Category: অর্থ বাণিজ্য

  • চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    এবিএনএ:  গত বছরের ৫ আগস্টের পর দেশে চাঁদাবাজির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগে যেখানে এক টাকা চাঁদা নেওয়া হতো, এখন তা বেড়ে দেড় বা দুই টাকা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এতে অনেক পক্ষ জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত।”

    তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    পাচার হওয়া অর্থ ফেরার সম্ভাবনা ফেব্রুয়ারিতে

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফেরত আসতে পারে। বিষয়টি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও এ নিয়ে আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ফার্মগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে কিছু বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজও করা হয়েছে। তবে সঠিক অঙ্ক জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলতে পারবেন।”

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু ডিসেম্বরে

    তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে ডিসেম্বরে চালু হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রের জ্বালানি এসে গেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুপারিশ বাস্তবায়ন চলছে। তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি।

    ব্যক্তিগত মতামত

    ড. সালেহউদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, তার মন্ত্রী হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি যোগ করেন, “আমি যেখানে কাজ করেছি, সততার সঙ্গে করেছি। তিনটি সরকারের সময়ই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি।”

    খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সমস্যা

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি বলেন, “আমাদের খাদ্যাভ্যাস এখনো সুষম নয়। চালের ওপর নির্ভরতা বেশি, আমিষ গ্রহণ কম। ডিমের মতো সহজলভ্য আমিষও অনেকেই কিনতে পারছে না।”

  • সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হচ্ছে, আসছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক একীভূত হচ্ছে, আসছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    এবিএনএ: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বড় পরিবর্তন আসছে। সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক বেসরকারি পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভা শেষে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান।

    সভায় গভর্নর আহসান এইচ মনসুরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জানানো হয়, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুসারে পরিচালিত এই মার্জার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই বছর। খুব শিগগিরই একীভূতকরণ কার্যক্রম শুরু হবে।

    এ প্রক্রিয়া তদারকির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রশাসক টিম গঠন করা হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাদের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরও জানান, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা হবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। প্রশাসক টিম নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জমা দেবে।

    সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হবে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক। সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’, যার জন্য আলাদা লাইসেন্স ইস্যু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    বাংলাদেশের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    কর্মসংস্থান সংকট মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করছে: ড. হোসেন জিল্লুরের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তাঁর মতে, ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ খরা ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব এ পরিস্থিতিকে মহামারীর মতো ছড়িয়ে দিয়েছে।

    শনিবার আয়োজিত এক অনলাইন সংলাপে তিনি বলেন, শিক্ষা ও শিখন উভয় ক্ষেত্রেই দেশ পিছিয়ে পড়েছে, ফলে তরুণরা চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না।

    পিপিআরসির গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। কভিড-১৯, রাজনৈতিক স্থবিরতা, মূল্যস্ফীতি ও দীর্ঘস্থায়ী রোগ দারিদ্র্য বৃদ্ধির মূল কারণ। প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৫১ শতাংশ পরিবারে অন্তত একজন দীর্ঘস্থায়ী রোগী রয়েছেন, ৪০ শতাংশ মানুষ ক্রমাগত ঋণের বোঝা বইছেন।

    গবেষণায় আরও বলা হয়, ১২ শতাংশ দরিদ্র পরিবার খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, ৩৬ শতাংশ মানুষ এখনো স্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে পারছে না। কর্মসংস্থান বিবেচনায় ৩৮ শতাংশ মানুষ বেকার এবং ৪৫ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত।

    অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, দারিদ্র্যের হার সবসময়ই বেশি ছিল, কিন্তু কোনো সরকারই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে এখনই অন্তত ১৮-২৪ মাসের একটি শক্তিশালী কর্মসূচি নিতে হবে।

    সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি তথাকথিত ‘চাকরিহীন প্রবৃদ্ধি’। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে আটকে আছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ জিডিপির ১ শতাংশেরও নিচে। এ হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি অসম্ভব।

    এছাড়া ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন সতর্ক করেন, নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ বিশেষত শহরাঞ্চলে কমছে, যা শ্রমবাজারের জন্য উদ্বেগজনক।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন কার্যকর অর্থনৈতিক সংস্কার ও মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

    সংলাপে অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নিয়ে কর্মসংস্থান সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

  • দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে আসছে নতুন রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক

    দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে আসছে নতুন রাষ্ট্রীয় ইসলামী ব্যাংক

    এবিএনএ:  বাংলাদেশে দুর্বল পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আট সদস্যের একটি ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে।

    গত রোববার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একত্রিত করার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি হয়। নতুন ব্যাংকের সম্ভাব্য নাম ধরা হয়েছে ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’

    এই ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদকে। অন্যান্য সদস্যরা হলেন অর্থ মন্ত্রণালয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকরা। অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী সম্মানী পাবেন।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এই পাঁচ ব্যাংক সংকটে পড়ে। সেগুলোকে সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যাংকের মূলধন হবে প্রায় ৩৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা সরাসরি সরকার দেবে, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানত বীমা তহবিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে।

    নতুন ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনা এবং ইসলামী ব্যাংক খাতকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

  • তিন বছরে সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি আগস্টে, ভোগান্তি রয়ে গেল সাধারণ মানুষের

    তিন বছরে সর্বনিম্ন মুদ্রাস্ফীতি আগস্টে, ভোগান্তি রয়ে গেল সাধারণ মানুষের

    এবিএনএ: আগস্ট মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানায়, মাসটিতে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮.২৯ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে এই হার ছিল ১০.৪৯ শতাংশ।

    তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যপণ্যের দামে সামান্য উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। জুলাইয়ে খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭.৫৬ শতাংশ, যা আগস্টে বেড়ে হয়েছে ৭.৬০ শতাংশ। অপরদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম কমায় সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেয়েছে। আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মুদ্রাস্ফীতি নেমে এসেছে ৮.৯০ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৯.৩৮ শতাংশ।

    প্রতিবেদন বলছে, গত জুনে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯.০৫ শতাংশ, পরে জুলাইয়ে কমে দাঁড়ায় ৮.৫৫ শতাংশে। সেখান থেকে আগস্টে আরও ০.২৬ শতাংশ কমেছে।

    তবে আয়-ব্যয়ের ফারাক সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে। দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৮.১৫ শতাংশে। এতে টানা ৪৩ মাস ধরে মজুরি বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি, ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আরও সংকটে পড়েছে।

  • সবজির বাজারে আগুন, সক্রিয় সিন্ডিকেটের দাপট – ভোক্তাদের নাভিশ্বাস

    সবজির বাজারে আগুন, সক্রিয় সিন্ডিকেটের দাপট – ভোক্তাদের নাভিশ্বাস

    এবিএনএ:  রাজধানীসহ সারাদেশে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে সবজির বাজার। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম যেন রীতিমতো আগুন। প্রতিদিন নতুন করে বাড়ছে দরদাম। ক্রেতারা বলছেন—“এটা কেবল মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে দাম বাড়াচ্ছে।”

    ঢাকার বাজারের চিত্র

    রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কারওয়ানে করলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০-১০০ টাকা, শসা ৮০, ঢেঁড়স ৭০-৮০, টমেটো ১৬০-১৮০, বরবটি ১০০, ঝিঙা ৮০, কচুর লতি ৮০-১০০ এবং গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বেশি চমকে দিয়েছে কাঁচামরিচের দাম, যা পৌঁছেছে ২২০-২৪০ টাকায়।

    মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে দাম আরও বেশি। সেখানে বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৪০-১৬০ টাকায়, করলা ১২০, গাজর ১২০, ক্যাপসিকাম ৫০০ এবং শিম ২৪০-২৫০ টাকায়। পুঁই শাকের আঁটি মিলছে ৪০ টাকায়।

    মিরপুর ১৪ নম্বর বাজারে টমেটো ১৮০, বেগুন ২০০, শিম ৩০০, কাঁচামরিচ ১৬০-২০০, ধনেপাতা ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের অভিযোগ, “মৌসুম শেষ” বা “বৃষ্টি-বন্যা”র অজুহাত দেখিয়ে বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।

    বিভাগীয় শহরগুলোর অবস্থা

    খুলনা, বরিশাল ও সিলেটের বাজারেও একই চিত্র। খুলনায় করলা ১০০, টমেটো ১৬০ এবং কাঁচামরিচ ২০০ টাকায় মিলছে। বরিশালের খুচরা বাজারে বেগুনের কেজি ১৬০ এবং কাঁচামরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সিলেটে শসা, কচুরমুখী, করলা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের সবজি ২০-৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    তবে ব্যতিক্রম চট্টগ্রাম। স্থানীয় উৎপাদন বেশি থাকায় রিয়াজউদ্দিন বাজারে করলা, চিচিঙ্গা, ঝিঙা ২০-৩০ টাকায়, এমনকি লাউ প্রতি পিস মাত্র ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    ক্রেতা ও বিক্রেতার অভিমত

    ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরকারের মনিটরিং নেই বললেই চলে। কেউ একজন বললেন—“আগে তিন দিনের বাজার হতো ৫০০ টাকায়, এখন ১০০০ টাকাও যথেষ্ট নয়।”
    রিকশাচালক হাবিবুর রহমানের আক্ষেপ—“দিনে ৫০০ টাকা আয় করি, সবটাই বাজারে চলে যায়। মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সবজিও কিনতে পারছি না।”

    অন্যদিকে বিক্রেতারা দাবি করছেন, পরিবহন খরচ, বন্যা ও আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ কমে গেছে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ তুলেছেন, বড় ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট ইচ্ছে করে দাম বাড়াচ্ছে।

    ভোক্তা অধিকার ও ক্যাবের পর্যবেক্ষণ

    ভোক্তা অধিদপ্তর বলছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান চলছে। তবে ক্রেতাদের মতে জরিমানার অঙ্ক এতটাই সামান্য যে ব্যবসায়ীরা ভয় পায় না।
    কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মনিটরিং কমে যাওয়ায় বাজার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

    সমাধান কোথায়?

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের কঠোর নজরদারি ছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে না। সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সবজির বাজার নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা বাড়ল

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তা বাড়ল

    এবিএনএ:  বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী। মঙ্গলবার এক লাফে তা পৌঁছেছে গত দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রভাব স্বর্ণবাজারে দেখা দেয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে এবং মার্কিন সম্পদের প্রতি আস্থা নড়বড়ে করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ০.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৭৮.৬৪ ডলারে। এর আগের সেশনে দাম পৌঁছায় ৩ হাজার ৩৮৬.২৭ ডলারে, যা ১১ আগস্টের পর সর্বোচ্চ। ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের দামও ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪২৬ ডলারে।

    সোমবার ট্রাম্প বন্ধকি ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে নজিরবিহীনভাবে কুককে বরখাস্ত করেন। এই সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

    সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো ডি কাসা বলেন, “অনেকে মনে করছেন ট্রাম্পের পদক্ষেপ ফেডারেল রিজার্ভের মধ্যে সুদের হার কমানোর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা। এতে ব্যাংকের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং বাজার অনিশ্চয়তায় পড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ কিনতে ঝুঁকছেন।”

    সাধারণত সুদের হার কমে গেলে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্বর্ণের মতো নন-ইয়েল্ডিং সম্পদের দাম বাড়তে থাকে।

    এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্ট জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা স্বর্ণের মজুত সোমবার ০.১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫৮.৪৯ মেট্রিক টনে, যা শুক্রবার ছিল ৯৫৬.৭৭ টন।

    এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল শুক্রবার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আগামী মাসে সুদের হার কমানো হতে পারে। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, মুদ্রাস্ফীতি এখনও একটি বড় হুমকি।

    কার্লো আলবার্তো ডি কাসার মতে, বাজার এখন ২৫ বেসিস পয়েন্ট হারে সুদ কমার আশা করছে। তবে আরও বড় ধরনের সুদ হ্রাসের সম্ভাবনা কম থাকলেও, যদি ঘটে, তাহলে স্বর্ণবাজারের জন্য তা আরও সহায়ক হবে।

  • খেলাপি ঋণ ও লোকসানের ফাঁদে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে

    খেলাপি ঋণ ও লোকসানের ফাঁদে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের আর্থিক খাতে বড়সড় ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। ভয়াবহ লোকসান, ঋণখেলাপি এবং আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতার কারণে ৯ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

    এর আগে গত মে মাসে ২০টি সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় এবার ৯টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে অবসায়নের পথে নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে সরকারের প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে জানা গেছে।

    বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
    পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে এবং চাকরিজীবীরা নিয়ম অনুযায়ী সুবিধা পাবেন।

    কিছু প্রতিষ্ঠানের চিত্র ভয়াবহ:

    • এফএএস ফাইন্যান্সের ৯৯.৯৩% ঋণ খেলাপি, লোকসান ১,৭১৯ কোটি টাকা।

    • ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮% ঋণ খেলাপি, লোকসান ১,০১৭ কোটি টাকা।

    • ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের লোকসান ৪,২১৯ কোটি টাকা, ঋণের ৯৬% খেলাপি।

    • পিপলস লিজিংয়ের লোকসান ৪,৬২৮ কোটি টাকা, ঋণের ৯৫% খেলাপি।

    • আভিভা ফাইন্যান্সের ৮৩% ঋণ খেলাপি, লোকসান ৩,৮০৩ কোটি টাকা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনেকগুলো এখন চরম সংকটে। ২০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের ৮৩% খেলাপি। অন্যদিকে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র ৭.৩১% খেলাপি ঋণে সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং মুনাফাও করছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন অনুযায়ী আমানতকারীর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে এ সিদ্ধান্ত দেশের আর্থিক খাতে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নের মাধ্যমে খাতকে স্থিতিশীল করতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • কেজিতে ২৩ টাকা খরচ, বিক্রি মাত্র ১৪—অসহায় অবস্থায় আলুচাষি কৃষকরা

