Category: অর্থ বাণিজ্য

  • ঋণের সংকটে বেসরকারি খাত, দুই দশকের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম

    ঋণের সংকটে বেসরকারি খাত, দুই দশকের মধ্যে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম

    এবিএনএ: বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুন শেষে এই প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। এটি গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুদের উচ্চ হার, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও ঋণ খেলাপির হার বৃদ্ধির কারণে এই প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ৩১ জুলাই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে, যেখানে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে।

    ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পতনের পর থেকে ঋণের প্রবাহে স্থবিরতা দেখা দেয়। বেসরকারি খাতের অনেক ঋণগ্রহীতা গ্রেফতার বা বিদেশে পলায়ন করায় নতুন ঋণ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পূর্বের অনেক ঋণও এখন খেলাপি। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা এক বছরে দ্বিগুণ হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ঋণের সুদের হারও বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে গড় সুদহার ছিল ৯-১০ শতাংশ, তা এখন ১৩-১৬ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে আমানতের গড় সুদহারও বেড়ে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ঋণ প্রবৃদ্ধি গত ডিসেম্বরে ৭.২৮ শতাংশে ছিল, জানুয়ারিতে কমে ৭.১৫ শতাংশে আসে, ফেব্রুয়ারিতে আরও কমে দাঁড়ায় ৬.৮২ শতাংশ। এরপরও মে মাসে তা সামান্য বেড়ে ৭.১৭ শতাংশ হয়েছিল। অথচ করোনার সময়েও এই প্রবৃদ্ধি কখনো সাড়ে সাত শতাংশের নিচে নামেনি।

    একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে এসেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

    অন্যদিকে সরকার নিজেও ব্যাংক থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম ঋণ নিচ্ছে। গত অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, যা আগের চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা কম।

    এছাড়াও সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া আগের দায় পরিশোধে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে এবং ৬৪ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে, যার ফলে বাজারে তারল্য সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

    সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগের অনাগ্রহ এবং ব্যাংকিং খাতে তারল্যের ঘাটতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে ঋণের গতি স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো— বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে আবার ঋণ প্রবাহ সচল করা।

  • যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কে বিপাকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, ঝুঁকিতে অর্ধেকের বেশি কারখানা

    যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কে বিপাকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, ঝুঁকিতে অর্ধেকের বেশি কারখানা

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের খবরে দুশ্চিন্তায় দেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা। শুল্কের বোঝা নিজেদের কাঁধে না নিতে চাইলেও মার্কিন ক্রেতারা সেই চাপ চাপিয়ে দিতে চাইছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ওপর। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে অর্ধেকের বেশি পোশাক কারখানা।

    জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষিত সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ শুল্কহার বহাল থাকলে তার কতটা অংশ রপ্তানিকারকরা বহন করতে রাজি—তা জানতেই শুরু হয়েছে মার্কিন ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের নতুন এক কৌশলী দরকষাকষি। তারা রপ্তানিকারকদের কাছে বিকল্প হারে প্রতিশ্রুতি নিতে চাইছে—২০, ২৫ বা ৩০ শতাংশ শুল্ক হলেও কতটা দায়িত্ব নেবে বাংলাদেশি পক্ষ।

    কয়েকজন রপ্তানিকারক জানান, কিছু মার্কিন ব্র্যান্ড তাদের কাছে এমন শর্ত উপস্থাপন করেছে, যেখানে ভবিষ্যতের শুল্ক হ্রাস পেলেও পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা যাবে না। ফলে রপ্তানিকারকরা ক্ষতির আশঙ্কায় এসব প্রস্তাবে রাজি হচ্ছেন না।

    আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, প্রায় ২০০ কোটি ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা) পোশাক এখন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন রপ্তানি আদেশও আপাতত স্থগিত। ফলে যেসব কারখানা মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল, তারা কার্যত ধসের মুখে।

    বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে ১ হাজার ৩২২টি কারখানা। এর বাইরে মোট সক্রিয় পোশাক কারখানার সংখ্যা ২ হাজার, যার মধ্যে অনেকেই ঠিকা চুক্তিতে কাজ করে। বিজিএমইএর বাইরে বিকেএমইএ সদস্য ৮৫০টির মধ্যে ৩২৭টি যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে যুক্ত।

    এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, “যেসব কারখানার অর্ধেকের বেশি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়, তাদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। যদি ৩৫ শতাংশ শুল্ক চূড়ান্ত হয়, তখন আমাদের প্রতিযোগীদের তুলনায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ।”

    ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৭ বিলিয়ন ডলারের মতো পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। রপ্তানিকৃত কারখানাগুলোর মধ্যে ৯১ থেকে ১০০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে এমন কারখানার সংখ্যা ১০০টি। প্রতিটি কারখানায় গড়ে ১ হাজার ৪০০ শ্রমিক কাজ করেন। শুল্ক বাড়ার কারণে রপ্তানি কমে গেলে এসব শ্রমিক চাকরি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে গার্মেন্টস খাতে এ সংকট দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • অভূতপূর্ব দরপতনে ধ্বংসের মুখে পোলট্রি শিল্প: বাঁচবে কি প্রান্তিক খামারিরা?

    অভূতপূর্ব দরপতনে ধ্বংসের মুখে পোলট্রি শিল্প: বাঁচবে কি প্রান্তিক খামারিরা?

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। ডিম, ব্রয়লার মুরগি এবং এক দিনের ব্রয়লার বাচ্চার মূল্য রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় হাজার হাজার খামারি ও হ্যাচারি মালিক নিঃস্ব হওয়ার পথে। ফলে দেশের অন্যতম প্রধান প্রোটিন উৎস আজ হুমকির মুখে।

    উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন খামারে প্রতি ডিমের দাম নেমেছে ৭ টাকা ৫০ পয়সায়, আর ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১০ টাকায়—যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। জুনের শেষ সপ্তাহে এক দিনের ব্রয়লার বাচ্চা বিক্রি হয়েছে মাত্র ৮-১৪ টাকায়, যা হ্যাচারি মালিকদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বাজারে মুরগির দাম কমে যাওয়ায় খামারিরা নতুন করে খামারে বাচ্চা তুলতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে বহু খামারি হয়তো চিরতরে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলবেন। হ্যাচারি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপুল লোকসানে।

    রাজশাহীর জান্নাতুল ফেরদৌসী জানান, ‘অতিরিক্ত গরম, রোগের প্রাদুর্ভাব ও দামের পতনে আমার খামার এখন লোকসানের পাহাড়।’ তিনি প্রতিদিন লোকসান গুনে খামার চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে, কাশিয়াডাঙ্গার মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আগে ৮০ টাকা দরে বাচ্চা কিনে লাভ করা যেত, এখন ৫-৭ টাকায় কিনেও খরচ উঠছে না।’

    শুধু প্রান্তিক খামারি নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ খামারিরাও ক্ষতির ভার বইতে পারছেন না। গোদাগাড়ীর আব্দুল জলিল তার লেয়ার খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। আগে যেখানে মাসে ৭০ হাজার ব্রয়লার বাচ্চা বিক্রি করতেন, এখন তা নেমে এসেছে ৪৮ হাজারে। তিনি বলেন, ‘আমার তত্ত্বাবধানে থাকা ৫০টি খামারের মধ্যে ৩৫টিই বন্ধ হয়ে গেছে।’

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ড. রুশাদ ফরিদী বলেন, ‘চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে বাজারে দাম ওঠানামা করে। যদি সত্যিই সিন্ডিকেট থাকত, তারা এই পরিমাণ ক্ষতি হজম করত না।’

    বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেটের অভিযোগে দোষারোপ না করে বরং শিল্পকে বাঁচাতে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। নাহলে ভবিষ্যতে পোলট্রি পণ্যের দাম এতটাই বাড়বে যে সাধারণ ভোক্তারা তা বহন করতে পারবেন না।’

    বর্তমান অবস্থা ইঙ্গিত দিচ্ছে—উৎপাদন থেকে খামারিরা মুখ ফিরিয়ে নিলে সামনে আরও ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও প্রোটিন ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই এখনই জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এই শিল্পকে বাঁচাতে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বিপর্যয়ের মুখে, চাকরি হারাতে পারেন ১০ লাখ

    যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বিপর্যয়ের মুখে, চাকরি হারাতে পারেন ১০ লাখ

    খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল, এবিএনএ: আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে দেশের রপ্তানি খাত ও শ্রমবাজারে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তৈরি পোশাক খাত, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস।

    এই পরিস্থিতিকে কেবল বাণিজ্য সংকট না বলে “জাতীয় জরুরি অবস্থা” হিসেবে অভিহিত করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দেরিতে পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারিয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আরও ভয়াবহ হতে পারে।

    স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, “এটি শুধু পোশাক খাতের সমস্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যেসব বড় ব্র্যান্ড একাধিক দেশের জন্য অর্ডার দেয়, তারা যদি একবার আস্থা হারায়, তাহলে বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইনে ভয়াবহ ধস নামবে।”

    এক ইউরোপীয় ব্র্যান্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার জানান, “এই শুল্ক সংকটের সমাধান না হলে আমাদের এখানে বিনিয়োগের যৌক্তিকতা হারাবে এবং আমরা বিকল্প উৎস বিবেচনা করতে বাধ্য হব।”

    বর্তমানে পোশাক খাতে সরাসরি ৪০ লাখ শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। যদি অর্ডার হ্রাস পায়, তাহলে মাত্র দুই মাসেই চাকরি হারাতে পারেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

    চট্টগ্রামের শীর্ষ রপ্তানিকারক এশিয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন বলেন, “আমাদের ৯৩% রপ্তানি মার্কিন বাজারমুখী। সরকার যদি উপযুক্ত কূটনৈতিক সমঝোতায় না আসে, তাহলে আমাদের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।”

    এদিকে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, লেভিস, সিঅ্যান্ডএ সহ বড় বড় ব্র্যান্ড বর্তমানে ভবিষ্যৎ অর্ডার নিয়ে পুনর্বিবেচনায় রয়েছে। অনেক বায়িং হাউস ইতিমধ্যেই উৎপাদন ও চালান স্থগিত করতে বলেছে। হা-মীম গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৯০ কোটি টাকার মজুরি ঝুঁকিতে রয়েছে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২,৩৭৭টি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করেছে, যাদের মধ্যে ৮০১টি প্রতিষ্ঠান তাদের রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রমুখী—এরা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

    এছাড়া, স্পিনিং, ডাইং, এক্সেসরিজ, পরিবহন, গুদাম ও ব্যাংকিং খাতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবসাগুলোও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ কূটনীতিতে ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষ সুবিধা আদায় করেছে, অথচ বাংলাদেশ এখনো বাণিজ্যিক ছাড় পায় না।

    শোভন ইসলাম বলেন, “চীন ট্রাম্প যুগে শুল্কের কারণে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হারিয়েছিল। বাংলাদেশকেও তেমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।”

    বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এটি রাজনৈতিক নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের বিষয়। দলমত নির্বিশেষে কূটনৈতিক উদ্যোগে ঐকমত্য দরকার।”

    তিনি সতর্ক করে বলেন, “৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি এবং ১৫ লাখেরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে।”


    যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কার্যকর হলে তা শুধু একটি বাণিজ্য সংকট নয়—বরং জাতীয় অর্থনীতির জন্য একটি বৃহৎ দুর্যোগে রূপ নিতে পারে। এখনই সময় দ্রুত ও কৌশলী কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের।

  • ৪০ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় রপ্তানি খাতে এমন চরম সংকট আগে দেখিনি: এ. কে. আজাদ

    ৪০ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতায় রপ্তানি খাতে এমন চরম সংকট আগে দেখিনি: এ. কে. আজাদ

    এবিএনএ:  চল্লিশ বছরের ব্যবসায়িক যাত্রায় রপ্তানি খাতে এতটা চরম সংকট আগে কখনও দেখেননি—এমন মন্তব্য করলেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পগোষ্ঠী হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা এ. কে. আজাদ।

    রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “এই খাতকে আমরা সম্মানজনক উচ্চতায় এনেছি। কিন্তু এখন হতাশা ও ক্ষোভে ডুবে আছি।”

    এই আলোচনায় দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও শিল্প উদ্যোক্তারা অংশ নেন। এ. কে. আজাদ তুলে ধরেন, কীভাবে এক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে তাদের সরকারের মাধ্যমে তথ্য জোগাড় করে বলেছে—“তোমাদের অবস্থান দুর্বল, ভালো কিছু হবে না।” এ কথায় তিনি চরমভাবে হতাশ হন।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি একাধিক উপদেষ্টাকে ফোন করেন, যারা তাৎক্ষণিক গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই উপদেষ্টা জানান, ৯৫ শতাংশ সমস্যার সমাধান হয়েছে, আর ৫ শতাংশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

    আজাদ বলেন, “যদি সরকারের রাজস্ব ২–৩ হাজার কোটি টাকা কমেও আসে, কিন্তু যদি ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাড়ে, তাহলে দেশই লাভবান হবে। তাই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।”

    তিনি আরও জানান, এক ক্রেতা তাকে ই-মেইলে জানায়—বাংলাদেশের ওপর শুল্ক জারি হলে, তার ৩৫ শতাংশ তাকে (আজাদকে) বহন করতে হবে। “আমি প্রশ্ন করি—এই অতিরিক্ত শুল্ক আমি কীভাবে সামাল দেব?”

