চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ, বিশ্বকাপের আগে বড় দুশ্চিন্তায় চেলসি

এবিএনএ:  বিশ্বকাপের আর খুব বেশি দেরি নেই। প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েই চোটে পড়ে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে অনেক তারকার। ইউরোপের লিগগুলোর শেষ পর্যায়ে এসে সেই তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে এক ব্রাজিলিয়ান তরুণের নাম, যা দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পক্ষেরই।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় চেলসি। এই পরাজয়ে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে লন্ডনের ক্লাবটির। বর্তমানে শীর্ষ চারের থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা, হাতে রয়েছে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ।

তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বড় ধাক্কা আসে তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এস্তেভাওয়ের চোটে। ম্যাচের মাত্র ১৬ মিনিট খেলেই হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা অনুভব করেন তিনি। এরপর কোচ তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হন। চিকিৎসা নেওয়ার পরও খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

ম্যাচ শেষে কোচ জানান, ড্রেসিংরুমে ফিরে এস্তেভাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে দ্রুত দৌড়ানোর সময়ই তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করেন। কোচের আশা, ইনজুরি গুরুতর না হলে দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারবেন তরুণ এই ফুটবলার।

এই চোট শুধু ক্লাবের জন্যই নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও উদ্বেগের কারণ। আসন্ন বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল ১৮ বছর বয়সী এস্তেভাওকে। তবে চোট গুরুতর হলে তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই জানা যাবে ইনজুরির প্রকৃত অবস্থা।

চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৫ ম্যাচে খেলেছেন এস্তেভাও। করেছেন ৮টি গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪ গোল। জাতীয় দলের জার্সিতেও ইতোমধ্যে জায়গা পাকা করেছেন তিনি, যেখানে পাঁচবার জালের দেখা পেয়েছেন।

চেলসির দুর্ভাগ্য এখানেই থেমে থাকেনি। ম্যাচের শেষ দিকে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজও চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। কোচ জানান, তার কাফে সমস্যা দেখা দিয়েছে, যদিও এটি সাময়িক ক্র্যাম্প হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা চলছে, কারণ পরবর্তী ম্যাচে তাকে দলে পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্বকাপের আগে একের পর এক চোট ফুটবল বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এস্তেভাওয়ের অবস্থা এখন নজরে রাখছেন সমর্থকরা, কারণ তার ফিটনেসই নির্ধারণ করবে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *