Category: অর্থ বাণিজ্য

  • সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিএনপির কোনো নিজস্ব ব্যাংক নেই, তবে দেশের মানুষ ভালো করেই জানে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলো রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়া বা ঋণ পুনঃতফসিল কোনো নতুন বিষয় নয়। এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক ঝুঁকি, অর্থনৈতিক সংকট বা বৈশ্বিক দুর্যোগের সময় এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

    তিনি দাবি করেন, গত প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তার ভাষায়, “অনেক ব্যবসায়ীকে অনুমোদিত ঋণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, এমনকি তাদের ব্যবসা পরিচালনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।”

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের এখন ঋণ খেলাপি বলা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন বা কারাবন্দি ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করা সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেসব গোষ্ঠীর নিজস্ব ব্যাংক রয়েছে, তারা নিজেদের সুবিধামতো শীর্ষ পদে নিয়োগ দিতে পারেন। ফলে তাদের ঘনিষ্ঠদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এই সুবিধা বিএনপির নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অনেক সময় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি পেশাদার খাতের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

    রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে মন্তব্য

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

    তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম-এর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই শপথ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

    অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বক্তব্যেও পরিবর্তন এসেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “যদি কেউ সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে—এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব।”

  • হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    হঠাৎ বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম: লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি, আজ থেকেই নতুন দরে বিক্রি

    এবিএনএ: দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দামে নতুন সমন্বয় করা হয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৭৯ টাকা করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বাড়ার কারণে এই সমন্বয় প্রয়োজন হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর পণ্য হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও অন্যান্য খরচ বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    তিনি বলেন, রমজান মাস থেকেই ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারদর, আমদানি ব্যয় ও সংশ্লিষ্ট খরচ যাচাই করে তাদের দাবির যৌক্তিকতা খুঁজে পায়। তবে প্রস্তাবিত পূর্ণ বৃদ্ধি না করে আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে ভোক্তাদের ওপর চাপ কিছুটা কম থাকে।

    সরকার আশা করছে, নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ফলে সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে এবং রিফাইনারদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, বর্তমান দামেও তাদের ব্যয় পুরোপুরি সমন্বয় হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন খরচ, খালাস ব্যয় ও রিফাইনিং খরচ যুক্ত করেই তারা মূল্য নির্ধারণ করেন বলে দাবি করেন তারা। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং নির্ধারণের সূত্র উন্মুক্ত।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দেশীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। একাধিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন দামের বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং খুচরা পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারি জোরদার করা হবে।

  • প্রবাসী আয়ে রেকর্ড গতি, আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    প্রবাসী আয়ে রেকর্ড গতি, আবারও ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

    এবিএনএ:  প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহে আবারও শক্তিশালী হয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। গত মার্চ মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার পর এপ্রিলেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে। এর ফলেই মোট রিজার্ভ ফের ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

    এর এক মাস আগে ১৬ মার্চ মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

    তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মোট রিজার্ভের পুরোটা ব্যবহারযোগ্য নয়। স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে নিট রিজার্ভ থাকে, সেটিই প্রকৃত শক্তি নির্দেশ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসাব করে থাকে, যেখানে আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত বাদ দেওয়া হয়।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার। মাসে গড়ে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে, এ রিজার্ভ দিয়ে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়।

    এক সময় রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ায় ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তখন বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ এবং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং অর্থপাচার রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনছে। এতে রিজার্ভ আরও উন্নত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ডলারের মূল্য অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তখন ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে ঋণ অনিয়ম, অর্থপাচার ও বৈদেশিক চাপের কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমদানি ব্যয়ে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

    পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয় এবং রেমিট্যান্স বাড়াতে নানা প্রণোদনা দেওয়া হয়। আমদানি বিধিনিষেধও পর্যায়ক্রমে শিথিল করা হয়। এর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে শুরু করে এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধার সহজ হয়।

    চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    গত কয়েক মাস ধরেই প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

    প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬১ কোটি ডলার কেনা হয়েছে। এতে রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে ফিরে আসছে।

    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভ বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেই স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি জাহাজ, আসছে আরও এলএনজি কার্গো

    মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেই স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি জাহাজ, আসছে আরও এলএনজি কার্গো

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি বোঝাই দুটি জাহাজ পৌঁছেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ ধাপে ধাপে দেশে আসার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

    চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘ডিএল লিলি’ এবং ভারত থেকে গ্যাসবাহী আরেকটি জাহাজ বন্দরে নোঙর করে। এতে দেশে তরল গ্যাসের সরবরাহ পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামের একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। এর পরদিন সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামের আরেকটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘মারান গ্যাস হাইড্রা’ এবং ১৮ এপ্রিল ‘লবিটো’ নামের আরও দুটি এলএনজিবাহী জাহাজ দেশে আসার সূচি রয়েছে।

    এলপিজি বা লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস মূলত প্রোপেন ও বিউটেনের মিশ্রণ। এটি সিলিন্ডারে ভরে গৃহস্থালি রান্না, রেস্তোরাঁ এবং কিছু যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাইপলাইন সুবিধা নেই এমন এলাকায় এলপিজিই রান্না ও ক্ষুদ্র শিল্পের তাপ উৎপাদনের প্রধান উৎস।

    অন্যদিকে এলএনজি বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষিত হয় এবং প্রধানত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বড় শিল্পকারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার, টেক্সটাইল, সিরামিকসহ ভারী শিল্পে প্রয়োজনীয় উচ্চ তাপ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এছাড়া সমুদ্রগামী জাহাজ ও দূরপাল্লার ভারী যানবাহনেও এলএনজির ব্যবহার বাড়ছে।

  • তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস, যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাজারে চাপ; টিকে থাকতে নতুন কৌশলের পথে শিল্প মালিকরা

    তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস, যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাজারে চাপ; টিকে থাকতে নতুন কৌশলের পথে শিল্প মালিকরা

    এবিএনএ: দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রধান দুটি বাজার—যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে—রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এই দুই অঞ্চলে অর্ডার কমে যাওয়ায় সামগ্রিক রপ্তানিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

    রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫১ শতাংশ কম। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট এবং ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনকে এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বড় বাজারে চাপ বাড়ছে

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখানে মোট রপ্তানির প্রায় অর্ধেক যায়। এই বাজারে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে ১৪.২ বিলিয়ন ডলারে। ইউরোপে ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক চাপ এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে রপ্তানি কমে ৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। যুক্তরাজ্যের বাজারেও সামান্য পতন হয়েছে, তবে কানাডায় রপ্তানি প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.৮৫ শতাংশ কম।

    নতুন বাজারেও কমেছে রপ্তানি

    শুধু প্রচলিত বাজার নয়, নতুন ও অপ্রচলিত বাজারগুলোতেও রপ্তানি কমেছে ৮.০৫ শতাংশ। পণ্যের ধরন অনুযায়ী নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৬.৪২ শতাংশ এবং ওভেন পণ্যে কমেছে ৪.৪৮ শতাংশ।

    বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন নতুন নকশা, উচ্চমূল্যের পণ্য এবং টেকসই উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে প্রচলিত কম দামের পণ্যে নির্ভরতা কমাতে হবে।

    কেন কমছে রপ্তানি

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘ ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাব সরাসরি রপ্তানিতে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ থেকে অর্ডার কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।

    এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং চীনের কম দামের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উচ্চ শুল্ক এড়াতে চীন ইউরোপে কম দামে পণ্য সরবরাহ করায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে।

    শিল্প মালিকদের উদ্বেগ

    পোশাকশিল্প মালিকরা বলছেন, জ্বালানি সংকট এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতিতে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তারা শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি খাতের জন্য সতর্কবার্তা। নতুন বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পণ্যে মনোযোগ দিলে রপ্তানি আবারও বাড়ানো সম্ভব।

    তাদের আশা, সঠিক কৌশল গ্রহণ এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।