    তুলনা করে তিনি ইন্দোনেশিয়ার কথা বলেন, যেখানে সরকার ও ব্যবসায়ী একযোগে কাজ করছে, লবিস্ট নিয়োগ করছে। কিন্তু বাংলাদেশে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

    তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা হয়তো সাত-আট মাসের জন্য দায়িত্বে আছেন। কিন্তু এই সময়টা তো আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আমরা যাব কোথায়?”

    এ. কে. আজাদ বলেন, “একটা ভুল ধারণা হচ্ছে—উপরে কেউ একজন আছে, যিনি সব সমস্যার সমাধান করে দেবেন। ফলে বাস্তবসম্মত লবিস্ট নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে না।”

    উল্লেখ্য, শনিবার সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনই শুল্ক নির্ধারণ করবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আজাদ সরকারকে অনুরোধ করেন, “এই উচ্চপর্যায়ে পৌঁছাতে কিছু উদ্যোগ নিন।”

    অবশেষে তিনি বলেন, “যদিও এখন লবিস্ট নিয়োগ শুরু হয়েছে, তবুও সময় কম। আমাদের বুঝতে হবে—বাংলাদেশ একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”

  • বদলির চিঠি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় এনবিআরের ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    বদলির চিঠি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় এনবিআরের ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

    এবিএনএ: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানানোর ঘটনায় পাঁচ যুগ্ম কর কমিশনার ও তিন উপ-কর কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

    সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—মাসুমা খাতুন (কর অঞ্চল-২), মুরাদ আহমদ (কর অঞ্চল-১৫), মোহাম্মদ মোরশেদ উদ্দিন (কুষ্টিয়া), মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা (নোয়াখালী), আশরাফুল আলম প্রধান (কক্সবাজার), শিহাবুল ইসলাম (উপ-কর কমিশনার), নুশরাত জাহান শমী (রংপুর) এবং ইমাম তৌহিদ হাসান শাকিল (কুমিল্লা)।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২২ জুন জারি হওয়া বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, তাদেরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন তারা বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা পাবেন।

    এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ২৪ জুন, যখন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একদল কর্মকর্তা বদলির আদেশকে ‘প্রতিহিংসামূলক’ উল্লেখ করে প্রকাশ্যে তা ছিঁড়ে ফেলেন। ঘটনাটি ঘটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে। এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে শুরু হয় বিতর্ক।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরখাস্তের পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

  • নতুন শেয়ারের সংকট: মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিতে শেয়ারবাজার, তড়িৎ সংস্কারের আহ্বান

    নতুন শেয়ারের সংকট: মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিতে শেয়ারবাজার, তড়িৎ সংস্কারের আহ্বান

    এবিএনএ:  এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে চাঙ্গাভাব অব্যাহত। বহুদিন পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ফিরেছে আশাবাদ, আর তারই প্রভাবে সূচক বেড়েছে ৪৫০ পয়েন্টের বেশি। দৈনিক লেনদেন ২০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ কোটিতে পৌঁছেছে। তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই ধারা অব্যাহত থাকলেও নতুন শেয়ারের সরবরাহ না বাড়ালে কিছু শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয়ে উঠতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

    এই প্রেক্ষাপটে বাজারে নতুন শেয়ারের সরবরাহ নিশ্চিত ও স্থিতিশীলতা আনতে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ‘র সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনের তিন সদস্যও।

    বৈঠক শেষে ড. আনিসুজ্জামান জানান, “নতুন শেয়ার আনতে শুধু বিএসইসি নয়, মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকেও সচেতন হতে হবে। অতীতে যেমন অতিরঞ্জিত অডিট রিপোর্ট দিয়ে কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা হতো, সেই পথ আর কেউ নিতে চায় না। তাই শেয়ার সরবরাহ বাড়ানোর আগে মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি।”

    এ বিষয়ে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, “বাজারে বিনিয়োগ বাড়ছে ঠিকই, তবে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে হলে ভালো মানের নতুন শেয়ার তালিকাভুক্ত করতে হবে। একই শেয়ার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কেনাবেচা করলে দাম বাস্তবতার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যাবে, যা বাজারের জন্য ক্ষতিকর।”

