Tag: অধ্যাদেশ

  • অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত, ৩ বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা স্থগিত

    অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত, ৩ বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা স্থগিত

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। একইসঙ্গে আপত্তি ওঠায় আরও তিনটি বিল তাৎক্ষণিকভাবে পাস না করে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব বিল উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে একে একে সাতটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সংসদে এদিন মোট ১০টি বিল উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সাতটি বিল পাস হলেও তিনটি বিল নিয়ে সদস্যদের আপত্তি থাকায় সেগুলো আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

    যেসব সাতটি বিল পাস হয়েছে সেগুলো হলো— ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২৬, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সম্পর্কিত অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স (সংশোধন) আইন-২০২৬।

    এদিকে আলোচনার জন্য রাখা তিনটি বিল হলো— জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিতকরণ আইন-২০২৬। এসব বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পুনরায় সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে।

    জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইন হিসেবে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে ১০টি বিল সংসদে তোলা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলো পর্যায়ক্রমে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    এবিএনএ: গণভোট, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে কার্যকারিতা হারায়।

    জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এবার সংসদে তোলা হচ্ছে না। ফলে আগামী নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে এগুলো ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কমিটি মনে করছে, এই অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর ভবিষ্যতে নতুনভাবে বিল আকারে আনা উচিত।

    সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পেতে হয়। তা না হলে ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

    বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং চারটি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    যেসব অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার সংশোধন, রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।

    এদিকে কমিটির কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য। তারা ১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন।

    প্রতিবেদনটি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।

    রিপোর্টে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা সবগুলো অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

  • ১৩৩ অধ্যাদেশে তুমুল মতভেদ! ১৫ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের কড়া আপত্তি

    ১৩৩ অধ্যাদেশে তুমুল মতভেদ! ১৫ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের কড়া আপত্তি

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা ভিন্নমত পোষণ করে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জমা দিয়েছে।

    রোববার (২৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। বৈঠকে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

    রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে প্রায় ২২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং এর মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কিছু প্রস্তাব জোর করে পাস করানোর চেষ্টা চলছে।

    বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে দলটি। তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানকে আবারও দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

    এছাড়া বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগের জন্য গঠিত বাছাই কমিটি বাতিল করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে তারা। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা খর্বের আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

    গণভোট ইস্যুতে দলটির অবস্থান আরও কঠোর। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট জাতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি বাতিলের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি গণভোট অসাংবিধানিক হয়, তাহলে একই প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?

    তিনি আরও জানান, যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    তবে কিছু বিষয়ে সংশোধনীসহ আংশিক সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে বলেও জানান তিনি। কিন্তু যেসব প্রস্তাব জনগণের স্বার্থবিরোধী বলে মনে হচ্ছে, সেগুলোতে কোনো আপস করবে না জামায়াত।

    সব মিলিয়ে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ ঘিরে সংসদে মতবিরোধ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    বুধবার সচিবালয় কাঁপাবে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মিছিল: আন্দোলন আরও বেগবান

    এবিএনএ: সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী বুধবার প্রতিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা মিছিল বের হয়ে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর রাজধানীর সচিবালয়ের বাদামতলা এলাকায় জড়ো হন বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারী। সেখানে বাংলাদেশ সচিবালয় ঐক্য ফোরামের নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন কো-চেয়ারম্যান মো. বাদিউল কবির, মো. নুরুল ইসলাম এবং কো-মহাসচিব নজরুল ইসলামসহ অনেকে।

    নেতারা জানান, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলোচনায় বলেছেন যে, কর্মচারীদের আন্দোলন নাকি ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এ প্রসঙ্গে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আসলে কি আন্দোলন কমে আসছে? বরং আজকের জমায়েত গতকালের চেয়েও দ্বিগুণ। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বুধবার প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা মিছিল আসবে সচিবালয়ের দিকে।”

    তিনি আরও বলেন, “আন্দোলন আরও সুসংগঠিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই, এই দাবি আমাদের সবার এবং পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

    ফোরামের আরেক কো-চেয়ারম্যান বাদিউল কবির বলেন, “এই আন্দোলন এখন শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশে আমাদের সরকারি কর্মচারীরা রাস্তায় নেমেছেন। আমরা অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

    বুধবার সকাল ১১টায় আবারও সবাইকে সচিবালয়ের সামনে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা আবারও বাদামতলায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি শেষ করবেন বলে জানানো হয়েছে।