Tag: বাংলাদেশ রাজনীতি

  • নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্ক: রিজওয়ানাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি জামায়াতের

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কথিত ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং’ ইস্যুতে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে দলটি বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পদ থেকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধেও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুতে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও দিন শেষে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনিয়মের অভিযোগ আসে। তার দাবি, অনেক কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট প্রদান এবং দলের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও জানান, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু এজেন্টের যোগসাজশে ব্যালট কেটে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মের অভিযোগে জামায়াত অন্তত ৫৩টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    তাহের বলেন, সম্প্রতি সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে তাদের ধারণা। তার মতে, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কার্যত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য কারা এবং কীভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে—তা জাতির সামনে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এজন্য সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, বিষয়টি স্পষ্ট করতে খলিলুর রহমানকেও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

  • সংরক্ষিত নারী আসনে কারা আসছেন সংসদে? বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে মনোনয়ন সমীকরণ

    সংরক্ষিত নারী আসনে কারা আসছেন সংসদে? বিএনপির ভেতরে শুরু হয়েছে মনোনয়ন সমীকরণ

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে, যা আহ্বান করেছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। গেজেট প্রকাশের পর নতুন সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য মনোনয়ন। এই প্রক্রিয়া ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের নারী নেত্রীদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে।

    বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জানিয়েছে, অধিবেশন শুরু হলেই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। দলীয় সূত্রে বলা হচ্ছে, মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত থেকে আন্দোলন–সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্ব পাবে। এতে করে সংরক্ষিত আসনে অভিজ্ঞ ও সক্রিয় নারী নেতৃত্ব উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশা দলের ভেতরেই জোরালো।

    বিএনপির নারী নেত্রীদের অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ সময়ের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদেরই প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করা দরকার। দলীয় রাজনীতিতে নবীনদের জায়গা করে দেওয়ার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন করাও জরুরি বলে মত দেন তারা। এই ভারসাম্য রক্ষাই মনোনয়নের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আরেক নারী নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন না, সুসময় এলে তারাই বেশি দৃশ্যমান হন। প্রকৃত ত্যাগীদের খুঁজে বের করে সম্মান জানানো না গেলে দলের ভেতরে হতাশা তৈরি হতে পারে। দল সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত নারী সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও কথা বলছেন নেত্রীরা। সংসদ কেবল উপস্থিত থাকার জায়গা নয়; এখানে আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ও বিতর্কে দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রাখতে হয়। এ বিষয়ে হেলেন জেরিন খান বলেন, যোগ্যতা, সততা ও সংসদীয় শিষ্টাচার জানা নারীদেরই এগিয়ে আনা উচিত, যাতে সংসদের বিতর্কে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা যায়।

    আসন বণ্টনের হিসাব অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বড় অংশ যাবে বিএনপির ভাগে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির ভাগেও নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পড়বে। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই স্পষ্ট হবে—সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের নতুন মুখগুলো কারা হচ্ছেন।

  • শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    এবিএনএ: পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা এই ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।

    পররাষ্ট্রনীতি: সমমর্যাদা ও কৌশলগত বন্ধুত্ব

    ইশতেহারে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

    এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষানীতি: ভিশন ২০৪০ ও সামরিক আত্মনির্ভরতা

    প্রতিরক্ষা খাতে জামায়াতের ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শতভাগ সামরিক আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। এজন্য একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, নতুন সামরিক ডকট্রিন তৈরি এবং প্রতিরক্ষা গবেষণার জন্য জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে।

    সামরিক বাজেট ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, নিজস্ব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন, গোয়েন্দা সংস্থার আধুনিকীকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালু ও সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    নির্বাচনে পক্ষপাত চলবে না—নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাল জামায়াত

    এবিএনএ: নির্বাচনী পরিবেশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পটুয়াখালীর বাউফলে দলটির থানা কার্যালয়ে পরিচালিত পুলিশি অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে এ আহ্বান জানানো হয়।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাউফল থানা জামায়াত কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় পুলিশ তল্লাশি চালালেও কোনো আপত্তিকর বা অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।

    তিনি অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছিলেন, যা থেকে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তার দাবি, একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিবন্ধিত, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দেশে-বিদেশে দলটির একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে। এ ধরনের সংগঠনের বিরুদ্ধে প্ররোচিত হয়ে অভিযান চালানো অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, বাউফল থানার ওসি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমন অবস্থায় তাকে দায়িত্বে রেখে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

    তিনি অবিলম্বে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। পাশাপাশি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

  • “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”: জনাব তারেক রহমানের ভাষণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

    “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান”: জনাব তারেক রহমানের ভাষণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা

    এবিএনএ: ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে দুই লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে আমেরিকার বর্ণবৈষম্য বিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণে উচ্চারণ করেছিলেন “আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম।” এই উক্তিটি কেবল একটি আবেগঘন বাক্য ছিল না; এটি ছিল ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা, নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায় এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের এক চূড়ান্ত প্রকাশ।

    এই ভাষণের মাধ্যমে আমেরিকার সর্বজনীন মানবাধিকার ও সমতার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে সেদেশের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট (১৯৬৪) ও ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট (১৯৬৫) প্রণয়নে। রাজনীতির ইতিহাসে এটি এমন একটি ভাষণ, যেখানে নৈতিক আবেদন ও রাজনৈতিক লক্ষ্যের এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল।

    এই ঐতিহাসিক ঘটনার বাষট্টি বছর পর, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে কয়েক মিলিয়ন মানুষের উপস্থিতিতে নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উচ্চারণ করলেন “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।” অনুষ্ঠানটি ছিল একটি বরণ অনুষ্ঠান—কোন প্রতিবাদ সভা বা রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। সঙ্গত কারণেই তিনি তাঁর এই “প্ল্যান”-এর বিস্তারিত বিবরণ এই ভাষণে দেননি। তবু তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ এই ভাষণের প্রতিটি শব্দ ও উচ্চারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে নতুন বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক-নৈতিক রূপরেখার অভাস পাওয়া যায়।

    জনাব তারেক রহমান বেশ পরিষ্কার কন্ঠেই বলেছেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।” কোন রাজনৈতিক নেতার ক্ষেত্রে এমন কথা প্রত্যাশিত হলেও, তাঁর ভাষণের শব্দচয়ন ও ভঙ্গি ইঙ্গিত দেয় যে, এই বক্তব্য নিছক আনুষ্ঠানিক নয়। তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণটির অন্তর্নিহিত দর্শন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাঁর রাজনৈতিক-নৈতিক রূপরেখা অন্তত: দশটি মৌলিক স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এগুলো হল:

    ১/ অকর্তৃত্ববাদী মনস্তত্ত্ব: সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশ ‘আমিত্বে’ ভরপুর কর্তৃত্ববাদী শাসনের তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। জনাব তারেক রহমানের ভাষণে এই আমিত্ব ছিল অনুপস্থিত। রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তাঁর ভাষণে তিনি “আমরা” এবং “সকলে মিলে” – এ ধরনের শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলব – যেখানে আমরা সকলে মিলে কাজ করব, আমরা সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলব।” লক্ষণীয় যে, “আমি” শব্দটি তিনি ব্যবহার করেছেন কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গায়, যেমন রাব্বুল অলামীনের অশেষ রহমতে আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরেছি” বা “এখান থেকে আমি আমার মা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব।” ভাষা ব্যবহারে আমিত্বের এই অনুপস্থিতি যুক্তিসঙ্গতভাবেই ইঙ্গিত দেয় যে, জনাব তারেক রহমান অকর্তৃত্ববাদী মনোভাব ধারণ করেন এবং সম্ভাব্য রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার বদলে সম্মিলিত মতামত এবং অংশগ্রহণমূল রাজনীতিকে গুরুত্ব দিতে চান।

    ২/ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণের প্রথম অংশেই বাংলাদেশের মানুষের বাকস্বাধীনতার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন “আজ বাংলাদেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেতে চায়।” স্বৈরতান্ত্রিক সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন “শুধু রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়, নিরীহ মানুষও প্রতিবাদ করতে গিয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জীবন দিয়েছেন।” অর্থাৎ বাকস্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশের মানুষের আকাঙ্খা ও আত্মত্যাগের বিষয়টিকে তিনি একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসাবে দেখছেন। কাজেই, মানুষের বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার একটি অঙ্গীকার তাঁর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় থাকবে – এই প্রত্যাশা খুবই যৌক্তিক।

    ৩/ গণতান্ত্রিক-অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ: এ বিষয়টি লক্ষ্ করার মত যে, জনাব তারেক রহমানের ভাষণে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি পরস্পর বিচ্ছিন্ন বিষয় হিসাবে আসেনি, বরং এ দু’টো বিষয় সবসময় একসাথে উচ্চারিত হয়েছে। তিনি বলেছেন “এই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই দেশের মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। …গণতান্ত্রিক ভিত্তি ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।” এখান থেকে বোঝা যায়, তিনি যথার্থই উপলব্ধি করেছেন যে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ছাড়া কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে একসাথে বিবেচনা করার এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর রাজনৈতিক রূপরেখাকে আরও বাস্তবমুখী করে তুলবে বলে আশা করা যায়।

    ৪/ নারীর অধিকার ও প্রত্যাশা সুপ্রতিষ্ঠিত করা: সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উগ্রবাদীর কর্মকাণ্ডের কারণে নারীর অধিকার ইস্যুটি বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় খুবই জাজ্বল্যমান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আশার কথা হল, জনাব তারেক রহমানের ভাষণে নারীর অধিকার ইস্যুটি গতানুগতিক ধারায় আসেনি, বরং তিনি এর সাথে যুক্ত করেছেন চমৎকার একটি ধারণা ‘নারীর প্রত্যাশা’। তিনি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করেই উল্লেখ করেছেন, নারীর অধিকার ও উন্নয়ন হবে নারীর প্রত্যাশা অনুযায়ী; নারীর অধিকার ও উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলো নির্ধারিত হবে তাঁদের দ্বারাই – কোন পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিচার দিয়ে নয়। এই প্রগতির ইঙ্গিতবাহী অভিনবত্ব খুবই আশা জাগানিয়া একটি বিষয়।

    ৫/ নাগরিকের সর্বজনীন ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: স্বৈরতান্ত্রিক-ফ্যাসিস্ট শাসনামলের গুম-খুনের কথা উল্লেখ করে জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে সেই রক্তের ঋণ শোধ করতেই এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যেখানে ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ-পেশা-শ্রেণি নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা যাবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নিরাপত্তা হতে হবে এতটাই সার্বিক যতটা সার্বিক নিরাপত্তা একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য প্রত্যাশা করেন। কাজেই, জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণ থেকে আমরা এই প্রত্যাশা করতে পারি যে, তাঁর রাজনৈতিক রূপরেখায় নাগরিকের সর্বজনীন এবং সার্বিক নিরাপত্তা একটি মৌলিক ও আবশ্যিক বিষয় হিসাবে বিদ্যমান আছে।

    ৬/ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনায় উজ্জীবিত ও আধিপত্যবাদ বিরোধী সংগ্রাম: জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের রক্তস্নাত মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ এর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং বিশেষভাবে ২০২৪ এর গণঅভ্যূত্থানের কথা স্মরণ করে বলেন, এগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে আনার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের হাত থেকে দেশ ও এর জনগণকে রক্ষা করা। জনগণের এই রক্তাক্ত বিপ্লবসমূহ সম্পর্কে জনাব তারেক রহমানের দৃপ্ত উচ্চারণ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, যে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” – এর অবতারণা করেছেন, তাঁর ভিত্তিমূলে রয়েছে এই বিপ্লবসমূহের চেতনা যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি রাখতে প্রেরণা যোগাবে।

    ৭/ ইসলামী মূল্যবোধ ও আধুনিক-উদারনৈতিক রাষ্ট্রচিন্তার সমন্বয়: বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনসাধারণ একই সাথে ধর্মপ্রাণ এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ বিরোধী। তাঁরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সমতার ভিত্তিতে শান্তিতে বসবাসে আগ্রহী। তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণে এই জন-অভিপ্রায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। আল্লাহ তা’আলার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে তিনি তাঁর ভাষণ শুরু করে এক পর্যায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “আমরা সকলে নবী করিম (সা.) -এর যে ন্যায়পরায়ণতা, সেই ন্যায়পরায়ণতার আলোকে আমরা দেশ পরিচালনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা করার এই প্রতিজ্ঞার পাশাপাশি তিনি এটিও নিশ্চিত করেছেন যে, দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে তিনি উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবেন না; বরং, সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে সমতা ও সম-অধিকারের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন। তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেছেন “এই দেশে মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে। আমরা চাই সকলে মিলে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।” তিনি আরও উল্লেখ করেন “যেকোন ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ থাকে – এই হোক আমাদের চাওয়া আজকে।” কাজেই, তাঁর ভাষণ থেকে এমন অনুমান করা যৌক্তিক যে, ইসলামী মূল্যবোধকে ধারণ করে সকল ধর্মমতের মানুষের সমতা ও সম-অধিকারের নিশ্চয়তার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও উদারনৈতিক রাষ্ট্র কায়েম করা তাঁর ‘প্ল্যান’-এর অংশ।

    ৮/ অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ভাবনা: জনাব তারেক রহমান তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণে যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের কথা বলেছেন, সেখানে তিনি তাঁর ভাষায় “আরো যেসব জাতীয় নেতৃবৃন্দ আছেন” তাঁদেরকে নিয়েই সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা বলেছেন। কাজেই, তাঁর রাষ্ট্র ভাবনায় কেবল তিনি বা তাঁর দল নয়, বরং অন্তর্ভুক্ত আছে সকল দল। শুধুমাত্র যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলমতকেই তিনি তাঁর পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করছেন এমন নয়, তিনি চাইছেন সকল শ্রেণি-পেশা-ধর্মের মানুষকে এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করতে। তিনি যেমন রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের অর্ন্তভূক্তি ও অংশগ্রহণের কথা জোর দিয়ে বলেছেন, তেমনই তাঁর এই অর্ন্তভূক্তিমূলক পরিকল্পনা থেকে বাদ যায়নি চল্লিশ লক্ষ প্রতিবন্ধী মানুষও। রাষ্ট্র গঠনে সকলের এই অন্তর্ভুক্তি প্রকারন্তরে রাষ্ট্রের উপর জনগণের মালিকানাকেই প্রতিফলিত করে।

    ৯/ রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা: জনাব তারেক রহমানের ভাষণে বারবার ধৈর্যধারণের কথা এসেছে। সকল সমস্যাকে তিনি ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করার পরামর্শ দিয়েছেন; উস্কানির মুখেও সকলকে ধীর এবং শান্ত থাকতে অনুরোধ করেছেন। তাঁর ভাষণও ছিল সম্পূর্ণরূপে উস্কানিমুক্ত যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, এমনকি তাঁর ও তাঁর পরিবার যে শক্তির নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তার বিরুদ্ধেও তিনি কোন কঠোর শব্দচয়ন করেননি। এ থেকে বোঝা যায় যে, তাঁর নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় এমন একটি বাংলাদেশ থাকবে যেখানে পারস্পরিক হানাহানির বদলে রাজনৈতিক-সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা পাবে।

    ১০/ শান্তিই রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় লক্ষ্য: বাংলাদেশের জনগণের যত সংগ্রাম, যত ত্যাগ আছে, তার মূল লক্ষ্য শান্তিতে বসবাস করার চিরাচরিত প্রত্যাশা। আর জনগণের এই চিরাচরিত প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি করে জনাব তারেক রহমান তাঁর ভাষণে দৃপ্তভাবে উচ্চারণ করেন “আমরা দেশে শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই। আমরা দেশে শান্তি চাই।” যে শান্তির কথা তিনি এখানে বলেছেন, তা নিরাপদ নাগরিক জীবনের প্রতিশ্রুতি বহন করে; এটি এমন এক সামাজিক অবস্থা, যেখানে নাগরিকগণ ভিন্নমত পোষণ করেও নিরাপদে থাকবেন এবং রাষ্ট্রকে ভয় নয়, বরং আস্থার জায়গা হিসাবে দেখবেন। এমন একটি শান্তিময় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক রূপরেখায় থাকবে, সেই ইঙ্গিতই তাঁর “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণের কেন্দ্রীয় উপজীব্য বিষয়।

