Tag: রাশিয়া

  • বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে পারমাণবিক উত্তেজনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—আসলে কোন দেশের হাতে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র?

    আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীতে মোট নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল। এর মধ্যে পারমাণবিক শক্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে রাশিয়া।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হাতে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯টি ওয়ারহেড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০। এরপর চীন (৬০০), ফ্রান্স (২৯০), যুক্তরাজ্য (২২৫), ভারত (১৮০), পাকিস্তান (১৭০), ইসরায়েল (৯০) ও উত্তর কোরিয়া (৫০)।

    এসআইপিআরআই জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিবছর দেশটি গড়ে ১০০টির বেশি নতুন ওয়ারহেড তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন অনুমান করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের হাতে থাকবে অন্তত ১ হাজার পারমাণবিক অস্ত্র।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পুরোনো কিছু ওয়ারহেড সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেললেও, সেগুলো এখনো পুনরায় সচল করা সম্ভব বলে জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’।

    গত সপ্তাহে রাশিয়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এমনকি পানির নিচে চলা এক ড্রোনও পরীক্ষা করেছে দেশটি, যা উপকূলীয় শহরে তেজস্ক্রিয় সুনামি তৈরি করতে পারে। পুতিনের দাবি, এই ড্রোন শনাক্ত বা প্রতিরোধ করা কার্যত অসম্ভব।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আমেরিকার পরীক্ষাগুলো পারমাণবিক বিস্ফোরণ নয়, বরং অস্ত্রের প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা যাচাইয়ের অংশ। তিনি বলেন, “এগুলোকে আমরা বলি ‘নন-ক্রিটিক্যাল এক্সপ্লোশন’, অর্থাৎ যেখানে প্রকৃত পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ঘটানো হয় না।”

    এই মুহূর্তে বিশ্ব যেন আবারও ঠান্ডা যুদ্ধের ছায়ায় দাঁড়িয়ে—যেখানে পারমাণবিক শক্তির প্রতিযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।

  • ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার গুজব উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, জানালেন নেই কোনো পরিকল্পনা

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবর ছড়িয়ে পড়লেও, ট্রাম্প সেই গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।

    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানান, মাদক পাচার রোধে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের কৌশলগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তার ভাষায়, “আমরা দেশের মাদক সন্ত্রাস বন্ধ করতে মার্কিন শক্তির প্রতিটি উপাদান ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।”

    গত সপ্তাহে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “যারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক নিয়ে আসে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পর ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

    তবে ট্রাম্প পরে স্পষ্ট করেন, “না, আমরা কোনো সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবছি না,”— এমন উত্তরই দেন তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে, যখন তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানে যাত্রা করছিলেন।

    ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করে আসছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য এটি বড় হুমকি।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লেখেন, “মিয়ামি হেরাল্ডে প্রকাশিত তথাকথিত সূত্রভিত্তিক সংবাদ সম্পূর্ণ ভুয়া।”

    এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা জানিয়েছেন, মাদুরোর নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়া দৃঢ়ভাবে পাশে থাকবে। তিনি বলেন, “আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া সব ধরনের সহযোগিতায় প্রস্তুত।”

  • ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ:  ৩৩ বছর পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরছে ওয়াশিংটন।

    বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প এই নির্দেশ জারি করেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অন্য দেশগুলো যখন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও সমান ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, “রাশিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে এবং চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাবে।” তবে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দেননি। এতে স্পষ্ট নয় যে, তিনি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষার কথা বলেছেন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লাইট টেস্টের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৪৫ সালে। সেই থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশটি মোট ১,০৩২টি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। একই বছর তারা সর্বশেষ পরীক্ষা চালায় এবং পরে সিটিবিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কখনও তা অনুমোদন করেনি।

    বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, চীনের পারমাণবিক ভান্ডার গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে চীনের হাতে প্রায় ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০টির কাছাকাছি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

    বিশ্বে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্দোতে প্রথম ২০ কিলোটন শক্তির বোমা পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। একই বছরের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতি ঘটে।

    এবার ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই পথেই হাঁটছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • পশ্চিমা শক্তিকে চাপে রাখতে চীন-রাশিয়ার নতুন জোট: ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে গভীর হচ্ছে কৌশলগত বন্ধুত্ব

