এবিএনএ স্পেশাল

ঢাকার কোন আসনে কত ভোটার স্থানান্তর? নির্বাচন ঘিরে বিএনপি–ইসির মুখোমুখি অবস্থান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঢাকার ২০ আসনে প্রায় ৫০ হাজার ভোটার স্থানান্তর—কোথায় বেশি, কোথায় কম, বিস্তারিত পরিসংখ্যান

এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ভোটার স্থানান্তরের বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দল বিএনপির দাবি, রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ অভিযোগ নাকচ করে বলছে, এই স্থানান্তর সম্পূর্ণ নিয়ম অনুযায়ী এবং স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যেই রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের আগস্ট থেকে সারা দেশে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা অঞ্চলে ভোটার স্থানান্তর করেছেন ৮৬ হাজার ৮২৫ জন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনেই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন মোট ৪৯ হাজার ৯৯২ জন।

ঢাকার হেভিওয়েট প্রার্থীদের আসনগুলোতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসনে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ৩ হাজার ৩৯ জন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে স্থানান্তর হয়েছে ৩ হাজার ৫২০ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ঢাকা-১১ আসনে ৩ হাজার ১৪১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার ঢাকা-৯ আসনে স্থানান্তর হয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ জন ভোটার।

ইসির তালিকা অনুযায়ী, ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়েছে ঢাকা-১ আসনে—৪ হাজার ৭৩২ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম স্থানান্তর হয়েছে ঢাকা-৭ আসনে, যেখানে সংখ্যা মাত্র ৬৭৬ জন।

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড, সাভার, কেরানীগঞ্জ, ধামরাই, নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা নিয়ে গঠিত ২০টি আসনে ভোটার স্থানান্তরের হার ভিন্ন ভিন্ন হলেও ইসি বলছে, কোথাও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি চোখে পড়েনি।

এদিকে বিএনপি নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য চাইলেও প্রাপ্ত তালিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দাবি করেছেন, কিছু হোল্ডিং নম্বরে ভোটারের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা ভুয়া ভোটার সংযোজন বা পরিকল্পিত ভোটার মাইগ্রেশনের ইঙ্গিত দেয়।

তবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সারা দেশে যে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে, তা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ। কোথাও ব্যাপক বা অস্বাভাবিক হারে স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসির হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৯ লাখ এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন।

ঢাকার বাইরে দেশজুড়ে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে—যা এবারের নির্বাচনে ভোটার বণ্টনের বৈচিত্র্যকেও স্পষ্ট করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button