Tag: হাদিস

  • মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    এবিএনএ: ওমরাহ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতা, বার্ধক্য কিংবা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ নিজে ওমরাহ আদায় করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ ওমরাহ করতে পারবেন কি না—এ নিয়ে ইসলামি শরিয়তে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

    ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা বৈধ। এ বিষয়ে একটি হাদিসে উল্লেখ আছে—এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, তার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং হজ বা ওমরাহ করার সক্ষমতা নেই। উত্তরে নবীজি তাকে পিতার পক্ষ থেকে হজ ও ওমরাহ আদায়ের নির্দেশ দেন। এই হাদিস থেকে আলেমরা জীবিত ও মৃত উভয়ের পক্ষ থেকেই বদলি ওমরাহ করার অনুমতি গ্রহণ করেছেন।

    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, কেউ যদি কোনো নেক আমল সম্পাদন করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন, তাহলে তা বৈধ এবং উপকারে আসে। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। এ থেকে বোঝা যায়, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হলেও অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও পৌঁছানো সম্ভব।

    জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ সম্ভব

    ইসলামি ফতোয়া অনুযায়ী, শুধু মৃত নয়—জীবিত কিন্তু অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যিনি ওমরাহ করবেন, তাকে ইহরাম বাঁধার সময় স্পষ্টভাবে যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করছেন তার জন্য নিয়ত করতে হবে। পাশাপাশি তালবিয়াও তার পক্ষ থেকেই আদায় করতে হবে।

    কিছু আলেমের মতে, বদলি হজের মতো ওমরাহ বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা কম পাওয়া গেলেও, নিজের করা ওমরাহর সওয়াব অন্য কাউকে পৌঁছে দেওয়া বৈধ। ফলে ব্যক্তি নিজের ওমরাহ আদায় করে মৃত বা জীবিত যেকোনো মুসলমানের জন্য সওয়াব দান করতে পারেন।

    কোন বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

    বদলি ওমরাহ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

    • যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করা হবে তার জন্য স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে
    • শরিয়াহসম্মত নিয়মে পুরো ওমরাহ সম্পন্ন করতে হবে
    • সওয়াব দানের উদ্দেশ্য থাকতে হবে
    • মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা অব্যাহত রাখা উত্তম

    সব মিলিয়ে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বদলি ওমরাহ করা বৈধ এবং এটি মৃত ও জীবিত উভয়ের পক্ষেই করা যায়। তবে আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, সদকা ও নেক আমল দান—এসবের গুরুত্ব বেশি। তাই বদলি ওমরাহর পাশাপাশি দোয়া করাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

  • জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    এবিএনএ: মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন এবং তাদের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন আসমানি কিতাব। এসব কিতাবের মধ্যে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব হলো পবিত্র আল-কোরআন, যা মানুষের জীবন পরিচালনার পরিপূর্ণ নির্দেশনা দেয়।

    পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর সুরা হলো সুরা কাহাফ। এটি ১৫তম পারায় অবস্থিত এবং এতে মোট ১১০টি আয়াত রয়েছে। ‘কাহাফ’ শব্দের অর্থ গুহা। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয় এবং এতে ঈমান, ধৈর্য, পরীক্ষা ও আল্লাহর ওপর ভরসার বিভিন্ন শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

    সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত

    হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সুরা কাহাফ পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও প্রশান্তি নাজিল হয়। এক সাহাবি সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার সময় তার নিকট এক ধরনের শান্ত পরিবেশ নেমে আসে। বিষয়টি তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল হয়েছিল।

    এ থেকে বোঝা যায়, নিয়মিত এ সুরা তেলাওয়াত করলে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও বরকত লাভ হয়।

    জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়ার ফজিলত

    হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে পাঠকারীর জন্য বিশেষ নূর সৃষ্টি হয়। এই নূর এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তাকে আলোকিত রাখে।

    আরও বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য আসমান পর্যন্ত আলো জ্বলে ওঠে এবং কিয়ামতের দিন সে আলো তার জন্য বিশেষ সম্মান বয়ে আনবে। একই সঙ্গে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদও দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম ১০ আয়াতের বিশেষ গুরুত্ব

    পুরো সুরা মুখস্থ করা সবার পক্ষে সহজ না হলেও অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে—
    যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

    এ কারণে আলেমরা জুমার দিন বা নিয়মিত সময় নিয়ে এই আয়াতগুলো মুখস্থ ও তেলাওয়াত করার পরামর্শ দেন।

    মুসলমানদের জন্য করণীয়

    • জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
    • অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করা
    • শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া শেখা
    • নিয়মিত তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা

    সুরা কাহাফ শুধু একটি তেলাওয়াত নয়; এতে রয়েছে ঈমান শক্ত করার শিক্ষা, দুনিয়ার ফিতনা থেকে বাঁচার নির্দেশনা এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নিয়মিত পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভের আশা করা যায়।

  • অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই ভালো-মন্দের সংমিশ্রণ রয়েছে। ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর নির্ভুলতা কেবল ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য। তাই ইসলামে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করা কিংবা তা প্রকাশ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বরং যে ব্যক্তি অন্যের ত্রুটি আড়াল করে রাখে, মহান আল্লাহও তার ত্রুটি আড়াল করে দেন—এমন সুসংবাদ এসেছে কোরআন ও হাদিসে।

    পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক সন্দেহ থেকে দূরে থাকো; কারণ কিছু সন্দেহ পাপ। একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করবে। আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও পরম দয়ালু।

    এই আয়াতে তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে—অযথা সন্দেহ, গোপন অনুসন্ধান এবং গিবত। অর্থাৎ অন্যের ত্রুটি খুঁজে বের করা ও তা প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর নৈতিক অপরাধ।

    হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। (মুসলিম: ২৫১০)

    অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেন, তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়িও না। কেউ যদি অন্যের দোষ অনুসন্ধান করে প্রকাশ করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। এমনকি তাকে নিজের ঘরেই লাঞ্ছিত করেন। (আবু দাউদ: ৪৮৮০)

    এছাড়া হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের সবাই ক্ষমা পাবে, তবে যারা নিজের পাপ প্রকাশ করে তারা নয়। কোনো ব্যক্তি রাতে পাপ করে, আল্লাহ তা গোপন রাখেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে। এভাবে সে আল্লাহর দেওয়া আড়াল নিজেই সরিয়ে দেয়। (বুখারি: ৬০৬৯)

    ইসলামের শিক্ষা হলো—অন্যের ভুল দেখলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নরমভাবে উপদেশ দেওয়া, কিন্তু তা প্রচার করা নয়। মানুষের সম্মান রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই গিবত, অপবাদ ও দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখাই ইসলামের নির্দেশ।

  • ঈদের পরই শুরু করুন শাওয়ালের ৬ রোজা—জানুন নিয়ম ও অগণিত ফজিলত

    ঈদের পরই শুরু করুন শাওয়ালের ৬ রোজা—জানুন নিয়ম ও অগণিত ফজিলত

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাস রমজানের সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জীবনে আসে আনন্দের উৎসব ঈদুল ফিতর। তবে ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামি শরিয়তে এই রোজাগুলোকে মোস্তাহাব বলা হলেও এর সওয়াব অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

    বিশুদ্ধ হাদিসে শাওয়ালের রোজার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পূর্ণ করার পর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন পুরো বছরজুড়ে রোজা রাখার সমান সওয়াব লাভ করে (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)।

    এই রোজাগুলো ফরজ নয়; বরং এটি একটি নফল ইবাদত। তবে এর ফজিলত এতটাই বেশি যে আল্লাহর নৈকট্য লাভে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাদিসে শাওয়ালের ছয় রোজা নির্দিষ্ট কোনো সময় ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, ঈদের দিন ছাড়া মাসের যেকোনো ছয় দিনে—একটানা বা বিরতি দিয়ে—এই রোজাগুলো রাখা যাবে।

    বিশেষ করে যাদের রমজানের কিছু রোজা কাজা রয়েছে—অসুস্থতা বা নারীদের হায়েজ-নেফাসের কারণে—তাদের জন্য প্রথমে কাজা রোজা আদায় করা উত্তম। এরপর শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করলে পূর্ণ ফজিলত পাওয়া যাবে।

    ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কোনো বান্দা যখন একটি ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করে এবং তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়, তখন তাকে আরও নেক আমলের তাওফিক দেওয়া হয়। শাওয়ালের এই রোজাগুলো সেই কবুলিয়তের একটি লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • ঈদের রাতে দোয়া কবুলের বিশেষ আমল: যে ইবাদতে বদলে যেতে পারে আপনার জীবন

    ঈদের রাতে দোয়া কবুলের বিশেষ আমল: যে ইবাদতে বদলে যেতে পারে আপনার জীবন

    এবিএনএ: ইসলামে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা—এই দুই ঈদ মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। তবে শুধু ঈদের দিনই নয়, এর আগের রাতও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় হিসেবে বিবেচিত।

    ইসলামি স্কলারদের মতে, ঈদের রাতকে অবহেলায় না কাটিয়ে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করা সুন্নত। অনেকেই আনন্দ-উৎসবে ব্যস্ত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ফজিলত থেকে বঞ্চিত হন, যা কাম্য নয়। এ রাতে আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা হয়।

    হাদিসে উল্লেখ আছে, কিছু নির্দিষ্ট রাতে ইবাদতে মগ্ন থাকলে জান্নাত লাভের সুসংবাদ রয়েছে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—পাঁচটি রাত এমন রয়েছে, যেগুলোতে ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকলে জান্নাত নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জিলহজের ৮ ও ৯ তারিখের রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ শাবানের রাত।

    এছাড়া ঈদের রাতে করা দোয়া আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দেন না—এমন বর্ণনাও পাওয়া যায়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, শবে বরাত এবং দুই ঈদের রাতে করা দোয়া বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।

    আরেকটি হাদিসে হজরত আবু উমামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—যে ব্যক্তি ঈদের দুই রাতে সওয়াবের আশায় ইবাদতে লিপ্ত থাকে, কিয়ামতের দিন যখন বহু হৃদয় নিস্তেজ হয়ে যাবে, তখন তার হৃদয় জীবিত থাকবে।

    সুতরাং, ঈদের আনন্দের পাশাপাশি এ রাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব উপলব্ধি করে নামাজ, জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে সময় অতিবাহিত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণকর।

  • আজান না হলে কি ইফতার থামিয়ে রাখতে হবে? রোজাদারদের বহুল জিজ্ঞাসার স্পষ্ট উত্তর

    আজান না হলে কি ইফতার থামিয়ে রাখতে হবে? রোজাদারদের বহুল জিজ্ঞাসার স্পষ্ট উত্তর

    এবিএনএ: রমজান মাসে ইফতার রোজাদারদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোজা ভাঙার অনুমতি রয়েছে। তবে অনেক এলাকায় আজান দিতে দেরি হলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়—তখন কি আজান শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে?

    ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইফতার শুরুর মূল নির্ধারক হলো সূর্যাস্ত। হাদিসে এসেছে—দিনের আলো শেষ হয়ে সূর্য ডুবে গেলে রোজাদার ইফতার করবে। অর্থাৎ, আজান নিজেই ইফতারের শর্ত নয়; আজান হলো সময় জানানোর মাধ্যম। বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ আজানের ওপর নির্ভর করে সময় বোঝেন বলে আজান শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করাকে উত্তম আমল ধরা হয়।

    আজান দেরি হলে করণীয় কী?
    অনেক সময় মসজিদের সময়সূচি বা কারিগরি সমস্যায় আজান কয়েক মিনিট দেরিতে হতে পারে। এ অবস্থায় করণীয় সম্পর্কে আলেমরা কয়েকটি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন—

    1. বিশ্বস্ত সময়সূচি দেখে ইফতার করা যাবে:
      নামাজের অনুমোদিত সময়সূচি বা নির্ভরযোগ্য ক্যালেন্ডারে যদি সূর্যাস্তের সময় পার হয়ে যায়, তাহলে আজান না হলেও ইফতার করা জায়েজ। সূর্যাস্ত নিশ্চিত হওয়াই এখানে মূল বিষয়।

    2. অযথা সন্দেহ এড়িয়ে চলুন:
      ইসলামে অহেতুক সন্দেহে পড়তে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সূর্যাস্ত নিশ্চিত হলে ইফতার করতে পারেন। তবে সময় নিয়ে যদি সংশয় থাকে, তাহলে আজান পর্যন্ত অপেক্ষা করাই নিরাপদ ও উত্তম পথ।

    সংক্ষেপে, ইফতারের অনুমতি সূর্যাস্তের সঙ্গে যুক্ত—আজান সময় জানানোর মাধ্যম মাত্র। নিশ্চিত হলে দেরি না করে ইফতার করা সুন্নতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  • ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    ভূমিকম্প কি শুধু প্রাকৃতিক ঘটনা? কুরআন–হাদিসের আলোকে সতর্কবার্তা ও মানুষের করণীয়

    এবিএনএ: ভূমিকম্প মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই ভীতি জাগায়। আধুনিক বিজ্ঞানে একে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক মুক্তির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভূত্বকের ফল্ট বরাবর চাপ জমে হঠাৎ সরে গেলে কম্পন-তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প সময়ের জন্য ভূমি কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলকে হাইপোসেন্টার বলা হয়, আর এর ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের অংশকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

    ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলাম ভূমিকম্পকে কেবল একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেই থামে না; বরং একে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন ও মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচনা করে। কুরআনে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতার কারণে শাস্তি হিসেবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উল্লেখ আছে। আবার কোথাও বলা হয়েছে, এসব নিদর্শনের উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমালোচনায় ফিরিয়ে আনা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনে উদ্বুদ্ধ করা।

    ইসলামের ব্যাখ্যায় ভূমিকম্প আল্লাহর শক্তির প্রকাশ—তিনি চাইলে ওপর থেকেও, নিচ থেকেও আজাব পাঠাতে সক্ষম। কেয়ামতের দিন পৃথিবীর ভয়াবহ কম্পনের কথাও কুরআনে উল্লেখ রয়েছে, যা মানুষকে শেষ বিচারের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বিপর্যয়কে মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে উল্লেখ করে আত্মশুদ্ধির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

    হাদিসে এসেছে, সমাজে অন্যায়, অবক্ষয় ও নৈতিক অবনতি বাড়লে ফিতনা, যুদ্ধ ও ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয় বৃদ্ধি পায়। আবার মুমিনদের জন্য এসব বিপদ পরীক্ষাস্বরূপ—ধৈর্য ধরলে পাপ মোচন হয় এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিদান লাভের আশা করা যায়। কিছু হাদিসে ভূমিকম্পে নিহতদের শহীদি মর্যাদার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

    করণীয় কী?
    বিপর্যয়ের সময় আতঙ্কে ভেঙে না পড়ে আত্মসমালোচনা করা জরুরি। তাওবা-ইস্তেগফার বৃদ্ধি, দান–সদকা বাড়ানো, মানুষের হক আদায়, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা এবং গোনাহ থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দিয়েছেন আলেমরা। পাশাপাশি বাস্তব জীবনে দুর্যোগ প্রস্তুতি, নিরাপত্তা সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা মেনে চলাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • রমজানের রোজা কীভাবে ফরজ হলো? আদম (আ.) থেকে আজ পর্যন্ত রোজার ইতিহাস জানুন এক নজরে

    রমজানের রোজা কীভাবে ফরজ হলো? আদম (আ.) থেকে আজ পর্যন্ত রোজার ইতিহাস জানুন এক নজরে

    এবিএনএ: রমজানের রোজা প্রত্যেক সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। ‘রোজা’ শব্দটি ফারসি থেকে আগত; আরবি পরিভাষায় একে ‘সাওম’ বা ‘সিয়াম’ বলা হয়—অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার, পানীয় ও দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা। ইসলামের বিধান হিসেবে রোজা ফরজ হয় হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে।

    ইমাম ইমাম নববী বর্ণনা করেছেন, নবীজি হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে রোজার ফরজ বিধান নাজিল হওয়ার পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত রমজানের রোজা আদায় করেন। কোরআনের আয়াতে পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও রোজা ফরজ থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বাকারা-এর ১৮৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আগের জাতিগোষ্ঠীর মতোই মুমিনদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে—যাতে তাকওয়া অর্জিত হয়। আল্লামা আলুসি তাঁর তাফসিরে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আদম (আ.) থেকে ঈসা (আ.) পর্যন্ত নবীদের যুগে রোজার প্রচলনের কথা উল্লেখ করেন।

    নবীদের যুগে রোজার ধারাবাহিকতা

    • আদম (আ.)-এর যুগে প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ ‘আইয়ামে বিজ’-এর রোজার প্রচলন ছিল।

    • নুহ (আ.)-এর সময় ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা ছাড়া প্রায় সারা বছর রোজা রাখার বর্ণনা পাওয়া যায়।

    • মুসা (আ.)-এর উম্মতের মধ্যে আশুরার রোজা গুরুত্বপূর্ণ ছিল; পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরা নফল হিসেবে থাকে।

    • দাউদ (আ.) এক দিন পর পর রোজা রাখতেন—এ রোজাকে নবীজি সবচেয়ে প্রিয় আমলগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    • ঈসা (আ.)-এর উম্মতের মধ্যেও রোজার চর্চা ছিল; তিনি নির্জনে দীর্ঘ সময় রোজা পালন করেছেন বলে বর্ণনা আছে।

    ইসলাম-পূর্ব আরব সমাজে রোজা
    ইসলাম আগমনের আগেও কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করত। মদিনায় আগমনের পর নবীজি আশুরার রোজা আদায়ের নির্দেশ দেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরা নফল হিসেবে অব্যাহত থাকে।

    রোজার নিয়ত ও মাসায়ালা (সংক্ষেপে)

    • নিয়ত করা ফরজ; অন্তরের সংকল্পই যথেষ্ট—আরবিতে উচ্চারণ জরুরি নয়। সাহরি খাওয়াও নিয়তের অন্তর্ভুক্ত হয়।

    • পুরো রমজানের জন্য একবারে নিয়ত যথেষ্ট নয়; প্রতিদিনের রোজার জন্য সেদিন নিয়ত করতে হবে।

    রমজানের রোজা আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ। হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে ফরজ হওয়া এই ইবাদত আজও কোটি কোটি মুসলমানের জীবনে শৃঙ্খলা ও তাকওয়ার অনুশীলন গড়ে তুলছে। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে যথাযথভাবে রোজা পালনের তাওফিক দিন—আমিন।