    পশ্চিমা শক্তিকে চাপে রাখতে চীন-রাশিয়ার নতুন জোট: ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে গভীর হচ্ছে কৌশলগত বন্ধুত্ব

    এবিএনএ: ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্য নতুন মোড় নিয়েছে। পশ্চিমা জোটকে চাপে রাখতে এবার আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে চীন ও রাশিয়া। সামরিক, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় দুই দেশের বন্ধুত্ব এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীন রাশিয়ার পরাজয় চায় না; বরং এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করে পশ্চিমা শক্তিকে দুর্বল করতেই দুই পরাশক্তি একাট্টা হচ্ছে।

    চীন নানাভাবে রাশিয়াকে সহায়তা দিচ্ছে—স্যাটেলাইট ডেটা সরবরাহ থেকে শুরু করে যুদ্ধাস্ত্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা পর্যন্ত। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, বেইজিং মস্কোর সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ চেইনকে সচল রেখেছে এবং ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে।

    ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, রাশিয়া ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সময় চীনের ইয়াওগান-৩৩ সিরিজের অন্তত তিনটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট পশ্চিম ইউক্রেনের আকাশে ঘুরতে দেখা গেছে। এটি দুই দেশের কৌশলগত সহযোগিতার সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে দাবি করা হচ্ছে।

    রাশিয়ার অস্ত্র কারখানায় চীনা প্রযুক্তি

    রাশিয়ার প্রায় ২০টি সামরিক কারখানায় চীনের তৈরি মেশিন টুলস, বিশেষ রাসায়নিক, বারুদ ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার ব্যবহৃত ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রায় ৮০ শতাংশই এসেছে চীনা কারখানা থেকে। চীনের সহযোগিতায় রাশিয়া এখন নতুন প্রজন্মের কামিকাজে ড্রোন তৈরি করছে, যা ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলার কার্যকারিতা বাড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক নির্ভরতা বাড়ছে

    চীন-রাশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কও নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪৫ বিলিয়ন ডলারে—যা ২০২০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। রাশিয়ার তেল ও গ্যাস রপ্তানিতে চীনের অংশীদারিত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এখন রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ লেনদেন হচ্ছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে, যা ২০২২ সালে ছিল মাত্র ২ শতাংশ।

    রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা

    ২০১২ সাল থেকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অন্তত ৪০ বারের বেশি বৈঠক করেছেন। নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। সম্প্রতি মস্কো সফরে পুতিন-শি বৈঠক দুই দেশের সীমাহীন অংশীদারত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা

    বিশ্লেষক বিল কোল বলেন, “চীন-রাশিয়া কেবল প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে না, বরং আধুনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করছে।” তাঁর মতে, পশ্চিমা দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই কৌশলগত জোটের মোকাবিলা না করলে, ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শক্তিগুলো আরও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

  • পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

    চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে এই তিন নেতা একসাথে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে চীন তাদের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে—যার মধ্যে ছিল লেজার প্রযুক্তি, যা প্রতিপক্ষের বিদ্যুৎ লাইন বিকল করতে সক্ষম। এছাড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত সাবমেরিন ও মানববিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়।

    কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করে শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এখনো শান্তি নাকি যুদ্ধের বিকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, “চীন অপ্রতিরোধ্য।” এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে শি-র পাশে ছিলেন পুতিন ও কিম।

    ট্রাম্প পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি শি জিনপিংকে উদ্দেশ করে লেখেন, “আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, দয়া করে পুতিন ও কিমকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।” যদিও বার্তার শেষে তিনি চীনের জনগণের জন্য শুভকামনা জানান।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, “এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। শি, পুতিন ও কিম—কোনও নেতার মধ্যেই এমন ভাবনা ছিল না।”

  • ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

    এবিএনএ: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুরস্ক প্রদেশের একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং উস্ত-লুগার জ্বালানি রপ্তানি কেন্দ্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে রোববার জানিয়েছে দেশটির কর্মকর্তারা।

    কুরস্ক প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির গণমাধ্যম শাখা জানায়, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হলেও কেন্দ্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সফরমার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

    রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন গতকাল রাশিয়ার ১৩টি প্রদেশ লক্ষ্য করে শতাধিক বিস্ফোরকবাহী কামিকাজি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে ৯৫টি ড্রোন রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়। কুরস্ক অঞ্চলে ১০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

    গত সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। চলতি আগস্টের শুরুর দিকে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সরকারি তেল শোধন কোম্পানি সিজরানের একটি কারখানাতেও হামলা চালিয়েছিল।

  • মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের আহ্বান

    মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের আহ্বান

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রশাসনের চাপ ও অতিরিক্ত শুল্কের হুমকির মাঝেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে নতুন করে জোর দিচ্ছে ভারত। মস্কো সফরের প্রথম দিনেই দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার আহ্বান জানান।

    রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মন্তুরেভের সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের বাজারে রাশিয়ার সংস্থাগুলোর জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেগুলোকে আরও কাজে লাগানো উচিত। তিনি জানান, গত চার বছরে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য পাঁচগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে ১ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারে। তবে বাণিজ্য ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

    জয়শঙ্করের ভাষায়, “বিশ্ব রাজনীতির জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের নেতৃত্ব কৌশলগত অংশীদারিত্ব অটুট রেখেছে এবং সেটি আরও প্রসারিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মন্তুরেভ জানান, গত পাঁচ বছরে দুই দেশের বাণিজ্য ৭০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং বর্তমানে ভারত রাশিয়ার শীর্ষ তিন বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে রয়েছে।

    ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও নগরায়ণ প্রক্রিয়া বিদেশি ব্যবসার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এসব উদ্যোগ রাশিয়ার কোম্পানির জন্য ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি করছে।

    তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ব্যবসায়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং সরকার ও ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।”

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন এবং ২৭ আগস্ট থেকে আরও ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। এতে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। এই প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য জোরদার করার বিকল্প পথ খুঁজছে ভারত।

  • সাগরের তলদেশে আধিপত্যের লড়াই: কে এগিয়ে—যুক্তরাষ্ট্র না রাশিয়া?

    সাগরের তলদেশে আধিপত্যের লড়াই: কে এগিয়ে—যুক্তরাষ্ট্র না রাশিয়া?

    এবিএনএ:  পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত সাবমেরিন নিয়ে আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী পুরনো কৌশলকে আবার ফিরিয়ে আনছে দুই পরাশক্তি। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের মন্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন কৌশলগত অবস্থানে মোতায়েন করেছে।

    এই পদক্ষেপকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। কারণ, মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ‘ডেড হ্যান্ড’ নামের একটি পারমাণবিক প্রতিশোধমূলক কৌশলের ইঙ্গিত দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার অর্থনীতিকে “মৃত অর্থনীতি” বলে আখ্যা দেন এবং পরমাণুবাহী সাবমেরিন পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন শক্তি:

    যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও-ক্লাস সাবমেরিন, যাদের ‘বুমার’ বলা হয়, পারমাণবিক হামলার নির্ভুলতা ও দীর্ঘস্থায়ীতার জন্য বিখ্যাত। এদের প্রত্যেকটি ২০টি ট্রাইডেন্ট ডি-৫ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এবং প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত বড় ধরনের মেরামত ছাড়াই টহলে সক্ষম।

    তাছাড়া, ভার্জিনিয়া-ক্লাস, সিওউল্ফ-ক্লাস ও লস অ্যাঞ্জেলেস-ক্লাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের ফাস্ট অ্যাটাক সাবমেরিনগুলোও আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এদের মধ্যে ভার্জিনিয়া-ক্লাস হলো নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক প্ল্যাটফর্ম, যা টর্পেডো, টমাহক ও হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ করে।

    রাশিয়ার সাবমেরিন বাহিনী:

    রাশিয়ার আছে প্রায় ৬৪টি সাবমেরিন, যার মধ্যে ১৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বোরেই-ক্লাস সবচেয়ে আধুনিক, যা ১৬টি বুলাভা মিসাইল ও ৬টি টর্পেডো লঞ্চার বহনে সক্ষম।

    ডেলটা ৪-ক্লাস সাবমেরিন এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং এসবই সমুদ্রের নিচে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরক্ষার মেরুদণ্ড। আক্রমণাত্মক সাবমেরিনগুলোর মধ্যে ইয়াসেন-ক্লাস সবচেয়ে আধুনিক, যা ছোট আকারে হলেও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।

    বিশ্ব রাজনীতিতে উদ্বেগ:

    সাবমেরিন মোতায়েন এখন আর শুধু সামরিক মহড়ার বিষয় নয়—বরং এটি বিশ্বকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রতিযোগিতার নামে ভবিষ্যৎ পৃথিবী এক অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সামরিক আধিপত্যের এই লড়াই এখন সমুদ্রের গাঢ় অন্ধকারেও বিস্তৃত।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যতই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করুক, ততই বাড়ছে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি। দুই পরাশক্তির এই অদৃশ্য যুদ্ধে গোটা বিশ্বকেই প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে এক অনিশ্চিত পরিণতির জন্য।

  • ট্রাম্পের ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ অভিযোগে ওবামার জবাব: ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক দাবি’

    ট্রাম্পের ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ অভিযোগে ওবামার জবাব: ‘হাস্যকর ও বিপজ্জনক দাবি’

    এবিএনএ:  সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ অভিযোগের পর এবার মুখ খুললেন বারাক ওবামা। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ওবামা একটি পরিকল্পিত বিদ্রোহ চালিয়ে তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর, বিপজ্জনক এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ওবামার দপ্তর।

    ওবামার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাধারণত হোয়াইট হাউস থেকে আসা অযৌক্তিক দাবি ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতি আমরা প্রতিক্রিয়া দিই না, কারণ প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মর্যাদা বজায় রাখতে চাই। তবে ট্রাম্পের এই অভিযোগ এতটাই ভয়াবহ ও বানোয়াট যে, এটি মোকাবিলা করাই যুক্তিযুক্ত।”

    ওবামার দপ্তর জানায়, ট্রাম্প যে তথাকথিত প্রমাণের কথা বলেছেন, তা মূলত ১১ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন, যা সম্প্রতি ‘ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে পরিচিত তুলসী গ্যাবার্ড প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ওবামার প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন এবং বিচার বিভাগের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

    তবে ওবামার কার্যালয় সেই প্রতিবেদনকে ‘একপেশে ও ভুল ব্যাখ্যায় পরিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেয় এবং জানায়—এটি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে না। বরং ২০২০ সালে মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির প্রকাশিত এক দ্বিদলীয় রিপোর্টে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের প্রমাণ আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল বলে মনে করিয়ে দেয় ওবামার দপ্তর।

    ট্রাম্প এই অভিযোগ উত্থাপন করেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে এক বৈঠকে। সেখানেই তিনি ওবামাকে বিদ্রোহের ‘নেতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “বারাক হুসেইন ওবামা নেতৃত্বে ছিলেন। এটা ছিল এক রাষ্ট্রদ্রোহী প্রচেষ্টা। নির্বাচন চুরি করতে চেয়েছিল তারা।”

    তবে এই অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফাল্টন আর্মস্ট্রং এই প্রতিবেদনকে ‘পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক নাটক’ বলে বর্ণনা করে বলেন, “এটি বিভ্রান্তিকর, অপেশাদার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি।”

    ওবামার পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ঘটনা বিরল। বিশ্লেষকদের মতে, এমন কঠোর জবাব মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে দুই পক্ষের কৌশলিক লড়াই এখন আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলো রাশিয়া। মস্কোর কড়া বক্তব্য—এই সংকটে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ শুধু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দেবে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-কে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে সেনা বা কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে সেটি একটি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সূচনা করতে পারে।”

    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুটি বিপরীত শিবিরে

    ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় দুটি পরাশক্তি এখন স্পষ্টভাবে দুই বিপরীত অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন, অন্যদিকে রাশিয়া তেহরানকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রক্ষা করছে। এ বছরের শুরুতে পুতিন ও ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সই হয় একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি, যাতে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের শঙ্কা: বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি বিশ্ব কূটনীতির ভারসাম্যও নাড়িয়ে দিতে পারে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে থাকলেও এই ইস্যু তা আবার উত্তপ্ত করে তুলছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনঃনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ যে কত বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, সেটাই যেন রাশিয়া বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।