Tag: বাংলাদেশ রাজনীতি

  • স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    এবিএনএ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এখন দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

    শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত বন্ধ কলকারখানা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মহীন শ্রমিকরা আবার কাজের সুযোগ পান। এ বিষয়ে অগ্রগতি তদারকিতে নিয়মিত বৈঠকও চলছে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করলেই বেকার সমস্যার সমাধান হবে না। দেশে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক রয়েছে, যাদের কর্মসংস্থানের জন্য দেশীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমবাজারও সম্প্রসারণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নতুন শিল্প স্থাপনে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, শিল্পায়ন বাড়লে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

    রাজধানীতে হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কে অনিয়ন্ত্রিত হকার বসার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল, তাই তাদের সরানো হয়েছে। তবে তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, সব হকারকে একসঙ্গে পুনর্বাসন করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

  • সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিএনপির কোনো নিজস্ব ব্যাংক নেই, তবে দেশের মানুষ ভালো করেই জানে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলো রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়া বা ঋণ পুনঃতফসিল কোনো নতুন বিষয় নয়। এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক ঝুঁকি, অর্থনৈতিক সংকট বা বৈশ্বিক দুর্যোগের সময় এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

    তিনি দাবি করেন, গত প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তার ভাষায়, “অনেক ব্যবসায়ীকে অনুমোদিত ঋণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, এমনকি তাদের ব্যবসা পরিচালনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।”

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের এখন ঋণ খেলাপি বলা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন বা কারাবন্দি ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করা সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেসব গোষ্ঠীর নিজস্ব ব্যাংক রয়েছে, তারা নিজেদের সুবিধামতো শীর্ষ পদে নিয়োগ দিতে পারেন। ফলে তাদের ঘনিষ্ঠদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এই সুবিধা বিএনপির নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অনেক সময় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি পেশাদার খাতের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

    রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে মন্তব্য

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

    তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম-এর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই শপথ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

    অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বক্তব্যেও পরিবর্তন এসেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “যদি কেউ সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে—এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব।”

  • সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ইস্যুতে তুমুল ঝড়! এক বক্তব্যেই অচল অধিবেশন

    সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ইস্যুতে তুমুল ঝড়! এক বক্তব্যেই অচল অধিবেশন

    এবিএনএ: মুক্তিযুদ্ধ এবং জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সৃষ্টি হয় তীব্র উত্তেজনা। দিনের বড় অংশজুড়ে চলে হট্টগোল, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং তর্ক-বিতর্ক, যার ফলে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে।

    কীভাবে শুরু হলো বিতর্ক?

    মঙ্গলবার বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার পর নিয়মিত কার্যসূচি শেষে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য আসতেই বিরোধী দলের সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে হট্টগোল শুরু করেন।

    স্পিকারের হস্তক্ষেপেও থামেনি উত্তেজনা

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার সদস্যদের সতর্ক করেন এবং সংসদের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান। তবে এরপরও সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থামেনি।

    বিতর্কিত মন্তব্যে উত্তাপ বাড়ে

    বক্তব্যে ফজলুর রহমান দাবি করেন, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। এই মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান এবং সংসদে হট্টগোল আরও বেড়ে যায়।

    এছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলনার তুলনারও সমালোচনা করেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

    নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা বক্তব্য

    বিরোধীদলীয় নেতা তার বক্তব্যে এই মন্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই।

    অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরাও পাল্টা অবস্থান নেন। বিভিন্ন দল ও জোটের সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন, ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    স্পিকারের কঠোর বার্তা

    ক্রমাগত বিশৃঙ্খলার মধ্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, জাতি সরাসরি অধিবেশন দেখছে—এ ধরনের আচরণ সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তিনি সংসদের কার্যপ্রণালি মেনে চলার ওপর জোর দেন এবং অসংসদীয় বক্তব্য রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার কথাও জানান।

    অন্যান্য ইস্যুতেও উত্তেজনা

    একই দিনে সংসদে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগ, গণভোটের বৈধতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের অধিকার, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এবং জাল নোট প্রতিরোধে নতুন আইন প্রণয়ন।

    রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট

    দিনভর আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সমসাময়িক ইস্যুগুলোতে এই বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, একটি বক্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া উত্তেজনা পুরো দিনের সংসদ কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস

    এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা বাতিলের বিল পাস

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্যদের জন্য চালু থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে একটি বিল পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী সংশোধনী বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।

    সরকারের মতে, জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ এই সুবিধা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করছিল। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিল কার্যকর হলে সংসদ সদস্যদের এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানিতে অন্যদের মতোই শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।

    দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা

    সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, যমুনা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সেতুতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী জানান, ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য তিনটি রুট নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করতে বিভিন্ন করিডোর বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ২০৪০ সালের মধ্যে মহাসড়ক সম্প্রসারণ

    দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক আধুনিক করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে সংসদে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেনে এবং শতাধিক কিলোমিটার সড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হবে। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রশস্ত সড়ক তৈরি হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি বাড়বে এবং পণ্য পরিবহন সহজ হবে।

    রেল খাতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ

    সংসদে রেল খাতেও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে নতুন কোচ যুক্ত করা হচ্ছে এবং পুরোনো রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছে। বিভিন্ন জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

    তিনি বলেন, নতুন ব্রডগেজ কোচ আমদানি, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে রেল ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।

    অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার ওপর জোর

    সংসদে বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। সরকার জানিয়েছে, এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষা ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও সংসদে আলোচনা হয়েছে। সরকারের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও ব্যয়সংকোচন—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    এবিএনএ: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের নেতারা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই সময়ের মধ্যে গণমিছিল ও সেমিনারের মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।

    ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল দেশের সব বিভাগীয় শহরে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে। সর্বশেষ ২ মে প্রতিটি জেলা শহরে গণমিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরো সময়জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমিনার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে গণরায় উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, জনগণের দাবিকে অবজ্ঞা করে সরকার উল্টো দমননীতির পথে হাঁটছে।

    তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণ, জ্বালানি সংকট এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন তিনি।

    জোট নেতারা জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    জ্বালানি সংকটের সতর্কবার্তা: অপচয় কমাতে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ভর্তুকিতে চাপ সামাল দিচ্ছে সরকার

    এবিএনএ:  জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের সব স্তরে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে চাপ বাড়লেও সরকার জনগণের স্বার্থে দাম বাড়ায়নি; বরং প্রতিদিন বিপুল ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত স্বাধীনতা পুরস্কার–২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশে জনদুর্ভোগ এড়াতে সরকার এখনো মূল্য সমন্বয় করেনি। এতে প্রতিদিন শত কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে কাজ করছে। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পারিবারিক পর্যায়েও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে তিনি সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। জ্বালানি খাতে অপচয় কমাতে সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ কমবে।

    স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান

    অনুষ্ঠানে দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় জীবনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (মরণোত্তর) সহ ১৫ জন ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

    সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

    নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনজীবনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতির পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আধুনিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে উন্নয়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

    ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ শুরু করেছে। দলীয় ইশতেহার ও ঘোষিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ব্যাপারে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলামসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে কয়েকজন অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

  • ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    ‘আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে’—সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে ইতোমধ্যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে এবং এই আন্দোলনকে ধাপে ধাপে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ আন্দোলন গড়ে উঠছে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য এই সেমিনারের আয়োজন করে।

    সরকারের নীতির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, কখনো গণভোটকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়, আবার কখনো আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়—এই দ্বৈত অবস্থান জনগণ মেনে নেবে না। তিনি দাবি করেন, সংসদে তাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে বিরোধীদল হিসেবে তারা জনগণের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছেন।

    তিনি আরও বলেন, সংসদে যাওয়ার আগে থেকেই তাদের অবস্থান ছিল—কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সেখানে উপস্থিত থাকা। বাধ্যতামূলক কিছু সুবিধা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ না করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিকও যুক্ত ছিলেন, যারা রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আন্দোলনে অংশ নেন। এই আন্দোলনকে তিনি বৃহত্তর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

    তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘জুলাইয়ের ধারাবাহিকতা’ উল্লেখ করে বলেন, সেই আন্দোলনের চেতনার বিপক্ষে কোনো অবস্থান টিকবে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন।

