাটের অন্যতম আকর্ষণ সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ—দুটিই বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পাওয়া। সুন্দরবনের করমজল, দুবলার চর কিংবা আলীবান্দা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা এনে দেয়। প্রকৃতির নিস্তব্ধতা আর সবুজের সমারোহ মনকে প্রশান্ত করে।

    অন্যদিকে ষাটগম্বুজ মসজিদ শুধু ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি এক অসাধারণ স্থাপত্য নিদর্শন। প্রায় ৬০০ বছর আগে নির্মিত এই মসজিদের গম্বুজ, কারুকাজ এবং পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পাশেই অবস্থিত জাদুঘরটি ইতিহাস জানার জন্য বাড়তি আকর্ষণ।

    ইতিহাসের পথে হাঁটা

    ষাটগম্বুজের কাছেই রয়েছে সিঙ্গাইর মসজিদসহ আরও অনেক প্রাচীন মসজিদ, যা সেই সময়ের স্থাপত্যশৈলী তুলে ধরে। চুনখোলা, বিবি বেগুনি কিংবা রেজা খোদা মসজিদগুলো ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয়।

    হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার এবং সংলগ্ন দিঘি একটি শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। দিঘির জলে ভেসে থাকা কুমির ও মাছ পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা এনে দেয়। কাছেই নয় গম্বুজ মসজিদ, যা সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের এক চমৎকার উদাহরণ।

    ব্যতিক্রমী আকর্ষণ

    যাত্রাপুর এলাকায় একটি বজ্রপাতে মৃত গাছকে কুরআনের রিহাল আকারে রূপান্তর করা হয়েছে, যা শিল্প ও ধর্মীয় ভাবনার এক অনন্য নিদর্শন।

    এছাড়া বারুইপাড়ার অযুদ্ধার মঠ ১৬ শতকের স্থাপত্য ঐতিহ্য বহন করে। পোড়ামাটির অলংকরণ আর নকশা দর্শকদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

    বিনোদন ও প্রকৃতির মেলবন্ধন

    বাগেরহাটে শুধু ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, আধুনিক বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। চন্দ্রমহল, বারাকপুর ও দশানী পার্কে রয়েছে বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা, যা পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য উপযোগী।

    শরণখোলার বলেশ্বর নদীর তীরে অবস্থিত রিভারভিউ ইকোপার্কে গিয়ে আপনি উপভোগ করতে পারবেন মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত। নদীর পাড়ে সময় কাটানো কিংবা ছবি তোলা—সবকিছুই হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

    আরও যেসব স্থান ঘুরে দেখতে পারেন

    বাগেরহাটে ঘুরতে গেলে মোংলা বন্দর, দড়াটানা সেতু, ফকিরহাটের জোড়া শিব মন্দির, লাউপালার রথ মন্দির, মুনিগঞ্জ সেতু এবং ডিসি ইকোপার্কও তালিকায় রাখতে পারেন। প্রতিটি স্থানেই রয়েছে আলাদা আকর্ষণ।


    ঈদের ছুটিতে স্বল্প খরচে যদি ইতিহাস, প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বিত অভিজ্ঞতা পেতে চান, তবে বাগেরহাট আপনার জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে। এখানে কাটানো একটি দিনও হয়ে উঠতে পারে আজীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি।

  • মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    মোংলায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভবনের পিলার, দেশি মদ ব্যবসায়ী সরোয়ারের দাপটে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    এবিএনএ,মোংলা: মোংলা পৌর শহরের কমলার মোড় সংলগ্ন ৭ নং কলেজ রোডে মূল সড়কের নবনির্মিত ড্রেনের উপরে ভবনের পিলার গেঁথে ড্রেন দখল ও সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ সরোয়ার হোসেন নামের এক ব্যাক্তির বিরুদ্বে।

    বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত একজন দেশী মদ বিক্রেতা সরোয়ার। তবে সরকারের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে মদ বিক্রি করে পুরো শহর জুড়ে আতকং সৃস্টি করে রাখেন। প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে অর্থের বিনিময়ে আতাঁত করেন তিনি। মোংলা শহরে তিনি অসাধু ক্ষমতাবান লোকদের তার মদের ভাট্টি থেকে নিজ খরচে উপঢৌকন হিসাবে পাঠিয়ে থাকেন।

    সোমবার ২ মার্চ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় পৌরসভার কমলার মোড় সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত ড্রেনের উপর ১০ ইঞ্চি পিলার গেঁথে মূল ভবনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচল করতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

    স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায় বাড়ির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কাউকে তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো সড়কের ড্রেনের উপর পিলার গেঁথেছে।

    পৌরসভার প্রকৌশলীর কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বারবার বলার পরও পৌর কর্তপক্ষ এবিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরনো ঝুঁকিপূর্ন ভবনের একাংশ সম্পূর্ণ ড্রেন জুড়ে। ভবন মালিককে বলার পরও আমলে না নিয়ে উল্টো ড্রেন দখল করেছে।

    স্থানীয়রা মনে করছেন পৌর কর্তপক্ষের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে ভবন মালিক ম্যানেজ করে এমনটা করেছে। তার অপকর্ম সর্বদলীয় প্রভাবশালী অসাধু ব্যাক্তিদের অর্থের বিনিময় ম্যানেজ করে থাকেন।

    নিরাপদ সড়ক চাই মোংলা উপজেলা শাখার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন বলেন এ ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ এবং ড্রেনের উপর এ ধরনের দখলদারিত্ব মোটেই কাম্য নয়। আশা করছি বিষয়টি কর্তৃপক্ষ আমলো নিয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি জানান বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • সুন্দরবনে দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: গভীর অরণ্যে টানা কম্বিং অপারেশন

    সুন্দরবনে দস্যুদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স: গভীর অরণ্যে টানা কম্বিং অপারেশন

    এবিএনএ:  সুন্দরবনে বনদস্যুতা দমনে চলছে কম্বিং অপারেশন। এ অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ অংশ নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় যৌথ অভিযান (কম্বিং অপারেশন) সুন্দরবন বনদস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। তবে, অভিযান চললেও অপহরণের দশ দিন পার হলেও এখনো মুক্তি মেলেনি ২০ জেলের। এসব জেলেরা কি অবস্থায় তারও সঠিক তথ্য জানতে পারেননি মহাজন ও তাদের পরিবার।
    মহাজনরা জানিয়েছেন, জিম্মি জেলেদের মুক্তিপণ হিসেবে জনপ্রতি সাড়ে তিন লাখ টাকা করে দাবি করেছে বনদস্যুরা। দস্যুদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা পরিশোধ না করলে জিম্মিদের ভাগ্যে করুণ পরিনতি নেমে আসবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রচন্ড চাপ ও শঙ্কায় পড়েছেন মহাজনরা।

     

    সোমবার (১৬ ফেব্রæয়ারি) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া ও আমবাড়িয়া এলাকায় মৎস্য আহরণকালে ২০টি ট্রলার থেকে ২০ জেলেকে তুলে নিয়ে যায় বন ও জলদস্যু সুমন এবং জাহাঙ্গীর বাহিনীর শসস্ত্র দস্যুরা। অপহৃত জেলেরা পূর্ব সুন্দরবনের দুবলার চরের শুঁটকি উৎপাদন পল্লীর আলোরকোল ও নারকেলবাড়িয়া শুঁটকি পল্লীর জেলে।

    অপহৃত জেলেরা হলেন, হরিদাস বিশ্বাস, গোপাল বিশ্বাস, রমেশ বিশ্বাস, প্রশান্ত বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস, তুষার বিশ্বাস, মনিরুল ইসলাম, উজ্জল বিশ্বাস, কালিদাস বিশ্বাস, কাশেম মোড়ল, সাধন বিশ্বাস, শিবপদ বিশ্বাস, রশিদ সরদার, প্রকাশ বিশ্বাস, ইয়াসিন মোড়ল, শিমুল, রূপকুমার বিশ্বাস, গণেশ বিশ্বাস, উত্তম বিশ্বাস ও বাটু বিশ্বাস। এদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও আশাশুনি এলাকায়।

    গত দেড় বছরে অন্তত ২০টি বনদস্যু বাহিনীর উত্থান ঘটেছে। সুন্দরবন হয়ে ওঠে এসব দস্যু বাহিনী নিরাপদ আশ্রয় স্থল। সম্প্রতি এসব বন ও জলদস্যু বাহিনীর দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে জেলে ও ব্যবসায়ীরা। উদ্বেগ দেখা দেয় বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে। এমন পরিস্থিতিতে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রæয়ারি) সকাল থেকে শুরু হয় যৌথ অভিযান (কম্বিং অপারেশন)। এ অভিযানে কোস্টগার্ডের সাথে রয়েছে নৌবাহিনী, র‌্যাব, নৌপুলিশ, পুলিশ ও বন বিভাগ। সুন্দরবন দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। এক সাথে ২০ জেলে অপহরণ এবং সম্প্রতি সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে জেলে অপহরণ ও নির্যাতনের মাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় নড়েচড়ে বসে প্রশসান। যে কোনোভাবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার ঘোষনা দেয় সরকার।

    একপর্যায়ে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার প্রশাসনের সঙ্গে গত রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) খুলনা সার্কিট হাউসে জরুরী বৈঠক করেন সরকারের পরিবশে, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়।

    কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, সম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় জেলে-মহাজনরা অসহায় হয়ে পড়েন। বিষয়টি খোদ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দেয়। সরকারের নির্দেশে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে য্যেথ অভিযান শুরু হয়েছে। দস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলমান থাকবে।

    সুন্দরবনের দুবলরা চরের শুঁটকি পল্লীর মহাজন মোতাসিম ফরাজী, জাকির শেখ, আব্দুর রউফ মেম্বর ও পঙ্কজ বিশ^াস জানান, দস্যুদের কারণে জেলেরা সাগর ও সুন্দরবনে মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শুধুমাত্র দিনের বেলা মাছ ধরছেন জেলেরা। ২০ জেলের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শুনেছি যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযানের কোনো সুফল দেখছিনা।

    অপরদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. নূর আলম শেখ বলেন, ৫আগস্টে পট পরিবর্তনের পর সুন্দরবনে দস্যুদের আধিপত্য বেড়ে গেছে। সুন্দরবন সেই পূর্বের ভয়াবহ অবস্থায় ফিরেছে। বনজীবীরা বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরাও আছেন আতঙ্কে। এমন পরিস্থিতিতে উপকূলের অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। চলমান যৌথ অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাক ঢোল পিটিয়ে দস্যু দমন করা যায় না। বর্তমানে যেভাবে যৌথ অভিযান চলছে তাতে শুধু মহড়াই মনে হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে দস্যু নির্মুল করতে হলে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। এভাবে হুইসেল বাজিয়ে শুটিং করে কোনো কাজ হবে বলে মনে হয় না। পূর্বে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছিল সেই পদ্ধতিতে অভিযান পরিচলনা করলে সফলতা আসতে পারে।

    দুবলা ফিমারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সুন্দরবন আবারও দস্যুদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে। এমের নির্মুল করতে না পারলে মাছের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। প্রতিনিয়ত জেলেদের অপহরণ করছে দস্যুরা। এখনো দস্যুদের কাছে ২০ তেকে ২২জন জেলে বন্দি রয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গোপনে ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিযান পরিচালনা করলে তা সফল হবে। মহড়া দিয়ে অভিযান করলে দস্যুরা সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আরো শক্তি সঞ্চয় করে পরবর্তীতে তাদের অপতৎপরতা চালাতে পারে।

    সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হবে। দস্যুদমনের বিষয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গেও আলাপ হয়েছে। স্বরাস্ট্র মন্ত্রী এব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলে ও বনজীবীদের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ঢাকার কোন আসনে কত ভোটার স্থানান্তর? নির্বাচন ঘিরে বিএনপি–ইসির মুখোমুখি অবস্থান

    ঢাকার কোন আসনে কত ভোটার স্থানান্তর? নির্বাচন ঘিরে বিএনপি–ইসির মুখোমুখি অবস্থান

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ভোটার স্থানান্তরের বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপির দাবি, রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ অভিযোগ নাকচ করে বলছে, এই স্থানান্তর সম্পূর্ণ নিয়ম অনুযায়ী এবং স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই রয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের আগস্ট থেকে সারা দেশে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা অঞ্চলে ভোটার স্থানান্তর করেছেন ৮৬ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনেই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন মোট ৪৯ হাজার ৯৯২ জন।

    ঢাকার হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসনগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৩ হাজার ৩৯ জন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে স্থানান্তর হয়েছে ৩ হাজার ৫২০ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ঢাকা-১১ আসনে ৩ হাজার ১৪১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার ঢাকা-৯ আসনে স্থানান্তর হয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ জন ভোটার।

    ইসির তালিকা অনুযায়ী, ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ঢাকা-১ আসনে—৪ হাজার ৭৩২ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম স্থানান্তর হয়েছে ঢাকা-৭ আসনে, যেখানে সংখ্যা মাত্র ৬৭৬ জন।

    ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড, সাভার, কেরানীগঞ্জ, ধামরাই, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা নিয়ে গঠিত ২০টি আসনে ভোটার স্থানান্তরের হার ভিন্ন ভিন্ন হলেও ইসি বলছে, কোথাও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি চোখে পড়েনি।

    এদিকে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য চাইলেও প্রাপ্ত তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, কিছু হোল্ডিং নম্বরে ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা ভুয়া ভোটার সংযোজন বা পরিকল্পিত ভোটার মাইগ্রেশনের ইঙ্গিত দেয়।

    তবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সারা দেশে যে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, তা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। কোথাও ব্যাপক বা অস্বাভাবিক হারে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসির হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন।

    ঢাকার বাইরে দেশজুড়ে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে—যা এবারের নির্বাচনে ভোটার বণ্টনের বৈচিত্র্যকেও স্পষ্ট করে।

  • লাভের মুখ দেখছে আখ চাষ, প্রণোদনা পেলে বদলে যেতে পারে বাগেরহাটের কৃষকের ভবিষ্যৎ

    লাভের মুখ দেখছে আখ চাষ, প্রণোদনা পেলে বদলে যেতে পারে বাগেরহাটের কৃষকের ভবিষ্যৎ

    এবিএনএ,বাগেরহাট : ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় বেশি লাভের সম্ভাবনায় বাগেরহাটে আবারও আখ চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সার ও কীটনাশকের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি প্রণোদনার অভাব—সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়েও চলতি মৌসুমে ভালো ফলন ও ন্যায্য দামে আখ বিক্রি করে স্বস্তি ফিরেছে অনেক চাষির মুখে। বাজারে আখের কেনাবেচা ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

    ফুলতলা গ্রামের কৃষক রুবেল শেখ জানান, গত বছর প্রথমবার আখ চাষ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও হাল ছাড়েননি। ধার করে চলতি বছর ১০ কাঠা জমিতে আখ আবাদ করে তিনি এবার ৭০ হাজার টাকার বেশি লাভ করেছেন। তবে আগের ক্ষতির ঋণ এখনো দুশ্চিন্তার কারণ বলে জানান তিনি।

    কচুয়া উপজেলার বাধাল বাজারে হাটের দিনগুলোতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ট্রাকে করে আখ নিয়ে হাজির হন কৃষকেরা। বাজার সমিতির হিসাব অনুযায়ী, সপ্তাহের দুই হাটে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার আখ কেনাবেচা হয়। আকার ও মানভেদে প্রতি ১০০ আখ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায়।

    আখ চাষি ওমর শেখ বলেন, সার ও ওষুধের খরচ দিন দিন বাড়লেও এবছর ফলন ভালো হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। অন্যদিকে পাইকারি ক্রেতারা জানান, বাধাল বাজারের আখ মানসম্মত হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও তারা এখানে আখ কিনতে আসেন।

    বাজার ইজারাদার খান শহিদুজ্জামান মিল্টন জানান, কম খাজনা ও ভালো নিরাপত্তার কারণে এ বাজারে আখের বেচাকেনা ক্রমেই বাড়ছে। এখান থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় আখ সরবরাহ হচ্ছে।

    কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বাগেরহাটে প্রায় ৭৫০ একর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন।

    এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, অন্যান্য ফসলের মতো আখ চাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনা চালু হলে আবাদ আরও বাড়বে। আখ থেকেই গুড় ও চিনি উৎপাদন সম্ভব—যা আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। প্রণোদনা পেলে কৃষকরা ঝুঁকি ছাড়াই আখ চাষে আরও উৎসাহী হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    ইরানে হামলার আগে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প: কূটনীতি নাকি সামরিক অভিযানে যাবে যুক্তরাষ্ট্র?

    এবিএনএ: ইরানের চলমান বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারে। তখন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও বর্তমানে ইরানে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ নিশ্চিত নন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অপেক্ষা ও অনুমানের মধ্যেই সময় কাটছে।

    রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, তিনি একাধিক কঠোর বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন। মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে তাকে বিস্তারিত অবহিত করবেন বলে জানা গেছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের ‘সাফল্য’ ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। তিনি সেই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম সফল উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইরান প্রশ্নেও সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

    এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এবার সরাসরি হামলা, লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক পদক্ষেপ কিংবা সাইবার ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী গোপন অভিযানের মতো বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হবে ইরানের শাসন কাঠামোকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করা। তবে ভেনেজুয়েলার মতো দ্রুত ফল পাওয়ার সম্ভাবনা ইরানের ক্ষেত্রে কম।

    বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরান ভেনেজুয়েলার মতো রাষ্ট্র নয়। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ ও সংকট সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একজন নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালালেই পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।

    ট্রাম্প সম্প্রতি ১৯৮০ সালে ইরানে ব্যর্থ মার্কিন অভিযানের উদাহরণ টেনে সতর্কতার কথাও বলেছেন। সেই অভিযানের ব্যর্থতা শুধু সামরিক ক্ষতিই নয়, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতকেও প্রভাবিত করেছিল। ওই অভিজ্ঞতা এখনো ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ছায়া ফেলছে।

    সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক উইল টডম্যানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের আসল লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি শাসন পরিবর্তনের চেয়ে ইরানের আচরণে প্রভাব ফেলতে চায়। এর মধ্যে পারমাণবিক আলোচনায় ছাড় আদায়, দমনপীড়ন বন্ধ এবং সংস্কারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পথ খোলার চেষ্টা থাকতে পারে।

    ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থার ভেতরে আলোচনায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। যদিও হোয়াইট হাউস বলছে, প্রকাশ্য বক্তব্য ও গোপন বার্তার মধ্যে ফারাক রয়েছে। এ কারণে কূটনীতি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    তবে বিক্ষোভে রক্তপাত অব্যাহত থাকলে কূটনৈতিক উদ্যোগ দুর্বলতার বার্তা দিতে পারে বলেও মত রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, সীমিত সামরিক অভিযান বিক্ষোভকারীদের সাহস জোগাতে পারে এবং শাসকদের জন্য কঠোর সতর্কতা হয়ে উঠবে। আবার একই সঙ্গে এটি শাসনব্যবস্থাকে আরও ঐক্যবদ্ধও করতে পারে।

    এই সব ঝুঁকি বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।