ইসলামাবাদে আরাঘচির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম দাবি’ মানবে না ইরান

এবিএনএ: চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে শান্তি উদ্যোগের মধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরমপন্থি’ দাবি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে বৈঠকগুলোতে তেহরানের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইরান স্পষ্ট করেছে—চাপের মুখে কোনো একতরফা শর্ত মেনে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা আরও জটিল হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে বিভিন্ন বাধা আরোপ করছে। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সংঘাতের অবসান বিষয়ে তেহরানের নীতিগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদে অবস্থানরত এক ইরানি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, “নীতিগতভাবে ইরান কোনো ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ বা চরম শর্ত গ্রহণ করবে না।”

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সামনে একটি ইতিবাচক চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে না। বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরবে।

শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছান আরাকচি। সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিতে পারে বলে তিনি শুনেছেন, যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি অবগত নন। একই সঙ্গে তিনি আলোচনায় কারা যুক্ত আছে তা স্পষ্ট করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে উল্লেখ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা ও উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক মহল নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে আছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *