Category: অর্থ বাণিজ্য

  • শেয়ারবাজারে ধসের ছোঁয়া! ১৬ খাতে দরপতন, তবুও বেড়েছে লেনদেন

    শেয়ারবাজারে ধসের ছোঁয়া! ১৬ খাতে দরপতন, তবুও বেড়েছে লেনদেন

    এবিএনএ: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) লেনদেনের শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক ধারা থাকলেও দিন শেষে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের মধ্যেই লেনদেন শেষ হয়।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ খাতেই মূল্যহ্রাস দেখা গেছে। মোট ২১টি খাতের মধ্যে ১৬টিতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে, যা বাজারে চাপের ইঙ্গিত দেয়।

    দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে বিক্রির চাপ বাড়তে থাকায় শেয়ারগুলোর দাম কমতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত বাজারজুড়ে দরপতনের প্রবণতা স্থায়ী হয়।

    ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১১১টির দাম বেড়েছে, ২৩১টির কমেছে এবং ৫১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা, টেলিযোগাযোগ, ওষুধ ও রসায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বস্ত্র, খাদ্য, সিমেন্টসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, সীমিত কয়েকটি খাত—যেমন তথ্যপ্রযুক্তি, সেবা ও আবাসন, করপোরেট বন্ড, কাগজ ও মুদ্রণ এবং চামড়া খাতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

    এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৩১ পয়েন্টে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক কমেছে ৫ পয়েন্ট এবং ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১৯ পয়েন্ট।

    তবে দরপতনের মধ্যেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা বেশি।

    অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসসিএক্স সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ২০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২১ পয়েন্ট এবং সিএসই ৩০ সূচক কমেছে ২৬ পয়েন্ট। তবে শরিয়াহ সূচক সামান্য বেড়েছে।

    সিএসইতে মোট ২০৬টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৯৯টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

    লেনদেনের পরিমাণেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। দিনশেষে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় অনেক বেশি।

    সব মিলিয়ে, শেয়ারবাজারে সূচক ও দরের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার বার্তা দিচ্ছে, যদিও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি বাজারে কিছুটা সক্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।

  • তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    তেলের দামে স্বস্তি দিতে বড় সিদ্ধান্ত: পেট্রল-ডিজেলে শুল্ক কমাল ভারত সরকার

    এবিএনএ: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

    সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, প্রতি লিটার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে পেট্রলের শুল্ক ১৩ টাকা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকায় এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    ভোক্তা নাকি কোম্পানি—কে বেশি উপকৃত?

    এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহক সরাসরি কতটা সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই পদক্ষেপ মূলত তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কমানোর জন্য নেওয়া হয়েছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে দেশে জ্বালানির দাম স্থির রাখা হয়েছিল।

    এর ফলে এসব কোম্পানি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে। শুল্ক কমানোর মাধ্যমে সেই ক্ষতি আংশিক পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    পটভূমি: কেন এই সিদ্ধান্ত

    গত বছর সরকার জ্বালানির ওপর শুল্ক বাড়িয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে চাপ তৈরি হয়। তবুও সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানো থেকে বিরত থাকতে সরকার দাম বাড়ায়নি।

    ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, সরকারের সামনে দুটি পথ ছিল—একটি হলো জ্বালানির দাম বাড়ানো, অন্যটি হলো আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়ে জনগণকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা। সরকার দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও সরবরাহ পরিস্থিতি

    মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

    তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    জ্বালানি মজুত নিয়ে আশ্বাস

    ভারত সরকার জানিয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। বর্তমান মজুত দিয়ে প্রায় ৬০ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

    সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ গ্যাস আমদানি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা দিয়ে অন্তত এক মাস কোনো সংকট ছাড়াই সরবরাহ বজায় রাখা যাবে।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার আপাতত বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে জ্বালানির দাম।

  • ঈদের আগে স্বস্তির খবর! একদিনে সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ১৫ হাজার টাকা

    ঈদের আগে স্বস্তির খবর! একদিনে সোনার দামে বড় পতন, ভরিতে কমলো ১৫ হাজার টাকা

    এবিএনএ: ঈদুল ফিতরের ঠিক আগমুহূর্তে স্বর্ণবাজারে বড় ধরনের স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের। একদিনে দুই দফায় দাম কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সব মিলিয়ে প্রতি ভরি সোনার দাম কমেছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা।

    বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন মূল্য তালিকা বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে সকালেও এক দফা দাম কমানো হয়েছিল।

    সর্বশেষ নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা এখন বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। যা সকালে ছিল প্রায় ২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা এবং আগের দিন ছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা।

    প্রথম দফায় সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া ঘোষণায় প্রতি ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়। পরে দ্বিতীয় দফায় আরও বড় পরিমাণে দাম কমানো হয়।

    বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে খাঁটি (পিওর) সোনার দর কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

    নতুন দরে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    শুধু সোনাই নয়, রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে চলতি মাসের শুরুতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যায়। তবে পরবর্তীতে দর ওঠানামার ধারাবাহিকতায় এখন কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামও কমেছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, প্রতি আউন্স সোনার দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ৬৮০ ডলারে, যা আগের দিন ৫ হাজার ডলারের ওপরে ছিল।

    উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে দেশের বাজারেও রেকর্ড দামে পৌঁছেছিল সোনা। তখন এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।

  • ঈদের দীর্ঘ ছুটি সামনে: এটিএমে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ

    ঈদের দীর্ঘ ছুটি সামনে: এটিএমে পর্যাপ্ত টাকা রাখতে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির সময় গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেনে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়তে হয়—সেজন্য দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

    সোমবার (৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ঈদের ছুটির সময় ব্যাংকিং সেবায় বিঘ্ন না ঘটাতে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে এবং গ্রাহকদের জন্য এটিএমসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে।

    এটিএম সেবায় বিশেষ নির্দেশনা

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ঈদের ছুটিতে গ্রাহকরা যাতে সহজে নগদ অর্থ তুলতে পারেন, সেজন্য এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এটিএম মেশিনে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।

    এছাড়া প্রতিটি বুথে নিরাপত্তা জোরদার করতে সার্বক্ষণিক পাহারাদার নিয়োজিত রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পিওএস ও ই-পেমেন্ট সেবাও সচল রাখতে হবে

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবাও সবসময় চালু রাখতে হবে, যাতে গ্রাহকরা সহজে কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতারণা বা জালিয়াতি ঠেকাতে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনের সময় টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখতে হবে, যাতে অনলাইন লেনদেন আরও নিরাপদ থাকে।

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন

    মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) পরিচালনাকারী ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঈদের ছুটির পুরো সময় জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গ্রাহকদের প্রতিটি লেনদেনের তথ্য এসএমএস অ্যালার্টের মাধ্যমে জানাতে হবে এবং ইলেকট্রনিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে প্রচার-প্রচারণাও চালাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সহায়তা দিতে সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    টানা সাত দিনের ঈদের ছুটি

    এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার পূর্বঘোষিত ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন ছুটি যুক্ত করেছে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

    এর ফলে চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিন ঈদের ছুটি থাকবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে

  • এক সপ্তাহেই ব্রয়লারের দামে আগুন: কেজি ২৩০ টাকা, বাজারে চাপে সাধারণ ক্রেতা

    এক সপ্তাহেই ব্রয়লারের দামে আগুন: কেজি ২৩০ টাকা, বাজারে চাপে সাধারণ ক্রেতা

    এবিএনএ: রাজধানীর বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে বর্তমানে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতাদের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

    শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার, বিশেষ করে নিউমার্কেট এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহে যে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

    অন্যান্য মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী

    বাজারে শুধু ব্রয়লার নয়, অন্যান্য জাতের মুরগির দামও বেশ চড়া।

    • কক মুরগি কেজি: প্রায় ৩৫০ টাকা

    • লেয়ার মুরগি কেজি: প্রায় ৩৬০ টাকা

    • দেশি মুরগি কেজি: প্রায় ৭৩০ টাকা

    ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মুরগি কেনা এখন অনেকটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।

    কেন বাড়ছে দাম

    বিক্রেতাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে এবং একই সঙ্গে চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে রমজানকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা বেশি পরিমাণে মুরগি কিনছেন, যা বাজারে দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

    নিউমার্কেট এলাকার এক বিক্রেতা জানান, পাইকারি বাজারেই কয়েক দিনের মধ্যে মুরগির দাম বেড়ে গেছে। ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

    আরেক বিক্রেতা বলেন, অনেক খামারি আগেই মুরগি বিক্রি করে ফেলেছেন। ফলে বর্তমানে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।

    ক্রেতাদের অসন্তোষ

    হঠাৎ দামের এমন উল্লম্ফনে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এতটা দাম বাড়া তাদের জন্য বড় চাপ তৈরি করেছে।

    এক ক্রেতা জানান, আগে ১৮০ টাকায় যে মুরগি কিনতেন, এখন সেটি কিনতে ২৩০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে সংসারের মাসিক খরচ অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।

    আরেকজন ক্রেতা বলেন, মাছ-মাংস সবকিছুর দামই এখন বেশি। একটি মাঝারি মুরগি কিনতেই প্রায় ৬০০ টাকার মতো খরচ হয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ পরিবারের জন্য কষ্টকর।

    মাছ ও সবজির বাজারেও বাড়তি দাম

    শুধু মুরগির বাজারই নয়, মাছের বাজারেও কিছুটা দামের তারতম্য দেখা গেছে। বাজারভেদে—

    • চাষের পাঙাশ: ১৮০–২২০ টাকা কেজি

    • তেলাপিয়া: ২০০–২২০ টাকা কেজি

    • রুই মাছ: ৩৫০–৪৫০ টাকা কেজি

    এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছের দাম ৪০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

    সবজির বাজারেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

    • বেগুন: ৬০–৮০ টাকা কেজি

    • করলা: ৮০–১০০ টাকা

    • ঢেঁড়স: ৬০–৭০ টাকা

    • পটল: ৬০–৭০ টাকা

    বিক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজির মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে, ফলে কিছু সবজির দাম বাড়তি রয়েছে।

  • হঠাৎ বদলে গেল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব: আহসান এইচ মনসুরের চুক্তি বাতিল, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

    হঠাৎ বদলে গেল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব: আহসান এইচ মনসুরের চুক্তি বাতিল, নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

    এবিএনএ: সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক–এর গভর্নর পদে ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট সময় বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান।

    বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়–এর পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে দেওয়া নিয়োগ অনুযায়ী আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ জনস্বার্থে বাতিল করা হলো।

    অন্য বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. মোস্তাকুর রহমান এফসিএমএ তার যোগদানের দিন থেকে চার বছরের জন্য গভর্নরের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিনি বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকেই পাবেন। নিয়োগসংক্রান্ত বাকি বিষয় চুক্তিপত্রে নির্ধারিত থাকবে।

    সূত্র জানায়, মোস্তাকুর রহমান ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি–এর সদস্য। তিনি একটি পোশাক কারখানার মালিকও। বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

    এর আগে বুধবার দুপুরে গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবন ত্যাগ করেন। গণমাধ্যমে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি পদত্যাগ করেননি; সংবাদমাধ্যমে খবর শুনেছেন মাত্র।

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে তৎকালীন গভর্নরের পদত্যাগের পর আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল হয়ে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হলো।

  • রমজান এলেই ফলের বাজারে আগুন! ১০ দিনেই আকাশছোঁয়া দাম, নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের

    রমজান এলেই ফলের বাজারে আগুন! ১০ দিনেই আকাশছোঁয়া দাম, নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের

    এবিএনএ: রমজান সামনে রেখে রাজধানীর ফলের বাজারে হঠাৎ করেই মূল্যবৃদ্ধির ঝাঁজ দেখা দিয়েছে। যে ফলগুলো কয়েক দিন আগেও তুলনামূলক নাগালের মধ্যে ছিল, চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে সেগুলোর দাম লাফিয়ে উঠেছে। খেজুর, আঙুর, আপেল ও আনার—ইফতারের জনপ্রিয় এই উপকরণগুলো কিনতে গিয়ে এখন ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

    শুক্রবার সকালে খিলগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ভিড় তুলনামূলক কম হলেও ক্রেতাদের মুখে হতাশা স্পষ্ট। অনেকে দাম শুনে প্রয়োজনের চেয়ে কম কিনছেন। খুচরা বাজারে মেডজুল খেজুর, মরিয়ম, কালমী ও সুকারীসহ বিভিন্ন ধরনের খেজুরের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি আনার, কালো ও সবুজ আঙুর, গ্রিন আপেল, ফুজি আপেল, নাশপাতি ও কমলার দামও চড়া।

    দেশি ফলের ক্ষেত্রেও স্বস্তি নেই। পেঁপে, বরই, পেয়ারা ও বেলের দাম রমজান উপলক্ষে আগের তুলনায় বেড়েছে বলে জানান ক্রেতারা। কলার বিভিন্ন জাতের দামও ঊর্ধ্বমুখী। অনেকের অভিযোগ, প্রতি বছর রোজা এলেই ফলের বাজারে অতি মুনাফার প্রবণতা দেখা যায়।

    ক্রেতারা বলছেন, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নির্দিষ্ট কিছু ফলের দাম ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের বাজেটে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কেউ কেউ আমদানি ফলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে নজরদারির ঘাটতিকে দায়ী করছেন।

    অন্যদিকে বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারে দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা দামে প্রভাব পড়ছে। নষ্ট হওয়া ফলের ক্ষতি পোষাতেও তারা দাম কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা ও বিক্রেতা—উভয় পক্ষের এই টানাপোড়েনে নিয়ন্ত্রণমূলক নজরদারি জোরদারের দাবি উঠেছে বাজারে।

  • অভূতপূর্ব সাফল্যে মোংলা বন্দর: ৭ মাসেই রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

    অভূতপূর্ব সাফল্যে মোংলা বন্দর: ৭ মাসেই রেকর্ড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নজির গড়েছে মোংলা বন্দর। জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬—এই সময়ে ৩১টি বিদেশি কন্টেইনারবাহী জাহাজ আগমনের মাধ্যমে মোট ২১ হাজার ৬৫১ টিইইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। লক্ষণীয়ভাবে, গত পুরো অর্থবছরে যে পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল, চলতি বছরে সাত মাসেই তা অতিক্রম করা হয়েছে।

    বন্দরের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানান, এই সাত মাসে মোট ৫১৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৬ হাজার ৪০৪টি রিকন্ডিশন গাড়ি। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

    বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা বাড়াতে হিরণ পয়েন্ট এলাকায় HP-1, HP-2 ও HP-3 নামে তিনটি নতুন অপারেশনাল অ্যাঙ্কর বার্থ চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে এসব বার্থে ৯.০০ মিটার ড্রাফটের ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে কার্গো অপারেশন সম্পন্ন করেছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এখন থেকে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯.০০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এসব বার্থে নিয়মিতভাবে পণ্য ওঠানামা করতে পারবে।

    বর্তমানে মোংলা বন্দর দিয়ে খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্টের কাঁচামাল ক্লিংকার, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈলবীজ, এলপিজি, যন্ত্রপাতি ও অটোমোবাইলসহ নানা প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড়সহ বিভিন্ন দেশীয় পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের আশা, অবকাঠামো ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বাকি পাঁচ মাসে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

  • রমজানে বাজারে স্বস্তির বার্তা: পণ্যের টান নেই, চাঁদাবাজি ঠেকাতে পারলেই দাম থাকবে নিয়ন্ত্রণে

    রমজানে বাজারে স্বস্তির বার্তা: পণ্যের টান নেই, চাঁদাবাজি ঠেকাতে পারলেই দাম থাকবে নিয়ন্ত্রণে

    এবিএনএ: পবিত্র রমজান সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিয়ে স্বস্তির খবর দিলেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের ভাষ্য, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজসহ রোজাকেন্দ্রিক পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত দেশে রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজানে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে পরিবহন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজি ও অবৈধ আদায় বন্ধ করা না গেলে বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হতে পারে।

    এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে নিত্যপণ্যের আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় খুচরা ও পাইকারি বাজারের প্রতিনিধিরা এসব কথা জানান। তাঁদের মতে, প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থির করেন না; বরং বড় আমদানিকারক ও করপোরেট পর্যায়ে নজরদারি জোরদার হলে সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরবে। একই সঙ্গে বাজার তদারকির নামে খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি না করার অনুরোধও জানান তারা।

    চিনি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা বলেন, মিল পর্যায়ে সরবরাহ নির্বিঘ্ন থাকলে চিনির সংকট হবে না। সরকারি উদ্যোগে আমদানি বাড়লে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে চিনি বিক্রি সম্ভব হবে। ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বড় শিল্পগোষ্ঠী ও আমদানিকারকদের কার্যক্রমে নিবিড় নজরদারির দাবি ওঠে।

    শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা জানান, রমজানের অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতে ভোজ্যতেল ও চিনির মজুত প্রস্তুত রয়েছে। তবে নির্বাচনঘেঁষা ছুটির কারণে বন্দরে খালাস ও পরিবহনে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে—এটি সামাল দিতে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। কাঁচাবাজার বণিকদের মতে, লেবু ছাড়া অধিকাংশ শাকসবজির দাম বর্তমানে স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে।

    এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, রোজা শুরুর সময়টি নির্বাচনের পরপর হওয়ায় বাজার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ভোক্তার স্বার্থে সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা ও তদারকিতে ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দরকার।

    অন্যদিকে বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা—জ্বালানি সরবরাহে চাপ ও প্রশাসনিক রূপান্তরের সময়ে তদারকিতে শৈথিল্য তৈরি হলে সুযোগ নিতে পারে অসাধু চক্র। তাই রমজানজুড়ে সমন্বিত নজরদারি, সরবরাহে বাধা দূর করা এবং অবৈধ আদায় বন্ধ করাই বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রধান চাবিকাঠি।

  • ভোটের আগেই কড়াকড়ি! ৯৬ ঘণ্টা বিকাশ–নগদ–রকেটে লেনদেনের নতুন সীমা, কী কী বন্ধ থাকছে?

    ভোটের আগেই কড়াকড়ি! ৯৬ ঘণ্টা বিকাশ–নগদ–রকেটে লেনদেনের নতুন সীমা, কী কী বন্ধ থাকছে?

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে সাময়িক কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) ব্যক্তি পর্যায়ের পি-টু-পি লেনদেন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত থাকবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হয়, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এ সময়ে প্রতিবার লেনদেনের সর্বোচ্চ পরিমাণ হবে ১,০০০ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করা যাবে। ফলে একদিনে মোট লেনদেনের সীমা দাঁড়াবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য, নির্বাচনী সময়ে পি-টু-পি লেনদেনের অপব্যবহার ঠেকাতেই এই উদ্যোগ। একই সময়ে এমএফএস ও এনপিএসবি’র আওতাধীন আইবিএফটি ব্যবস্থায় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

    তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মে স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে। নির্ধারিত ৯৬ ঘণ্টায় অন্যান্য অনেক ধরনের এমএফএস লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    বর্তমানে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। কিন্তু নির্বাচনী সময়ে এই সীমা সাময়িকভাবে কমিয়ে আনা হলো।

    এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে এমএফএস সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারকে নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেনদেন সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানাতে হবে।

    নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী এমএফএস প্রোভাইডার ও ব্যাংকগুলোকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।