  • ঈদের পর বাজারে নতুন ধাক্কা: সোনালী ৪৩০ টাকা, বাড়ছে ব্রয়লার ও মাছের দাম

    ঈদের পর বাজারে নতুন ধাক্কা: সোনালী ৪৩০ টাকা, বাড়ছে ব্রয়লার ও মাছের দাম

    এবিএনএ: রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও বেড়েছে মুরগির দাম। এক মাসের ব্যবধানে সোনালী মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ৮০ টাকা বেড়ে ৪৩০ টাকায় উঠেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগিও বাড়তির দিকে, এক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। ঈদের আগে সোনালী মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

    শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও প্রভাব পড়ছে।

    রামপুরা বাজারের এক বিক্রেতা জানান, আগের দিনের তুলনায় ব্রয়লার কিনতে তাদেরই বেশি দাম দিতে হয়েছে। ঈদের পর থেকেই সোনালী মুরগির দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। খামারে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে বলে দাবি করছেন তারা।

    ক্রেতাদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যে বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এক ক্রেতা বলেন, রমজানেও সোনালী মুরগি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও ঈদের পর দাম দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

    মুরগির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। অধিকাংশ মাছ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ মাছ ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছে। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগেও ছিল প্রায় ২৮০ টাকা। বড় আকারের রুই মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরাসহ অন্যান্য মাছের দামেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

    বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের বাজারে এমন দাম বেড়েছে।

    এদিকে পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে ইলিশের দামও নাগালের বাইরে চলে গেছে। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২৮০০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের মাছ ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতারা বলছেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম বাড়ে— এটি স্বাভাবিক হলেও এবার দাম অনেক বেশি। তারা বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

    অন্যদিকে বিক্রেতাদের ভাষ্য, এ বছর ইলিশের সরবরাহ কম। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। জেলেদের জালে পর্যাপ্ত মাছ না পড়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে বলে জানান তারা।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি ছাড়াল, আমদানি বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি ছাড়াল, আমদানি বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ

    এবিএনএ: চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে। স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বৈদেশিক লেনদেন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে যায়। ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বেশি আমদানি হওয়ায় মোট আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে প্রত্যাশিত হারে রপ্তানি আয় না বাড়ায় বাণিজ্য ব্যবধান আরও বড় হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে মোট আমদানি হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

    অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। ফলে আমদানি ও রপ্তানির ব্যবধান বাড়তেই থাকে এবং বাণিজ্য ঘাটতি আরও গভীর হয়।

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় আমদানি কমানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে রপ্তানি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

    চলতি হিসাবের ভারসাম্য

    চলতি হিসাবের ভারসাম্যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে। ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার। অর্থাৎ কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে সূচকটি।

    সামগ্রিক লেনদেনে ইতিবাচক অবস্থান

    সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের চিত্র তুলনামূলক ভালো রয়েছে। আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলারে উদ্বৃত্ত। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই সূচক ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলারে ছিল।

    রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি

    চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল এক হাজার ৮৮৭ কোটি ডলার। সে হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ।

    বিদেশি বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজার

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) কিছুটা কমতি দেখা গেছে। আলোচিত সময়ে দেশে এসেছে ৮৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০৬ কোটি ডলার।

    অন্যদিকে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে নিট হিসেবে প্রায় ৮ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ বেরিয়ে গেছে। আগের অর্থবছরেও একই ধরনের নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ আরও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • পুঁজিবাজারে বড় ধস: একদিনেই ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট পতন, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

    পুঁজিবাজারে বড় ধস: একদিনেই ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট পতন, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ

    এবিএনএ: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) লেনদেন শেষে দেখা গেছে, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক লাফে ১০৭ পয়েন্ট কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনের শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১১২ পয়েন্টে। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সূচক কমেছে ১৮ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক হ্রাস পেয়েছে ৩৫ পয়েন্ট।

    লেনদেনের দিক থেকেও ঢাকার বাজারে কিছুটা স্থবিরতা দেখা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫১২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৬২৫ কোটির বেশি।

    বাজারের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর নিম্নমুখী ছিল। মোট ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২৫টির শেয়ার দর বেড়েছে, বিপরীতে ৩৫৪টির দাম কমেছে এবং অল্প কিছু অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেশ কয়েকটি পরিচিত কোম্পানি, যার মধ্যে রয়েছে ওষুধ, বীমা, স্টিল ও খাদ্য খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকও নিম্নমুখী ছিল। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে। তবে লেনদেনের পরিমাণ সেখানে বেড়েছে, যা বাজারে কিছুটা ভিন্ন প্রবণতা নির্দেশ করছে।

    সিএসইতে এদিন ৪৩ কোটির বেশি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে এখানেও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাজারে আস্থার ঘাটতি, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই এই পতন দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শুরুতেই এমন বড় পতন পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

  • ব্যাংক খাতে ধাক্কা: ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে অর্ধেক!

    ব্যাংক খাতে ধাক্কা: ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় কমে অর্ধেক!

    এবিএনএ: দেশের ব্যাংকিং খাত ২০২৪ সালে এক কঠিন সময় অতিক্রম করেছে। বছরের বেশিরভাগ সময় আর্থিক চাপের কারণে ১৭টি ব্যাংক লাভ করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব ব্যাংক কিছুটা মুনাফা করেছে, তাদের আয়ের পরিমাণও প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের ওপর।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর কার্যক্রমে ব্যয় করেছে ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা। আগের বছরের তুলনায় এ খাতে ব্যয় কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    গত এক দশকের হিসাব বলছে, এটি সিএসআর ব্যয়ের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২০১৫ সালে এ খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় হয়েছিল ৫২৭ কোটি টাকার কিছু বেশি। সেই তুলনায় বর্তমান ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা খাতটির নিম্নমুখী প্রবণতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

    পূর্ববর্তী বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি টাকার বেশি এবং ২০২২ সালে তা ছাড়িয়েছিল ১ হাজার কোটি টাকা। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় কমেছে অর্ধ ট্রিলিয়নেরও বেশি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের আর্থিক দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং পরবর্তী সরকার পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসায় প্রকৃত আর্থিক অবস্থার চিত্র পরিষ্কার হতে শুরু করে।

    বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের প্রভাব এসব ব্যাংকের স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগও নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আগে বিভিন্ন পর্যায় থেকে অনুদান বা সহায়তার চাপ থাকলেও সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে। ফলে এখন ব্যাংকগুলো সিএসআর খাতে ব্যয় করার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে সতর্ক ও বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এই তহবিল প্রকৃত সামাজিক উন্নয়নের পরিবর্তে অন্য খাতে ব্যয় হয়, যা মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।

    নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা। তবে বাস্তবে এ নির্দেশনা পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। ২০২৫ সালে দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে, যেখানে বরাদ্দ গেছে ৩৬ শতাংশ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় তুলনামূলক কম এবং পরিবেশ খাতে ব্যয় সবচেয়ে কম।

    প্রতিবেদন আরও জানায়, ১১টি ব্যাংক গত বছরে সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। অন্যদিকে, কিছু ব্যাংক লোকসানে থেকেও সীমিত পরিসরে সিএসআর কার্যক্রম চালিয়ে গেছে, যা খাতটির বৈচিত্র্যময় চিত্র তুলে ধরে।

    সব মিলিয়ে, ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এ সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে।

  • রেমিট্যান্সে ইতিহাস গড়লো মার্চ—এক মাসেই এলো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার!

    রেমিট্যান্সে ইতিহাস গড়লো মার্চ—এক মাসেই এলো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার!

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের ধারায় নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে। এই এক মাসেই দেশে এসেছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি—এক মাসে যা সর্বোচ্চ রেকর্ড।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে প্রবাসীরা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য গতি তৈরি হয়েছে।

    পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। যেখানে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল ৩৩০ কোটি ডলার, সেখানে এবার তা ছাড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ডলার।

    এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার, যা মার্চে এসে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬২১ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (বিপিএম-৬) অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে আরও স্থিতিশীলতা আসবে।