সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

Written by

in

এবিএনএ: গণভোট, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে কার্যকারিতা হারায়।

জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এবার সংসদে তোলা হচ্ছে না। ফলে আগামী নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে এগুলো ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কমিটি মনে করছে, এই অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর ভবিষ্যতে নতুনভাবে বিল আকারে আনা উচিত।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পেতে হয়। তা না হলে ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং চারটি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যেসব অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার সংশোধন, রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।

এদিকে কমিটির কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য। তারা ১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন।

প্রতিবেদনটি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।

রিপোর্টে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা সবগুলো অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *