Tag: ইসলাম

  • কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    এবিএনএ:ত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক অনন্য শিক্ষা বহন করে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কোরবানি—যা কেবল পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতীক।

    ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিই কোরবানির মূল প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। এই ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    পবিত্র কোরআন-এ আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—নিজ রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত নয়, বরং মানুষের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

    হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদের জামাতে না আসে—এমন কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে।


    কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। এটি সেই সব প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক।

    এই নির্ধারিত সম্পদের পরিমাণকে বলা হয় “নিসাব”।


    নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত?

    কোরবানির সময় (১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) যদি কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিচের পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক—

    • স্বর্ণ: সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি)
    • রুপা: সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি)
    • অথবা সমপরিমাণ অর্থ বা সম্পদ (রুপার মূল্যের ভিত্তিতে)

    যদি কারও কাছে স্বর্ণ বা রুপা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে উভয়টি মিলিয়ে কিংবা নগদ অর্থ, অতিরিক্ত সম্পদ যোগ করে যদি তা রুপার নিসাবের সমান হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।


    কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

    নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সম্পদ বিবেচনায় আসবে—

    • স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
    • নগদ অর্থ
    • প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
    • অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা সম্পদ

    তবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।


    যাকাত ও কোরবানির সম্পর্ক

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—যাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর সম্পদ থাকা শর্ত, কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই দায়িত্ব বর্তায়।


    উপসংহার

    কোরবানি শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকলে এই ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

  • মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা যাবে?

    এবিএনএ: ওমরাহ ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতা, বার্ধক্য কিংবা আর্থিক অক্ষমতার কারণে কেউ নিজে ওমরাহ আদায় করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ ওমরাহ করতে পারবেন কি না—এ নিয়ে ইসলামি শরিয়তে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

    ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি ওমরাহ করা বৈধ। এ বিষয়ে একটি হাদিসে উল্লেখ আছে—এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেন, তার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ এবং হজ বা ওমরাহ করার সক্ষমতা নেই। উত্তরে নবীজি তাকে পিতার পক্ষ থেকে হজ ও ওমরাহ আদায়ের নির্দেশ দেন। এই হাদিস থেকে আলেমরা জীবিত ও মৃত উভয়ের পক্ষ থেকেই বদলি ওমরাহ করার অনুমতি গ্রহণ করেছেন।

    ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, কেউ যদি কোনো নেক আমল সম্পাদন করে তার সওয়াব জীবিত বা মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন, তাহলে তা বৈধ এবং উপকারে আসে। তবে মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সবচেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তিনটি আমল ছাড়া তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়—সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে। এ থেকে বোঝা যায়, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি হলেও অন্যান্য নেক আমলের সওয়াবও পৌঁছানো সম্ভব।

    জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ সম্ভব

    ইসলামি ফতোয়া অনুযায়ী, শুধু মৃত নয়—জীবিত কিন্তু অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকেও বদলি ওমরাহ করা যায়। এ ক্ষেত্রে যিনি ওমরাহ করবেন, তাকে ইহরাম বাঁধার সময় স্পষ্টভাবে যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করছেন তার জন্য নিয়ত করতে হবে। পাশাপাশি তালবিয়াও তার পক্ষ থেকেই আদায় করতে হবে।

    কিছু আলেমের মতে, বদলি হজের মতো ওমরাহ বিষয়ে সরাসরি নির্দেশনা কম পাওয়া গেলেও, নিজের করা ওমরাহর সওয়াব অন্য কাউকে পৌঁছে দেওয়া বৈধ। ফলে ব্যক্তি নিজের ওমরাহ আদায় করে মৃত বা জীবিত যেকোনো মুসলমানের জন্য সওয়াব দান করতে পারেন।

    কোন বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে

    বদলি ওমরাহ করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

    • যার পক্ষ থেকে ওমরাহ করা হবে তার জন্য স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে
    • শরিয়াহসম্মত নিয়মে পুরো ওমরাহ সম্পন্ন করতে হবে
    • সওয়াব দানের উদ্দেশ্য থাকতে হবে
    • মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা অব্যাহত রাখা উত্তম

    সব মিলিয়ে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, বদলি ওমরাহ করা বৈধ এবং এটি মৃত ও জীবিত উভয়ের পক্ষেই করা যায়। তবে আলেমদের মতে, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, সদকা ও নেক আমল দান—এসবের গুরুত্ব বেশি। তাই বদলি ওমরাহর পাশাপাশি দোয়া করাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

  • জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    জুমায় সুরা কাহাফের ১০ আয়াত: দাজ্জাল থেকে সুরক্ষার আমল

    এবিএনএ: মানবজাতিকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য মহান আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন এবং তাদের মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন আসমানি কিতাব। এসব কিতাবের মধ্যে সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব হলো পবিত্র আল-কোরআন, যা মানুষের জীবন পরিচালনার পরিপূর্ণ নির্দেশনা দেয়।

    পবিত্র কোরআনের ১৮ নম্বর সুরা হলো সুরা কাহাফ। এটি ১৫তম পারায় অবস্থিত এবং এতে মোট ১১০টি আয়াত রয়েছে। ‘কাহাফ’ শব্দের অর্থ গুহা। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয় এবং এতে ঈমান, ধৈর্য, পরীক্ষা ও আল্লাহর ওপর ভরসার বিভিন্ন শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

    সুরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত

    হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সুরা কাহাফ পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও প্রশান্তি নাজিল হয়। এক সাহাবি সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার সময় তার নিকট এক ধরনের শান্ত পরিবেশ নেমে আসে। বিষয়টি তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জানালে তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতের কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল হয়েছিল।

    এ থেকে বোঝা যায়, নিয়মিত এ সুরা তেলাওয়াত করলে মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি ও বরকত লাভ হয়।

    জুমার দিনে সুরা কাহাফ পড়ার ফজিলত

    হাদিসে এসেছে, জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করলে পাঠকারীর জন্য বিশেষ নূর সৃষ্টি হয়। এই নূর এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তাকে আলোকিত রাখে।

    আরও বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে তার জন্য আসমান পর্যন্ত আলো জ্বলে ওঠে এবং কিয়ামতের দিন সে আলো তার জন্য বিশেষ সম্মান বয়ে আনবে। একই সঙ্গে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদও দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম ১০ আয়াতের বিশেষ গুরুত্ব

    পুরো সুরা মুখস্থ করা সবার পক্ষে সহজ না হলেও অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে—
    যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে।

    এ কারণে আলেমরা জুমার দিন বা নিয়মিত সময় নিয়ে এই আয়াতগুলো মুখস্থ ও তেলাওয়াত করার পরামর্শ দেন।

    মুসলমানদের জন্য করণীয়

    • জুমার দিনে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
    • অন্তত প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করা
    • শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া শেখা
    • নিয়মিত তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা

    সুরা কাহাফ শুধু একটি তেলাওয়াত নয়; এতে রয়েছে ঈমান শক্ত করার শিক্ষা, দুনিয়ার ফিতনা থেকে বাঁচার নির্দেশনা এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। নিয়মিত পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভের আশা করা যায়।

  • অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই ভালো-মন্দের সংমিশ্রণ রয়েছে। ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর নির্ভুলতা কেবল ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য। তাই ইসলামে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করা কিংবা তা প্রকাশ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বরং যে ব্যক্তি অন্যের ত্রুটি আড়াল করে রাখে, মহান আল্লাহও তার ত্রুটি আড়াল করে দেন—এমন সুসংবাদ এসেছে কোরআন ও হাদিসে।

    পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক সন্দেহ থেকে দূরে থাকো; কারণ কিছু সন্দেহ পাপ। একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করবে। আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও পরম দয়ালু।

    এই আয়াতে তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে—অযথা সন্দেহ, গোপন অনুসন্ধান এবং গিবত। অর্থাৎ অন্যের ত্রুটি খুঁজে বের করা ও তা প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর নৈতিক অপরাধ।

    হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। (মুসলিম: ২৫১০)

    অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেন, তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়িও না। কেউ যদি অন্যের দোষ অনুসন্ধান করে প্রকাশ করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। এমনকি তাকে নিজের ঘরেই লাঞ্ছিত করেন। (আবু দাউদ: ৪৮৮০)

    এছাড়া হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের সবাই ক্ষমা পাবে, তবে যারা নিজের পাপ প্রকাশ করে তারা নয়। কোনো ব্যক্তি রাতে পাপ করে, আল্লাহ তা গোপন রাখেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে। এভাবে সে আল্লাহর দেওয়া আড়াল নিজেই সরিয়ে দেয়। (বুখারি: ৬০৬৯)

    ইসলামের শিক্ষা হলো—অন্যের ভুল দেখলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নরমভাবে উপদেশ দেওয়া, কিন্তু তা প্রচার করা নয়। মানুষের সম্মান রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই গিবত, অপবাদ ও দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখাই ইসলামের নির্দেশ।

  • মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    মক্কায় প্রবেশে নতুন কড়াকড়ি, পারমিট ছাড়া ঢুকতে পারবেন না কেউ

    এবিএনএ: আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে সৌদি আরব। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া বিদেশি নাগরিক কিংবা সৌদি আরবের বাসিন্দাদের কেউই মক্কায় প্রবেশ করতে পারবেন না। সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।

    সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মক্কায় প্রবেশ করতে হলে প্রত্যেক বিদেশির কাছে বৈধ পারমিট থাকতে হবে।

    নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাদের কাছে হজ ভিসা নেই কিংবা কাবা শরিফ সংশ্লিষ্ট কাজে অনুমোদন নেই, তাদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। অনুমতিহীন প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চেকপোস্টে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র না থাকলে সংশ্লিষ্টদের ফেরত পাঠানো হবে।

    এদিকে, যেসব ব্যক্তির কাছে ওমরাহ ভিসা রয়েছে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মক্কা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে এসব ভিসাধারীদের শহর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    সৌদি প্রশাসন বলছে, হজ মৌসুমে বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। তাই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

  • কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কী হবে? জানুন সঠিক শরয়ি বিধান ও করণীয়

    কাজা রোজা ভেঙে ফেললে কী হবে? জানুন সঠিক শরয়ি বিধান ও করণীয়

    এবিএনএ: ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও সক্ষম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ ইবাদত। তবে মানবজীবনের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় শরিয়তে রয়েছে কিছু ছাড় এবং বিকল্প বিধানও।

    কাদের জন্য রোজা স্থগিতের সুযোগ রয়েছে

    যারা অসুস্থ, সফরে রয়েছেন, অথবা গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী—যদি নিজের বা সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তারা রমজানে রোজা না রেখে পরবর্তীতে তা কাজা করে নিতে পারেন।

    পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের রোজা অন্য সময়ে পূরণ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি যারা একেবারেই অক্ষম, তারা ফিদিয়া আদায় করতে পারেন।

    কাজা রোজা দ্রুত আদায়ের গুরুত্ব

    যেসব রোজা কোনো কারণে রাখা সম্ভব হয়নি, সেগুলো বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব আদায় করা উত্তম। কারণ, মানুষের জীবন অনিশ্চিত—অপ্রত্যাশিতভাবে সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কাজা রোজা ফেলে রাখা ঠিক নয়।

    কাজা রোজা ভেঙে গেলে কী করবেন?

    কাজা রোজা আদায়ের সময় সেটি ভেঙে ফেলা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়, যদি না কোনো বৈধ কারণ থাকে। তাই রোজা রাখার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

    • বিনা কারণে ভেঙে ফেললে:
      যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কাজা রোজা ভেঙে ফেলে, তবে এটি গুনাহের কাজ। এজন্য আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে এবং পুনরায় সেই রোজাটি অন্য দিনে কাজা আদায় করতে হবে।
    • ওজর বা বৈধ কারণে ভাঙলে:
      অসুস্থতা বা অন্য কোনো বৈধ কারণ থাকলে রোজা ভাঙা যাবে। সেক্ষেত্রেও পরে একটি রোজা কাজা রাখতে হবে।

    কাফফারা কি দিতে হবে?

    কাজা রোজা ভেঙে ফেললে সাধারণত কাফফারা দিতে হয় না। কাফফারা শুধুমাত্র রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—বিশেষ করে পানাহার বা দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে।

    শেষ কথা

    রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তাই কাজা রোজাও যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আদায় করা প্রয়োজন। সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে এই ইবাদত পূর্ণতা পায়।

  • রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    রমজানের শেষ সময়কে বদলে দিন সাফল্যের সোপানে—যেভাবে কাটাবেন শেষ দশক

    এবিএনএ: শেষের পথে পবিত্র রমজান মাস। রহমত ও মাগফিরাতের পর এখন চলছে নাজাতের দশক—যে সময়টি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে শুরু হবে ঈদুল ফিতর, আর বিদায় নেবে বরকত, রহমত ও কোরআন নাজিলের এই মহিমান্বিত মাস।

    ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই রমজানই হয়তো অনেকের জীবনের শেষ রমজান হতে পারে। তাই শেষ সময়টুকুকে অর্থবহ করে তুলতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা বাড়ানো জরুরি।

    তওবার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি
    মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। রমজানেও নানা ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তাই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পারো” (সুরা নূর: ৩১)।

    আরেক স্থানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্মে অবিচল থাকে, আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমাশীল (সুরা ত্বহা: ৮২)।
    গুনাহের পর দ্রুত তওবা করে নিজেকে পবিত্র করা একজন মুমিনের কর্তব্য।

    রমজানের ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা
    রমজান ইবাদতের বিশেষ মাস হলেও নানা ব্যস্ততায় অনেকেই পূর্ণভাবে আমল করতে পারেন না। তাই এ মাসে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বাকি সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত।

    সারা বছরের জন্য নেক আমলের তাওফিক চাওয়া
    রমজান কেবল একটি মাস নয়, বরং সারা বছরের জন্য ইবাদতের প্রশিক্ষণ। রজব ও শাবান মাস থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতির পর রমজানে ইবাদতের অভ্যাস তৈরি হয়। এই অভ্যাস যেন সারা বছর বজায় থাকে, সে জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা জরুরি।

    সদকাতুল ফিতর আদায়ের গুরুত্ব
    রমজানের গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো সদকাতুল ফিতর আদায়। এটি রোজার ত্রুটি দূর করে এবং দরিদ্রদের সহায়তা করে। যারা এখনো আদায় করেননি, তারা ঈদের নামাজের আগে এটি পরিশোধ করে নিতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, রমজানের শেষ সময়টুকু আত্মশুদ্ধি, তওবা, দোয়া ও দানের মাধ্যমে কাটাতে পারলে তা একজন মুমিনের জন্য পরকালীন সফলতার পথ খুলে দিতে পারে।

  • জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়তে বলেছিলেন নবীজি—জানুন সালাতুত তাসবিহের বিস্ময়কর ফজিলত

    জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়তে বলেছিলেন নবীজি—জানুন সালাতুত তাসবিহের বিস্ময়কর ফজিলত

    এবিএনএ: ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ, যা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরজ। তবে ফরজ নামাজের পাশাপাশি কিছু নফল নামাজ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য ও অতিরিক্ত সওয়াব অর্জন করা যায়। এসব নফল ইবাদতের মধ্যে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি নামাজ হলো সালাতুত তাসবিহ।

    ‘তাসবিহ’ অর্থ আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা বা জিকির করা। আর যে নামাজে নির্দিষ্ট তাসবিহ বারবার পাঠ করা হয়, সেটিই সালাতুত তাসবিহ নামে পরিচিত। এই নামাজে মোট ৩০০ বার একটি বিশেষ তাসবিহ পড়তে হয়, যা একে অন্যসব নফল নামাজ থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

    ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতের জন্য এ নামাজকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তাঁর চাচা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে এ নামাজ শিক্ষা দিয়ে বলেন—সম্ভব হলে প্রতিদিন, না পারলে সপ্তাহে, তাও না হলে মাসে বা বছরে অন্তত একবার, আর তাও না হলে জীবনে অন্তত একবার হলেও এই নামাজ আদায় করতে।

    নফল নামাজ বাধ্যতামূলক না হলেও এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। নফল ইবাদত মানুষের গুনাহ মোচন করে, মর্যাদা বৃদ্ধি করে এবং অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। এছাড়া ফরজ ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা পূরণেও নফল নামাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সালাতুত তাসবিহ নামাজের পদ্ধতি:
    এই নামাজ ৪ রাকাত। সাধারণ নিয়তের মাধ্যমে নামাজ শুরু করতে হয়। প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর অন্য একটি সুরা পড়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট তাসবিহ ৭৫ বার করে পড়তে হয়। এভাবে চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবিহ সম্পন্ন হয়।

    তাসবিহটি হলো:
    “সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি, ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।”

    নামাজের বিভিন্ন অবস্থানে (কিয়াম, রুকু, সিজদা ও বসার সময়) নির্দিষ্ট সংখ্যায় এই তাসবিহ পাঠ করতে হয়। কোনো অংশে ভুলে গেলে পরবর্তী রুকনে তা পূরণ করা যায়।

    ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, আন্তরিকতার সঙ্গে এই নামাজ আদায় করলে আল্লাহ অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ ক্ষমা করেন এবং বান্দার দোয়া কবুল করেন। বিশেষ করে জুমার রাতে এই নামাজের পর দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে উল্লেখ রয়েছে।

    মুসলমানদের জন্য এটি একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল, যা জীবনে অন্তত একবার হলেও আদায় করার প্রতি জোর দিয়েছেন নবীজি।

  • জাকাত কি শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে আদায় করা যায়? ইসলাম কী বলে জানুন বিস্তারিত

    জাকাত কি শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে আদায় করা যায়? ইসলাম কী বলে জানুন বিস্তারিত

    এবিএনএ: ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত হলো জাকাত। এটি কেবল আর্থিক দান নয়; বরং মানুষের সম্পদকে পবিত্র করা এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। জাকাতের মাধ্যমে সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয়, মানুষের আত্মা পরিশুদ্ধ হয় এবং সম্পদে বরকত আসে।

    পবিত্র কোরআনে নামাজের মতো জাকাতের ওপরও ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্নভাবে কোরআনে প্রায় ৮২ বার জাকাতের নির্দেশ এসেছে। এর মধ্যে ‘জাকাত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে ৩০ বার, ‘ইনফাক’ ৪৩ বার এবং ‘সদকা’ শব্দটি এসেছে ৯ বার।

    ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের একটি অংশ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোরআনে নির্ধারিত আট শ্রেণির মানুষের মধ্যে দান করে তাদের মালিক বানিয়ে দেওয়াকে জাকাত বলা হয়।

    কোরআনের সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, জাকাত মূলত ফকির, মিসকিন, জাকাত সংগ্রহকারীরা, যাদের হৃদয় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস মুক্তির কাজে, ঋণগ্রস্তদের সহায়তায়, আল্লাহর পথে এবং পথিকদের জন্য নির্ধারিত।

    তবে আমাদের সমাজে জাকাত দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন চিত্র প্রায়ই দেখা যায়। অনেক জায়গায় জাকাতের নামে শাড়ি বা লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। অনেক দোকানেও বিশেষভাবে ‘জাকাতের শাড়ি-লুঙ্গি’ নামে কম মানের পোশাক বিক্রি হতে দেখা যায়।

    এ বিষয়ে ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত প্রদান করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে জাকাত আদায় হয়ে যেতে পারে। তবে এতে জাকাতের মূল উদ্দেশ্য পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয় না।

    ইসলামের মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষকে এমনভাবে সহায়তা করা যাতে তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। ইসলামের স্বর্ণযুগে জাকাত এমনভাবে বণ্টন করা হতো যে একজন দরিদ্র ব্যক্তি একবার সহায়তা পেলে পরবর্তী সময়ে নিজেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেন।

    কিন্তু কেবল নিম্নমানের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের মাধ্যমে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি লোক দেখানো বা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা হলে তা রিয়া হিসেবে গণ্য হয়, যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    তাই ইসলামী শিক্ষার আলোকে জাকাত এমনভাবে প্রদান করা উচিত, যাতে দরিদ্র মানুষের প্রকৃত কল্যাণ হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে আসে।

  • রমজানের প্রস্তুতি শুরু: জেনে নিন ঢাকায় প্রথম দিনের সেহরি ও ইফতারের নির্ধারিত সময়

    রমজানের প্রস্তুতি শুরু: জেনে নিন ঢাকায় প্রথম দিনের সেহরি ও ইফতারের নির্ধারিত সময়

    এবিএনএ: চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে আগামী ১৯ অথবা ২০ ফেব্রুয়ারি। সম্ভাব্য শুরু তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি ধরে রাজধানী ঢাকার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজানের জন্য ঢাকার প্রথম দিনের সেহরির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৫টা ১২ মিনিট। একই দিনে ইফতার করা হবে বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে

    ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিবের তত্ত্বাবধানে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতিদের সমন্বয়ে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    ভৌগোলিক অবস্থানের পার্থক্যের কারণে রাজধানীর সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ সর্বোচ্চ ৯ মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে সেহরি ও ইফতার করবেন বলেও জানানো হয়েছে।

    এ ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগ ও জেলার জন্য আলাদা সেহরি-ইফতারের সময়সূচি পর্যায়ক্রমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির দ্বীনি দাওয়াত বিভাগের কর্মকর্তারা।

    রমজানকে সামনে রেখে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সময়সূচিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।