    তিনি আরও জানান, কিছু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান—যেমন ইউনিলিভার, প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ, সিডিবিএল—ডিরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতিতে দ্রুত শেয়ারবাজারে আনা সম্ভব। পাশাপাশি অডিট রিপোর্টের মানোন্নয়ন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে বাজারে আস্থা ফেরানো কঠিন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    এদিকে শেয়ারবাজার সংস্কারে ১০ মাস আগে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রম এখনও দৃশ্যমান নয়—এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডিবিএ নেতারা। এছাড়া কয়েকটি মিউচুয়াল ফান্ডে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন তারা।

    ড. আনিসুজ্জামান আশ্বস্ত করে বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয়ে কাজ করছি। শেয়ারবাজারে হঠাৎ করে সংস্কার ফলপ্রসূ হয় না। সময় নিয়ে, সঠিক বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে এগোনোর পরিকল্পনা আছে। বর্তমান সরকার হয়তো সব সংস্কার শেষ করতে পারবে না, তবে যাত্রা শুরু করবে।”

  • টানা বৃষ্টিতে সবজি ও মাছের বাজারে আগুন! কাঁচামরিচ-টমেটোর দাম আকাশচুম্বী

    টানা বৃষ্টিতে সবজি ও মাছের বাজারে আগুন! কাঁচামরিচ-টমেটোর দাম আকাশচুম্বী

    এবিএনএ: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা দুই দিনের বৃষ্টিপাতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ বেড়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে একদিকে যেমন সবজিক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে, অন্যদিকে সরবরাহ কম থাকায় সবজি ও মাছের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

    বুধবার আগারগাঁও, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ খুচরা বিক্রেতারা সবজির দামে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পরিস্থিতির জন্য বৃষ্টিকে দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ার ফলে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পণ্য বাজারে আসছে। ফলে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যহীনতায় দাম বেড়েছে।

    বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০–১৭০ টাকায়, যেখানে দুদিন আগেও ছিল ১২০–১৪০ টাকা। টমেটোর কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০–১৬০ টাকায়। বেগুনের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৮০–১০০ টাকা হয়েছে। ধুন্দল ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০–৬০ টাকায়, যা আগের তুলনায় ১০ টাকা বেশি।

    কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, “বৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ বাজারে আসতে পারছে না, তার উপর পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়েও প্রভাব পড়ছে।”

    সবজির পাশাপাশি মাছ ও মুরগির বাজারেও মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাঝারি আকৃতির রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০–৪৫০ টাকা কেজিতে, যা আগে ছিল ৩৮০–৪৩০ টাকা। পাঙাশ ও তেলাপিয়া মাছের কেজি বেড়ে এখন ১৮০–২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    তেজকুনিপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন বলেন, “বর্ষাকালে সাধারণত মাছ কম পাওয়া যায়। নদী-খালে পানি বাড়ে, মাছ ধরা কঠিন হয়। সেই কারণেই দাম কিছুটা বেশি।”

    সোনালি মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে—প্রতি কেজি ২৮০–৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ২৬০–২৮০ টাকা। তবে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্রয়লার কেজিতে এখনো ১৫০–১৬০ টাকা এবং ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১২৫–১৩০ টাকায়ই বিক্রি হচ্ছে।

    বৃষ্টির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

  • স্বাধীনতা পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক: আসছে সাংবিধানিক মর্যাদা ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

    স্বাধীনতা পাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক: আসছে সাংবিধানিক মর্যাদা ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

    এবিএনএ: বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে শুধু আর্থিক নয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতেও পাবে সাংবিধানিক মর্যাদা—এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন একটি আইন (বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিন্যান্স ২০২৫) প্রণয়নের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দেওয়া হচ্ছে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা

    নতুন আইনের খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব থাকবে স্বতন্ত্র পরিচালনা পর্ষদের ওপর, যেখানে কোনো সরকারি কর্মকর্তা থাকতে পারবেন না। পর্ষদে থাকবেন আটজন সদস্য, যাদের আর্থিক, ব্যাংকিং, বাণিজ্য বা আইনি বিষয়ে ন্যূনতম ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। গভর্নরের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে সরকার পর্ষদ সদস্য নিয়োগ দেবে।