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই আন্দোলন ক্ষমতার ভাগাভাগির জন্য নয়; বরং জনগণের রায় ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিফলন নিশ্চিত করার জন্য। তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।

    সংসদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তিপূজার সংস্কৃতি চলতে পারে না। সংসদে জনগণের স্বার্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা ও সমাধানের দাবি জানান তিনি।

    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এতে আরও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা।

  • ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    ‘এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ’— উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এমপি হাসনাতকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখালে চলবে না এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

    শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস হওয়ার পর বিরোধী দলের আপত্তি ও সংশোধনী নিয়ে আলোচনা চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখনই স্পিকার মন্তব্য করেন, “দিস ইজ নট শাহবাগ স্কয়ার, দিস ইজ পার্লামেন্ট। এখানে ধৈর্য ধরে শুনতে হবে।”

    স্পিকার আরও বলেন, সংসদে মৌখিক বক্তব্যের সুযোগ সীমিত। সদস্যদের নোটিশের মাধ্যমে প্রস্তাব দিতে হবে এবং সেসব নোটিশের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং চাইলে সদস্যরা সংশোধনী প্রস্তাব আনতে পারেন।

    বর্তমান সংসদের পরিবেশ প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, অতীতের তুলনায় এবারের সংসদে সহযোগিতামূলক পরিবেশ রয়েছে। ইতোমধ্যে বহু বিল পাসের ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে, যা সংসদীয় ইতিহাসে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

    হাসনাত আব্দুল্লাহসহ বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ তুলে ধরা উচিত। পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধনী বিল আনার সুযোগ রয়েছে এবং সরকারপক্ষ তা বিবেচনা করতে পারে।

    স্পিকার আরও জানান, গণতন্ত্রে মতভিন্নতা স্বাভাবিক বিষয়। বিরোধী দলের অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলেও আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

  • তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    তীব্র আপত্তির মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাস, সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

    এবিএনএ: সংসদে তীব্র আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে। বিলটি অনুমোদনের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান বিরোধী দল অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছে।

    শুক্রবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিলটি ভোটে পাস হওয়ার পর বিরোধী দল তাদের আপত্তি পুনর্ব্যক্ত করে।

    পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ কক্ষ ত্যাগের ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা একে একে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান।

    বিরোধী দলের দাবি, বিলটি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি এবং তাদের উত্থাপিত আপত্তিগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বিলটি পাসের পক্ষে অবস্থান নেয়।

    ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী অধিবেশন চালিয়ে যাওয়া হয়।

  • সংসদে মাইক বিকল, ক্ষুব্ধ স্পিকার: ‘এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক পরিস্থিতি’

    সংসদে মাইক বিকল, ক্ষুব্ধ স্পিকার: ‘এটি জাতির জন্য লজ্জাজনক পরিস্থিতি’

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে হঠাৎ সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম একে ‘অত্যন্ত কলঙ্কজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অধিবেশন চলাকালে হঠাৎ করে মাইকের শব্দে সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংসদের কার্যক্রম প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য স্থগিত রাখতে হয়। পরে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে স্পিকার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

    তিনি জানান, মাইক ব্যবস্থার ত্রুটির কারণ অনুসন্ধানে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনের ভেতরে ভাঙচুরের ঘটনায় আসবাবপত্র ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে।

    স্পিকার আরও বলেন, সংসদ ভবনে যে সাউন্ড সিস্টেমটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কয়েক বছর আগে স্থাপন করা হলেও এর গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া যাচ্ছে না। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে যথাযথ পরিকল্পনা ও তদারকির অভাব ছিল বলেও তিনি ইঙ্গিত করেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সমস্যার সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে যারা এই প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন, তাদের অনেকেই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন।

    এ পরিস্থিতিতে স্পিকার সংসদের সচিবকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আইনসভায় এ ধরনের প্রযুক্তিগত বিভ্রাট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি রাষ্ট্রের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।

    তিনি আরও সতর্ক করে জানান, ভবিষ্যতে আবারও এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে স্বল্প সময়ের জন্য অধিবেশন স্থগিত রাখতে হতে পারে, যাতে দ্রুত মেরামত করা যায়।

    সব মিলিয়ে, চলমান এই প্রযুক্তিগত জটিলতা সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার।