Day: April 2, 2026

  • ২৪ ঘণ্টায় হামে ২৬ আক্রান্ত, ৪ সন্দেহজনক মৃত্যু—দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    ২৪ ঘণ্টায় হামে ২৬ আক্রান্ত, ৪ সন্দেহজনক মৃত্যু—দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত একদিনে নতুন করে কোনো নিশ্চিত মৃত্যুর ঘটনা না থাকলেও উপসর্গের ভিত্তিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেগুলো এখনো যাচাইাধীন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬৩ জন।

    এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। আর উপসর্গের ভিত্তিতে সন্দেহজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৭ জনের।

    তবে আশার খবরও রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৩০ জন রোগী।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

  • স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আমির হাতামি সম্ভাব্য স্থল হামলার বিরুদ্ধে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি স্থলপথে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের কাউকেই জীবিত ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন তিনি। সেখানে তিনি সেনাদের প্রতি আহ্বান জানান, শত্রুপক্ষের প্রতিটি নড়াচড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে।

    সেনাপ্রধান বলেন, শত্রুর কৌশল বুঝে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তার মতে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

    সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

    বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রায় এক মাস অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন হামলার ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। কারণ, এই দ্বীপ থেকেই ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি করা হয়।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর পাশাপাশি একটি বিমানবাহী রণতরীও ওই অঞ্চলে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্ব পরিস্থিতির এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইরানের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    এবিএনএ: গণভোট, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে কার্যকারিতা হারায়।

    জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এবার সংসদে তোলা হচ্ছে না। ফলে আগামী নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে এগুলো ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কমিটি মনে করছে, এই অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর ভবিষ্যতে নতুনভাবে বিল আকারে আনা উচিত।

    সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পেতে হয়। তা না হলে ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

    বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং চারটি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    যেসব অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার সংশোধন, রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।

    এদিকে কমিটির কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য। তারা ১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন।

    প্রতিবেদনটি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।

    রিপোর্টে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা সবগুলো অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

  • দেশজুড়ে মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ শুরু—তাপমাত্রা কি ৪১ ডিগ্রি ছাড়াবে?

    দেশজুড়ে মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ শুরু—তাপমাত্রা কি ৪১ ডিগ্রি ছাড়াবে?

    এবিএনএ: গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশে অনুভূত হচ্ছে তাপমাত্রার তীব্রতা। আবহাওয়া অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহ ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।

    বর্তমানে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকা ছাড়াও টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। এতে জনজীবনে অস্বস্তি বেড়েছে এবং দিনের বেলা বাইরে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ছে।

    আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস বলছে, এপ্রিল মাসজুড়ে দেশে প্রায় ছয়টি তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, যা ছিল ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া যশোরে ৩৮.২ ডিগ্রি এবং মোংলায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সাধারণত কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সেটিকে তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসেবে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ইতোমধ্যেই তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা পোশাক পরিধান এবং রোদে কাজ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    তেল সংকটে থমকে সুন্দরবনের পর্যটন, কোটি টাকার বুকিং বাতিল—হতাশায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

    এবিএনএ,মোংলা : দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পর্যটন খাতে। ডিজেলের অভাবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটকবাহী লঞ্চ ও নৌযান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে পর্যটন শিল্পে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা।

    পর্যটন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আগাম বুকিং দেওয়া কোটি টাকার ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে, ফলে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ট্যুর অপারেটররা।

    প্রতি বছর এ সময় সুন্দরবনের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলা, আলোর কোল, নীলকমল ও আন্দারমানিকসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকে। তবে এবার জ্বালানি সংকটে এসব এলাকা প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। নৌযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় অনেক গন্তব্যে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোংলাতেই শতাধিক পর্যটকবাহী লঞ্চ ও ট্যুর জাহাজ রয়েছে, যেগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ দিনের ট্যুর পরিচালনা করে। কিন্তু বর্তমান সংকটে এসব ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে শুধু ব্যবসায়ী নয়, পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে।

    পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার নৌযান মালিক এবং ১০ হাজারের বেশি শ্রমিক বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় মালিকরা কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।

    নৌযান চালকদের মতে, স্থানীয়ভাবে উচ্চমূল্যে অল্প পরিমাণ ডিজেল পাওয়া গেলেও তা দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে গভীর বনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ঝুঁকি এড়াতেই অনেকেই নৌযান চালাতে অনিচ্ছুক।

    সুন্দরবনের পর্যটন খাত থেকে সরকার প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য রাজস্ব পায়। কিন্তু পর্যটক কমে যাওয়ায় বন বিভাগের আয় কমছে। পাশাপাশি হোটেল, মোটেল ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

    সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, পর্যটকের অভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বন বিভাগ। জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলো এখন প্রায় জনশূন্য।

    এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানিয়েছেন, তেল সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনিয়মের অভিযোগে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন থেকে তেল জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক এই বিশাল অর্থনৈতিক খাত ধসে পড়তে পারে। তাই পর্যটন শিল্প ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সবাই।

  • মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিস্ফোরণ—ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি

    মোংলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের বিস্ফোরণ—ডাক্তারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে উত্তাল পরিস্থিতি

    এবিএনএ,মোংলা:  মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সীমাহীন অনিয়ম এবং রোগীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার আর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা করায় উত্তাপ্ত হয়ে উঠছে মোংলার রাজনৈতিক অঙ্গন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকান্ড এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে কলেজ ছাত্রছাত্রী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা।
    বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা সরকারি কলেজের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

    মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেখানে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ডাক্তারদের হাতে লাঞ্ছিত ও দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছেন। সরকারি ওষুধ রোগীদের না দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া, সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে ক্লিনিকে রোগী দেখা এবং নিম্নমানের চিকিৎসা সেবার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসবের প্রতিবাদ করতে গেলেই সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

    বিক্ষোভ কর্মসুচিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় ছাত্রদল নেতা সজিব মিয়া শান্ত এবং যুবদল নেতা মোঃ মানিককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বক্তারা এই মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত’ দাবি করে অবিলম্বে নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

    আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী প্রধানত কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, দুর্নীতিবাজ ও দুর্ব্যবহারকারী চিকিৎসকদের অবিলম্বে অপসারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও তাদের মুক্তি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গরিব অসহায় মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধের নিশ্চয়তা দেওয়া।

    এদিন মোংলা সরকারি কলেজের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ নারী-পুরুষ ও শিশুরা এতে অংশ নেন। তারা স্লোগান দেন, ডাক্তারদের অনিয়ম সইবে না আর মোংলাবাসী” এবং “মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো, শান্ত-মানিকের মুক্তি দাও”। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে আগামীতে মোংলায় আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    এই কর্মসূচির ফলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মকান্ড ও তাদের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা গেছে।

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রিয়জন হয়ে উঠছেন তারেক রহমান

    প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রিয়জন হয়ে উঠছেন তারেক রহমান

