Category: অর্থ বাণিজ্য

  • বিদেশি সংস্থার হাতে দেশের নীতিনির্ধারণ: পিআইবিতে আনু মুহাম্মদের ক্ষোভ

    বিদেশি সংস্থার হাতে দেশের নীতিনির্ধারণ: পিআইবিতে আনু মুহাম্মদের ক্ষোভ

    এবিএনএ: রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউটে (পিআইবি) অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেছেন, দেশের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা রাখছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা ও আইএমএফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন দেশের প্রভাবশালী আমলা ও ব্যবসায়ীরা।

    সভাটি আয়োজন করে নাগরিক উদ্যোগ ও পিপলস হেলথ মুভমেন্ট। সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী বারাকাত উল্লাহ মারুফ।

    আনু মুহাম্মদ বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে যারা নীতি ঠিক করতেন, ড. ইউনূসের আমলেও তারাই সক্রিয়। বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা পূর্বের উন্নয়ন মডেলকে ‘মিরাকল’ বললেও এখন তারা নিজেরাই নীতি নির্ধারণ করছে। উপদেষ্টারাও এতে উৎসাহী।”

    গোপন চুক্তির সমালোচনায় তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হলে জনগণকে জানানো উচিত। কিন্তু অতীতে করা গোপন চুক্তি প্রকাশ করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তা কাজে লাগায়নি।”

    সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশ এখনও এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রস্তুত নয়। ২০২৬ সালের নভেম্বরে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নেওয়ার সময় আসছে, তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এফটিএ আসলে জোরপূর্বক বাণিজ্য চুক্তি। বিদেশ থেকে সস্তায় গরুর মাংস আমদানি হলে দেশীয় বাজার ও লাখো ক্ষুদ্র খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশেষ করে নারীরা যারা গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

    তিনি দেশীয় সম্পদ কাজে লাগানোর উপর জোর দিয়ে বলেন, “সি উইড ও কুচিয়া রপ্তানিতে সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে হবে।”

    সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. জাহেদ মাসুদ, অ্যাডভোকেট তাসলিমা জাহান এবং থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের জেনেভা ভিত্তিক গবেষক সানিয়া রিড স্মিথসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

  • মঙ্গলবার বাজারে আসছে ১০০ টাকার নতুন নোট, থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছাপ

    মঙ্গলবার বাজারে আসছে ১০০ টাকার নতুন নোট, থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জলছাপ

    এবিএনএ:  আগামী মঙ্গলবার থেকে বাজারে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নকশার ১০০ টাকার নোট। প্রাথমিকভাবে মতিঝিল কার্যালয় থেকে ছাড়ার পর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শাখা থেকেও এটি পাওয়া যাবে। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন নোটের নকশা ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

    বর্তমানে প্রচলিত নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকলেও নতুন নোটে তা থাকছে না। তবে পুরনো সব নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চলবে। এছাড়া মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিনিময়যোগ্য নয়—এমন ১০০ টাকার নমুনা নোটও ছাপা হয়েছে, যা মিরপুরের টাকা জাদুঘর থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

    গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত নতুন নোটের আকার ১৪০ মিমি × ৬২ মিমি এবং এটি ১০০ শতাংশ সুতি কাগজে মুদ্রিত। নোটে জলছাপ হিসেবে থাকছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ। রঙের আধিক্য নীল এবং সামনের বাঁ পাশে মুদ্রিত হয়েছে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ। মাঝের ব্যাকগ্রাউন্ডে রয়েছে শাপলার ছবি, আর পেছনে থাকছে সুন্দরবনের দৃশ্য।

    নতুন নোটে যুক্ত হয়েছে ১০ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৪ মিমি প্রশস্ত লাল-রুপালি রঙের নিরাপত্তা সুতা, যেখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ ও ‘১০০ টাকা’ খোদাই রয়েছে। নোট নড়াচড়া করলে সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য রয়েছে তিনটি উঁচু বৃত্ত, যা স্পর্শে অনুভূত হবে।

    এর আগে চলতি বছরের ১ জুন বাজারে আসে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট। তবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসংবলিত নতুন নোট বাজারে ছাড়ায় সাময়িক বিরতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যা পরবর্তীতে এই নতুন নকশার মাধ্যমে পুনরায় চালু হচ্ছে।

  • ডিম-পেঁয়াজের হঠাৎ দামে আগুন: বাজারে অস্থিরতা, ভোক্তারা চাপে

    ডিম-পেঁয়াজের হঠাৎ দামে আগুন: বাজারে অস্থিরতা, ভোক্তারা চাপে

    এবিএনএ:  ডিম ও পেঁয়াজ—দুইটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। চলতি বর্ষা মৌসুম, সরবরাহ ঘাটতি ও মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে উৎপাদন কমে যাওয়াকেই দায়ী করছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। তবে ভোক্তাদের মতে, পুরনো ‘সিন্ডিকেট’ পদ্ধতি নতুন করে সক্রিয় হয়েছে—তাদের দাবি, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে।

