Tag: মানবাধিকার

  • সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    সংসদে উঠছে না ১৬ অধ্যাদেশ—গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের পথে

    এবিএনএ: গণভোট, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা এসব অধ্যাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন না পেলে কার্যকারিতা হারায়।

    জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোট ১৬টি অধ্যাদেশ এবার সংসদে তোলা হচ্ছে না। ফলে আগামী নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে এগুলো ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। কমিটি মনে করছে, এই অধ্যাদেশগুলো আরও পর্যালোচনা ও পরিমার্জনের পর ভবিষ্যতে নতুনভাবে বিল আকারে আনা উচিত।

    সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন পেতে হয়। তা না হলে ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে উল্লিখিত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে।

    বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং চারটি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উত্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    যেসব অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার সংশোধন, রাজস্ব ও কর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন।

    এদিকে কমিটির কিছু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভিন্নমত জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য। তারা ১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন।

    প্রতিবেদনটি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অধিবেশন পরিচালিত হয়।

    রিপোর্টে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশ নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তারা সবগুলো অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

  • সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    সংসদে আবেগঘন বক্তব্য: ‘আমিও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান’—জামায়াত আমির

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে দেওয়া এক আবেগঘন বক্তব্যে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখনো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

    মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদের অধিবেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং নিজের পারিবারিক ইতিহাস তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের সঙ্গে তার পরিবারও রক্ত দিয়ে অংশীদার হয়েছে। বাংলাদেশ সবার—এই বার্তা তুলে ধরে তিনি জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

    গণতন্ত্রের প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার পালাবদল জনগণের ভোটের মাধ্যমে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে সেই ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একসময় দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক চর্চাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে নির্যাতন, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, এসব ঘটনায় অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

    জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া সেই আন্দোলন পরবর্তীতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বড় রূপ নেয়। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে যুক্ত হয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।

  • মীরসরাইয়ে চাঞ্চল্য: রাস্তা বন্ধ করে তিন পরিবারকে অবরুদ্ধ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

    মীরসরাইয়ে চাঞ্চল্য: রাস্তা বন্ধ করে তিন পরিবারকে অবরুদ্ধ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

    এবিএনএ,মীরসরাই: মীরসরাই উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়ন মধ্যম ওয়াহেদপুর গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ড সালামাত উল্লাহ ফকির বাড়ির চলাচলের পথ বন্ধ করে তিন পরিবার কে এক বছর যাবত অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে জসিম ও করিম দুই ব্যক্তি চলাচলের রাস্তায় ঘর নির্মান করে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। একমাত্র চলাচলের রাস্তা বন্ধ মধ্যম ওয়াহেদপুর
    গ্রামের সালামত উল্লাহবাড়ির, মোশাররফ, ইয়াসিন,সোহেল, মহিউদ্দিনের পরিবারের লোকজন অবরুদ্ধ অবস্থায় রাত দিন পার করছেন।

    ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন বলেন দীর্ঘ ১০০ বছরের পুরাতন বাড়ী আমাদের আমরা পাঁচ পরিবার আমাদের বাড়ির জায়গা জমি এখনো বন্টক হয়ি, আমাদের বাড়ির চলাচলের যে রাস্তা ছিলো সেটি জসিম ও করিম’রা বন্ধ করে দিয়েছে, আমরা আজ একটি বছর অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতেছি। আমার ছোট ছোট ছেলে মেয়ে স্কুল কলেজে যেতে পারতেছেনা বর্ষায় কেউ ঘর থেকে বের হতে পারেনা আমরা এর একটি সুষ্ঠু বিচার চাই।

    সমাজের সদ্দার বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ জানান রাস্তাটিতে উভয়পক্ষের সমান জমিও ছেড়ে দেওয়া রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে প্রতিপক্ষ জসিম ও করিম রাস্তার উপর ঘর নির্মান করার কারণে অন্য পরিবার গুলা চলাচল করতে পারতেছেনা গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাদিক বার চেষ্টা করেও সমধান করতে পারে নাই, প্রতিপক্ষরা পুরো রাস্তার উপর ঘর তৈরি করে, তিনটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। বর্তমানে ওইসব পরিবারের লোকজন অন্যের ফসলি জমির আইল ও পুকুরপাড় দিয়ে কষ্টে চলাচল করছে। যেকোনো সময় উভয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

    প্রতিপক্ষ করিম ও জসিমের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে অস্বীকার করে, তারা বলে আমাদের ঘর ভেঙ্গে রাস্তা দিবো নাকি আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়।
    মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তার এর কাছে রাস্তা বন্ধ করে অবরুদ্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কারো অধিকার নেই রাস্তা সকলের জন্য উম্মক্ত। রাস্তা বন্ধ রাখার বিষয়ে এখন কোন অভিযোগ আসে নাই।

  • রক্তাক্ত বছর ২০২৫: বিশ্বজুড়ে পেশাগত দায়িত্বে প্রাণ গেল ১২৯ সাংবাদিকের

    রক্তাক্ত বছর ২০২৫: বিশ্বজুড়ে পেশাগত দায়িত্বে প্রাণ গেল ১২৯ সাংবাদিকের

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ইতিহাসে ২০২৫ সাল হয়ে উঠেছে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সময়গুলোর একটি। কাজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী। নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস–এর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চিত্র।

    সংস্থাটি জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সংবাদকর্মীদের প্রাণহানির রেকর্ড হয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ গাজা ও ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত ঘটনায় মারা গেছেন। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী–এর গোলাবর্ষণে বহু ফিলিস্তিনি সাংবাদিক প্রাণ হারান। পাশাপাশি ইয়েমেনে হুথি-সম্পর্কিত একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলায় বড়সংখ্যক কর্মী নিহত হন—যা সিপিজের নথিভুক্ত ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সিপিজে যেসব ঘটনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করেছে, তার বড় অংশের দায়ও ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। গাজায় প্রবেশে বিধিনিষেধ থাকায় নিহত ও আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

    এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংঘাতকালে কেবল যোদ্ধাদের লক্ষ্য করা হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তবে কয়েকটি ঘটনায় নিহত সাংবাদিকদের সঙ্গে হামাস–এর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সিপিজে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন অপবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিহতদের সবাই স্থানীয় ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ছিলেন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগৃহীত তথ্যের আলোকে সিপিজে বলছে, কোনো একক দেশের সামরিক বাহিনীর হাতে নিশানাভিত্তিকভাবে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা এত বেশি আগে দেখা যায়নি।

    পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ১২৯ জনের মধ্যে অন্তত ১০৪ জন সংঘাত-সম্পর্কিত ঘটনায় নিহত হন। গাজা ও ইয়েমেনের বাইরে সুদান–এ ৯ জন এবং মেক্সিকো–এ ৬ জন সাংবাদিক প্রাণ হারান। এছাড়া ইউক্রেন–এ চারজন ও ফিলিপাইন–এ তিনজন নিহত হয়েছেন।

    রাশিয়া সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা অভিযোগ তুলেছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে। তবে কিয়েভ সেই অভিযোগ নাকচ করেছে। সিপিজের প্রতিবেদনের বিষয়ে ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস থেকেও তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • আমেরিকায় অবস্থান করেও প্রভাব বিস্তার, আতঙ্কে হোগলাপাশা

    আমেরিকায় অবস্থান করেও প্রভাব বিস্তার, আতঙ্কে হোগলাপাশা

    এবিএনএ, বাগেরহাট: মোরেলগঞ্জ উপজেলাহোগলাপাশা ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর এক হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদুল ইসলাম দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তার নির্দেশেই এলাকায় নানা অপকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। দূরদেশ থেকে দেওয়া নির্দেশের জেরেই সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

    সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নৃশংস হামলা

    গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে কিসমত বৌলপুর গ্রামের বাসিন্দা জহর আলী খার ছেলে আলামিন খান (৪৬)-এর বাড়িতে একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, সাজু শেখ, তুষার শেখ, সাব্বির কাজি, রুবেল শেখ, সাখায়েত শিকদার, এমরান খান, ভুট্টা খান, মিরাজ খন্দকার, রাব্বি শেখ ও বিলকিস বেগমসহ আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে আলামিন খানকে বাইরে টেনে এনে মারধর করে।

    ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে এবং এক পা ভেঙে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

    আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

    পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত আলামিন খানকে উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার মাথায় গভীর ক্ষত এবং পায়ে গুরুতর ভাঙন রয়েছে। বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

    তবে পরিবারের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারছেন না তারা। ফলে চিকিৎসা প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    বিচার দাবিতে সোচ্চার পরিবার

    আলামিন খান বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। তবুও পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচার চাই।”

    এলাকাবাসীর একাংশও অভিযোগ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এমন ঘটনা ঘটছে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

    ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং আহত আলামিন খান কবে ন্যায়বিচার পান।

  • দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    দলীয় পরিচয়ে নিপীড়ন চলবে না—কঠোর বার্তা দিলেন ডা. শফিকুর রহমান

    এবিএনএ: দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি বা নিপীড়ন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না—এমন কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের যে কোনো নাগরিক অবিচারের শিকার হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতিম শিক্ষার্থীদের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখানে তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিরোধীদল মিলেই নাগরিকদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা উচিত।

    এতিমদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সমাজের অবহেলিত এই শিশুদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা দিলে তারা দেশ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাদের ভেতর থেকে মেধা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    সাম্প্রতিক সময়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের চার সাংবাদিকের চাকরি হারানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহাল করা উচিত। অন্যথায় তা একনায়কতান্ত্রিক প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রত্যাশা। ইফতার মাহফিলটি পরিণত হয় সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক সংহতির বার্তাবাহক এক আয়োজনে।

  • নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির সাজা বাড়ল! ইরানে ফের ছয় বছরের কারাদণ্ড ও নির্বাসনের আদেশ

    নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির সাজা বাড়ল! ইরানে ফের ছয় বছরের কারাদণ্ড ও নির্বাসনের আদেশ

    এবিএনএ: ইরানে মানবাধিকার আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্গিস মোহাম্মাদির বিরুদ্ধে নতুন করে কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে দেশটির আদালত। রোববার দেওয়া রায়ে তাকে ছয় বছরের কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছে বলে তার আইনজীবীর বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়।

    আইনজীবী মোস্তাফা নিলি জানান, ‘অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সমাবেশে অংশগ্রহণ ও যোগসাজশের’ অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই বছর তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না—এমন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।

    এতেই শেষ নয়, আলাদা মামলায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা’ ছড়ানোর অভিযোগে মোহাম্মাদির আরও দেড় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে দুই বছরের জন্য ইরানের পূর্বাঞ্চলের সাউথ খোরাসান প্রদেশের খোসফ শহরে নির্বাসনে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ২০২৩ সালে মানবাধিকার রক্ষায় ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান নার্গিস মোহাম্মাদি। ইরানে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ ও নারীদের বাধ্যতামূলক পোশাকবিধির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার কারণে তাকে বছরের পর বছর মামলা-মোকদ্দমা ও কারাবরণের মুখে পড়তে হয়েছে।

    গত দশকের বড় একটি সময় তিনি কারাগারেই কাটিয়েছেন। ২০১৫ সালের পর থেকে প্যারিসে থাকা তার যমজ সন্তানের সঙ্গে দেখা করতেও পারেননি এই মানবাধিকারকর্মী। আন্তর্জাতিক মহলে তার সাজা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

  • বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    বেলুচিস্তানের রক্তপাত ঘিরে মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত কূটনীতি

    এবিএনএ: বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে দুই প্রতিবেশী দেশ।

    পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা একযোগে হামলা চালায়। ব্যাংক, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়।