    দোদুল্যমানতা ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত ২০২৫ সাল শেষ হল দেশের সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তিত্ব, দেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, জাতির সর্বোচ্চ অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে ২০২৬ এর শুরুটা তাই কেবল বেদনা বিধুর নয়, ভয় এবং আশঙ্কারও বটে। সন্দেহ নেই, এই ভয় এবং আশঙ্কার সময়ে জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” ভাষণটি খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে বারবার ফিরে আসবে। এ ধারণা অমূলক নয় যে, বাষট্টি বছর আগে দেয়া মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র -এর ভাষণটির মতই জনাব তারেক রহমানের “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” খ্যাত ভাষণটিও ঐতিহাসিক এবং কালোত্তীর্ণ একটি ভাষণ হিসাবে ভবিষ্যতে বিবেচিত হবে।

    লেখক:- প্রফেসর ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর
    দর্শন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

  • শেরপুরের হত্যাকাণ্ডে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এখন জনতার পরীক্ষায়

    শেরপুরের হত্যাকাণ্ডে কঠোর বার্তা জামায়াত আমিরের: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এখন জনতার পরীক্ষায়

    এবিএনএ: শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই ঘটনায় জনগণ এখন দেখতে চায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কীভাবে দায়িত্ব পালন করে এবং জাতিকে কেমন নির্বাচন উপহার দেয়।

    বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

    ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকদের সঙ্গে চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে বাক্‌বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টার দিকে মাওলানা রেজাউল করিম মারা যান।

    এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কোনো ধরনের গড়িমসি জনগণ মেনে নেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার মাধ্যমেই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    এ ছাড়া তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

  • দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙায় বাগেরহাটে বিএনপির ৬ নেতা বহিষ্কার

    দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙায় বাগেরহাটে বিএনপির ৬ নেতা বহিষ্কার

    এবিএনএ: দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বাগেরহাট জেলার ছয়জন নেতাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। এজন্য তাদের বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মেহেবুবুল হক কিশোর। এছাড়া বাগেরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান টুটুল, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য শেখ রফিকুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রনি মিনা এবং যাত্রাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শেখ সোহেল হোসেন।

    দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকবে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

  • দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    দুই দশক পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান: উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পরিবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতি ও উন্নয়ন ভাবনার বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই নগরীকে ঘিরে আবেগঘন স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তিনি অর্থনীতি, কৃষি, শিল্পায়ন ও পরিবেশ রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

    রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকেই মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে। দুপুরের দিকে সমাবেশে বক্তব্য শুরু করেন তারেক রহমান।

    বক্তৃতায় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এবং এই শহরের সঙ্গেই তার পরিবার ও বিএনপির গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ আবারও পরিবর্তন চায়—যে পরিবর্তনে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

    দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সহায়তা সহজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত খাল খননের ওপর জোর দেন।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিএনপির আমলেই চট্টগ্রামে ইপিজেড গড়ে উঠেছিল, যা লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।

    আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপত্তা ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। বিএনপি সরকারে এলে অপরাধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অতীতে যেমন দলের পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি, ভবিষ্যতেও তা হবে না।

    এর আগে সকালে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, স্টুডেন্ট লোন চালু এবং পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান।

    উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর এই সফর ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

  • রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত? তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত? তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    এবিএনএ: বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত। ঢাকাস্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে এই কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলে ছিলেন জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালির রাষ্ট্রদূতরা।

    সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া এই সাক্ষাতে পারস্পরিক আগ্রহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির, চেয়ারম্যানের প্রেসসচিব সালেহ শিবলী এবং উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মাহদী আমিনও আলোচনায় অংশ নেন।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

  • ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রই একমাত্র পথ: তারেক রহমান

    ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রই একমাত্র পথ: তারেক রহমান

    এবিএনএ: গুম, খুন ও নানা ধরনের নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগামী দিনে বাংলাদেশে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

    তারেক রহমান বলেন, যদি আবারও দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ হাতছাড়া হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গত ১৬ বছরে গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ তখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালিত একটি সরকার দরকার—যে সরকার নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।

    নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আপনাদের কষ্ট যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হচ্ছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

    এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চায়। বিভিন্ন বিতর্ক ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের সামনে তৈরি হওয়া গণতান্ত্রিক সুযোগ নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে।

    শেষে তিনি দল-মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রই জনগণের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ করতে না পারে।