Tag: বাংলাদেশ রাজনীতি

  • রাজনীতিতে নতুন বার্তা? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তারেক রহমান

    রাজনীতিতে নতুন বার্তা? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তারেক রহমান

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে বাসভবন ত্যাগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টা ১১ মিনিটে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা থেকে বের হন। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে তিনি গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে রওনা হন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত শেষে তিনি যমুনায় পৌঁছান।

    বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। বৈঠকে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

    দীর্ঘ এই আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে—সে সম্পর্কে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিএনপি কিংবা সরকারের প্রেস উইং থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই ফোনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার ২১ দিনের মাথায় এবার সরাসরি সাক্ষাৎ করলেন তিনি। এর আগেও ৩১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছিল।

    এছাড়া, গত বছর ১৩ জুন লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

  • অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতেই নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে—মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে মির্জা ফখরুল

    অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতেই নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে—মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর দাবি, দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের লোমহর্ষক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে, যাতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা যায়।

    বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরি বাজার এলাকার একটি গলিতে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দেওয়া এক শোকবার্তায় মির্জা ফখরুল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের পতনের পর একটি মহল নতুন করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড সেই ষড়যন্ত্রেরই নির্মম বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অন্যথায় সুযোগসন্ধানী ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যা দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

    মির্জা ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে এবং সহিংস ঘটনাগুলো তারই অংশ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাষ্ট্রকে অচল করে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

    শোক বিবৃতিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে নিহত আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

  • চার দিনের সফরে উত্তরবঙ্গের ৯ জেলা: কোথায় কোথায় যাচ্ছেন বিএনপির তারেক রহমান?

    চার দিনের সফরে উত্তরবঙ্গের ৯ জেলা: কোথায় কোথায় যাচ্ছেন বিএনপির তারেক রহমান?

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় চার দিনের সফরে যাচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ১১ জানুয়ারি শুরু হয়ে এই সফর চলবে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ সময়ে তিনি উত্তরাঞ্চলের মোট নয়টি জেলা ঘুরে দেখবেন।

    সফরসূচি অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া সফর করবেন। ওইদিন বগুড়ায় অবস্থান শেষে পরদিন তিনি রংপুর, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে যাবেন।

    এরপর ১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সফর করে আবার রংপুরে ফিরে রাত্রিযাপন করবেন। সফরের শেষদিন ১৪ জানুয়ারি রংপুর থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

    এই সফরে তারেক রহমান মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের কবর জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।

    দলীয় সূত্র জানায়, সফরটি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচির আওতায় আয়োজন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

  • লাখো মানুষের চোখের জলে শেষ বিদায়: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

    লাখো মানুষের চোখের জলে শেষ বিদায়: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন

    এবিএনএ: লাখো মানুষের ভালোবাসা, অশ্রু ও গভীর শ্রদ্ধায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায় সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য মানুষ। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে জনসমুদ্র।

    জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, বিশিষ্ট নাগরিক ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

    বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানাজায় অংশ নেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    জানাজার আগে বেগম খালেদা জিয়ার জীবনসংগ্রাম ও রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ অভিমুখে আসতে থাকেন। খামারবাড়ি, ফার্মগেট, আসাদগেট, কারওয়ান বাজার থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকায় সৃষ্টি হয় নজিরবিহীন জনজট। মূল স্থানে পৌঁছাতে না পেরে হাজারো মানুষ রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে জানাজায় শরিক হন।

    বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহ জানাজাস্থলে আনা হলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ স্বজনরা।

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া এভিনিউজুড়ে পুলিশ, র‍্যাব ও ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জানাজা শেষে মরদেহ শেরেবাংলা নগরে নেওয়া হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

  • মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক গভীর শূন্যতার দিন। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবিচল নেতৃত্বের প্রতীক—তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে দলীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই প্রয়াণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ, বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

    দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও দেশবাসীর দোয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হার মানেন তিনি।

    একসময় যিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ ও লাজুক গৃহবধূ, সময়ের প্রয়োজনে তিনিই হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা, এক-এগারোর রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন হয়ে ওঠে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস।

    ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুল রাজনীতিতে আসেন অনিচ্ছায়। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের সংকটময় মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি রাজপথে নামেন। ১৯৮৩ সালে বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক যাত্রা।

    স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে এনে দেয় ‘আপোষহীন নেত্রী’র স্বীকৃতি। দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলনের পর ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

    তার শাসনামলে শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ও অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। যমুনা সেতু, মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা, মোবাইল ফোন খাত উন্মুক্তকরণ—সবই তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল।

    পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি কারাবরণ, গৃহবন্দিত্ব ও চিকিৎসাবঞ্চনার মতো অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবু কখনো আপস করেননি, কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। তার এই অবিচলতা তাকে ইতিহাসে গণতন্ত্রের এক অমর প্রতীকে পরিণত করেছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের পর তিনি নিঃশর্ত মুক্তি পান। মুক্তির পর প্রতিহিংসার পরিবর্তে তিনি আহ্বান জানান শান্তি, সহনশীলতা ও ঐক্যের।

    আজ তিনি নেই, কিন্তু তার আদর্শ, সাহস ও ত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এবং থাকবেন—এক অটল ধ্রুবতারা।

  • জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হলো এনসিপি ও এলডিপি

    এবিএনএ: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট দলীয় রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হয়েছে আরও দুটি দল। নতুনভাবে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

    রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নতুন দুই দলের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে এ সময় এনসিপির কোনো শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন না।

    ডা. শফিকুর রহমান জানান, সংবাদ সম্মেলনের আগেই এনসিপির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে তারা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। এনসিপি নিজস্ব উদ্যোগে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলেও জানান তিনি।

    জোটের আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ৩০০ আসন নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নতুন যুক্ত হওয়া দল দুটি শেষ সময়ে যোগ দেওয়ায় কিছু বিষয় চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে, তবে মনোনয়নপত্র জমার পর আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে জোট কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায়। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই এই জোটের মূল লক্ষ্য।

    এর আগে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটে ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

  • দীর্ঘ ১৬ বছর পর ঢাকায় তারেক রহমান

    দীর্ঘ ১৬ বছর পর ঢাকায় তারেক রহমান

    এবিএনএ: দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের প্রবাসজীবন শেষে অবশেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সপরিবারে তিনি ঢাকায় পৌঁছান, যা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য।

    তারেক রহমানের এই দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • সিলেট ঘুরে ঢাকার পথে তারেক রহমান

    সিলেট ঘুরে ঢাকার পথে তারেক রহমান

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সপরিবারে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তিনি ঢাকাগামী বিমানে ওঠেন।

    বুধবার সকালে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সিলেটে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টা গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড শেষে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি ঢাকার পথে উড্ডয়ন করে।

    এর আগে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে বিমানটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জানা গেছে, এর আগের দিন বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানে করে তারেক রহমান সপরিবারে দেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

    তার এই সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

  • আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    আ.লীগ ছেড়ে বিএনপির মনোনয়ন, বাগেরহাটে ‘নতুন মুখে’ ক্ষুব্ধ তৃণমূল

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মুখে রাজপথে টিকে থাকা বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে বাগেরহাটে সদ্য দলবদল করা সাবেক দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা জুড়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাগেরহাট-১ ও বাগেরহাট-৪ আসনে এমন সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

    স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মাস আগেও যারা আওয়ামী লীগের পদ-পদবি ও সুবিধাভোগী ছিলেন, তারাই এখন ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে নির্বাচনের মাঠে। এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গ।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট-মোল্লাহাট-চিতলমারী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক এবং অতীতে চিতলমারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা নিয়ে এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন সোমনাথ দে। রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তিনি বেশ পরিচিত মুখ। একসময় জাতীয় পার্টি, পরে আওয়ামী লীগ এবং সর্বশেষ বিএনপিতে যোগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই মনোনয়ন পাওয়ায় দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে তার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

    এই দুই প্রার্থীর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তোলা পুরনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা আসন্ন নির্বাচনে দলের ভরাডুবির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

    ফেসবুকে চিতলমারীর এক বাসিন্দা লেখেন, “১৭ বছর ধরে যারা নির্যাতন সহ্য করে রাজপথে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ আসা লোককে মনোনয়ন দেওয়ায় আমরা চরম হতাশ।” একই ধরনের মন্তব্য করেছেন আরও অনেকে, কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগও তুলেছেন।

    জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমাদের কিছু করার নেই। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রকে জানিয়েছি।

    জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ায় মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এটি মেনে নিতে পারছে না। দীর্ঘদিনের ত্যাগীরা আজ অবহেলিত।

    অন্যদিকে মনোনয়নপ্রাপ্ত কপিল কৃষ্ণ মন্ডল দাবি করেন, তিনি কখনো সক্রিয়ভাবে অন্য দলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    সোমনাথ দে বলেন, যারা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত, তারাই তার মনোনয়নে ক্ষুব্ধ। সাধারণ মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এদিকে বাগেরহাট-২ আসনে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং বাগেরহাট-৩ আসনে ড. শেখ ফরিদুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বাগেরহাট-২ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে।

    বিক্ষোভকারীরা সাবেক সভাপতি এম এ সালামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি দেন—দাবি না মানা হলে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।

  • মব সন্ত্রাসে দেশ ছিন্নভিন্ন, দায় এড়াতে পারে না সরকার: কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের

    মব সন্ত্রাসে দেশ ছিন্নভিন্ন, দায় এড়াতে পারে না সরকার: কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং তার পরবর্তী সময়ে সংঘটিত একের পর এক মব সন্ত্রাসের ঘটনায় সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দেশবাসীর প্রতি দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ হাদির মৃত্যুর শোক যখন জাতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং মানুষ তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে, ঠিক তখনই ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বরেণ্য সাংবাদিক নূরুল কবীরসহ আরও অনেকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    এই হামলাকে ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সরকার কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। তিনি অবিলম্বে হাদির হত্যাকারীদের বিচার এবং সংঘটিত প্রতিটি মব সন্ত্রাসের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    ফখরুল আরও বলেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সংঘটিত মব সহিংসতা পুরো জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

    শেষে তিনি সব রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।