    এর পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে ১৭৭ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অভিযোগ করে বলেন, এই হামলার পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মদদ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্ট ও সহযোগীদের নির্মূল করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, বিএলএ ভারতের কাছ থেকে সহায়তা পায়। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে তারা প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয়নি।

    এদিকে পাকিস্তানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইসলামাবাদের এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ঢাকতেই পাকিস্তান বারবার এমন অভিযোগ তুলে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা করে।

    রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, অমূলক অভিযোগ না করে পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের মানুষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দাবিগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া। ওই অঞ্চলে দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • অনিয়মিত অভিবাসনে লাগাম টানছে ইইউ: কে আসবে, সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপই

    অনিয়মিত অভিবাসনে লাগাম টানছে ইইউ: কে আসবে, সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপই

    এবিএনএ: অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশকারী অভিবাসীদের নিজ দেশে দ্রুত ফেরত পাঠানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনের স্পষ্ট বক্তব্য—কে বা কারা ইউরোপে প্রবেশ করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপ নিজেই।

    এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইইউ তাদের অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি নিয়ে একটি নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। পরিকল্পনাটিতে অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি ইইউর বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ইইউর অভিবাসন কমিশনার মাগনুস ব্রুনার বলেন, অনিয়মিত আগমন সীমিত রাখা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করে, যা একদিকে আশ্রয় ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ায়, অন্যদিকে দক্ষ ও মেধাবী কর্মীদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টাকেও দুর্বল করে।

    যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে ইইউজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে, তবুও রাজনৈতিক চাপ কমেনি। এই বাস্তবতায়ই নতুন এই কৌশলকে ‘অভিবাসন নীতিতে নতুন অধ্যায়’ হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় কমিশন।

    তবে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হেন্না ভিরকুনেন বলেন, অনিয়মিত আগমন কমে আসার ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে আইনি ও নিরাপদ পথে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো জরুরি, কারণ এটি ছাড়া অর্থনীতি ও সমাজের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব নয়।

    ইউরোপই নেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

    ইউরোপীয় কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি ন্যায্য ও দৃঢ় অভিবাসন কাঠামোর মাধ্যমে ইউরোপই নির্ধারণ করবে—কে, কখন এবং কোন শর্তে ইইউতে প্রবেশ করতে পারবেন।

    এই নীতির আওতায় মানবপাচার রোধ, আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো এবং প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী ঘাটতি পূরণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    কমিশনের মতে, ইইউর বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষ জনশক্তির সংকট রয়েছে। তাই বিদেশি কর্মীদের যোগ্যতা স্বীকৃতি সহজ করা, প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং ইউরোপকে বৈশ্বিক প্রতিভার জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    রিটার্ন হাব ও ফেরত প্রক্রিয়া

    ইইউ জানিয়েছে, যাদের ইউরোপ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ বাস্তবে নিজ দেশে ফিরে যান। এই পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ করতে চায় কমিশন।

    এ লক্ষ্যে ইইউর বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও আলোচনায় এসেছে। এসব কেন্দ্রে অনিয়মিত ও প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে পাঠানোর আগে রাখা হবে।

    পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রহণে অনাগ্রহী দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ এবং প্রয়োজন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও বিবেচনায় রয়েছে।

    এরই মধ্যে লিবিয়া, তিউনিশিয়া, মিশর, মরক্কো ও মৌরিতানিয়ার মতো দেশের সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে চুক্তি করেছে ইইউ। এসব দেশের সহযোগিতার বিনিময়ে অর্থ ও বিনিয়োগ সহায়তা দিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানকে সাক্ষাত করেন।

    সাক্ষাতের সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

    আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে থাকবে।”

    তিনি আরও জাতিসংঘ, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি ফিলিস্তিন পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের দোয়া, ভালোবাসা ও অকৃত্রিম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

    উত্তরে রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বাংলাদেশের আন্তরিক সমর্থন ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা ব্যক্ত করেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।