Tag: বাংলাদেশ রাজনীতি

  • সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    এবিএনএ: গণভোট, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে কার্যকারিতা হারায়।

    জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এবার সংসদে তোলা হচ্ছে না। ফলে আগামী নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে এগুলো ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কমিটি মনে করছে, এই অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর ভবিষ্যতে নতুনভাবে বিল আকারে আনা উচিত।

    সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পেতে হয়। তা না হলে ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

    বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং চারটি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    যেসব অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার সংশোধন, রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।

    এদিকে কমিটির কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য। তারা ১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন।

    প্রতিবেদনটি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।

    রিপোর্টে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা সবগুলো অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রিয়জন হয়ে উঠছেন তারেক রহমান

    প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রিয়জন হয়ে উঠছেন তারেক রহমান

    ড. মো. শওকত হোসেন
    ইংরেজিতে যাকে সাবঅল্টার্ন (Subaltern)  বলা হয়, বাংলায় তাকে সত্যিকারভারে কোনো একক শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা মুসকিল। এর কাছাকাছি বাংলা শব্দ হতে পারে: প্রান্তিক মানুষ, অবহেলিত জনতা, শোষিত ব্যক্তিবর্গ ইত্যাদি। এরা এমন ধরনের মানুষ যাদের কেউ পাত্তা দেয় না, তাদের কোনো ভালোলাগা মন্দ লাগায় সমাজ বা রাষ্ট্রের কিছু আসে যায় না। কেউ তাদের কথা মন দিয়ে বা গুরুত্ব দিনে শুনতে চায় না। ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা নানা সময়ে তাদের ব্যবহার করে, কিন্তু উপলক্ষ ফুরালে অদের দূরে ঠেলে দেয়। তারা থাকেন বরাবরের মতো উপেক্ষিত। সব ক্ষমতাধর পক্ষকেই তাদের সন্তুষ্টি বিধান করে চলতে হয়, এবং এতে করে তাদেরকে অনেকক্ষেত্রে পারিচয়ের ঘাটতি বা আইডেন্টিটি ক্রাইসিস-এও পরতে হয়। অনেক সময় সন্দেহ বসত কোনো পক্ষের কোপে পড়ে তাদের পোয়াতে হয় নানারকম দুর্ভোগ। জনবহুল গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে  বাংলাদেশের অস্থান অস্টম বলে ধরা হয়। দেশটি আবার অর্থনৈতিকভাবে উন্নত নয়। তাছাড়া সম্পদের অসম বণ্টন, মুদ্রাস্ফীতি এবং সর্বোপরি দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কবলে পরে একশ্রেণির মানুষ হয়ে পারছে অসহায়, কেউ কেউ ছিন্নমূল, এলাকা ছাড়া, বেকার, সহায়-সম্বলহীন। এইসকল মানুষদের অনেকেই বা বেশিরভাগই হয়ে ওঠে সাবঅল্টার্ন। অসহায়ত্ব ও দারিদ্রের সমস্যা এদের যাই থাকুন না কেন এদের সর্বাপেক্ষা বড় কষ্টের একটি হলো এদের কথা কেউ শুনতে চান না, কোনো কোনো বিশেষ সময়ে শুনে থাকলেও কেউ কথা রাখেন না।
    জ্ঞানচর্চার ইতিহাসের সমকালীন অধ্যায়ে ‘সাবঅল্টার্ন’ শব্দটি বেশ গুণত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভারতীর স্কলার গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক (Gayatri Chakravonty Spivak, 1942) ১৯৮৮ সালে “ক্যান দ্যা সাবঅল্টার্ন স্পিক? (Can the Subalterin Speak?)  নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। পোস্ট কলোনিয়াল, নারীবাদী ও বিনির্মাণবাদী চিত্তক হিসেবে তার পরিচিতি থাকলেও তার এই প্রবন্ধটি উত্তরাধুনিক কিংবা বর্তমান সময়ের সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতিবিদ্যা এবং সামগ্রিকভাবে দার্শনিক মহলে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। স্পিভাক মূলত দেখাতে চান যে, উপনিবেশিক বা যেকোনো ক্ষমাসীন শাসকগোষ্ঠী সমাজের দরিদ্র, প্রান্তিক, ক্ষমতাহীন মানুষ তথা সাবঅল্টার্নদের এমনভাবে নিস্পেসন করে রাখে যে, তারা নিজেদের প্রয়োজনে কোনো কথা বলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকেন। একশ্রেণির রাজনীতিবিদ ক্ষমতাশালী ব্যক্তিবর্গ নানা মতলবে তাদের হয়ে কথা বলতে চান বা বলার ভান করেন সেটা মূলত তাদেরই কায়েমী স্বার্থে নিজেদের মতো করে সম্পাদনা করে বলা। এটা কখনও পিওরভাবে ঐ শ্রেণির কথা হয়ে ওঠে না। এতেকরে প্রকৃত প্রস্তাবে ঐসকল মানুষের ভাগ্যের কোনো টেকসই উন্নতি হয় না।
    স্পিভাকের তত্তে¡র জটিল বিশ্লেষণে না গিয়ে আমরা যদি তার মূল ভাবটি নিয়ে চিরায়ত বাংলাদেশের ঐসকল আহেলিত মানুষের দিকে তাকাই, তাহলে এই জনগোষ্ঠীর কথা বলতে না পারার বাস্তবতাটি অনেকভাবেই আমাদের চোখে পড়তে পারে। আর এটা বুঝতে হলে তাদের সাথে সরাসরি সংযোগ সাধন করতে হবে। কোনো সৌখিন দরিদ্রপ্রেমি, ধান্ধাবাজ বাজনীতিবিদ বা সমাজ-উন্নয়ন সংস্থার চোখ দিয়ে নয়, একেবারে নিজের মত করে তাদের কাছে যেতে হবে, তাহলেই তাদের কথা বোঝা যাবে। তাদের মুখের ভাষা চোখ মুখের অভিব্যক্তিও অনেক সময় তাদের আনন্দ-বেদনার কাব্য বলে দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কি তেমনটি দেখতে বা শুনতে পাচ্ছেন? তিনি কি অবহেলিত বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের ভাষা উপলদ্ধি করতে পারছেন? মনে হচ্ছে পারতে শুরু করেছেন এবং অগ্রগতি বেশ আশা জাগানোরই মতো। তাঁর হয়তো সুন্দর কিছু পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্প রয়েছে। এমনই প্লান ও ডিটারমিনিশনের কথাই হয়তো তিনি দীর্ঘ নির্বাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেশে ফিরে প্রথম দিনই প্রকাশ করেছিলেন। যদিও বিস্তারিত বলেননি। আর এই না বলার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের ইস্তেহারে কিছু কিছু পরিকল্পনার কথা তিনি উল্লেখ করছেন। সেসব পরিকল্পনাও সমালোচকদের নিন্দা থেকে রেহাই পায়নি। তার ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কেউ কেউ ভীশন মন্দভাবে রিঅ্যান্ট করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ প্রদান শুরু হয়ে গিয়েছে। সাবঅল্টার্ন বা আহেলিত প্রান্তিক মানুষের সাথে সংযোগের এটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। যেহেতু এই কার্ড সবচেয়ে অবহেলিত অভাবগ্রস্থদের থেকে শুরু হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সকল সংসারের নারী প্রধানের নিকট পৌঁছানোর কথা, সেহেতু এই কর্মসূচির মাধ্যমে কথা বলতে না পারা জনতার এক বিরাট অংশই তাদের প্রাণের দাবীর কিছুটা হলেও মিটাতে পারবেন। তারা আসলে কী বলতে চায়? তারা মূলত অনেক কিছুই বলতে চায়। তারা মানুষ হিসেবে নূন্যতম মর্যাদা চান। ভাত-কাপড় ও নিরাপদ আশ্রয় চায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অধিকার চান। এরকম ব্যাসিক পর্যারের চাহিদার মধ্যে কিছুটা নিশ্চিত প্রাপ্তির বাহক এই ফ্যামিলি কার্ড। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, ক্ষমতাহীন অবহেলিত নাগরিকের একটি বিরাট অংশই নারী। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে আসা হলো। একটি অভাবী পরিবারে একজন নারীকে সংসার পরিচালনার জন্য স্বামী বা সক্ষম পুরুষের আয় দিয়ে অনেক কষ্ট করে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাদের হাতে প্রতিমাসে একটি নগদ টাকা আশা তাদেরকে বেঁচে থাকার সংগ্রামে বেশ খানিকটা সাহসী করে তুলবে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের প্রথম দিনেই অনেক গ্রাহক বিভিন্নভাবে যে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে, এমনকি আনন্দে কেউ কেউ কান্না করে দিয়েছে, দু’হাত তুলে তারেক রহমানকে দোয়া করেছে; এইসব দৃশ্যে কোনো কৃত্তিমতা ছিলনা। মানুষের হৃদয়ের নিবিড় প্রান্ত থেকে উঠে আশা এইসব অভিব্যক্তি একজন নেতাকে স্পষ্টত প্রান্তিক মানুষের কাছে এমনভাবে আপন করে তোলে যা রাজনৈতিক বক্তৃতা, ক্ষমতার মহড়া, ন্যারেটিভ নির্মাণ ইত্যাদি সকল উদ্যোগকে ছাপিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করার জন্য অসাধারণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
    এ্যারিস্টটল গণতন্ত্রের মন্দ রূপের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, এটা শেষ পর্যন্ত কতিপয় ধনীক শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিভিন্ন সময়ে আমরা এর প্রমাণও দেখেছি। ক্ষমতায় গিয়ে দলীয় ধনীক শ্রেণিদের খেলাপি ক্ষণ নেওয়ার-হিড়িক পরে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নানারকম সরকারি সুযোগ চলে যায় এক ধরনের পোষ্য বুর্জোয়া শ্রেণির কাছে। কিন্তু তারেক রহমান এলিট শ্রেণির দিকে নজর না দিয়ে ব্যাংকিং খাতে প্রথম সুবিধাটি দিলেন ক্ষণগ্রস্থ প্রান্তিক কৃষকদেরকে, তাদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ সুদসহ মৌসুফ করে দিলেন। তাছাড়া ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কৃষক কার্ডের। সবই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের না বলতে পারা অনেক অনেক সমস্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমাধান। এই মানুষগুলো হয়তো সংগঠিত হয়ে কোনো দিন আন্দোলন করে হয়তো অধিকার বা দাবী আদায় করতে পারতো না। কিন্তু তাদের ঐ সমস্যা বুঝতে পারা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়া রাষ্ট্রক্ষমতা অর্জনকারী রাজনৈতিক দল ও নেত্রীত্বের সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্টগুণের প্রমাণ বহন করে। তারেক রহমান সরকার প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরার বিভিন্ন পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়েছে। এই বিষয়টি একেবারে নিম্নবিত্ত মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত মানুষের একেবারেই দৈনন্দিন সমস্যা। বাজার ব্যবস্থার কাছে সবাই সমবেশি জিম্মি হয়ে পড়ে। কিন্তু এবছরের রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য যেভাবে অন্য মাসের চাইতে কমিয়ে আনা হয়েছে তা সত্যিই বর্তমান সরকারের একটি বড় সাফল্য।
    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলাফেরা সাধারণ বা প্রান্তিক মানুষের সাথে সহজভাবে মেশা, তাদের সম্মান দেওয়া এসবকিছুই রাজনীতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং অবহেলিত মানুষের সুবিধা অর্জনের পথ সুগম হচ্ছে। তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরো উপকৃত হবেন যদি তারেক রহমানের নাম ব্যবহারকারী দলীয় নেতাকর্মীগণ তাঁর মত জনবান্ধব হন। এখনও অনেক স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী পুরোনো ধাঁচের কর্তৃত্ববাদী ভয়ের সংস্কৃতি চালু রেখেই দল চালাচ্ছেন। যার ফলে প্রান্তিক জনগণের অনেকেই সরকারের সকল ভালো উদ্যোগের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার যারা সুবিধা পাচ্ছেন তারাও কেউ কেউ স্থানীয় নেতাদের ব্যবহারের কারণে অসন্তুষ্টই থেকে যাচ্ছে। তারেক রহমান ক্রমশঃ তাঁর নিজগুণকে তাঁর দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে সঞ্চালন করতে পারলেই কেবল প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে সবার কাছে তাঁর ইমেজ ভালো রাখতে পারবেন।
    লেখক: অধ্যাপক, দর্শন বিভাগ
    জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  • সরকারি চাকরিতে বিশাল শূন্যপদ—পৌনে ৫ লাখ পদ খালি, প্রত্যাহার ২৪ হাজার রাজনৈতিক মামলা!

    সরকারি চাকরিতে বিশাল শূন্যপদ—পৌনে ৫ লাখ পদ খালি, প্রত্যাহার ২৪ হাজার রাজনৈতিক মামলা!

    এবিএনএ: দেশে সরকারি চাকরিতে বিপুল সংখ্যক পদ এখনো খালি রয়েছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় সংসদে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হাজারো মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টিও জানানো হয়েছে।

    সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী Abdul Bari জানান, বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী (৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত), দেশে মোট কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন।

    পদভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৫৭ জন কর্মরত আছেন। এছাড়া অন্যান্য শ্রেণিতে রয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ৯৮০ জন।

    অন্যদিকে শূন্যপদের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ খালি রয়েছে। অন্যান্য ক্যাটাগরিতেও রয়েছে কয়েক হাজার শূন্যপদ।

    এদিকে, আইনমন্ত্রী Asaduzzaman সংসদে জানান, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব মামলা মূলত জনগণকে হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছিল।

    আইনমন্ত্রী আরও জানান, অতীত সরকারের আমলে দায়ের করা এমন আরও অনেক মামলা রয়েছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তি আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার সম্মান ও অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অতীতে অস্বাভাবিক কিছু মামলার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বহু বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি কিংবা প্রতিবন্ধীদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছিল।

    এ ধরনের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এখন এসব মামলা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

    আইনমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে আবেদন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, কারণ এ বিষয়টি শুধু আইন মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয় না।

    সব মিলিয়ে, একদিকে বিপুল শূন্যপদ পূরণের চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ—দুই দিকেই সরকারের বড় ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • সংসদে তুমুল আলোচনা: সিইসি ‘শপথ ভঙ্গ’ করেছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

    সংসদে তুমুল আলোচনা: সিইসি ‘শপথ ভঙ্গ’ করেছেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্ফোরক অভিযোগ

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে গিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের ফরম বিতরণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে তিনি সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ তুলে ধরে বিষয়টির আইনি দিক ব্যাখ্যা করেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রের সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সেই দায়িত্বে থেকেও তিনি কীভাবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হওয়ার জন্য শপথের ফরম সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন—তা প্রশ্নবিদ্ধ। তার মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সিইসি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের সময় যে ব্যালট ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। জনগণ সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করেছে, অন্য কোনো পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।

    বিগত সরকারের জারি করা ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এটিকে শুরু থেকেই অবৈধ (ভয়েড অ্যাব ইনিশিও) হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সংবিধানের চতুর্থ তফশিল অনুযায়ী ১৯৭৩ সালের পর রাষ্ট্রপতির এমন আদেশ জারির ক্ষমতা নেই।

    তার ভাষায়, এই আদেশটি কোনো বৈধ আইন বা অধ্যাদেশ নয়, বরং এটি সার্বভৌম সংসদের ক্ষমতা খর্ব করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। পুরো প্রক্রিয়াকে তিনি ‘প্রতারণামূলক’ বলেও আখ্যা দেন।

    এ বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

  • জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের ইন্তেকাল

    জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের ইন্তেকাল

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ আর নেই। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৮ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহী ওয়া ইন্না লিল্লাইহী রাজিউন)।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুর স্থানীয় সময় দুপুর ১:৩০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মরদেহ আগামীকাল সন্ধ্যায় দেশে আনা হবে।

    মৃত্যুকালে দিলারা হাফিজ স্বামী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    জানাজা অনুষ্ঠান আগামী ৩০ মার্চ সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ দক্ষিণ প্লাজা-তে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে শায়রুল কবির জানিয়েছেন।

  • স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: গবেষণার নামে অবমূল্যায়ন নয়

    স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা: গবেষণার নামে অবমূল্যায়ন নয়

    এবিএনএ: দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কোনো ধরনের বিকৃতি বা অবমূল্যায়ন বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গবেষণা ও মতামত অবশ্যই হওয়া উচিত, তবে তা যেন জাতির গৌরবময় ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতকে সম্পূর্ণভাবে ভুলে গেলে জাতি দিকভ্রান্ত হয়, আবার অতীতে আটকে থাকলেও অগ্রগতির পথ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া লাখো বীর সন্তানকে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা, আহত যোদ্ধা এবং যুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন। তাদের আত্মত্যাগেই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার স্বপ্ন ধারণ করতেন এবং তার লেখালেখি ও কর্মকাণ্ডে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন দেখা যায়। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত তার অভিজ্ঞতা গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক দলের অর্জন নয়; এটি ছিল সমগ্র জাতির সংগ্রাম। লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব সবার।

    বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং খাল খননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। বিভাজন নয়, সম্মিলিত প্রয়াসেই একটি উন্নত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি আহ্বান জানান—সবাই মিলে ভালো থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে।

    আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    ঈদের আনন্দ ম্লান মোংলায়: তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের চোখে জল, নেতৃত্বের ভূমিকায় প্রশ্ন

    এবিএনএ,মাসুদ রানা, মোংলা: পবিত্র ঈদুল ফিতর দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলেও বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মীর জন্য এবারের ঈদ ছিল বিষণ্নতায় ঘেরা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা সত্ত্বেও স্থানীয় নেতৃত্বের অবহেলায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহু তৃণমূল কর্মী গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক হামলা-মামলা ও কারাবাসের কারণে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঈদের সময় অন্তত দলের প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে সহানুভূতি বা সহায়তা পাবেন—এমন আশা থাকলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি বলে জানান তারা।

    মোংলা উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে জানা গেছে, অনেক কর্মী পরিবার-পরিজনের জন্য ন্যূনতম খাবারের ব্যবস্থাও করতে পারেননি। কোথাও সীমিত পরিসরে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা সবার মধ্যে পৌঁছেনি। অভিযোগ রয়েছে, চাল ও নগদ সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ছিল না এবং প্রকৃত কর্মীদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন।

    এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক নেতাকর্মী। তাদের ভাষ্য, ঈদের দিন তো দূরের কথা, এর আগেও অনেক স্থানীয় নেতা কর্মীদের খোঁজখবর নেননি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মী বলেন, তারা কোনো পদ বা সুবিধার জন্য রাজনীতি করেন না, বরং দলের আদর্শে বিশ্বাস করেই রাজপথে সক্রিয় থাকেন। কিন্তু ঈদের মতো সময়ে সন্তানদের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্ট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

    তাদের আরও অভিযোগ, নেতারা নিজেদের প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের দুর্দশার দিকে নজর দিচ্ছেন না।

    এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এমন অসন্তোষ দীর্ঘমেয়াদে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করতে পারে এবং ভবিষ্যতের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    অন্যদিকে, খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক এক নেত্রী নাইনুর লিপি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর দল অনুকূল অবস্থানে থাকলেও তৃণমূল কর্মীদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হচ্ছে না। যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    মোংলা পৌর যুবদলের এক নেতা জানান, দুর্দিনে কর্মীরা একে অপরের পাশে দাঁড়ালেও দলীয় পর্যায়ে সে ধরনের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত কর্মীদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীরা সহায়তা পাচ্ছেন।

    এদিকে, বিএনপির এক ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলে বলেন, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া সহায়তা কারা পেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

    তবে একই এলাকায় ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে শাড়ি, কাপড় ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

    সব মিলিয়ে, এবারের ঈদ মোংলার তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের জন্য বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকল। এখন দেখার বিষয়, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেন কি না।

  • স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা—শ্রদ্ধা, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন

    স্বাধীনতা দিবসে বিএনপির দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা—শ্রদ্ধা, দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন

    এবিএনএ: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে Bangladesh Nationalist Party। রোববার (২২ মার্চ) দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব Ruhul Kabir Rizvi স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    ঘোষণা অনুযায়ী, ২৬ মার্চ ভোর ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিনে ভোরে সাভারে অবস্থিত National Martyrs’ Memorial-এ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপির পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

    স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ঢাকায় ফিরে দলের প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ Ziaur Rahman এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী Khaleda Zia-এর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে মাজার প্রাঙ্গণে দোয়ার আয়োজন করা হবে।

    এর আগে ২৫ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর রমনায় Institution of Engineers Bangladesh মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখবেন।

    দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ইতোমধ্যে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করেছে এবং একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

    রিজভী আরও জানান, দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর ইউনিট নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও নিজস্ব পরিকল্পনায় দিবসটি উদযাপন করবে।

    ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে চলছে দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার, শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকরা

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক Mirza Abbas গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর Evercare Hospital Dhaka-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মস্তিষ্কে প্রথম দফার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর শারীরিক জটিলতার কারণে দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে।

    শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে তার মস্তিষ্কে প্রথম অপারেশন শুরু হয় এবং সন্ধ্যা প্রায় সোয়া ৬টার দিকে সেটি শেষ হয়। পরে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আবারও দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার শুরু করা হয়। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অপারেশন তখনও চলছিল।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী অবস্থার উন্নতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু করেছে পরিবার। এজন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ইফতারের সময় পানি পান করার মুহূর্তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। এরপর দ্রুত তার শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ওই রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে দেখতে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman। সেখানে তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    এছাড়া বিএনপির মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir এবং Shafiqur Rahmanসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা জানান।

    মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

  • বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম প্রায় শূন্যে: আইনমন্ত্রী

    বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম প্রায় শূন্যে: আইনমন্ত্রী

    এবিএনএ: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির সূচক বর্তমানে উন্নতির দিকে রয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুম এখন প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং গায়েবি ও মিথ্যা মামলাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

    এ অগ্রগতি আরও এগিয়ে নিতে আইনজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এল.এল.এম. লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুলা) আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(এ) ধারা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এই ধারাটি মানুষের অধিকার রক্ষার একটি কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

    তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে শত শত মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মানুষকে বছরের পর বছর পুলিশ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হলে তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ সমস্যা নিরসনে উচ্চতর পুলিশ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    উপস্থিত ডুলা সদস্যদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, সঠিক মানবিক মূল্যবোধ, দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

    তিনি বলেন, রাজনৈতিক দর্শন যাই হোক না কেন, দিনের শেষে আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে—আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করছি।

    মন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এ দেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নাগরিকদের জন্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যদি আইন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা নিজেদের মূল্যবোধের জায়গা থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ডুলার সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ আলী আহমেদ খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন,ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুল ইসলাম, ডুলার সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডুলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী জয়নাল আবেদীন।