অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা
গিবত, সন্দেহ ও গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান থেকে বিরত থাকতে মুসলমানদের প্রতি নির্দেশ—অন্যের দোষ গোপন রাখলে আল্লাহও গোপন রাখেন


এবিএনএ: মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই ভালো-মন্দের সংমিশ্রণ রয়েছে। ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর নির্ভুলতা কেবল ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য। তাই ইসলামে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করা কিংবা তা প্রকাশ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বরং যে ব্যক্তি অন্যের ত্রুটি আড়াল করে রাখে, মহান আল্লাহও তার ত্রুটি আড়াল করে দেন—এমন সুসংবাদ এসেছে কোরআন ও হাদিসে।
পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক সন্দেহ থেকে দূরে থাকো; কারণ কিছু সন্দেহ পাপ। একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করবে। আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও পরম দয়ালু।
এই আয়াতে তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে—অযথা সন্দেহ, গোপন অনুসন্ধান এবং গিবত। অর্থাৎ অন্যের ত্রুটি খুঁজে বের করা ও তা প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর নৈতিক অপরাধ।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। (মুসলিম: ২৫১০)
অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেন, তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়িও না। কেউ যদি অন্যের দোষ অনুসন্ধান করে প্রকাশ করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। এমনকি তাকে নিজের ঘরেই লাঞ্ছিত করেন। (আবু দাউদ: ৪৮৮০)
এছাড়া হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের সবাই ক্ষমা পাবে, তবে যারা নিজের পাপ প্রকাশ করে তারা নয়। কোনো ব্যক্তি রাতে পাপ করে, আল্লাহ তা গোপন রাখেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে। এভাবে সে আল্লাহর দেওয়া আড়াল নিজেই সরিয়ে দেয়। (বুখারি: ৬০৬৯)
ইসলামের শিক্ষা হলো—অন্যের ভুল দেখলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নরমভাবে উপদেশ দেওয়া, কিন্তু তা প্রচার করা নয়। মানুষের সম্মান রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই গিবত, অপবাদ ও দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখাই ইসলামের নির্দেশ।




