Tag: যুক্তরাষ্ট্র

  • ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো কার্যকর ছাড় নেই যা আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

    তিনি দাবি করেন, ইরান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত শর্তগুলো কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান যদি আলোচনায় নমনীয় না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। এমনকি ‘বোমা হামলার মাধ্যমে আলোচনা’ করার মতো কঠিন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো অবস্থান দেয়নি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ছাড় পেতে হলে ইরানকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

  • চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    চীনের উপহার পর্যন্ত সঙ্গে নেননি ট্রাম্প! বেইজিং ছাড়ার আগে কেন সব ফেলে গেল মার্কিন প্রতিনিধিদল?

    এবিএনএ: চীন সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ও তার সফরসঙ্গীদের এক অস্বাভাবিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বেইজিং ত্যাগের আগে চীনের দেওয়া সব উপহার, স্মারক এবং ব্যবহৃত অস্থায়ী ফোন ফেলে রেখে তবেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরের সময় ব্যবহৃত তথাকথিত ‘বার্নার ফোন’ বা অস্থায়ী মোবাইল ডিভাইসও ধ্বংস করে ফেলা হয়। এমনকি চীনা কর্মকর্তাদের দেওয়া ব্যাজ, পরিচয়পত্র, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্র ও বিভিন্ন স্মারকও সঙ্গে নেয়া হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পুরো ঘটনার পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা ও সাইবার নজরদারির আশঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ডিজিটাল নজরদারি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফলে সফরের সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে মার্কিন প্রশাসন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চীন সফরে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রেই রেখে যান। সম্ভাব্য হ্যাকিং বা তথ্য চুরির ঝুঁকি এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

    সফরের সময় চীনা কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রতিনিধিদের জন্য অস্থায়ী ফোন সরবরাহ করেছিল, যাতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ডিভাইসগুলোও ধ্বংস করা হয়।

    বেইজিং বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিভিন্ন সামগ্রী ডাস্টবিনে ফেলতে দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণত এমন নিরাপত্তা প্রটোকল দীর্ঘদিন ধরেই অনুসরণ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এবার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

    এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বাণিজ্যিক অগ্রগতির আশা করলেও বাস্তবে সীমিত কয়েকটি সমঝোতার বাইরে উল্লেখযোগ্য কোনো চুক্তি হয়নি। বিশেষ করে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান কেনা সংক্রান্ত আলোচনা ছাড়া বড় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে United StatesChina-এর সম্পর্ক বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতার কারণে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই সফর এবং সফর শেষে নেয়া নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

  • শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের, চীন সফরে দিলেন ‘অত্যন্ত ইতিবাচক’ বার্তা

    এবিএনএ: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বেইজিং সফরের প্রথম পূর্ণ দিবসে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সারাদিন ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বৈঠককে শুধু কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং এটিকে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

    এ সময় তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লিউয়ানকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প বলেন, হোয়াইট হাউসে তাদের স্বাগত জানাতে তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন।

    রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প মার্কিন ও চীনা জনগণের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে বহু বছরের বন্ধন ও সহযোগিতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, উন্নয়ন এবং সফলতার মতো অনেক অভিন্ন মূল্যবোধ রয়েছে। তার ভাষায়, “দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে বিশ্ব নতুন এক রূপ পেতে পারে।”

    তিনি উল্লেখ করেন, বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসাও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    উল্লেখ্য, গত নয় বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।

    কংগ্রেসে কী জানানো হয়েছে?

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বক্তব্য দেন পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জামের পেছনে খরচ হয়েছে।

    তবে এই ব্যয়ের বিস্তারিত কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির সংস্কার বা পুনর্গঠনের খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যয়ের খাত ও ক্ষয়ক্ষতি

    হার্স্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই সংঘাতে রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই তথ্য প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব জানতে চাওয়া হচ্ছিল।

    আগের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য

    উল্লেখ্য, গত মাসে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। বর্তমান হিসাব সেই তুলনায় অনেক বেশি, যা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ৭ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।

    এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অর্থনীতি ও জনমত

    যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

    এদিকে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ নিয়ে জনগণের সমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন।

  • বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    এবিএনএ:বহু বছর ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি। তিনি বলেন, ইরান এখনো তার সব কৌশলগত সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজন হলে নতুন ‘কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।

    হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। তার দাবি, বর্তমানে বহু জাহাজ ওই প্রণালির আশপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইরানি জাহাজগুলোও বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বোরুজের্দি বলেন, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে তেহরান আপস করবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

    এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

    পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন এবং ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

  • ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    এবিএনএ: ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির জনগণ চলমান সংকট অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া এমন সব উদ্যোগ নেবে যাতে ইরান ও গোটা অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মস্কো ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে।

    এছাড়া বিরোধ কমানোর অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাবও পুনরায় উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

    বৈঠকে পুতিন জানান, তিনি সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া ও ইরান ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান।

    বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি মস্কোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

  • যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    এবিএনএ: ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাত থামার আগেই পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পারে। শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর আওতায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র, বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প স্থাপনা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় পুনর্গঠন নিয়ে বাণিজ্যিক চাপ দেওয়া সময়োপযোগী নয়। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এখন নিরাপত্তা ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডলার সহায়তা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন এই অর্থনৈতিক সহায়তাকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডলার সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার শর্ত যুক্ত হতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা: পরিবারে শোকের ছায়া

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো বৃষ্টির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া বিপুল রক্তের চিহ্ন দেখে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন—দুজনকেই হত্যা করা হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।

    রাজধানীর মিরপুরে বৃষ্টির বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাত্র এক বছর আগে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের স্বপ্ন ছিল মেয়ের সফলতা দেখার; কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের ভিড় থাকলেও কেউ এই মর্মান্তিক খবর মেনে নিতে পারছেন না।

    জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন বৃষ্টি ও লিমন। তদন্তে নেমে পুলিশ লিমনের রুমমেটকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ১০ দিন পর হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকার কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনও বৃষ্টির কোনো হদিস মেলেনি।

    বৃষ্টির স্বজনরা জানান, ক্রাইমসিনে পাওয়া আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাস্থলে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তাই ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে লিমনের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী স্তব্ধ। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। অন্যদিকে বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। ১৬ এপ্রিল তাদের শেষবার দেখা যাওয়ার পর থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তারা, যা শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

  • ইসলামাবাদে আরাঘচির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম দাবি’ মানবে না ইরান

    ইসলামাবাদে আরাঘচির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম দাবি’ মানবে না ইরান

    এবিএনএ: চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে শান্তি উদ্যোগের মধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরমপন্থি’ দাবি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে বৈঠকগুলোতে তেহরানের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।

    কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইরান স্পষ্ট করেছে—চাপের মুখে কোনো একতরফা শর্ত মেনে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

    এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

    বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা আরও জটিল হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে বিভিন্ন বাধা আরোপ করছে। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

    ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সংঘাতের অবসান বিষয়ে তেহরানের নীতিগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদে অবস্থানরত এক ইরানি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, “নীতিগতভাবে ইরান কোনো ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ বা চরম শর্ত গ্রহণ করবে না।”

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সামনে একটি ইতিবাচক চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে না। বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরবে।

    শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছান আরাকচি। সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিতে পারে বলে তিনি শুনেছেন, যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি অবগত নন। একই সঙ্গে তিনি আলোচনায় কারা যুক্ত আছে তা স্পষ্ট করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে উল্লেখ করেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা ও উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক মহল নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে আছে।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    এবিএনএ: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার আভাস পাওয়া গেছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্রগুলো বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উত্তেজনা কমাতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    সামরিক পর্যায়েও যোগাযোগের ইঙ্গিত

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারি সূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    আগের বৈঠক ফলহীন

    দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে উত্তেজনা বাড়ে এবং আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে পড়ে।

    নতুন বৈঠক ঘিরে প্রস্তুতি

    দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের প্রতিনিধিদল না আসায় আলোচনা স্থগিত হয়। তেহরান জানায়, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না।

    আবারও আশার আলো

    তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে শিগগিরই নতুন করে আলোচনা হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

    কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছালে নতুন করে সংলাপের পথ খুলতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।