Tag: ইসলাম

  • রমজান আসার আগে নবীজির যে ৫ প্রস্তুতি বদলে দিতে পারে আপনার পুরো ইবাদত

    রমজান আসার আগে নবীজির যে ৫ প্রস্তুতি বদলে দিতে পারে আপনার পুরো ইবাদত

    এবিএনএ: রমজান শুধু একটি মাস নয়—এটি ইবাদতের বসন্তকাল। আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ এনে দেয় এই পবিত্র মাস। আর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন প্রস্তুতি ছাড়া সফল হয় না, তেমনি রমজানের ইবাদতও পরিকল্পিত প্রস্তুতি দাবি করে। রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে যেমন রমজানের আগাম প্রস্তুতি নিতেন, তেমনি উম্মতকেও প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দিতেন।

    নবীজির (স.) জীবনাদর্শ থেকে জানা যায়, রমজানের জন্য তিনি কয়েকটি বিশেষ প্রস্তুতিমূলক আমল গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতেন—

    ১. রমজান প্রাপ্তির জন্য দোয়া করা
    রাসুলুল্লাহ (স.) আল্লাহর কাছে রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোর তাওফিক চাইতেন। তিনি রজব মাস শুরু হলে আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন যেন শাবান ও রজব বরকতময় হয় এবং রমজান লাভ করা যায়। পূর্ববর্তী আলেমরাও দীর্ঘ সময় ধরে রমজান পাওয়ার জন্য দোয়া করতেন।

    ২. রমজানের আগমন গণনায় রাখা
    শাবান মাসের দিন-তারিখ সম্পর্কে বিশেষ সচেতন থাকা নবীজির (স.) একটি সুন্নত। তিনি এই মাসের হিসাব অন্য মাসগুলোর তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাখতেন, যেন রমজান সঠিকভাবে শুরু করা যায়।

    ৩. শাবানে বেশি রোজা রাখা
    রমজানের আগে আত্মসংযমের অনুশীলন হিসেবে রাসুলুল্লাহ (স.) শাবান মাসে বেশি রোজা রাখতেন। তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, এই মাসে মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়—আর তিনি চাইতেন রোজা অবস্থায় তাঁর আমল পেশ হোক।

    ৪. মানুষকে রমজানের ফজিলত স্মরণ করানো
    রাসুল (স.) সাহাবিদের রমজানের মর্যাদা ও বরকতের কথা জানাতেন। তিনি বলতেন, এ মাসে এমন এক রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম—যা মুমিনদের ইবাদতে উৎসাহিত করত।

    ৫. রমজানের বিধান জানা ও আগমনে আনন্দ প্রকাশ
    রমজানের ফরজ, সুন্নত ও বিধান জানা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব। নবীজির (স.) নির্দেশনা অনুযায়ী আলেমরা এসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেন। একই সঙ্গে রমজানের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করাকে কোরআনেও উৎসাহিত করা হয়েছে।

    রাসুলুল্লাহ (স.) নিজেও রমজানের আগমনে আনন্দ প্রকাশ করে সাহাবিদের জানাতেন—রমজান তাদের দুয়ারে উপস্থিত। নবীজির (স.) এই সুন্নতগুলো অনুসরণ করলে রমজান হয়ে উঠবে আরও অর্থবহ ও সফল।

  • ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    ইতিহাসে বিরল এক বছর: একই বছরে ২ বার হজ ও ৩টি ঈদ উদযাপনের অপেক্ষায় মুসলিম বিশ্ব

    এবিএনএ: বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ব্যতিক্রমী ধর্মীয় বছর। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে একই গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বছরে মুসলিমরা দুইবার হজ পালন করবেন এবং উদযাপন করবেন তিনটি ঈদ। এমন ঘটনা ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই বছরে দুটি ঈদুল আজহা এবং একটি ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের খ্যাতিমান জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল-মিসনাদ জানিয়েছেন, এই ব্যতিক্রমী মিল ঘটছে হিজরি চন্দ্রবর্ষ ও সৌরভিত্তিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সময়গত পার্থক্যের কারণে।

    হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রতি বছর ইংরেজি বছরের তুলনায় প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৯ সালের ৬ জানুয়ারি হিজরি ১৪৬০ সনের ১০ জিলহজে প্রথম ঈদুল আজহা পালিত হবে, যা হজের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির দিন।

    এরপর হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রায় পূর্ণ একটি চক্র সম্পন্ন করে একই ইংরেজি বছরের ২৬ ডিসেম্বর আবারও ১০ জিলহজে পৌঁছাবে। ফলে ১৪৬১ হিজরির ঈদুল আজহা ওই দিন পালিত হবে এবং একই বছরে দ্বিতীয়বারের মতো হজ অনুষ্ঠিত হবে।

    এই দুই ঈদুল আজহার আগে দুটি পৃথক আরাফার দিনও পালিত হবে, যা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। আরাফার দিন হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়ে বিশেষ ইবাদতে অংশ নেন।

    এই দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে, অর্থাৎ ২০৩৯ সালের ১৯ অক্টোবর ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই বছর মুসলমানরা রমজান, রোজা, হজ, কোরবানি ও ঈদের আনন্দ—সব মিলিয়ে এক অনন্য ধর্মীয় চক্রের সাক্ষী হবেন।

    🔹 এক বছরে দুইবার রমজানও আসছে

    চন্দ্রবর্ষের এই অগ্রগতির প্রভাব শুধু হজ বা ঈদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে একই ইংরেজি বছরে মুসলমানরা দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করবেন—একবার জানুয়ারিতে এবং আবার ডিসেম্বর মাসে। এর আগে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।

    বিশেষজ্ঞরা জানান, হিজরি ক্যালেন্ডার চাঁদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর বছর হয় ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনের, আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার সূর্যভিত্তিক হওয়ায় এর দৈর্ঘ্য ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন। এই ব্যবধানের কারণেই নির্দিষ্ট সময় পরপর এমন ব্যতিক্রমী ধর্মীয় সমাপতন ঘটে।

    ধর্মীয় ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক—উভয় দিক থেকেই এই ঘটনাগুলো মুসলিম বিশ্বের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে করছেন গবেষকরা।

  • ঝিলবুনিয়া দরবার শরীফে শোকের ছায়া, মঙ্গলবার পীরসাহেব হুজুরের জানাজা

    ঝিলবুনিয়া দরবার শরীফে শোকের ছায়া, মঙ্গলবার পীরসাহেব হুজুরের জানাজা

    এবিএনএ,মোংলা: বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে ঝিলবুনিয়া দরবার শরীফ ও হাবিবুল্লাহ আবাদ ইসলামিয়া সিদ্দিকিয়া নেছারিয়া ছালেহিয়া আলিয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল সময়ের শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সাধক শরীয়ত ও তরিকতের নিরলস প্রচারক সুন্নাতে মুহাম্মাদির (সা:) মুজাচ্ছাম নমুনা রাহ্বারে মুসলিম মিল্লাত আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহসূূফী মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান খাঁনের নামাজে জানাজা আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। মরহুমের নিজ বাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত দরবার শরীফে সকাল ১১টায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

    এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর (রবিবার) পবিত্র মক্কায় ওমরাহ্ পালন শেষে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে মাহান আল্লাহ পাকের ডাকে সাড়া দিয়ে এ নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। এসময় তিনি তার ছয় ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী এবং লাখো ভক্ত-আশেকানদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে যান।

    পরে যুগশ্রেষ্ঠ মহান এ ওলী এবং মহান আল্লাহ পাকের এ সাধকের প্রথম নামাজে জানাজা ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) পবিত্র বায়তুল্লাহ শরীফে বাদ যোহর অনুষ্ঠিত হয়।

    দ্বিতীয় নামাজে জানাজা আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মরহুমের নিজ বাড়ীতে প্রতিষ্ঠিত দরবার শরীফে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শরীক হওয়ার জন্য ঝিলবুনিয়া দরবার শরীফের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    ভূমিকম্প কেবল দুর্যোগ নয়, আমাদের জন্য আল্লাহর সতর্কবার্তা — শায়খ আহমাদুল্লাহ

    এবিএনএ: ভূমিকম্পকে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে নয়, বরং মানবজাতির জন্য মহামহিম আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তাঁর মতে, যখন মানুষ আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে গিয়ে পাপাচার, অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ে নিমজ্জিত হয়, তখন আল্লাহ তাঁদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষার মুখোমুখি করেন। ভূমিকম্প তারই অন্যতম একটি নিদর্শন।

    তিনি বলেন, কোরআনে অতীতের বহু জাতির ধ্বংসের কথা উল্লেখ রয়েছে, যারা নবীদের অস্বীকার করেছে, দ্বীনের বিরোধিতা করেছে এবং সীমালঙ্ঘন করেছে। সালেহ (আ.)-এর উম্মত যখন আল্লাহর অলৌকিক নিদর্শন উটনিকে হত্যা করেছিল, তখন ভয়াবহ ভূমিকম্পে তারা ধ্বংস হয়ে যায়। একইভাবে লুত (আ.)-এর উম্মত সমকামিতার মতো নোংরা পাপাচারে লিপ্ত থাকায় আল্লাহ তাদের জনপদ উল্টে দেন এবং পাথর বর্ষণ করেন।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে পাপাচারের কারণে অতীতের জাতির ওপর আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়েছিল, সেই একই ধরনের আচরণ আজ আমাদের সমাজে প্রকাশ্যে ঘটছে। সমকামিতার মতো জঘন্য অপরাধ শুধুমাত্র ধর্মীয় বিধানের বিরোধী নয়, বরং আইনের দৃষ্টিতেও শাস্তিযোগ্য। অথচ আজ সেটিকে “অধিকার” বলে বৈধ করার দাবি উঠছে।

    শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করিয়ে দেন, সমাজে যখন নৈতিক অবক্ষয়, অশ্লীলতা, দুর্নীতি ও অন্যায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে গণহারে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে, সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি ডেকে আনে এমন সব পাপাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।”

    ভূমিকম্প মোকাবিলায় দুটি প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন তিনি—আধ্যাত্মিক ও জাগতিক প্রস্তুতি। আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আল্লাহর কাছে তওবা করা, পাপ থেকে বিরত থাকা, ইমান মজবুত করা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টায় নিয়োজিত থাকা।

    অন্যদিকে, অতি জনঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশ ভয়াবহ ভূমিকম্পঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকায় যদি ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তাহলে এক লাখেরও বেশি ভবন ধসে পড়তে পারে। অথচ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা এখনো খুবই সীমিত।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র যদি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, শোভাযাত্রা ও ক্ষমতার প্রদর্শনীর পেছনে ব্যয় করা অর্থের সামান্য অংশও ভূমিকম্প প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করত, তাহলে সেটিই হতো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।”

    শেষে তিনি সবাইকে সতর্ক হয়ে ইমানি জীবনযাপন, তওবা ও সামাজিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “কোনো পরিকল্পনা বা প্রযুক্তি আমাদের রক্ষা করতে পারবে না, যদি আল্লাহর রহমত না থাকে। ভূমিকম্প আমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা।”