    কেজিতে ২৩ টাকা খরচ, বিক্রি মাত্র ১৪—অসহায় অবস্থায় আলুচাষি কৃষকরা

    এবিএনএ: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আলুচাষিরা চরম লোকসানে পড়েছেন। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ পড়ছে প্রায় ২৩ টাকা, অথচ পাইকারি বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৩-১৪ টাকায়। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকরা গড়ে ১০ টাকা লোকসান গুনছেন।

    চাষি জলিল সরদার শুক্রবার তাহেরপুর হাটে পাঁচ মণ আলু নিয়ে গিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বিক্রি করেছেন মাত্র ২৭৫০ টাকায়। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই তার কাছে টাকাপয়সা শেষ হয়ে যায়। প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও মেয়ের জন্য ইলিশ মাছ কিনতে পারেননি তিনি। অভিমান ঝরে পড়ে তার কণ্ঠে—“আগামী বছর আর আলু চাষ করমু না, এর চেয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করা ভালো।”

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছর বাগমারায় আলু চাষ হয়েছে ৯৮৫০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। উৎপাদনও বেড়েছে প্রত্যাশার তুলনায়। তবে বাজারদর এতটাই কম যে, সমগ্র উপজেলায় কৃষকদের লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩১ কোটি টাকা।

    যোগীপাড়ার কৃষক সামছুর রহমান বলেন, “খুচরা বাজারে আলুর দাম ২০-২১ টাকা, অথচ আমরা পাইকারিতে পাচ্ছি ১৩-১৪ টাকা। এই বৈষম্যের জন্য দায়ী বিপণন ব্যবস্থা।”

    কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের কর্মকর্তা সুমন হালদার স্বীকার করেছেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান রয়েছে। তিনি জানান, দাম বাড়াতে একটি আবেদন ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

    অন্যদিকে, কোনাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম ছয় বিঘা জমিতে আলু চাষ করে লোকসান গুনেছেন দুই লাখ ৫০ হাজার টাকারও বেশি। এখনো ঋণের বোঝা শোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

    স্থানীয় কৃষক সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, দাম না পেয়ে কৃষকেরা রাস্তায় আলু ফেলে প্রতিবাদ করেছেন, তবুও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. আব্দুর রাজ্জাক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে আগামী বছর কৃষকেরা আলু চাষে নিরুৎসাহিত হবেন।”

    রাজশাহী কৃষি তথ্য সার্ভিস জানায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশা, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শিগগিরই দামে কিছুটা বৃদ্ধি হতে পারে।

  • বিদ্যুৎ সংকট ও উৎপাদনশীলতার ঘাটতিতে বন্ধ হচ্ছে মধ্য ও নিম্নমানের বহু পোশাক কারখানা

    বিদ্যুৎ সংকট ও উৎপাদনশীলতার ঘাটতিতে বন্ধ হচ্ছে মধ্য ও নিম্নমানের বহু পোশাক কারখানা

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, অনেক মধ্য ও নিম্নমানের কারখানা প্রাথমিক উৎপাদনশীলতার সূচক মানছে না, ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং শ্রমিক অসন্তোষও বাড়ছে।

    বৃহস্পতিবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত: অগ্রযাত্রার পথ’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, সংগঠনের প্রায় ৭,১০০ সদস্যের মধ্যে বর্তমানে রপ্তানিতে সক্রিয় সদস্য সংখ্যা তিন হাজারেরও কম।

    তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্পের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। মাত্র দুটি এফএসআরইউ চালু থাকায় অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়া, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে হঠাৎ করে বাতিল হওয়া ৫৪টি এলওআই পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। সৌরবিদ্যুতে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট’কে ইতিবাচক উল্লেখ করলেও জমির স্বল্পতাকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেন।

    অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৮২ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি হয় ৪০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ শতাংশ। পশ্চিমা বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবর্তনে অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করছে। তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১–২ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে।

    বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেন, এখন সময় এসেছে নিম্নমূল্যের পণ্য থেকে উচ্চমূল্যের পণ্যে বৈচিত্র্য আনার। উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানো ছাড়া এলডিসি উত্তরণের পর টিকে থাকা কঠিন হবে।

    ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন আংশিক রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক–সমর্থিত বন্ড সুবিধা চালুর প্রস্তাব দেন এবং জানান, ‘১০০ বিলিয়ন ডলার আরএমজি এক্সপোর্ট সেল’ গঠন করা হচ্ছে, যা জ্বালানি, ব্যাংকিং ও কর–সংক্রান্ত সমন্বয় ত্বরান্বিত করবে।

    সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, বড় ব্র্যান্ডের অনুপস্থিতি, ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ দুর্বলতা, নীতি সমন্বয় ঘাটতি, স্বয়ংক্রিয়করণ, সবুজ উৎপাদন ও লজিস্টিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।