Tag: বাংলাদেশ রাজনীতি

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    এবিএনএ:  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে তারা সম্মত, তবে এতে দলের আপত্তিগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক।

    বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর মানে এটি সঙ্গে সঙ্গে আইনি কাঠামো পাবে—এমন নয়। পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদেরকেই সনদটির আইনি বৈধতা দিতে হবে। কারণ এই সনদের আইনি ভিত্তি সংসদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সনদে স্বাক্ষর করব, তবে আমাদের মতবিরোধ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো অবশ্যই নথিভুক্ত থাকতে হবে। সবাই যদি একমত হতো, তাহলে আলোচনার প্রয়োজনই পড়ত না।”

    বিএনপির এই নেতা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে এবং তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। পরে ঐকমত্য কমিশন সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাবও দেবে বলে জানান তিনি।

  • গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    এবিএনএ:  জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। সাত মাসব্যাপী সংলাপের পরও বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের শেষ দিনে আলোচনায় কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াত চায় নভেম্বরে এবং এনসিপি নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষপাতী।

    ঐকমত্য ছাড়াই শেষ সংলাপ

    রাত ১১টায় সংলাপ শেষ হয় কোনো ঐকমত্য ছাড়াই। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে সরকারকে সুপারিশ পাঠানো হবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে গণভোট আয়োজন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিএনপি ও অন্যান্য দলের অবস্থান

    বিএনপি চায়, জনগণের অনুমোদনপ্রাপ্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত সংসদের ওপর বাধ্যতামূলক হোক, তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সংবিধান সংস্কার সভা বানানোর প্রস্তাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে।

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, নির্বাচনের আগে গণভোট করা উচিত, যাতে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। দলটির নায়েবে আমির ডা. তাহের বলেন, “একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে, বরং আগে গণভোট হলে তা বেশি স্বচ্ছ হবে।”

    এনসিপিও তাদের অবস্থান বদলে এখন নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলও একই দাবি জানিয়েছে।

    কমিশনের ভাবনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

    ঐকমত্য কমিশন মনে করছে, গণভোটে একাধিক প্রশ্ন না রেখে কেবল একটি প্রশ্ন রাখা হবে—জনগণ জুলাই সনদ অনুমোদন করছেন কিনা। একাধিক প্রশ্ন রাখলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

    কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারকে চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠাবে এবং দলগুলোকে অবহিত করবে। এরপর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের সময় নিয়ে এই অচলাবস্থা ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতের ভিন্ন অবস্থান রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও জটিল করছে।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখতে সংস্কার জরুরি। এখন সময় এসেছে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার।”

  • বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহারের অভিযোগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

    এবিএনএ: বাংলাদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধিত ধারা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটি বলেছে, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতিক ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করছে।

    বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাটি এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে নির্বিচারে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের উচিত এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ করা।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত টানা সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। পরে দায়িত্ব গ্রহণ করে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা চলতি বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়।

    এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার যেন অতীতের মতো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ফাঁদে না পড়ে। শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমন গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।”

    তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার বন্ধে দ্রুত ভূমিকা নিতে হবে।

    সংস্থাটির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত হাজারো মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অস্বচ্ছ অভিযোগ আনা হয়েছে। কিছু আটক ব্যক্তিরা পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন, যা অতীত সরকারের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করা হচ্ছে।

    উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ঘটে গত ২৮ আগস্ট ঢাকায়, যখন ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠন স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে এক সভা আয়োজন করে। সেখানে হামলার পর পুলিশের বদলে সভায় অংশ নেওয়া ১৬ জনকেই আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী

    পরে তাঁদের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, শান্তিপূর্ণ আলোচনাকেই ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

    মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত এই আইন এখন শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিলও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আইনটির সংশোধন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। যদিও ড. ইউনূস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    অন্যদিকে দেশের আইন সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জনতার হাতে অন্তত ১৫২ জন নিহত হয়েছেন, যা সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার ইঙ্গিত বহন করছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তিন বছরের সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য মানবাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের উচিত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার বন্ধ করে নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা।”

  • রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: শারদীয় বাণীতে তারেক রহমান

    রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: শারদীয় বাণীতে তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব—এ কথা উল্লেখ করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বাণীতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

    তারেক রহমান বলেন, “শারদীয় উৎসবকে ঘিরে যেন কোনো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছে, এটিই আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সৌন্দর্য।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, উৎসব আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির প্রতীক। রাষ্ট্র ও সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

    বিএনপি নেতা বলেন, “ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিক অন্য নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যারা প্রতিহিংসা ও উৎপীড়নের মাধ্যমে সমাজকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ন্যায্য।”

    হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় সারাদেশে দুর্গোৎসব উদযাপন করুন। আমরা বিশ্বাস করি ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকারও সবার।”

    অন্যদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক পৃথক বাণীতে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক উসকানি ও ধর্মীয় স্থাপনায় আক্রমণ সংগঠিত হয়েছে। তবে বর্তমানে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, বিএনপি এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার: ‘গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়’

    ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার: ‘গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়’

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তার মতে, “গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।”

    জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, “আপনি সংবিধান রক্ষার কথা বলছেন, অথচ সংবিধানে কোথাও উপদেষ্টা সরকার ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। তাই আপনার সরকার অবৈধ।”

    তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি, বরং সেটিই সরকারের বৈধতার উৎস। তাই ড. ইউনূসকে প্রথমেই নিজের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।

    ফরহাদ মজহার অভিযোগ করে বলেন, “আপনি যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছেন, তার ভিত্তি কী? এত ত্যাগের পর জনগণ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেনি। দেশে প্রকৃত কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এখানে কেবল লুটেরা শ্রেণির আধিপত্য।”

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে উপদেষ্টা সরকার গঠনের যুক্তি নেই।”

    তিনি সরাসরি বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়। রাষ্ট্র চালাতে হলে আপনাকে আইন, রাজনীতি ও জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দিতে হবে।”

    তরুণদের মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি প্রশংসা করলেও অভিযোগ তোলেন, তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না কারণ পুরনো আমলাতন্ত্র এখনো প্রভাব বিস্তার করছে।

  • ঐক্যবদ্ধ না হলে আবারও গোপন স্বৈরাচার জন্ম নেবে: তারেক রহমান

    ঐক্যবদ্ধ না হলে আবারও গোপন স্বৈরাচার জন্ম নেবে: তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না হলে সামনে দেশে গোপন স্বৈরাচারের উত্থান ঘটতে পারে। তিনি বলেন, বিগত ১৫-১৬ বছরে জনগণ স্বৈরশাসনের ভয়াবহতা দেখেছে—হত্যা, গুম, নির্যাতন, খুন এবং জালিয়াতি নির্বাচন। ওয়ান-ইলেভেন ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা আজও জাতির জন্য হুমকি হয়ে আছে।

    শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—এটাই আমাদের মূল নীতি। এখন প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য এবং দেশ পুনর্গঠন।”

    শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, “হাজারো নেতাকর্মীকে জেল-হাজতে মৃত্যু, পঙ্গুত্ব আর নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। তবে জনগণের শক্তিতে স্বৈরশাসন পতিত হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য দেশ গঠন।”

    সম্মেলনের প্রধান বক্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, গত সরকার সময়ে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে, ব্যাংক খাত হয়েছে খেলাপি ঋণে জর্জরিত। তিনি আরও বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে হাজারো মানুষকে হত্যা ও পঙ্গু করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস হচ্ছে লুটপাট আর দমন-পীড়নের ইতিহাস।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির ভিশন ২০৩০ ও ৩১ দফা দেশের জন্য একটি রোডম্যাপ। রাজনৈতিক প্রতারণার বিপরীতে জনগণকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চালাতে হবে।

    দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকারিয়া তাহের সুমন সভাপতি এবং সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়।

  • জামায়াতের ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুললেন রিজভী

    জামায়াতের ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুললেন রিজভী

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, জামায়াত এখন ‘পতিত ফ্যাসিস্টদের’ সঙ্গে মিলে কাজ করছে এবং আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

    বৃহস্পতিবার নয়া পল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জামায়াত ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে এবং আওয়ামী লীগকে খুশি করার জন্য তাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। প্রতিটি ঘটনায় আওয়ামী লীগের অবস্থানের সঙ্গে তারা এক হয়েছে।”

    রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন শাসন ছিল রক্তপিপাসু ও গণতন্ত্রবিরোধী। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার টেলিফোন নির্দেশে গুলির ঘটনা ঘটেছে, যার অডিও প্রমাণ এখন প্রকাশ্যে আসছে। “আমরা যারা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, তার বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেছি। কিন্তু এখন যে ভয়াবহ সত্য প্রকাশ পাচ্ছে, তা আরও উদ্বেগজনক।”

    অন্তবর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রিজভীর অভিযোগ, উপদেষ্টা সজীব ভূঁইয়া নিজের এলাকায় উন্নয়নের নামে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েছেন, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ।

    তিনি বলেন, “একজন উপদেষ্টা কিংবা আমলার নিজের এলাকায় এত বিশাল বরাদ্দ নেওয়া অনৈতিক ও নীতিবিরোধী। এটি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি করছে।”

    এছাড়া কেবিনেট সচিবের রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। রিজভীর দাবি, সচিব অবসরের পর নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, যা সরকারি শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

  • জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনের স্বপ্ন দেখছে এনসিপি, বিএনপিকে সীমিত আসনের পূর্বাভাস দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জাতীয় নির্বাচনে ১৫০ আসনের স্বপ্ন দেখছে এনসিপি, বিএনপিকে সীমিত আসনের পূর্বাভাস দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫০ আসন পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার দাবি, বিএনপি সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ১০০ আসনের বেশি পাবে না।

    সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন তিনি।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নিবন্ধন, প্রতীক ও প্রবাসী ভোটাধিকার নিয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, নির্বাচন কমিশন আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে এবং শিগগির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে।

    তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, “শাপলা প্রতীক আমাদের পরিচয়, সাদা শাপলা, লাল শাপলা—এ তিনটি প্রতীক নিয়েই নিবন্ধন চাই। এর বাইরে অন্যকিছু মানা হবে না। ষড়যন্ত্র চলছে, তবে ইসি আমাদের দাবি না মানলে কিভাবে আদায় করতে হয় তা আমরা জানি।”

    এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক আরও বলেন, জেলায় জেলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নারী, কৃষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মীরা এনসিপির প্রার্থী হবেন। এ নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।

    রাজনীতির মাঠে এনসিপির এমন আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা আসন্ন নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • স্বৈরাচারের পতন হলেও ষড়যন্ত্র চলছে: শারদীয় দুর্গাপূজায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

    স্বৈরাচারের পতন হলেও ষড়যন্ত্র চলছে: শারদীয় দুর্গাপূজায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

    এবিএনএ: স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটলেও তাদের নানামুখী ষড়যন্ত্র আজও শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তা নষ্ট করার যেকোনো ঘৃণ্য প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দলের অবস্থান দৃঢ়।

    বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে দেশের মানুষ সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে পালন করে আসছে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বারবার এই সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এবারের দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে জনগণের সহযোগিতায় পূজার নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে।’’

    অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং তা সব সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ফায়দার জন্য বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘আসন্ন দুর্গাপূজায় যেকোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতা ব্যর্থ করে দিতে হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহন করছে, সেটিকে অটুট রাখতে হবে।’’

    মির্জা ফখরুল আরও আহ্বান জানান, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে পাহারাদারীর মতো কাজ করবে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব হয়।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন ফখরুল।

    তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। এর পেছনে একটি মহল নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

    অন্যদিকে লন্ডনে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের জবাবে ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বসেছেন। এটা তার এখতিয়ার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কারও অভিযোগ করার সুযোগ নেই।”

    বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।