    গত এক মাস ধরে ডিমের বাজারে স্থিতিশীলতা থাকলেও সম্প্রতি সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে গেছে ১০-১৫ টাকা। এখন লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়—যা আগের ছিল ১১০ টাকা। পাড়া-মহল্লার দোকানে এই দাম আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি।

    খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারিতে দাম বাড়ার কারণে তাদেরও খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, পাইকারিরা বলছেন—বর্ষার কারণে উৎপাদন কম, তাছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদা বেড়েছে।

    এদিকে পেঁয়াজের দামও লাফিয়ে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৮০ টাকাও ছাড়িয়ে গেছে। পাইকারি বাজার থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৬৫ টাকার বেশি দামে, জানালেন খুচরা বিক্রেতা আশিক।

    পাবনা ও ফরিদপুর অঞ্চলের মোকামগুলোতে দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ঢাকার বাজারে। পাইকারি বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো ৫৪-৫৫ টাকায়, এখন তা ৭০-৭২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি এর জন্য বৃষ্টি ও আগের লোকসানকে দায়ী করেন। তিনি আরও জানান, দেশি পেঁয়াজের মাধ্যমে চাহিদা মেটানো গেলেও সংরক্ষণ সমস্যার কারণে ক্ষতি হচ্ছে।

    মৌলভীবাজারের ব্যবসায়ী রবিন অধিকারীর ভাষ্যে, বর্ষার কারণে অনেক পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং কিছু পেঁয়াজে চারা গজাচ্ছে, যার ফলে ভালো পেঁয়াজ বাছাইয়ে সময় লাগছে, দামও বাড়ছে।

    তবে আশার কথা, আগের বছরের মতো অতিরিক্ত অস্থিরতা এবার নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সংরক্ষণ ও পরিবহন জটিলতায় এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

    ভোক্তাদের দাবি, বাজারে যথাযথ নজরদারি না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের কাঁধে অতিরিক্ত চাপ চাপিয়ে দিচ্ছে।

  • ব্যাংক খাতে আস্থার ঘাটতি: অর্থনীতি সংকটের গভীরে, বিনিয়োগ স্থবির

    ব্যাংক খাতে আস্থার ঘাটতি: অর্থনীতি সংকটের গভীরে, বিনিয়োগ স্থবির

    এবিএনএ:  এক বছর আগে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও এখনো বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা আসেনি। এর প্রভাব পড়েছে অর্থনৈতিক খাতে, বিশেষ করে ব্যাংক খাতে তৈরি হয়েছে গুরুতর আস্থার সংকট
    সাম্প্রতিক বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট বলছে, ব্যাংকিং খাতে তারল্যের ঘাটতি না থাকলেও চরম মাত্রার আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে।

    ২০২৫ সালের জুন শেষে নিট উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা—যা চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। তবুও সেই অর্থ বিনিয়োগে আসছে না, কারণ রয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যবসায়ীদের দ্বিধা, এবং ব্যাংকিং অব্যবস্থাপনা।

    বিশেষত এস আলম গ্রুপের প্রভাবাধীন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট এবং স্বচ্ছতার অভাব গোটা আর্থিক ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘পদ্ধতিগত অনাস্থা’ তৈরি হয়েছে।

    ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের মতে, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। তার ভাষায়,

    “এমন অর্থনৈতিক অবস্থা আগে বিশ্বে দেখা যায়নি। ব্যাংক খাত থেকে সরকার ৮০ শতাংশ অর্থ নিয়ে গেছে।”

    বিশ্বব্যাংক ও বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে—বিশেষ করে পোশাক ও ওষুধ শিল্পে। এতে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়েছেন, যা দেশের সামষ্টিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে

    তবে ইতিবাচক দিক হলো—গত এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছেডলারের বিপরীতে টাকার মান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভও বৃদ্ধি পেয়েছে

    তবে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন,

    “মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমছে, বিনিয়োগ নেই—এই বাস্তবতায় এখনকার ইতিবাচক প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সবকিছু নির্ভর করছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর।”

    বিনিয়োগে অনাগ্রহ, কারখানা বন্ধ, ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই হতে পারে একমাত্র সমাধান—মত অর্থনীতি বিশ্লেষকদের।

  • ট্রাম্পের শুল্কনীতি! এশিয়ার তিন দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে

    ট্রাম্পের শুল্কনীতি! এশিয়ার তিন দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে যাচ্ছে এশিয়ার তিনটি দেশ—মিয়ানমার, লাওস ও সিরিয়া
    হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী, এই তিন দেশের পণ্যের ওপর ৪০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    সিরিয়ার ক্ষেত্রে শুল্ক হার ৪১ শতাংশ, আর মিয়ানমার ও লাওসের জন্য ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এত বড় সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি হোয়াইট হাউস।
    সিএনএন জানিয়েছে, এই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত হওয়া সত্ত্বেও, এমন কড়া পদক্ষেপ নেয়ার কারণ অস্পষ্ট।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিরিয়ার অর্থনীতি ইতোমধ্যেই যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় বিধ্বস্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য কার্যত না থাকলেও নতুন ট্যারিফ সেই সামান্য যোগাযোগকেও থামিয়ে দিতে পারে।

    একইভাবে, মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ এখনো অব্যাহত। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জান্তা সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে, দেশটি এখনো পুরোপুরি মুক্ত নয় আন্তর্জাতিক চাপ থেকে।

    এই তিন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ওপরও নতুন পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী—

    • বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ,

    • ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ,

    • পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ,

    • এবং আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত এশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেনি, তবে এটিকে ট্রাম্পের পূর্বতন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অর্থনৈতিক কৌশলের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • আগস্টেও জ্বালানি তেলের দামে কোনও পরিবর্তন নেই, বহাল থাকছে পূর্বের মূল্য

    আগস্টেও জ্বালানি তেলের দামে কোনও পরিবর্তন নেই, বহাল থাকছে পূর্বের মূল্য

    এবিএনএ:  চলতি আগস্ট মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য আগের মতোই বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগস্ট মাসেও প্রতি লিটার অকটেন বিক্রি হবে ১২২ টাকা দরে, পেট্রোল ১১৮ টাকা, ডিজেল ১০২ টাকা এবং কেরোসিন ১১৪ টাকায়। এই দাম ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে এবং মাসজুড়েই তা বহাল থাকবে।

    মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশে স্বয়ংক্রিয় মূল্যের হিসাব অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এর আগেও জুলাই মাসে তেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে সরকার স্বয়ংক্রিয় দামে নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করে, যার আওতায় প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।

    এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের বাজারের সঙ্গতি রক্ষা করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

  • স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ৪ খাতকে এগিয়ে নিতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি

    স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর ৪ খাতকে এগিয়ে নিতে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যাচ্ছে। এই উত্তরণকে সামনে রেখে দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাত—চামড়া, পাটজাত পণ্য, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যালস—এর রপ্তানিযোগ্য সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি।

    মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এলডিসি স্ট্যাটাস হারানোর পর থেকে বাংলাদেশ আর রপ্তানিনির্ভর ভর্তুকি বা নগদ সহায়তা দিতে পারবে না। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতকে টিকিয়ে রাখতে বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে অর্থ বিভাগের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির পর্যালোচনায় ভিত্তি করে সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব।

    কমিটিতে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ ও বাণিজ্য সচিব, কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, বিএসটিআই, বিসিক, ড্রাগ অ্যাডমিন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং এফবিসিসিআই-এর প্রতিনিধিরা।

    এই কমিটির মূল কাজ হবে—বিদ্যমান প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশগুলোর মধ্যে কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য তা নির্ধারণ, বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমাসহ পরিকল্পনা তৈরি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

    তাছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন কোনো প্রণোদনা বা সুবিধার সুপারিশও করতে পারবে এই কমিটি।

    দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, এই চার খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দিকেই এখন নজর সরকারের।

  • বৃহস্পতিবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি: কী থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায়?

    বৃহস্পতিবার আসছে নতুন মুদ্রানীতি: কী থাকছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণায়?

    এবিএনএ: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি (Monetary Policy Statement – MPS) ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবনে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুদ্রানীতির রূপরেখা তুলে ধরবেন ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এদিন দুপুরে অনুষ্ঠিতব্য সংবাদ সম্মেলনে মুদ্রানীতির বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো ব্যাখ্যা করবেন গভর্নর।


    📊 কী থাকছে এবারের মুদ্রানীতিতে?

    নতুন মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হবে চলমান মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগে উৎসাহ এবং ঋণপ্রবাহকে নিয়ন্ত্রিত ও প্রণোদনামূলক রাখা। বৈশ্বিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ, ডলারের বাজার, রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের বর্তমান প্রবণতাও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রধান, মুখ্য অর্থনীতিবিদ ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।


    📈 কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মুদ্রানীতি?

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, মূল্যস্ফীতির উচ্চহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপের পরিপ্রেক্ষিতে এবারের মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

    ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও রয়েছে আগ্রহ—ব্যাংক ঋণের সুদহার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত অবস্থান কেমন হবে তা জানতে।

    এখন দেখার পালা, বাংলাদেশ ব্যাংক কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, বাস্তবভিত্তিক এবং অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়ক একটি নীতি উপস্থাপন করতে পারে।

  • অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    অর্থনীতির সামনে অশনি সংকেত: মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় বিপদে বাংলাদেশ

    এবিএনএ:  বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পূর্বাভাস এবং অভ্যন্তরীণ নানাবিধ সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)-এর ৩০তম বার্ষিক কাউন্সিলে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে শঙ্কা

    আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন মারাত্মক ধাক্কার মুখে দাঁড়িয়ে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩.৩ শতাংশ। আইএমএফ ও এডিবির পূর্বাভাস যথাক্রমে ৩.৮ ও ৩.৯ শতাংশ।”

    তিনি আরও জানান, বর্তমানে খাদ্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগ স্থবির, রাজনীতির অস্থিরতা ও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ৩.৪৫ ট্রিলিয়ন টাকা ছাড়িয়েছে, যার বড় অংশ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে।

    ব্যাংক খাতে সংকট ও সংস্কার উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯টি ব্যাংক জানায় তাদের মূলধন ঘাটতি ১.৭১ ট্রিলিয়ন টাকা। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ব্যাংক বোর্ড বাতিল, একীভূতকরণসহ নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

    এলডিসি থেকে উত্তরণ: শুল্ক ও রপ্তানি ঝুঁকি

    ২০২৬ সালে এলডিসি স্ট্যাটাস হারালে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে বাংলাদেশ। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে তখন ১১.৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতে পারে, যা রপ্তানিতে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

    বৈশ্বিক অস্থিরতা ও কৌশলগত প্রস্তুতির আহ্বান

    কাউন্সিলে জানানো হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, রেড সি সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনরাগমন বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে আরও ঘনীভূত করছে। বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত প্রস্তুতি এখন জরুরি।

    প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশসমূহ:

    • জ্বালানি নিরাপত্তা: টাকার অবমূল্যায়ন ও আমদানিনির্ভরতার ফলে ব্যয় বেড়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং নিজস্ব উৎসে অনুসন্ধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • রাজস্ব ঘাটতি: জিডিপির তুলনায় কর আদায় এখনো ১০ শতাংশের নিচে। এনবিআর পুনর্গঠনের আহ্বান জানানো হয়।

    • জলবায়ু ও খাদ্য নিরাপত্তা: পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে প্রবৃদ্ধি বছরে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

    • বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৈচিত্র্য: ২০২৩ সালে এফডিআই মাত্র ৩ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ভিয়েতনামে তা ছিল ৩৯ বিলিয়ন। কৃষিপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি খাতে জোর দেওয়ার সুপারিশ এসেছে।

    • সাইবার নিরাপত্তা: ডিজিটাল সেবার প্রসারে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত জাতীয় সাইবার আইন ও কাঠামো প্রয়োজন।

    • যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫% শুল্ক প্রস্তাব: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও কর্মসংস্থান বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টাস্কফোর্স গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

    বিবিআইএন করিডরের সম্ভাবনা

    ভুটান-ভারত-নেপাল-বাংলাদেশ সংযুক্ত হলে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি ৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বাংলাদেশ কৌশলগত ট্রানজিট হাবে পরিণত হতে পারে।

  • তেল কমাতে চায় সরকার, আপত্তি জানালেন ব্যবসায়ীরা — নতুন করে বৈঠক শনিবার

    তেল কমাতে চায় সরকার, আপত্তি জানালেন ব্যবসায়ীরা — নতুন করে বৈঠক শনিবার

    এবিএনএ:  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা কমানোর পরিকল্পনা হলেও, তেল ব্যবসায়ীদের আপত্তিতে সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা প্রস্তাবিত মূল্য হ্রাসকে অবাস্তব ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি বলে দাবি করেছেন।

    মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, ট্যারিফ কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ও দেশের প্রধান ভোজ্যতেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি, মেঘনা, টি কে ও বসুন্ধরা গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

    বৈঠকে উপস্থাপিত ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ছিল যথাক্রমে ১০৭৯ ও ১০১৭ ডলার। যা ১৫ এপ্রিলের তুলনায় সয়াবিনে ০.৭% বৃদ্ধি ও পাম অয়েলে ৩% হ্রাস পেয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতি লিটার পাম অয়েলে ১৯ টাকা এবং সয়াবিনে ১ টাকা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

    তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, কমিশনের এই বিশ্লেষণ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম আরও বেশি বলে তারা জানান। এছাড়া, কমিশনের হিসাবে ভ্যাট ও আমদানি ব্যয় যুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

    মেঘনা গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের হিসাবে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম ১১০০ ডলারেরও বেশি। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দাম কমানো সম্ভব নয়।’

    সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার মূল্য নতুন করে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ভিত্তিতে ২৭ জুলাই আবার বৈঠকে বসবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    সরকার ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে চাইলেও, ব্যবসায়ীরা বলছেন— আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় দাম কমানো সম্ভব নয়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য তেলের মূল্য কিছুটা স্বস্তির সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত রয়ে গেছে।