Tag: সংবিধান

  • মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের দাবি: পহেলা বৈশাখ ঘিরে হাইকোর্টে রিট

    মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের দাবি: পহেলা বৈশাখ ঘিরে হাইকোর্টে রিট

    এবিএনএ: পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম আয়োজন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই শোভাযাত্রা আয়োজন, প্রচার বা অনুমোদন থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এ রিট দায়ের করেন। তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেন, এই আয়োজন দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাস, ইমান এবং সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    রিটে সংস্কৃতি, ধর্ম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের ডিনকে বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের আয়োজন চালিয়ে যাওয়া সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।

    রিট আবেদনে আরও বলা হয়, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ নয়; বরং এটি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে শুরু হওয়া একটি সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যা পরে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

    এতে উল্লেখ করা হয়েছে, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতীক ও প্রতিকৃতি ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে তা সামাজিক সম্প্রীতি, জননিরাপত্তা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

    আবেদনকারী আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে জনমতের চাপে এ আয়োজনের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে। তাই বিষয়টির একটি স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধানের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

    রিটে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজন বা সংশ্লিষ্ট যেকোনো কার্যক্রম থেকে বিবাদীদের বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    এবিএনএ: গণভোট, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে কার্যকারিতা হারায়।

    জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এবার সংসদে তোলা হচ্ছে না। ফলে আগামী নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে এগুলো ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কমিটি মনে করছে, এই অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর ভবিষ্যতে নতুনভাবে বিল আকারে আনা উচিত।

    সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পেতে হয়। তা না হলে ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

    বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং চারটি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    যেসব অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার সংশোধন, রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।

    এদিকে কমিটির কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য। তারা ১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন।

    প্রতিবেদনটি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।

    রিপোর্টে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা সবগুলো অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

  • সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    সংবিধান সংস্কারে পথে নামছে বিরোধী দল—‘জনগণকে নিয়েই হবে আন্দোলন’

    এবিএনএ: সংবিধান সংস্কারের দাবিতে এবার সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল। সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা Shafiqur Rahman জানিয়েছেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। ১১ দল একসঙ্গে বসে শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এর আগে, সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। শফিকুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে তারা ‘সংস্কার’ চেয়েছিলেন, যা গণভোটে জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ।

    তিনি উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Salahuddin Ahmed একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলেও সেটি ছিল সংবিধান সংশোধনকেন্দ্রিক। বিরোধী দল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের দাবি হলো সংবিধানের মৌলিক সংস্কার।

    শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের দেওয়া রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো কমিটি গঠন গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমান প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাবও তারা দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

    এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ‘সংস্কার’-এর কথা বলেছিলেন, ‘সংশোধন’-এর নয়।

    স্পিকারের কাছে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও সময়ের অভাবে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। পরে সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন, তবে স্পিকার জানান—প্রস্তাবটি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে, গৃহীত হয়নি।

    এ ঘটনায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তারা সংকটের সমাধান চেয়েছিলেন, কিন্তু জনগণের রায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, এটি গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, জনগণের মতামতকে আড়াল করতে পরিকল্পিতভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

    বাংলাদেশের ইতিহাসে আগের গণভোটগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সবসময় জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।

    শফিকুর রহমান জানান, সংসদে সমাধান না হওয়ায় এখন তারা জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দেশজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, তারা সংসদ ত্যাগ করেননি, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রয়েছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় আন্দোলনই তাদের একমাত্র পথ বলে মনে করছেন তিনি।

  • আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস

    আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস

    এবিএনএ:  আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি উপলক্ষে নানা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

    দিবসটি স্মরণে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবী ও বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন আপিল বিভাগের বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যানসহ বিচারাঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বরকে ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ হিসেবে পালনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    কারণ হিসেবে জানানো হয়, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রথমবারের মতো উচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সেই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণে প্রতিবছর সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।

  • গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    গণভোটে নতুন আইন আসলে শুরু হবে প্রস্তুতি: কী বললেন সিইসি

    এবিএনএ: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় গণভোট আয়োজনের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা এলেও, এখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইন বা অধ্যাদেশ জারি হলে তবেই নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কাজ শুরু করতে পারবে।

    বুধবার নির্বাচন কমিশনের ধারাবাহিক সংলাপের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী বক্তব্যে সিইসি এ কথা বলেন। তিনি জানান, গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বারবার প্রশ্ন এলেও, আইন ছাড়া এখন এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা কিংবা সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

    সংলাপে সিইসির সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অন্য চার নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ও বাসদ মার্কসবাদীসহ ছয়টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এদিনের সংলাপ। চার দিনে মোট ৪৮টি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্বাচন কমিশন।

    সমাপনী বক্তব্যে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে ঘোষণা এলেও, আইন না হলে ইসির আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব শুরু হয় না। আইনের মাধ্যমে বলা হবে—কী বিষয়ে ভোট হবে, কতগুলো ব্যালট বাক্স লাগবে, কীভাবে ভোট গ্রহণ হবে, এগুলো সবই নির্ধারণ করবে সেই আইন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা কম নয়। তবে আমাদের চলতে হবে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থসামাজিক বাস্তবতার আলোকে। তাই ধীরে সুস্থে, কম কথায় বেশি কাজ করার নীতি নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’

    সিইসি আরও ইঙ্গিত দেন যে, ইসি প্রস্তুত রয়েছে দক্ষতার সঙ্গে যে কোনো নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য, তবে আইনি কাঠামো ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    তিনি বলেন, ‘বাস্তবতার আলোকে আমরা স্লো অ্যান্ড স্টেডি অগ্রযাত্রায় আছি। এখন পর্যন্ত সফলভাবেই এগোতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ সামনে আরও এগোবো।’

  • সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অসাংবিধানিক ঘোষণা, বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয়ের নির্দেশ

    এবিএনএ: অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সম্পর্কিত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। একই সঙ্গে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    রায়ে বলা হয়, অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার সব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত থাকবে। পাশাপাশি ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে ধারা ছিল, সেটি পুনর্বহালেরও নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী একটি রিট আবেদন করেন। এতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

    রিটে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। তবে ১৯৭৪ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীতে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি’ কর্তৃক এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান যুক্ত হয়।

    আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে সেই বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়। সর্বশেষ হাইকোর্টের রায়ে এ ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

  • সংবিধানের বাইরে পিআর পদ্ধতিতে ভোট সম্ভব নয়: প্রধান নির্বাচন কমিশনার

    সংবিধানের বাইরে পিআর পদ্ধতিতে ভোট সম্ভব নয়: প্রধান নির্বাচন কমিশনার

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আনুপাতিক পদ্ধতি বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন সংবিধানে নেই, তাই এটি সংবিধানের বাইরে। এই পদ্ধতিতে নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে আইন পরিবর্তন হলে এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

    শনিবার (২৩ আগস্ট) রাজশাহীর লোক প্রশাসন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে, নির্বাচনি সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সীমানা সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    সিইসি সতর্ক করেছেন, যারা অতীতে ভোটকেন্দ্র দখল করে অনিয়ম করেছে, তাদের এবার তা বাস্তবায়ন হবে না। ভোটকেন্দ্র দখল বা অস্ত্র ব্যবহার করে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করলে ভোট বাতিল ঘোষণা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা ৫৭০০ কর্মকর্তাকে যথাযথ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং যারা পূর্ব নির্বাচনে অনিয়ম করেছে, তাদের এবার দায়িত্ব দেওয়া হবে না। সিইসি স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনে কোনো চাপ দেয়নি; চাপ দিলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেন, “দলের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ, রায় হয়নি। কোনো রায় হলে সেটি দেখে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।”