Tag: জাতীয় অর্থনীতি

  • ১৮০ দিনে বদলে যাবে মোংলা বন্দর! নৌ পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে নতুন আশার আলো

    ১৮০ দিনে বদলে যাবে মোংলা বন্দর! নৌ পরিবহনমন্ত্রীর ঘোষণা ঘিরে নতুন আশার আলো

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ১৮০ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার শনিবার মোংলা বন্দর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় কিছু কাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

    মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মোংলা বন্দর খুব অল্প সময়েই কার্যকারিতা ও সক্ষমতায় চট্টগ্রাম বন্দর–এর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের মধ্যে কোনো বৈষম্য রাখা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। মোংলা বন্দরের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সঙ্গে মোংলা বন্দর সংশ্লিষ্ট যেসব উন্নয়ন চুক্তি স্থগিত বা বাতিল হয়েছিল, সেগুলো পুনর্বিবেচনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চুক্তিগুলো নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হবে; তবে যেসব চুক্তিতে দেশের ক্ষতি হয়েছে, সেগুলো পুনরায় করার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচিত হবে।

    এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ–এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • চট্টগ্রাম বন্দর অচল: আমদানি-রপ্তানি থমকে, জাতীয় অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধাক্কার আশঙ্কা

    চট্টগ্রাম বন্দর অচল: আমদানি-রপ্তানি থমকে, জাতীয় অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধাক্কার আশঙ্কা

    এবিএনএ: চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ও জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিকে জাতীয় অর্থনীতির জন্য নজিরবিহীন ও ভয়াবহ আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর নেতারা।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এই প্রথম জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একদিন বন্দর অচল থাকলেই অর্থনীতিতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের জন্য অপূরণীয় হয়ে উঠতে পারে।

    ব্যবসায়ী নেতারা জানান, তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পের কাঁচামাল সময়মতো কারখানায় পৌঁছাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রস্তুত পণ্য বন্দরে আটকে থাকায় বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সংকট দীর্ঘ হলে বড় অর্ডার বাতিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বন্দর অচল থাকায় কনটেইনার জট বেড়ে ডেমারেজ চার্জ ও স্টোরেজ খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। সামনে পবিত্র রমজান মাস থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হবে।

    ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, এনসিটি ইজারা নিয়ে জটিলতা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে, কিন্তু এর জন্য বন্দর অচল রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় জাহাজ চলাচল চালু করার অনুরোধ জানান।

    নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনায় বসে দ্রুত একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছাবে। অন্যথায় এই সংকট দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মোংলা সমুদ্র বন্দরে নতুন দিগন্ত: ৯ মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

    মোংলা সমুদ্র বন্দরে নতুন দিগন্ত: ৯ মেগা প্রকল্পে বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

    মাসুদ রানা,মোংলা,এবিএনএ: মোংলা সমুদ্র বন্দরের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষে বিভিন্ন উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছে বর্তমান সরকার। বন্দরকে আধুনিক ও বিশ্বমানের নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রে রুপান্তিত করতে গ্রহন করা হয়েছে ৯টি বড় মেঘা প্রকল্প।

    তা থেকে ৪টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে, এরই মধ্যে নতুন করে ২টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আরো ৩টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মোংলা বন্দরের বহুমুখী টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি হিসেবে কাজে আসবে। ব্যাবসাযীদের হবে লাভজনক ও ব্যাবসা বান্ধব প্রতিষ্ঠান, রাজস্ব আয় দিয়ে জাতীয় অর্তনীতিতেও আঞ্চলিক কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে উঠবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানা যায়, বঙ্গোপসাগরের উত্তর উপকূলে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলা, এ বন্দরকে আধুনিকায়ন ও কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৫ হাজার ৬০৬ কোটি ৪১ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যায় মোংলা বন্দরের সুবিধাদির সম্প্রসারণ ও উন্নয় এবং বন্দরের চ্যানেল সংরক্ষন ড্রেজিং নামের ২টি মেঘা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্প দুটি শেষ হলে পন্য খালা-বোঝাই ও সাড়ে ৯ থেকে ১০ মিটারে জাহাজ বন্দর চ্যানেল দিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারবে অনায়াসে। ফলে এক কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন পন্য আমদানী-রফতানী ও চার লক্ষ টিইউজ কওেন্টইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

    এছাড়া পূর্বের গ্রহন করা ৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যায় মোংলা বন্দরের সহায়ক জলযান সংগ্রহ, পশুর চ্যানেলে ইনারবার ড্রেজিং, আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট ও ২টি অসম্পুর্ন জেটি নির্মান নামে ৪টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। বন্দরকে আরো গতিশীল করতে নতুন করে ৩টি বড় প্রকল্প একনেকে অনুমমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে “পশুর চ্যানেল শাসন ও সম্প্রসারণের জন্য সমীক্ষা”, “ট্রেলিং সাকশন হপার ও কাটার সাকশন ৩টি ড্রেজার ক্রয়” ও উন্নয়ন সেবা সহায়ক ২টি মুরিং বোট সংগ্রহ করা” প্রকল্প।

    প্রকল্পগুলো শেষ হলে চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষা, পন্য বোঝাই জাহাজ দ্রæত ভিরানো ও ত্যাগ করা, বন্দরের কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, ষ্টিভিডরস ও শ্রেমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশী অন্যা বন্দরগুলো সাথে প্রতিযোগীতা মুলক বন্দর, আধুনিক ও বিশ্বমানের নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্রে রুপান্তিত হবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য অর্থ ও পরিচালক প্রশাসন-(উপ সচিব) কাজী আবেদ হোসেন বলেণ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও তেল নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পটি চলতি বছরের জুনে সম্পন্ন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জাহাজ ও আশপাশের শিল্পকারখানাগুলোর বর্জ্য পরিবেশবান্ধব উপায়ে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। এটি সমুদ্রদূষণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ‘মারপল কনভেনশন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা সুন্দরবন ও পশুর চ্যানেলকে দূষণ থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। বাকি চারটি প্রকল্পের নির্মাণকাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। চলমান এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে-জরুরি সেবা ও কার্যকর পরিচালনার জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ, পশুর চ্যানেলের ‘ইনার বার’ এলাকায় ৮.৫ মিটার গভীরতা অর্জনের লক্ষ্যে ড্রেজিং করা, যাতে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজগুলো ওই চ্যানেল দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারে। তিনি আরও বলেন, চলমান প্রকল্পগুলো ববস্তবায়নের পর জেটিতে অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০টি জাহাজের পন্য হ্যান্ডিলিং করা সম্ভব হবে। ফলে জাহাজের পন্য খালাস-বোঝাই সক্ষমতা দ্বিগুণ হবে।

    বন্দর সুত্রে জানায়, বর্তমানে মোংলা বন্দরে জাহাজজট নেই। ফলে বন্দর ব্যবহারকারীরা ভালো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। গাড়ি আমদানিকারকদের জন্য বিশেষ সুবিধা, সাতটি কনটেইনার ইয়ার্ড। এছাড়া ৩৮টি সহায়ক জলযান (যেমন-টাগবোট,পাইলট বোট, সার্ভে বোট, ড্রেজার) রয়েছে। আন্তর্জাতিক ‘শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসিলিটি সিকিউরিটি (আইএসপিএস)’কোড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল এবং সহজলভ্য সড়ক, রেল ও নৌ-পথে পণ্য পরিবহনের ব্যাপক সুযোগও রয়েছে মোংলা বন্দরে। বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক সক্ষমতা হলো ১,৫০০টি জাহাজ হ্যান্ডলিং, এক কোটি ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন কার্গো, ১ লাখ টিইইউ কনটেইনার এবং ২০ হাজার গাড়ি হ্যান্ডলিং করার সক্ষমতা রয়েছে মোংলা বন্দরে।

    এছাড়া জেটিতে ৮.৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানোর সক্ষমতা, ১৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলে পানির ওপরে ভাসমান নৌযান সংকেত যন্ত্র ও টাওয়ার দিয়ে রাত-দিন নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা, বিদেশি জাহাজের জন্য ৪৯টি নির্ধারিত বার্থিং পয়েন্ট, ১৩৪টি আধুনিক কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং যন্ত্র, নিরাপদ সংরক্ষণ ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে, যার আওতায় অনুমতি, বিল, ইনডেন্টিং, যন্ত্রপাতি বুকিং ও পেমেন্ট একই জায়গায় করতে পারছে ব্যাবসাযীরা।

    মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে মোংলা বন্দরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর দিয়ে নেপাল, ভুটান, চীন ও ভারতের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোর আগ্রহের কারণে বন্দরের ওপর চাপ বাড়ছে। এজন্য এর সসম্প্রসারণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকারের গ্রহন করা প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে মোংলা বন্দর হবে বিশ্বের বানিজ্যিক বাজারে পরিবেশ বান্ধব ও অন্য বন্দরের সাথে প্রতিযোগীতা মুলক সমুদ্র বন্দন।

    নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে একশ ১৪ কোটি ৮ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যায় ‘মোংলা বন্দরে আধুনিক বর্জ্য ও তেল নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন, যা উদ্ভাদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

     

  • প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

    এবিএনএ: দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, উৎপাদন থেকে বিপণন—সব পর্যায়েই প্রাণিসম্পদের নীরব সাফল্য জাতীয় উন্নয়নের একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, প্রাণিজ খাদ্যের অপ্রতুলতা এবং প্রাণী ও মানুষের মধ্যে সংক্রমণযোগ্য রোগ নিয়ন্ত্রণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে “জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫” -এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বল্প পুঁজিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, বাণিজ্যিক খামার গড়ে ওঠা ও রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রাণিসম্পদ খাত এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। ডিম, দুধ ও মাংস উৎপাদনের বৃদ্ধির ফলে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে দেশ এখন অনেকটাই স্বনির্ভর।

    মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার প্রাণিসম্পদ খাতের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দেশীয় জাতের পশু সংরক্ষণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দুধ ও মাংসের দাম বাড়লে নানা আলোচনা হয়, কিন্তু যেসব প্রান্তিক খামারিরা এই পণ্য উৎপাদনে নিরলস পরিশ্রম করেন, তাদের গল্প খুব কমই সামনে আসে। বিদেশ থেকে আমদানি না করে স্থানীয় খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করলে অর্থনীতি লাভবান হবে।

    তিনি আরও বলেন, খামারের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা জরুরি, যেন পশুর খাদ্য মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি না তৈরি করে। প্রাণীদের জন্য হতে হবে দায়িত্বশীল ও মানবিক।

    পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ৮৫ হাজারেরও বেশি বাণিজ্যিক খামার রয়েছে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯১ হাজার। প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা জাতীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “প্রাণীর সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। দেশীয় জাত সুরক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে।”

    তিনি জানান, এ বছর জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো বৃহৎ আকারে প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য: “দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি।”

    তিনি আরও বলেন, “দেশীয় জাতের গবাদিপশু স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খায়, রোগপ্রবণতা কম এবং উৎপাদন খরচও কম। জলবায়ু পরিবর্তনের সময়ে এ জাতগুলোর টিকে থাকার সম্ভাবনা বেশি।”

    পবিত্র রমজানে নিম্নআয়ের জনগণের কাছে স্বল্পমূল্যে প্রাণিজ আমিষ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন ফরিদা আখতার।