Tag: ইরান

  • ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো কার্যকর ছাড় নেই যা আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

    তিনি দাবি করেন, ইরান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত শর্তগুলো কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান যদি আলোচনায় নমনীয় না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। এমনকি ‘বোমা হামলার মাধ্যমে আলোচনা’ করার মতো কঠিন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো অবস্থান দেয়নি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ছাড় পেতে হলে ইরানকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

  • বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    এবিএনএ:বহু বছর ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি। তিনি বলেন, ইরান এখনো তার সব কৌশলগত সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজন হলে নতুন ‘কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।

    হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। তার দাবি, বর্তমানে বহু জাহাজ ওই প্রণালির আশপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইরানি জাহাজগুলোও বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বোরুজের্দি বলেন, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে তেহরান আপস করবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

    এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

    পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন এবং ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

  • ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    ইরানকে সমর্থন দিলেন রাশিয়া

    এবিএনএ: ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির জনগণ চলমান সংকট অতিক্রম করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্সবার্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    বৈঠকে পুতিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাশিয়া এমন সব উদ্যোগ নেবে যাতে ইরান ও গোটা অঞ্চলের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা যায়। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

    সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে রাশিয়া মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। মস্কো ইতোমধ্যে ওই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেছে।

    এছাড়া বিরোধ কমানোর অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সংরক্ষণের প্রস্তাবও পুনরায় উল্লেখ করেছে ক্রেমলিন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে।

    বৈঠকে পুতিন জানান, তিনি সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে রাশিয়ার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত বছর রাশিয়া ও ইরান ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে ইরান।

    বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি মস্কোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে পুতিনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

  • যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    এবিএনএ: ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাত থামার আগেই পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পারে। শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর আওতায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র, বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প স্থাপনা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় পুনর্গঠন নিয়ে বাণিজ্যিক চাপ দেওয়া সময়োপযোগী নয়। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এখন নিরাপত্তা ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডলার সহায়তা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন এই অর্থনৈতিক সহায়তাকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডলার সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার শর্ত যুক্ত হতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • ইসলামাবাদে আরাঘচির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম দাবি’ মানবে না ইরান

    ইসলামাবাদে আরাঘচির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম দাবি’ মানবে না ইরান

    এবিএনএ: চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে শান্তি উদ্যোগের মধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরমপন্থি’ দাবি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে বৈঠকগুলোতে তেহরানের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।

    কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইরান স্পষ্ট করেছে—চাপের মুখে কোনো একতরফা শর্ত মেনে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

    এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

    বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা আরও জটিল হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে বিভিন্ন বাধা আরোপ করছে। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

    ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সংঘাতের অবসান বিষয়ে তেহরানের নীতিগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদে অবস্থানরত এক ইরানি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, “নীতিগতভাবে ইরান কোনো ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ বা চরম শর্ত গ্রহণ করবে না।”

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সামনে একটি ইতিবাচক চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে না। বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরবে।

    শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছান আরাকচি। সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিতে পারে বলে তিনি শুনেছেন, যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি অবগত নন। একই সঙ্গে তিনি আলোচনায় কারা যুক্ত আছে তা স্পষ্ট করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে উল্লেখ করেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা ও উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক মহল নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে আছে।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    এবিএনএ: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার আভাস পাওয়া গেছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্রগুলো বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উত্তেজনা কমাতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    সামরিক পর্যায়েও যোগাযোগের ইঙ্গিত

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারি সূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    আগের বৈঠক ফলহীন

    দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে উত্তেজনা বাড়ে এবং আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে পড়ে।

    নতুন বৈঠক ঘিরে প্রস্তুতি

    দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের প্রতিনিধিদল না আসায় আলোচনা স্থগিত হয়। তেহরান জানায়, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না।

    আবারও আশার আলো

    তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে শিগগিরই নতুন করে আলোচনা হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

    কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছালে নতুন করে সংলাপের পথ খুলতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর আসতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ সুগম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির আশা

    ইসলামাবাদভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটা সম্ভব”—যা কূটনৈতিক মহলে আশার সঞ্চার করেছে।

    যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

    এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরান যদি একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবুও আপাতত সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই সংযত অবস্থান বজায় রেখেছে, যা আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।

    তাদের মতে, উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য থাকলেও বাস্তবে কোনো পক্ষই নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়ায়নি। এতে করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং আলোচনার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

    নতুন সমাধানের পথে আশাবাদ

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় অংশ নেওয়া ছাড়া তেহরানের সামনে অন্য কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানকে প্রতিনিধি পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

    মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি সম্ভব। তবে সে জন্য দ্রুত আলোচনায় অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে যাদের সঙ্গে সমঝোতা সহজ নয়, তবুও আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প এটিকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বরং পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সময় খুবই সীমিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় এলে ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, পাকিস্তান কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান প্রত্যাশা করছে।

    তিনি আরও বলেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দ্রুত শেষ হতে চলেছে। ফলে ইরানের সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থানের ওপর।

  • ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি—না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    ইসলামাবাদে আজই ইরানের সঙ্গে চুক্তি—না হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে “আজই” একটি চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তবে এই ফোনালাপের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘আজ’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে সেটিও পরিষ্কার নয়। তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    এদিকে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য চুক্তি স্বাক্ষর বা আলোচনায় প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি তেহরান। পাকিস্তানের একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ইরান দ্বিতীয় দফার আলোচনায় আগ্রহ দেখালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নতুন দফার সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফর করতে পারেন। তাদের মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়।

    এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই যোগাযোগ হয়।

    সামগ্রিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

  • চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি আগের চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ও গুলি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতির মুখে ফেলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেহরান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার।

    ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হতে পারে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রোববারও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।