এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্যদের জন্য চালু থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করে একটি বিল পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী সংশোধনী বিল উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
সরকারের মতে, জনপ্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ এই সুবিধা সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে বৈষম্য তৈরি করছিল। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিল কার্যকর হলে সংসদ সদস্যদের এখন থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি আমদানিতে অন্যদের মতোই শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা
সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, যমুনা নদীর ওপর নতুন একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সেতুতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য তিনটি রুট নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করতে বিভিন্ন করিডোর বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০৪০ সালের মধ্যে মহাসড়ক সম্প্রসারণ
দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক আধুনিক করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে সংসদে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়ক ৬ লেনে এবং শতাধিক কিলোমিটার সড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হবে। ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রশস্ত সড়ক তৈরি হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি বাড়বে এবং পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
রেল খাতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ
সংসদে রেল খাতেও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে নতুন কোচ যুক্ত করা হচ্ছে এবং পুরোনো রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছে। বিভিন্ন জেলায় রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
তিনি বলেন, নতুন ব্রডগেজ কোচ আমদানি, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে রেল ভ্রমণ আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে।
অবকাঠামো উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার ওপর জোর
সংসদে বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। সরকার জানিয়েছে, এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনা, শিক্ষা ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও সংসদে আলোচনা হয়েছে। সরকারের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন ও ব্যয়সংকোচন—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply