চট্টগ্রাম বন্দর অচল: আমদানি-রপ্তানি থমকে, জাতীয় অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধাক্কার আশঙ্কা
জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, সংকট নিরসনে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইল শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলো


এবিএনএ: চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ও জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে জাতীয় অর্থনীতির জন্য নজিরবিহীন ও ভয়াবহ আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নেতারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একদিন বন্দর অচল থাকলেই অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের জন্য অপূরণীয় হয়ে উঠতে পারে।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রস্তুত পণ্য বন্দরে আটকে থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সংকট দীর্ঘ হলে বড় অর্ডার বাতিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্দর অচল থাকায় কনটেইনার জট বেড়ে ডেমারেজ চার্জ ও স্টোরেজ খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। সামনে পবিত্র রমজান মাস থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এনসিটি ইজারা নিয়ে জটিলতা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে, কিন্তু এর জন্য বন্দর অচল রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় জাহাজ চলাচল চালু করার অনুরোধ জানান।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনায় বসে দ্রুত একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছাবে। অন্যথায় এই সংকট দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