    ড. মো. শওকত হোসেন
    ইংরেজিতে যাকে সাবঅল্টার্ন (Subaltern)  বলা হয়, বাংলায় তাকে সত্যিকারভারে কোনো একক শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা মুসকিল। এর কাছাকাছি বাংলা শব্দ হতে পারে: প্রান্তিক মানুষ, অবহেলিত জনতা, শোষিত ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি। এরা এমন ধরনের মানুষ যাদের কেউ পাত্তা দেয় না, তাদের কোনো ভালোলাগা মন্দ লাগায় সমাজ বা রাষ্ট্রের কিছু আসে যায় না। কেউ তাদের কথা মন দিয়ে বা গুরুত্ব দিনে শুনতে চায় না। ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নানা সময়ে তাদের ব্যবহার করে, কিন্তু উপলক্ষ ফুরালে অদের দূরে ঠেলে দেয়। তারা থাকেন বরাবরের মতো উপেক্ষিত। সব ক্ষমতাধর পক্ষকেই তাদের সন্তুষ্টি বিধান করে চলতে হয়, এবং এতে করে তাদেরকে অনেকক্ষেত্রে পারিচয়ের ঘাটতি বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস-এও পরতে হয়। অনেক সময় সন্দেহ বসত কোনো পক্ষের কোপে পড়ে তাদের পোয়াতে হয় নানারকম দুর্ভোগ। জনবহুল গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে  বাংলাদেশের অস্থান অস্টম বলে ধরা হয়। দেশটি আবার অর্থনৈতিকভাবে উন্নত নয়। তাছাড়া সম্পদের অসম বণ্টন, মুদ্রাস্ফীতি এবং সর্বোপরি দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কবলে পরে একশ্রেণির মানুষ হয়ে পারছে অসহায়, কেউ কেউ ছিন্নমূল, এলাকা ছাড়া, বেকার, সহায়-সম্বলহীন। এইসকল মানুষদের অনেকেই বা বেশিরভাগই হয়ে ওঠে সাবঅল্টার্ন। অসহায়ত্ব ও দারিদ্রের সমস্যা এদের যাই থাকুন না কেন এদের সর্বাপেক্ষা বড় কষ্টের একটি হলো এদের কথা কেউ শুনতে চান না, কোনো কোনো বিশেষ সময়ে শুনে থাকলেও কেউ কথা রাখেন না।
    জ্ঞানচর্চার ইতিহাসের সমকালীন অধ্যায়ে ‘সাবঅল্টার্ন’ শব্দটি বেশ গুণত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভারতীর স্কলার গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক (Gayatri Chakravonty Spivak, 1942) ১৯৮৮ সালে “ক্যান দ্যা সাবঅল্টার্ন স্পিক? (Can the Subalterin Speak?)  নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। পোস্ট কলোনিয়াল, নারীবাদী ও বিনির্মাণবাদী চিত্তক হিসেবে তার পরিচিতি থাকলেও তার এই প্রবন্ধটি উত্তরাধুনিক কিংবা বর্তমান সময়ের সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতিবিদ্যা এবং সামগ্রিকভাবে দার্শনিক মহলে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। স্পিভাক মূলত দেখাতে চান যে, উপনিবেশিক বা যেকোনো ক্ষমাসীন শাসকগোষ্ঠী সমাজের দরিদ্র, প্রান্তিক, ক্ষমতাহীন মানুষ তথা সাবঅল্টার্নদের এমনভাবে নিস্পেসন করে রাখে যে, তারা নিজেদের প্রয়োজনে কোনো কথা বলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকেন। একশ্রেণির রাজনীতিবিদ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিবর্গ নানা মতলবে তাদের হয়ে কথা বলতে চান বা বলার ভান করেন সেটা মূলত তাদেরই কায়েমী স্বার্থে নিজেদের মতো করে সম্পাদনা করে বলা। এটা কখনও পিওরভাবে ঐ শ্রেণির কথা হয়ে ওঠে না। এতেকরে প্রকৃত প্রস্তাবে ঐসকল মানুষের ভাগ্যের কোনো টেকসই উন্নতি হয় না।
    স্পিভাকের তত্তে¡র জটিল বিশ্লেষণে না গিয়ে আমরা যদি তার মূল ভাবটি নিয়ে চিরায়ত বাংলাদেশের ঐসকল আহেলিত মানুষের দিকে তাকাই, তাহলে এই জনগোষ্ঠীর কথা বলতে না পারার বাস্তবতাটি অনেকভাবেই আমাদের চোখে পড়তে পারে। আর এটা বুঝতে হলে তাদের সাথে সরাসরি সংযোগ সাধন করতে হবে। কোনো সৌখিন দরিদ্রপ্রেমি, ধান্ধাবাজ বাজনীতিবিদ বা সমাজ-উন্নয়ন সংস্থার চোখ দিয়ে নয়, একেবারে নিজের মত করে তাদের কাছে যেতে হবে, তাহলেই তাদের কথা বোঝা যাবে। তাদের মুখের ভাষা চোখ মুখের অভিব্যক্তিও অনেক সময় তাদের আনন্দ-বেদনার কাব্য বলে দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি তেমনটি দেখতে বা শুনতে পাচ্ছেন? তিনি কি অবহেলিত বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের ভাষা উপলদ্ধি করতে পারছেন? মনে হচ্ছে পারতে শুরু করেছেন এবং অগ্রগতি বেশ আশা জাগানোরই মতো। তাঁর হয়তো সুন্দর কিছু পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্প রয়েছে। এমনই প্লান ও ডিটারমিনিশনের কথাই হয়তো তিনি দীর্ঘ নির্বাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশে ফিরে প্রথম দিনই প্রকাশ করেছিলেন। যদিও বিস্তারিত বলেননি। আর এই না বলার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের ইস্তেহারে কিছু কিছু পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করছেন। সেসব পরিকল্পনাও সমালোচকদের নিন্দা থেকে রেহাই পায়নি। তার ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ কেউ ভীশন মন্দভাবে রিঅ্যান্ট করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ প্রদান শুরু হয়ে গিয়েছে। সাবঅল্টার্ন বা আহেলিত প্রান্তিক মানুষের সাথে সংযোগের এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। যেহেতু এই কার্ড সবচেয়ে অবহেলিত অভাবগ্রস্থদের থেকে শুরু হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল সংসারের নারী প্রধানের নিকট পৌঁছানোর কথা, সেহেতু এই কর্মসূচির মাধ্যমে কথা বলতে না পারা জনতার এক বিরাট অংশই তাদের প্রাণের দাবীর কিছুটা হলেও মিটাতে পারবেন। তারা আসলে কী বলতে চায়? তারা মূলত অনেক কিছুই বলতে চায়। তারা মানুষ হিসেবে নূন্যতম মর্যাদা চান। ভাত-কাপড় ও নিরাপদ আশ্রয় চায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অধিকার চান। এরকম ব্যাসিক পর্যারের চাহিদার মধ্যে কিছুটা নিশ্চিত প্রাপ্তির বাহক এই ফ্যামিলি কার্ড। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, ক্ষমতাহীন অবহেলিত নাগরিকের একটি বিরাট অংশই নারী। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে আসা হলো। একটি অভাবী পরিবারে একজন নারীকে সংসার পরিচালনার জন্য স্বামী বা সক্ষম পুরুষের আয় দিয়ে অনেক কষ্ট করে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাদের হাতে প্রতিমাসে একটি নগদ টাকা আশা তাদেরকে বেঁচে থাকার সংগ্রামে বেশ খানিকটা সাহসী করে তুলবে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রথম দিনেই অনেক গ্রাহক বিভিন্নভাবে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে, এমনকি আনন্দে কেউ কেউ কান্না করে দিয়েছে, দু’হাত তুলে তারেক রহমানকে দোয়া করেছে; এইসব দৃশ্যে কোনো কৃত্তিমতা ছিলনা। মানুষের হৃদয়ের নিবিড় প্রান্ত থেকে উঠে আশা এইসব অভিব্যক্তি একজন নেতাকে স্পষ্টত প্রান্তিক মানুষের কাছে এমনভাবে আপন করে তোলে যা রাজনৈতিক বক্তৃতা, ক্ষমতার মহড়া, ন্যারেটিভ নির্মাণ ইত্যাদি সকল উদ্যোগকে ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করার জন্য অসাধারণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
    এ্যারিস্টটল গণতন্ত্রের মন্দ রূপের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, এটা শেষ পর্যন্ত কতিপয় ধনীক শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিভিন্ন সময়ে আমরা এর প্রমাণও দেখেছি। ক্ষমতায় গিয়ে দলীয় ধনীক শ্রেণিদের খেলাপি ক্ষণ নেওয়ার-হিড়িক পরে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নানারকম সরকারি সুযোগ চলে যায় এক ধরনের পোষ্য বুর্জোয়া শ্রেণির কাছে। কিন্তু তারেক রহমান এলিট শ্রেণির দিকে নজর না দিয়ে ব্যাংকিং খাতে প্রথম সুবিধাটি দিলেন ক্ষণগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকদেরকে, তাদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ সুদসহ মৌসুফ করে দিলেন। তাছাড়া ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কৃষক কার্ডের। সবই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের না বলতে পারা অনেক অনেক সমস্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। এই মানুষগুলো হয়তো সংগঠিত হয়ে কোনো দিন আন্দোলন করে হয়তো অধিকার বা দাবী আদায় করতে পারতো না। কিন্তু তাদের ঐ সমস্যা বুঝতে পারা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনকারী রাজনৈতিক দল ও নেত্রীত্বের সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্টগুণের প্রমাণ বহন করে। তারেক রহমান সরকার প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরার বিভিন্ন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়েছে। এই বিষয়টি একেবারে নিম্নবিত্ত মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত মানুষের একেবারেই দৈনন্দিন সমস্যা। বাজার ব্যবস্থার কাছে সবাই সমবেশি জিম্মি হয়ে পড়ে। কিন্তু এবছরের রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য যেভাবে অন্য মাসের চাইতে কমিয়ে আনা হয়েছে তা সত্যিই বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য।
    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলাফেরা সাধারণ বা প্রান্তিক মানুষের সাথে সহজভাবে মেশা, তাদের সম্মান দেওয়া এসবকিছুই রাজনীতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং অবহেলিত মানুষের সুবিধা অর্জনের পথ সুগম হচ্ছে। তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরো উপকৃত হবেন যদি তারেক রহমানের নাম ব্যবহারকারী দলীয় নেতাকর্মীগণ তাঁর মত জনবান্ধব হন। এখনও অনেক স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী পুরোনো ধাঁচের কর্তৃত্ববাদী ভয়ের সংস্কৃতি চালু রেখেই দল চালাচ্ছেন। যার ফলে প্রান্তিক জনগণের অনেকেই সরকারের সকল ভালো উদ্যোগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার যারা সুবিধা পাচ্ছেন তারাও কেউ কেউ স্থানীয় নেতাদের ব্যবহারের কারণে অসন্তুষ্টই থেকে যাচ্ছে। তারেক রহমান ক্রমশঃ তাঁর নিজগুণকে তাঁর দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে সঞ্চালন করতে পারলেই কেবল প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে সবার কাছে তাঁর ইমেজ ভালো রাখতে পারবেন।
    লেখক: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়