Category: অর্থ বাণিজ্য

  • শীত বিদায়ের পথে, সরবরাহ কমতেই দামে আগুন—সবজির বাজারে অস্থিরতা

    শীত বিদায়ের পথে, সরবরাহ কমতেই দামে আগুন—সবজির বাজারে অস্থিরতা

    এবিএনএ: শীতের মৌসুম প্রায় শেষের পথে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে। শীতকালীন সবজির জোগান কমে যাওয়ায় বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা, আর বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

    শুক্রবার সকালে মেরুল বাড্ডা পাঁচতলা ও মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু সবজির দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। যদিও টমেটোর দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে সিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকা কেজিতে। শসার দামও ঊর্ধ্বমুখী—এখন কেজিপ্রতি ৬০ টাকা।

    অন্যান্য সবজির মধ্যে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শালগম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা এবং উস্তে ১২০ টাকা কেজি দরে। আলু ২০ টাকা, পেঁপে ও গাজর ৪০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। ফুলকপি প্রতিটি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শাকের বাজারে লাল শাক ও পালংশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা।

    সবজি বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। পাঁচতলা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আমিনুল ইসলামের মতে, সামনে রমজান মাস শুরু হলে সবজির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ক্রেতারা বলছেন, শীতের মৌসুমেও এবার সবজির দাম স্বস্তিদায়ক ছিল না। এখন রোজাকে সামনে রেখে দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

    সবজির পাশাপাশি মাছ ও মাংসের বাজারেও চাপ রয়েছে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা কেজিতে, কাতল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে সরবরাহ সংকট ও মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাবে রাজধানীর বাজারে স্বস্তির বদলে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

  • শীত শেষের আগেই বাজারে ঝাঁজ: দুই সপ্তাহে কেজিতে ১৫–২০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম

    শীত শেষের আগেই বাজারে ঝাঁজ: দুই সপ্তাহে কেজিতে ১৫–২০ টাকা বেড়েছে সবজির দাম

    এবিএনএ: শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুম শেষের দিকে যেতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও দামের ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে। মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

    শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা, আজমপুর ও আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। শালগমের দাম ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা এবং শসা ও গাজর কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।

    এ ছাড়া মুলা প্রতি কেজি ৫০ টাকা, টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। জাতভেদে শিমের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৮০ টাকা। আলু ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া গেলেও ফুলকপি ও বাঁধাকপির দাম পিসপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় উঠেছে।

    উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের কাঁচাবাজারে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রিপন সরকার বলেন, গত সপ্তাহেও যেসব সবজি কম দামে কেনা যেত, সেগুলোর দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। তিনি জানান, ফুলকপির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে এবং পেঁয়াজের কলির দামও বেড়েছে।

    আরেক ক্রেতা রিয়াজুল হান্নান বলেন, শীত শেষের অজুহাতে বিক্রেতারা প্রায় প্রতিটি সবজির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করার দাবি জানান তিনি।

    অন্যদিকে কামারপাড়া কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা তৈয়বুর রহমান বলেন, শীতের শেষ পর্যায়ে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বাজারে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, বর্তমানে অনেক সবজি পাইকারিতে আগের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

  • রমজানে ভোজ্যতেলের বাজারে স্বস্তি: কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে আসছে পৌনে ৩ কোটি লিটার সয়াবিন

    রমজানে ভোজ্যতেলের বাজারে স্বস্তি: কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে আসছে পৌনে ৩ কোটি লিটার সয়াবিন

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট রোধ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কানাডার একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় পৌনে ৩ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করা হবে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫৭ কোটি ৬২ হাজার ১০০ টাকা। টিসিবির গুদাম পর্যন্ত সব খরচ যোগ করে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়াবে ১৬৩ টাকা ৬ পয়সা।

    সূত্র জানায়, কানাডার এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস ইনকরপোরেটেড (উৎস দেশ ব্রাজিল) থেকে এই তেল সংগ্রহ করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত দুই লিটার পেট বোতলে প্রতি লিটার তেলের মূল্য ধরা হয়েছে ১৩১ টাকা ৪৯ পয়সা।

    সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই সয়াবিন তেল খোলাবাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কম দামে বিক্রি করা হবে। ফলে এ খাতে সরকারের কোনো ভর্তুকির প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

    এর আগে চলতি মাসের ৬ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৫ হাজার লিটার সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার লিটারপ্রতি মূল্য ছিল ১৬২ টাকা ৬৩ পয়সা।

  • রেমিট্যান্সে আর অপেক্ষা নয়: পাঠানোর দিনই টাকা জমার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

    রেমিট্যান্সে আর অপেক্ষা নয়: পাঠানোর দিনই টাকা জমার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

    এবিএনএ: বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দ্রুত গ্রাহকের হাতে পৌঁছাতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ একই কর্মদিবসে অথবা সর্বোচ্চ পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকের হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে হবে।

    আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতা কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নীতিমালা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সার্কুলারে জানানো হয়, নির্দেশনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপদ ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রাহককে অবহিত করবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে অর্থ এলে সেদিনই এবং ব্যাংকিং সময়ের পর এলে পরবর্তী কর্মদিবসে টাকা হিসাবে জমা দিতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) ও ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে কিছু আনুষ্ঠানিক যাচাই বাকি থাকলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা রাখা যাবে, যা পরবর্তীতে সম্পন্ন করা হবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পোস্ট-ক্রেডিট যাচাই সম্ভব নয়, সেখানে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি আরও গতিশীল করতে দিনের শেষে ‘নস্ট্রো’ হিসাবের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন চালুর কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া ৬০ মিনিটের মধ্যে শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে গ্রাহকের হিসাবে জমা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ট্র্যাক করার জন্য ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউটিআর) ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম উন্নত করে ফরম সি ও ফরম সি (আইসিটি) সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, এতে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে এবং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যদিও শুরুতে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।

  • আমদানির অনুমতি মিলতেই পিয়াজের বাজারে স্বস্তি—কেজিতে কমলো ৩০ টাকা পর্যন্ত

    আমদানির অনুমতি মিলতেই পিয়াজের বাজারে স্বস্তি—কেজিতে কমলো ৩০ টাকা পর্যন্ত

    এবিএনএ: দেশে পিয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলেছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে পিয়াজের দাম, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    রাজধানীর কারওয়ানবাজারে দেশি পুরোনো পিয়াজের সরবরাহ কিছুটা কম থাকলেও দাম নেমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাইকারিতে কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা ১৩০ টাকার বেশি নয়। দুই দিন আগেও একই পিয়াজের দাম ছিল ১৫০ টাকার কাছাকাছি।

    বাজারে এখন তুলনামূলক কম দামের মুড়িকাটা জাত পাওয়া যাচ্ছে কেজিপ্রতি ৯০ টাকায়। দোকানিরা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে এবং মুড়িকাটা পিয়াজের সরবরাহ আরও বাড়লে দাম নিচের দিকে নামতেই থাকবে।

    এর আগে মাসখানেক ধরে পিয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় ভোক্তাদের বড় চাপের মুখে পড়তে হয়। তবে সরকার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই বাজার স্থিতিশীলতার পথে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ইতোমধ্যে আমদানি কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে প্রথম দফায় প্রায় ৩০ টন পিয়াজ দেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

  • জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর ১ ডিসেম্বর থেকে, ভোক্তাদের বাড়তি চাপ

    জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর ১ ডিসেম্বর থেকে, ভোক্তাদের বাড়তি চাপ

    এবিএনএ:  দেশের ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ডিসেম্বর মাসের জন্য নতুন মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    রবিবার (৩০ নভেম্বর) জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম ২ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হবে।

    নতুন নির্ধারিত দরে—
    ডিজেল: প্রতি লিটার ১০৪ টাকা (আগে ছিল ১০২ টাকা)
    অকটেন: প্রতি লিটার ১২৪ টাকা (আগে ছিল ১২২ টাকা)
    পেট্রোল: প্রতি লিটার ১২০ টাকা (আগে ছিল ১১৮ টাকা)
    কেরোসিন: প্রতি লিটার ১১৬ টাকা (আগে ছিল ১১৪ টাকা)

    মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা বিবেচনায় দেশে প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী মাসিক ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে দেশীয় বাজারে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন খাত, কৃষি উৎপাদন ও নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার বলছে, স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

    নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর ভোক্তাদের বাড়তি খরচ বহনে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

  • সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি কাণ্ড: সাবেক ছাত্রদল নেতা রনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা

    সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি কাণ্ড: সাবেক ছাত্রদল নেতা রনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা

    এবিএনএ: সঞ্চয়পত্রের সার্ভার ব্যবহার করে কোটি টাকার জালিয়াতির ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ মারুফ এলাহী রনিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক আসামিকে।

    আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল খায়ের মো. খালিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখার গ্রাহক মো. আরিফুর রহমান মিম।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রদত্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে গোপনে সিস্টেমে প্রবেশ করেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের হিসাব তথ্য ও মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করেন। এর মাধ্যমে তারা কয়েকটি সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে লাখো টাকার অর্থ আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেন।

    এ ঘটনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার সাবেক ছাত্রদল নেতা মারুফ এলাহী রনির হিসাবে দুইটি সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপে অর্থটি আটকে যায় এবং পরে সরকারি খাতে ফেরত দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে মহাহিসাব নিরীক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা এস এম রেজভীর ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নগদায়ন করে এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুরের রানীগঞ্জ উপশাখায় আরিফুর রহমানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে টাকাটি ঢাকার দুটি শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়।

    মতিঝিল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আরিফুর রহমান প্রাথমিকভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে এবং তার সঙ্গে অন্য আসামিদের যোগাযোগের তথ্য অনুসন্ধান চলছে।

    মোহাম্মদ মারুফ এলাহী রনি দাবি করেন, তিনি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তাঁর ডাচ্-বাংলা ব্যাংক হিসাবটি ছাত্রজীবনে খোলা, যার লেনদেন সীমা পাঁচ লাখ টাকা এবং বর্তমানে স্থিতি মাত্র ৩৫ হাজার। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই এমন অপচেষ্টা হতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিল অফিসের তিনজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার। ঘটনাটি তদন্তে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ ও এনআরবিসি ব্যাংকের পৃথক কমিটি কাজ করছে।

    এই ঘটনার পর থেকে সঞ্চয়পত্রের অনলাইন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা সুদ বা আসল নগদায়নে ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা জোরদারের পর আগামী রোববার থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে পারে।

  • অর্থনীতিতে ধাক্কা: কমে গেল জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৩.৬৯%

    অর্থনীতিতে ধাক্কা: কমে গেল জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৩.৬৯%

    এবিএনএ: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও শ্লথ হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।

    এর আগে ২৭ মে বিবিএস তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত অর্থনীতির গতিধারা বিশ্লেষণ করে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাথমিক অনুমান দিয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, বাস্তব প্রবৃদ্ধি প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

    বিবিএস জানিয়েছে, পরবর্তীতে সব প্রান্তিকের চূড়ান্ত তথ্য বিশ্লেষণ শেষে জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করা হবে, যা সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হয়। সেক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগের বছর (২০২২-২৩) প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

    বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৩ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। স্থির মূল্যে শেষ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, আগের অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ২ দশমিক ২৪ শতাংশ।

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে শিল্প খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে—গত প্রান্তিকে এর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ, যা গত বছর ছিল মাত্র ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

    অন্যদিকে সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি কমেছে; ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এই খাতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আগের বছর যা ছিল ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটের কারণে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়েছে।

  • ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমলো, ১২ কেজি বোতল এখন ২৯ টাকা সস্তা

    ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমলো, ১২ কেজি বোতল এখন ২৯ টাকা সস্তা

    এবিএনএ: ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম এই অক্টোবর মাসে কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মঙ্গলবার নতুন মূল্য ঘোষণা করে। ১২ কেজি বোতলজাত এলপিজির দাম ২৯ টাকা কমিয়ে এক হাজার ২৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।

    কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে মূসকসহ দাম প্রতিকেজি ১০৩.৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, ৫.৫, ১২.৫, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২২, ২৫, ৩০, ৩৩, ৩৫ এবং ৪৫ কেজি বোতলজাত এলপিজির দামও সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া অটোগ্যাসের মূসকসহ ভোক্তা মূল্য প্রতি লিটার ৫৬.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি এলপিজির ডিলার পয়েন্টে ১২.৫০ কেজি বোতলের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি বোতলজাত এলপিজির দাম ছিল এক হাজার ২৭০ টাকা। নতুন সমন্বয়ের ফলে ভোক্তাদের গ্যাস ক্রয় এখন কিছুটা সস্তা হয়েছে।

  • কর রাজস্ব ঘাটতিতে আইএমএফের অব্যাহতি চাইবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

    কর রাজস্ব ঘাটতিতে আইএমএফের অব্যাহতি চাইবে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন অর্থ উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির আওতায় কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে আসন্ন পর্ষদ সভায় দেশটিকে অব্যাহতির আবেদন জানাতে হবে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে অন্যান্য সব শর্ত পূরণ হওয়ায় ঋণ কিস্তি অনুমোদনে বড় কোনো বাধা দেখা দেবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।

    আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। সভায় বর্তমান ঋণ কর্মসূচি, রাজস্ব ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

    আইএমএফের ডেভেলপমেন্ট মাইক্রো ইকোনমিক্স বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জির নেতৃত্বে একটি দল ২৯ অক্টোবর ঢাকা সফরে আসছে। তারা দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ষষ্ঠ কিস্তির (প্রায় ৮০ কোটি ডলার) ছাড়ের শর্তগুলো পর্যালোচনা করবে।

    ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা—অর্থাৎ ঘাটতি প্রায় ৬৪ হাজার কোটি টাকা। যদিও অন্য পাঁচটি সূচক পূরণ হয়েছে, যেমন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়া এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর আদায় ছাড়া আইএমএফের অন্য সব শর্ত প্রায় পূরণ হয়েছে—যেমন ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, আর্থিক খাত সংস্কার এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ। এ কারণে রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবে ব্যাখ্যা করে অব্যাহতি চাওয়া হবে।

    বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। তাই আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল হতে পারে। তবে বিষয়টি বাধ্যতামূলক হওয়ায় চাপ থাকবে।”

    এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এটি সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হলেও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব সংস্কার পরিকল্পনা আইএমএফকে আশ্বস্ত করবে। পূর্বে রিজার্ভ ঘাটতিতেও অব্যাহতি পাওয়া গিয়েছিল, ফলে এবারও ইতিবাচক ফল আসবে বলে প্রত্যাশা।