    🔶 গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নর নিয়োগে কঠোর নিয়ম

    নতুন আইনে বলা হয়েছে, গভর্নর পদে নিয়োগ পেতে হলে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন। একইভাবে ডেপুটি গভর্নররাও নিয়োগ পাবেন গভর্নরের সুপারিশ ও সংসদের অনুমোদনের মাধ্যমে। পদগুলোতে ছয় বছরের মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং একবার পুনঃনিয়োগের সুযোগ থাকবে। নিয়োগের আগে তাঁদের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সামনে শপথ নিতে হবে

    🔶 অপসারণ হবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে

    কেউ যদি দায়িত্বে অনিয়ম করেন, আস্থা ভঙ্গ করেন বা ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের সম্মতিক্রমে রাষ্ট্রপতি অপসারণ করতে পারবেন। তবে আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে এবং শুনানিও নিতে হবে।

    🔶 পর্ষদের অধীনেই সব সিদ্ধান্ত

    পর্ষদ নিয়ন্ত্রণ করবে মুদ্রানীতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংক তদারকি। পর্ষদ বছরে অন্তত ছয়বার এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে অন্তত একবার বৈঠক করবে। গভর্নর থাকবেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে এবং পর্ষদের বাইরে থাকা বিষয়ে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তাঁকে সহায়তা করবে একটি নির্বাহী উপদেষ্টা কমিটি

    🔶 অর্থনৈতিক সমন্বয়ে আসছে নতুন প্ল্যাটফর্ম

    মুদ্রা ও বিনিময় হারের সমন্বয় নিশ্চিত করতে গঠন করা হবে “সমন্বয় পরিষদ”। এতে অর্থমন্ত্রী হবেন সভাপতি এবং সদস্য হিসেবে থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। এই পরিষদ বাজেট প্রণয়ন, বেসরকারি ঋণ মূল্যায়ন এবং রাজস্ব-ব্যয়ের ভারসাম্য নিশ্চিত করবে।

    🔶 ব্যাংক রেজল্যুশনে বাধ্যতামূলক ক্ষমতা

    আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে বাধ্যতামূলক ব্যাংক রেজল্যুশনের ক্ষমতা পাবে। কোন ব্যাংক যদি ঝুঁকিতে পড়ে, তবে মূলধন পুনর্গঠন, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপসহ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    🔶 আন্তর্জাতিক পরামর্শক যুক্ত

    এই খসড়া প্রণয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকের সিদ্দিকী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা। তাঁর নেতৃত্বে প্রস্তাবনাগুলো ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে

    🔶 বিশ্লেষকদের মত

    বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “স্বায়ত্তশাসন শুধু নামেই হলে চলবে না, গভর্নর নিয়োগ হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন করতে হবে।”

  • এ-চালানের যুগে কাস্টমস শুল্ক জমা এখন মুহূর্তেই সরকারি কোষাগারে

    এ-চালানের যুগে কাস্টমস শুল্ক জমা এখন মুহূর্তেই সরকারি কোষাগারে

    এবিএনএ:  নতুন অর্থবছরের সূচনায় দেশের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হলো আধুনিক প্রযুক্তির নতুন মাত্রা। এখন থেকে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং তাদের মনোনীত সিএন্ডএফ এজেন্টরা এ-চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে সরাসরি সরকারি কোষাগারে শুল্ক ও কর জমা দিতে পারবেন।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং অর্থ বিভাগের আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমের যৌথ উদ্যোগে কাস্টমসের ASSYCUDA World সিস্টেমের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করে এই ডিজিটাল কর ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়েছে।

    পুরাতন ব্যবস্থায় RTGS-এর মাধ্যমে কর জমা দিলে অর্থ সরকারি কোষাগারে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগতো। কিন্তু নতুন এই অটোমেটেড চালান ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে কর জমা হয়ে যাচ্ছে কোষাগারে, ফলে দ্রুত পণ্য খালাসের সুবিধা মিলছে।

    ১ ও ২ জুলাই চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে আমদানি-রপ্তানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ৩ জুলাই থেকে সোনালী ব্যাংকসহ সকল তফসিলি ব্যাংকে এই অনলাইন জমার পদ্ধতি চালু করা হয়।

    শুধুমাত্র প্রথম দিনেই ৭৫টি বিল এন্ট্রির বিপরীতে ১৩ কোটির বেশি টাকার শুল্ক ও কর সরাসরি সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে।

    এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে কর জমা দেওয়া যাবে। এই ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে করদাতারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি দেশের রাজস্ব আদায়ে আসবে গতি ও স্বচ্ছতা। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।