Tag: চীন

  • চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    এবিএনএ: চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও তার সফরসঙ্গীদের এক অস্বাভাবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেইজিং ত্যাগের আগে চীনের দেওয়া সব উপহার, স্মারক এবং ব্যবহৃত অস্থায়ী ফোন ফেলে রেখে তবেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের সময় ব্যবহৃত তথাকথিত ‘বার্নার ফোন’ বা অস্থায়ী মোবাইল ডিভাইসও ধ্বংস করে ফেলা হয়। এমনকি চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া ব্যাজ, পরিচয়পত্র, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র ও বিভিন্ন স্মারকও সঙ্গে নেয়া হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা ও সাইবার নজরদারির আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে সফরের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীন সফরে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রেই রেখে যান। সম্ভাব্য হ্যাকিং বা তথ্য চুরির ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

    সফরের সময় চীনা কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য অস্থায়ী ফোন সরবরাহ করেছিল, যাতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ডিভাইসগুলোও ধ্বংস করা হয়।

    বেইজিং বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিভিন্ন সামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত এমন নিরাপত্তা প্রটোকল দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এবার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতির আশা করলেও বাস্তবে সীমিত কয়েকটি সমঝোতার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি হয়নি। বিশেষ করে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনা সংক্রান্ত আলোচনা ছাড়া বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে United StatesChina-এর সম্পর্ক বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সফর এবং সফর শেষে নেয়া নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

  • শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফরের প্রথম পূর্ণ দিবসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সারাদিন ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বৈঠককে শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং এটিকে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ানকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে তাদের স্বাগত জানাতে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন।

    রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন ও চীনা জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বহু বছরের বন্ধন ও সহযোগিতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, উন্নয়ন এবং সফলতার মতো অনেক অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। তার ভাষায়, “দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্ব নতুন এক রূপ পেতে পারে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    উল্লেখ্য, গত নয় বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে এবং এতে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

    চীনের সঙ্গে সমঝোতার দাবি

    পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    তিনি আরও বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথই বেশি কার্যকর। তবে প্রয়োজনে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ভিন্ন তথ্য নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। আবার অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শনাক্তে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    চীনের অবস্থান

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

  • ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, বাইরের শক্তির মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা বদলানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

    রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বার্ষিক সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ধরনের ‘কালার রেভল্যুশন’ বা পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারবে না। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

    ওয়াং ই বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধের কোনো ইতিবাচক ফল নেই এবং শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী সমাধানও সম্ভব নয়। বরং সামরিক সংঘাত মানুষের মধ্যে ঘৃণা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দেয়।

    তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার এই অঞ্চলের মানুষেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শক্তিশালী হওয়া মানেই যে সব সময় সঠিক হওয়া—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকে আবার ‘জঙ্গলের আইনের’ দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে শক্তিই সবকিছু নির্ধারণ করে। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এতটাই দৃঢ় যে বাহ্যিক হামলার মাধ্যমে তা দ্রুত ভেঙে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

    সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই হত্যার ঘটনায়ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন ওয়াং ই।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি সব পক্ষকে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    ইরানের হাতে আসছে চীনের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা চিত্রে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে ইরানচীন-এর মধ্যে উন্নত অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনাবেচার সম্ভাব্য সমঝোতা। একাধিক কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরান চীনের তৈরি সিএম–৩০২ ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। এমন সময়েই এই আলোচনা জোরালো হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নৌবাহিনীর উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সিএম–৩০২ কম উচ্চতায় ও অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম, যা জাহাজের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে। এই অস্ত্র যুক্ত হলে ইরানের নৌ-আক্রমণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং উপসাগরীয় জলপথে টহলরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে।

    সূত্রগুলো জানায়, গত জুনে ইসরাইল–ইরান সীমিত উত্তেজনার পর থেকেই আলোচনা নতুন গতি পায়। এই প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেইজিং সফর করেছেন। তবে কতটি ক্ষেপণাস্ত্র কেনা হবে, দাম কত এবং সরবরাহের সময়সূচি—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি।

    এদিকে হোয়াইট হাউস ও বেইজিং—উভয় পক্ষের কাছেই মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি না হলে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    চুক্তিটি কার্যকর হলে এটি হবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন-এর উন্নত জাহাজ-বিধ্বংসী প্রযুক্তি ইরানে সরবরাহের বড় উদাহরণ। জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কের মধ্যেই এমন লেনদেন ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব-বিস্তারের টানাপোড়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

    এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে। বিমানবাহী রণতরী USS Abraham LincolnUSS Gerald R. Ford-সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখতে বেইজিং তেহরানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী।

  • গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ উড়িয়ে দিল রাশিয়া—চীনের নাম জড়ানোয় উত্তপ্ত কূটনীতি

    গোপন পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ উড়িয়ে দিল রাশিয়া—চীনের নাম জড়ানোয় উত্তপ্ত কূটনীতি

    এবিএনএ: গোপনে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগকে স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিন জানিয়েছে, রাশিয়া কিংবা চীন—কেউই গোপন কোনো পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র-এর পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে মস্কো।

    বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেন, নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করে রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এ ধরনের কোনো গোপন পরীক্ষা হয়নি। তিনি আরও জানান, এই অভিযোগ আগেই চীন প্রত্যাখ্যান করেছে।

    এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন দাবি করে, ২০২০ সালে চীন গোপনে একটি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নতুন ও আরও বিস্তৃত চুক্তির প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র। সেই চুক্তিতে রাশিয়ার পাশাপাশি চীনকেও যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

    নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংকে আলোচনায় বসতে চাপ দিচ্ছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, এটি নিউ স্টার্ট চুক্তি-এর বিকল্প কাঠামো হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে চালু থাকা এই অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ চলতি মাসের শুরুতে শেষ হওয়ায় বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ফের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

    এদিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা চীনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক পরীক্ষার অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, ২০২০ সালে চীন এমন এক ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, যা ভূকম্পন যন্ত্রে সহজে ধরা পড়ে না। তবে বেইজিং এই বক্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক চাপ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আরও তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।

  • ইরানে বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি: চীনের নজরদারি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা

    ইরানে বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি: চীনের নজরদারি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থির পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো চীনা নাগরিকের হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।

    সোমবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ইরানের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও সেখানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, ইরানে বসবাসরত চীনা নাগরিকদের স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তারা যেন দ্রুত চীনা দূতাবাস বা কনসুলার হটলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ইরানে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইরানের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

  • তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

    তাইওয়ানকে অস্ত্র বিক্রির জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা

    এবিএনএ: তাইওয়ানের কাছে বিপুল অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের এক সপ্তাহের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল চীন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২০টি কোম্পানি ও ১০ জন শীর্ষ নির্বাহীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

    চীনের দাবি, তাইওয়ান তাদের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে দ্বীপটিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস এবং বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস ইউনিট।

    এছাড়া আন্দুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা পামার লাকিসহ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন নির্বাহীকেও কালো তালিকাভুক্ত করেছে চীন। এসব ব্যক্তির চীনে প্রবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দেশটিতে থাকা তাদের সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত চীনের বিদেশি নিষেধাজ্ঞা বিরোধী আইনের পরিপন্থী। তাইওয়ানে অস্ত্র সরবরাহে জড়িত মার্কিন কোম্পানি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামোর মধ্যেই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির প্যাকেজ অনুমোদন দেয়। আটটি পৃথক চুক্তিতে এর মোট মূল্য ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা তাইপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহ বলে জানানো হয়েছে।

    এই প্যাকেজে রয়েছে স্বচালিত হাউইটজার, হিমার্স রকেট লঞ্চার, ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম, লয়টারিং ড্রোন ও অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম।

    চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় জানায়, তাইওয়ান ইস্যু দেশটির মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি অতিক্রম অযোগ্য লাল রেখা। এই বিষয়ে উসকানিমূলক কোনো পদক্ষেপের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

    নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের সঙ্গে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন, বিনিয়োগ কিংবা সহযোগিতা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    একই সঙ্গে বেইজিং ওয়াশিংটনকে ‘ওয়ান-চায়না নীতি’ মেনে চলা এবং তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করে—এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পূর্ব এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    বিশ্ব রাজনীতিতে বড় চমক? রাশিয়া–চীন–ভারতকে নিয়ে ‘কোর-৫’ জোটের ভাবনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির প্রচলিত সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে—এমন এক নতুন জোট গঠনের চিন্তাভাবনা ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি রাশিয়া, চীন, ভারত ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ‘কোর-৫’ নামে একটি নতুন শক্তিকেন্দ্র গঠনের পরিকল্পনা করছেন—এমন জল্পনা ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

    মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি নথিতে এই ধারণার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রস্তাবিত এই জোট কার্যত ইউরোপপ্রধান জি৭ এবং আদর্শভিত্তিক প্রচলিত পশ্চিমা জোটগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, কোর-৫ ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি থাকবে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। জি৭-এর আদলে নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ইস্যুতে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। প্রাথমিক আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

    যদিও হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো বিকল্প বা গোপন নথির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছে, তবু যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে—এই ধারণা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কৌশলগত চিন্তার প্রতিফলন হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপকে এই জোটের বাইরে রাখার ভাবনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছে, এতে রাশিয়ার প্রভাব ইউরোপে আরও জোরদার হতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, কোর-৫ বাস্তবায়িত হলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত চীন নীতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে।

    সব মিলিয়ে, কোর-৫ জোট আপাতত আলোচনার স্তরেই থাকলেও, এই ধারণা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে আন্তর্জাতিক মহলকে।

  • বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র কার হাতে? অবাক করা তথ্য প্রকাশ

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে আবারও বাড়ছে পারমাণবিক উত্তেজনা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—আসলে কোন দেশের হাতে সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র?

    আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীতে মোট নয়টি দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে—রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইসরায়েল। এর মধ্যে পারমাণবিক শক্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে রাশিয়া।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হাতে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯টি ওয়ারহেড। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০। এরপর চীন (৬০০), ফ্রান্স (২৯০), যুক্তরাজ্য (২২৫), ভারত (১৮০), পাকিস্তান (১৭০), ইসরায়েল (৯০) ও উত্তর কোরিয়া (৫০)।

    এসআইপিআরআই জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে প্রতিবছর দেশটি গড়ে ১০০টির বেশি নতুন ওয়ারহেড তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন অনুমান করছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের হাতে থাকবে অন্তত ১ হাজার পারমাণবিক অস্ত্র।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পুরোনো কিছু ওয়ারহেড সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেললেও, সেগুলো এখনো পুনরায় সচল করা সম্ভব বলে জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’।

    গত সপ্তাহে রাশিয়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এমনকি পানির নিচে চলা এক ড্রোনও পরীক্ষা করেছে দেশটি, যা উপকূলীয় শহরে তেজস্ক্রিয় সুনামি তৈরি করতে পারে। পুতিনের দাবি, এই ড্রোন শনাক্ত বা প্রতিরোধ করা কার্যত অসম্ভব।

    যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আমেরিকার পরীক্ষাগুলো পারমাণবিক বিস্ফোরণ নয়, বরং অস্ত্রের প্রযুক্তিগত কার্যকারিতা যাচাইয়ের অংশ। তিনি বলেন, “এগুলোকে আমরা বলি ‘নন-ক্রিটিক্যাল এক্সপ্লোশন’, অর্থাৎ যেখানে প্রকৃত পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ঘটানো হয় না।”

    এই মুহূর্তে বিশ্ব যেন আবারও ঠান্ডা যুদ্ধের ছায়ায় দাঁড়িয়ে—যেখানে পারমাণবিক শক্তির প্রতিযোগিতা এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে।