Tag: বাংলাদেশ রাজনীতি

  • তরুণদের সচেতনতার ডাক: পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে নয় বাংলাদেশ – পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    তরুণদের সচেতনতার ডাক: পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে নয় বাংলাদেশ – পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

    এবিএনএ:  “আমরা আর পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরতে চাই না।” — এমন দৃঢ় বক্তব্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম এই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে উপলব্ধি করবে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেবে।

    শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক মন্তব্য করেন, গণঅভ্যুত্থানের ফলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকার এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপ করছে—এটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

    এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান বলেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবছে এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    নেপালের সাবেক মন্ত্রী ড. দীপক গাওয়ালি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনছে, তাদের অবশ্যই বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান
    দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে ঢাকা ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা)

  • লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের গ্রেপ্তার নিয়ে ডেভিড বার্গম্যানের তীব্র সমালোচনা

    লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনের গ্রেপ্তার নিয়ে ডেভিড বার্গম্যানের তীব্র সমালোচনা

    এবিএনএ:  সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। তিনি বলেন, এটি শুধু অযৌক্তিক পদক্ষেপ নয়, বরং দেশের স্বার্থবিরোধী।

    শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে বার্গম্যান লিখেছেন, “মঞ্চ ৭১ আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সাবেক মন্ত্রীসহ আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত সরকার না পুলিশ—কেউ নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তবে নিশ্চিতভাবেই এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ নয়।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সভায় যা বলা হয়েছিল বা বলা হতে পারত, তা কিছু মহলের কাছে উসকানিমূলক মনে হতে পারে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ১৬ জন কোনো অপরাধ করেননি, তারা কেবল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।

    বার্গম্যানের মতে, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি সত্যিই দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে চায়, তাহলে তাদের বুঝতে হবে—রাজনৈতিক সুবিধার জন্য কাউকে গ্রেপ্তার বা মানবাধিকার হরণ কোনো সমাধান নয়। আওয়ামী লীগের অতীত ভুলগুলোর একটি বড় কারণও ছিল এই ধরনের দমননীতি।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এভাবে নির্বিচারে গ্রেপ্তার কেবল বিচার প্রক্রিয়ার পরিপন্থীই নয়, বরং এটি মব বা বিশৃঙ্খলাকারীদের উৎসাহিত করে। ফলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

  • বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমানের অভিযোগ

    এবিএনএ:  বিএনপির বিজয় ঠেকাতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর আইইবি মিলনায়তনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, “আজ যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, দেশের জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করবে। কিন্তু এ বাস্তবতা ঠেকাতে নানা রকম অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

    তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। অতীতে স্বৈরাচারী শাসকদের মতো বর্তমানেও বিএনপিকে রুখে দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।

    তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “যারা বিজয় ঠেকাতে শর্তের বেড়াজাল তৈরি করছেন, তাদের বলবো রাজনীতি দিয়ে রাজনীতি মোকাবিলা করুন।”

    পিআর পদ্ধতিকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের নির্বাচন পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। তবে রাজনৈতিক মতভেদের মধ্যেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য আছে, যা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

    সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা নির্বাচন সামনে রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছেন তারা গণতন্ত্রের উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করছেন। গণতান্ত্রিক শক্তির বিরোধ এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না, যাতে সুযোগ নেয় পলাতক স্বৈরাচার।”

  • নিবন্ধন বাতিল ১২১ দলকে ইসির চিঠি, মাঠপর্যায়ে তদন্তে ২২ দল

    নিবন্ধন বাতিল ১২১ দলকে ইসির চিঠি, মাঠপর্যায়ে তদন্তে ২২ দল

    এবিএনএ:  নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছে। এর অংশ হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ১৪৩টি দলের মধ্যে ১২১টি দলকে বাতিলের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন ইসির উপসচিব মাহবুব আলম শাহ।

    তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে সব দলকেই শর্ত পূরণের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মাত্র ৮৪টি দল সেই আহ্বানে সাড়া দেয়। এর মধ্যে ৬২টি দল অতিরিক্ত তথ্য জমা দিলেও তা শর্ত পূরণে যথেষ্ট হয়নি।

    বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ২২টি দলের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে কোন দলগুলো চূড়ান্ত নিবন্ধন পাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন।

  • “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    “বাংলাদেশকে কখনো মৌলবাদের অভয়ারণ্য হতে দেওয়া যাবে না” — তারেক রহমান

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ যেন কোনোদিন চরমপন্থা বা মৌলবাদের আশ্রয়স্থল না হয়— এ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণ যেই স্বৈরাচারকে অল্প কিছুদিন আগে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, তার পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্রে উত্তরণে কবি সাহিত্যিকদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। বিএনপি মিডিয়া সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় কবিতা পরিষদের কবি-সাহিত্যিকরা অংশ নেন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করলেই দেশের মালিকানার প্রকৃত দাবিদার হিসেবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার এখনই সময়।

    কবি-সাহিত্যিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, লেখার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সমালোচনার সুযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা অপরিহার্য। এ ছাড়া দেশে জবাবদিহিমূলক অবস্থা তৈরি করাও এখন সময়ের দাবি।

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে সবার অবস্থান এক হওয়া উচিত। যে স্বৈরাচারকে জনগণ বিদায় দিয়েছে, তার পুনর্জাগরণ রোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    সভায় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সভাপতিত্ব করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ রাজনৈতিক ও সাহিত্য অঙ্গনের অনেকে বক্তব্য দেন।

  • ভোরে হাঁসের মাংসের জন্য নীলা মার্কেটে যান আসিফ মাহমুদ, বন্ধ থাকলে গন্তব্য ওয়েস্টিন

    ভোরে হাঁসের মাংসের জন্য নীলা মার্কেটে যান আসিফ মাহমুদ, বন্ধ থাকলে গন্তব্য ওয়েস্টিন

    এবিএনএ:  স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, কখনও কখনও রাতের কাজ শেষ হতে ভোর হয়ে যায়। এ সময় বাসায় রান্না বা খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় তিনি প্রায়ই তিনশ’ ফুট এলাকার নীলা মার্কেটে যান হাঁসের মাংস খেতে। তবে নীলা মার্কেট বন্ধ থাকলে তিনি গুলশানের বিলাসবহুল হোটেল ওয়েস্টিনে যান নাস্তার জন্য।

    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। ওই সময় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম অপুর ভিডিও বার্তায় আসা অভিযোগ সম্পর্কেও প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

    জানে আলমের দাবি, সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত থাকার সময় গুলশানে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল। এ বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, “সেদিন আমি ওই এলাকায় গিয়েছিলাম কিনা তা আমার মনে নেই।”

    সাংবাদিকরা জানতে চান, চাঁদাবাজির সিসিটিভি ফুটেজে হেলমেট পরা ব্যক্তিটি তিনি কিনা। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “হেলমেট পরা যেকোনো ব্যক্তিকে যদি আমাকে বলা হয়, সেটি কতটা বিশ্বাসযোগ্য—তা বিবেচনা করা উচিত।”

    তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ এখনও এর প্রমাণ দিতে পারেনি। বরং শোনা যাচ্ছে, আরেকজনকে রাজনৈতিক নেতার বাসায় জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে এসেছে এবং এখন পর্যন্ত সেটি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে। তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”


  • তারেক রহমানের ঘোষণা: স্লোগাননির্ভর রাজনীতির যুগ শেষ, এখন লক্ষ্য কর্মসংস্থান

    তারেক রহমানের ঘোষণা: স্লোগাননির্ভর রাজনীতির যুগ শেষ, এখন লক্ষ্য কর্মসংস্থান

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্লোগাননির্ভর রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন দেশের মানুষ বাস্তবসম্মত পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হবে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন।

    আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা দেন।

    তারেক রহমান জানান, দেশের অধিকাংশ জনগণ কর্মক্ষম বয়সে রয়েছে। এই জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তর করাই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। এজন্য কারিগরি শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “যুব সমাজকে দক্ষ করে তুলতে পারলেই তারা দেশের উন্নয়নে আশীর্বাদ হয়ে উঠবে।”

    তিনি ‘নতুন কুড়ি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে জানান, এবার এতে খেলাধুলার বিষয়ও যুক্ত থাকবে। ক্রীড়া শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি, যাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ রুমি, শরীফুল ইসলাম খান এবং নাট্যনির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ।

  • তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    তারেক রহমানের কৌশলী বৈঠক: ৪২ দলের ঐক্যের অঙ্গীকার, নির্বাচনী মাঠেও একসাথে থাকার প্রস্তুতি

    এবিএনএ:   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত সময় পার করছে। দীর্ঘদিনের যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার নির্বাচনী মাঠেও এই ঐক্য বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

    গত শুক্রবার ও শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪২টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রস্তুতি, রোডম্যাপ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচারণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমাদের এখন লক্ষ্য গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠন। এর জন্য সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, মিত্রদের মতামত শোনার পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে তাদের সম্পৃক্ত রাখার পরিকল্পনা করছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বিগত আন্দোলনে অবদান রাখা প্রতিটি দলকে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

    সূত্র জানায়, বিএনপি মোট ৬৮টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ৬৪টি দল পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নির্বাচন বর্জন করেছিল। পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এনসিপি-সহ আরও কয়েকটি দলের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।

    বৈঠকে উপস্থিত নেতারা নির্বাচনী সহযোগিতা, প্রার্থী বাছাই ও প্রচারণা কৌশল নিয়ে প্রস্তাব দেন। মিত্রদলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু আন্দোলনে নয়, নির্বাচনের ময়দানেও বিএনপির সঙ্গে থেকে তারা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যেতে চান।

    ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, ন্যাপ ভাসানীসহ বৈঠকে উপস্থিত নেতারা ঐক্য ধরে রাখার অঙ্গীকার করেন। বিএনপির নেতৃত্বে এই যৌথ প্রচেষ্টা যে নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন জোর আলোচনা চলছে।

  • টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    টিআইবি প্রধানের মন্তব্য: “সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে কিংস পার্টি”

    এবিএনএ:   সরকারের ছত্রছায়ায় একটি রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে যে দলটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে, সেটি ‘সবাই জানে’—এনসিপি, এমন মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

    সোমবার (৪ আগস্ট) ঢাকার ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে “কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “এটা আর গোপন কিছু নয়—সবাই জানে এনসিপি হচ্ছে সেই ‘কিংস পার্টি’। দলটির সঙ্গে সরকারের উপদেষ্টাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, একজন উপদেষ্টা পদ ছেড়ে সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আর বাকি দুইজন রয়েছেন সরকারের বর্তমান উপদেষ্টা পদে—এ থেকেই প্রমাণ হয় কারা কাদের সহযোগিতায় রাজনীতির নতুন মোড় তৈরি করেছে।

    প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও নানা বিষয়

    টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে,
    দলটি গঠিত হয়েছে একটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছায়া থেকে।
    – জনগণের কাছে জবাবদিহি, সুশাসন ও স্বচ্ছতার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।
    – অর্থের উৎস অস্বচ্ছ, দখলদারিত্ব, দলবাজি, এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক সংস্কৃতি ধারণ করছে।
    – এর মাধ্যমে আত্মঘাতী পথে হাঁটছে নতুন রাজনৈতিক শক্তি।

    এছাড়া, প্রতিবেদনে দাবি করা হয়,
    “নির্বাচনের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এখন একটি রোডম্যাপ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্থিতিশীল, তা বলা যায় না।”

    সতর্কতা টিআইবির

    আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
    বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন ও প্রশাসনে যেসব সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অনেক ঘাটতি দেখা গেছে বলে মন্তব্য করা হয়।

    ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
    “একটি দায়িত্বশীল, জবাবদিহিমূলক এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠনের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখনো বাস্তবতার মুখ দেখেনি।”

  • নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    নাগরিক অধিকার ও নতুন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি—২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

    এবিএনএ:  বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই ইশতেহার পাঠ করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    তিনি বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনার থেকেই আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী এক দফা দিয়েছিলাম। সেটা ছিল কোনো একক দলের নয়, ছিল জনগণের পক্ষ থেকে—a call for democratic uprising।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা যে রাজনীতি করি, তা দায়বদ্ধতা ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই যেখানে স্বৈরতন্ত্রের আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

    তিনি আরও বলেন, “যদিও সরকারের পতন ঘটেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদী কাঠামোর সম্পূর্ণ বিলোপ ঘটেনি। তাই নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের মধ্য দিয়েই আমরা সেই লক্ষ্য পূরণ করব।”

    এনসিপির ঘোষিত ২৪ দফা মূলনীতির কিছু দিক:

    ১. নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
    ২. জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও বিচার
    ৩. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন
    ৪. বিচারব্যবস্থায় সংস্কার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত
    ৫. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনসেবামুখী শাসন
    ৬. জবাবদিহিমূলক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
    ৭. গ্রাম পার্লামেন্ট ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার
    ৮. স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সক্রিয় নাগরিক সমাজ
    ৯. সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা
    ১০. যুগোপযোগী শিক্ষানীতি
    ১১. তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন-ভিত্তিক গবেষণা
    ১২. ধর্ম ও জাতিসত্তার সম্মান
    ১৩. নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন
    ১৪. মানবমুখী অর্থনীতি ও কল্যাণ রাষ্ট্র
    ১৫. যুবকদের কর্মসংস্থান
    ১৬. বহুমুখী বাণিজ্য ও শিল্পায়ন
    ১৭. খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষিতে স্বাবলম্বিতা
    ১৮. শ্রমিক ও কৃষকের অধিকার
    ১৯. রাষ্ট্রীয় সম্পদ সঠিক ব্যবস্থাপনা
    ২০. পরিবহন, নগরায়ন ও আবাসন পরিকল্পনা
    ২১. পরিবেশ, নদী ও সমুদ্র রক্ষা
    ২২. প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা
    ২৩. বাংলাদেশকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি
    ২৪. আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশল

    ঘোষণার শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এক বছর আগে এই শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আমরা শপথ নিয়েছিলাম—দেশকে স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত করব। আজ আবারও সেই স্থানে দাঁড়িয়ে বলছি—আসুন, সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ি যেখানে সবার জন্য সাম্য, মর্যাদা ও সুবিচার থাকবে।”